Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৪৫ || ইসলাম ও গণতন্ত্র ।। শাইখ আব্দুর রহীম গ্রীন হাফিযাহুল্লাহ ।। তৃতীয় পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৪৫ || ইসলাম ও গণতন্ত্র ।। শাইখ আব্দুর রহীম গ্রীন হাফিযাহুল্লাহ ।। তৃতীয় পর্ব

    বালাকোট মিডিয়া পরিবেশিত

    ইসলাম এবং গণতন্ত্রের বাস্তবতার বিষয়ে২০০৭ সালে কৃত শাইখ আব্দুর রহীম গ্রীন (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন) এর একটি অত্যন্ত উপকারী আলোচনা

    ইসলাম ও গণতন্ত্র
    ।।শাইখ আব্দুর রহীম গ্রীন (হাফিযাহুল্লাহ)।।
    এর থেকে –তৃতীয় পর্ব


    আমাদের একটা কিতাব আছে যাকে আল্লাহ সকল বিকৃতি থেকে রক্ষা করেছেন আমাদের আছে সুন্নাহ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সহীহ হাদীস আমাদের কি কোনো অজুহাত আছে যখন আমাদের কিতাব সংরক্ষিত রয়েছে?

    সুবহানাল্লাহ। তাহলে “গণতন্ত্র” বিষয়ে সিদ্ধান্ত কি? তাহলে “গণতন্ত্র” বিষয়ে সিদ্ধান্ত কি?

    অবশ্যই এটি একটি বিতর্কিত বিষয়

    গণতন্ত্র কি? আসলে গণতন্ত্র কি? এটা একটা ভালো প্রশ্ন

    লক্ষ্য করুন, কেউ আসলে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে চায় নাতারা সবাই বলবে গণতন্ত্র ভালো, গণতন্ত্র সঠিক। গণতন্ত্র কি??

    আসলে গণতন্ত্রের অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণ আছে। তারা আসলে এর সংজ্ঞা দিতে চায় না কারণ তারা জানে যে, তাদের দেয়া কোনো সংজ্ঞাই সেই সরকার ব্যবস্থাকে বর্ণনা করে না যাকে তারা গণতন্ত্র বলে থাকে, যেটি আজকাল প্রচলিত আছে!

    আব্রাহাম লিংকন গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় বলেন, এটি হলো এমন সরকারব্যবস্থা যেটি “জনগণের থেকে, জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা” এটি গণতন্ত্রের একটি বিখ্যাত সংজ্ঞা

    মূল গ্রীক ভাষায় “গণতন্ত্র” শব্দটির সঠিক অর্থ হলো “জনগণের শাসন” এটাই প্রকৃত অর্থ

    যদি আমরা গণতন্ত্রের ধারণাটি ও এর পরম অর্থকে একসাথে তুলে দেখি, তাহলে এর আক্ষরিক অর্থ হবে: জনগণের শাসন, জনগণের জন্য শাসন, জনগণের দ্বারা শাসন

    এবং আমরা এখন এই অর্থেরই বাস্তবায়ন করছি।

    আমরা এই ধারণাটির আরও গভীরে যেতে চাই না। আসুন আমরা এই অর্থটাই গ্রহণ করি এবং এর দ্বারাই যাচাই করে দেখি, কারণ অন্ততঃপক্ষে এখান থেকে আমরা শুরু করতে পারি

    এই “গণতন্ত্র” কি ইসলামের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, তাই কি? একটু আগেই আমি আপনাদের বলেছিলাম ইসলামের মূল কথা হলো আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ ইসলাম অর্থ আল্লাহর শরীয়তকে মান্য করা, ইসলাম অর্থ আল্লাহর আইন মেনে চলা ইসলাম অর্থ কোনটা হালাল তা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হবে এবং কোনটা হারাম তা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হবে এবং আল্লাহ যেটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময়ে হালাল নির্ধারণ করেছেন, তা আজো হালাল এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা হালাল থাকবে এবং আল্লাহ যেটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময়ে হারাম নির্ধারণ করেছেন, তা আজো হারাম এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা হারাম থাকবে

    মুসলমান হিসেবে আমাদের ব্যক্তিগত জীবন ও সার্বজনিক জীবন আল্লাহর আইন দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত

    অতঃপর আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে আছে “আশ শারিঈ্‌” – আইন প্রণয়নকারী এবং তিনি হলেন “আল হাকীম” – সর্বজ্ঞানী এবং “আল হাকিম” – শ্রেষ্ঠ বিচারক

    সুতরাং আমরা যখন বিচার কার্য পরিচালনা করবো, তখন আমাদের বিচার করতে হবে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী

    যেমনটি আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, “আর যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদানুযায়ী বিচার-ফায়সালা করে না তারা কাফের(৭)

    “আর যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদানুযায়ী বিচার-ফায়সালা করে না তারা ফাসেক(৮)

    “আর যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদানুযায়ী বিচার-ফায়সালা করে না তারা জালেম(৯)

    সুতরাং, আইনপ্রণয়ন ও সার্বভৌমত্বের অধিকারী হিসেবে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের পরে কিভাবে জনগণকেই আইনপ্রণয়ন ও সার্বভৌমত্বের অধিকারী হিসেবে বিশ্বাস করা সঙ্গতিপূর্ণ হতে পারে?

    কারণ গণতন্ত্রের খুব মৌলিক ধাপ থেকে আমরা এই শিক্ষা পাই যে, জনগণের অধিকার আছে কোনটা হালাল এবং কোনটা হারাম তা নির্ধারণ করার! জনগণের অধিকার আছে নির্ধারণ করার যে, আমাদের কি করা উচিত এবং আমাদের কি করা উচিত না!

    সুতরাং গণতন্ত্রে মানুষকে আল্লাহর সমকক্ষ বানানো হয়েছে, এবং যে ব্যক্তি মানুষকে আল্লাহর সমকক্ষ বানায়, সে নিঃসন্দেহে শিরক করলো এবং যে বিশ্বাস করে যে, মানুষের অধিকার আছে আল্লাহর আইনের বিপরীতে আইন প্রণয়ন করার, সে নিঃসন্দেহে কাফের এবং যে বিশ্বাস করে যে, মানুষের তৈরি আইন আল্লাহর আইনের চেয়ে উত্তম, সে নিঃসন্দেহে কাফের। এবং যে বিশ্বাস করে যে, আল্লাহর বিচার ও আইনের বিপরীতে বিচার ও আইন প্রণয়ন করা অনুমোদনযোগ্য, সে নিঃসন্দেহে কাফের

    কিন্তু যদি কিছু মুসলমান দুর্বলতা, ঈমানের ঘাটতি অথবা বিশেষ পরিবেশে বিশেষ পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়, অথবা তাদের কামনা-বাসনা ও দুর্বলতার কারণে তাদের জীবনে (কুফর ও শিরক ব্যতীত) এমন কিছু করে বসে যা আল্লাহর শরীয়ত এর বিপরীত, তাহলে তা আপনাকে কাফেরে পরিণত করবে না এটা গুনাহ (যা কুফর/শিরক নয়), কারণ আপনি আপনার অন্তরে গ্রহণ করেছেন যে, আল্লাহ যা বিধান দিয়েছেন তাই শ্রেষ্ঠ এবং আমাদেরকে অবশ্যই আল্লাহর আইন মানতে হবে। আসুন আমরা একটি সহজ উদাহরণ দেখি,

    যদি কোনো ব্যক্তি মদ পান করে তবে কি সেটা তাকে কাফেরে পরিণত করে? না, যদি কোনো ব্যক্তি মদ পান করে তা তাকে কাফেরে পরিণত করে না। সাহাবায়ে কেরামগণ (রাঃ) এবং এর পরে সকল আলেমগণ (রঃ) এই ব্যাপারে একমত, কেবলমাত্র চরমপন্থী খাওয়ারিজ গোত্র ব্যতীত, যে খাওয়ারিজদের ব্যাপারে অনেক আলেমগণ বলেছেন যে তারা এমনিতেও মুসলমান না।

    সুতরাং তাঁরা সবাই একমত যে, কোনো গুনাহ (যা কুফর/শিরক নয়) আপনাকে ইসলামের বাইরে নিয়ে যাবে না সুতরাং আপনি যদি মদ পান করেন আপনি কাফের হয়ে যাবেন না। আপনি ইসলামের গন্ডি থেকে বের হয়ে যাবেন না হ্যাঁ, যতক্ষণ আপনি মদ পান করতে থাকবেন, আপনার ঈমান আপনার মাথার উপরে ভাসতে থাকবে। কিন্তু আপনি এর দ্বারা একজন মুসলমান বিবেচিত হওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন না।

    এমনকি যিনা-ব্যভিচারের ব্যাপারটাও একই এবং রাসূলের (সাঃ) যুগেও লোকেরা ব্যভিচার করেছিল আর আপনারা হয়তো জানেন যে, একজন পুরুষ ও মহিলা নবীজির সময়ে ব্যভিচার করেছিল এবং তারা বলেছিল, “হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শাস্তি আমাদের উপর প্রয়োগ করুন” এবং যখন লোকেরা এই মহিলাকে গালিগালাজ করা শুরু করেছিল, নবীজি তাদেরকে নিষেধ করেছিলেন কারণ তাঁর তাওবা এতই শক্তিশালী ছিল যে, তাঁর তাওবা সকল মদীনাবাসীদের ক্ষমা পাবার জন্য যথেষ্ট হতো! সুতরাং সে এই কাজের দ্বারা কাফেরে পরিণত হয় নি

    কিন্তু কেউ যদি বলে, “মদ পান করায় কোনো সমস্যা নেই, এটা হালাল” তাহলে এই কথার ফলে সে কাফেরে পরিণত হবে। কারণ আল্লাহ যা হারাম করেছেন তারা তা হালাল বানিয়ে ফেলেছে

    যাই হোক, গণতন্ত্র বিষয়টিতে ফিরে যাই, নিঃসন্দেহে আমাদের মুসলমানদের ব্যক্তিগত জীবনে অবশ্যই আল্লাহর শরীয়ত কায়েম করতে হবে কারণ শরীয়ত কেবল কিছু শাস্তির বিধান নয় যা আমরা কোরআনে খুঁজে পাই, যেমন চোরের হাত কেটে দেওয়া - এটি একটি হুদুদ এবং এরকম মাত্র চার-পাঁচটি হুদুদ আছে শরীয়ত হলো সবকিছু - নামায, রোজা, ব্যক্তিগত জীবন – এ সবই শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং একে আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে

    কিন্তু যদি ঈমানের দুর্বলতার কারণে অথবা পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে আমরা কোনো ক্ষেত্রে ব্যর্থ হই, কিন্তু সেই কুকর্মটি অন্তর দিয়ে গ্রহণ না করি, তাহলে তা আমাদেরকে কাফেরে পরিণত করবে না এটা বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ

    সুতরাং আবার ফিরে যাই এবং নিজেকে জিজ্ঞেস করি যে, যদি গণতন্ত্র মানে হয় জনগণের সার্বভৌমত্ব, যেখানে জনগণের অধিকার থাকে কোনটা হালাল এবং কোনটা হারাম তা নির্ধারণ করার, তাহলে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমানের অধিকারী কোনো মুসলমানও তা মেনে নিতে পারে না বিষয়টি বোঝানোর জন্য আমি আপনাদের একটি কৌতুক বলবো। এটা সত্য না, এটা কৌতুক

    একজন লোক ছিল। সে আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকো থেকে হিজরত করে আফগানিস্তানে আসলো, তখন তালেবানরা ক্ষমতায় ছিল তো সে সেখানে বসবাস করতে গেলো। তারা তাকে জিজ্ঞেস করলো ...... এটা কিন্তু কৌতুক, সত্য না;

    তারা জিজ্ঞেস করলো, “তুমি স্বাধীনতা ও বীরত্বের ভূমি আমেরিকা ত্যাগ করেছো, সকল টাকা-পয়সা, সকল উল্লেখযোগ্য বস্তু, সবকিছু ছেড়ে দিয়েছো এবং আফগানিস্তানে বসবাস করতে এসেছো, কেন?”

    সে বললো, “যখন আমি ছোট ছিলাম, সমকামিতা একটা অপরাধ ছিল, যখন আমি বেড়ে উঠলাম সমকামিতা বৈধ হলো, এমনকি সমকামিতাকে ঘৃণা করাকেও তারা অপরাধ বানালো, এবং এর নাম দিলো ‘সমকামিতা আতংক’ আমি ভীত ছিলাম যে, যদি আমি আমেরিকায় এরপরেও বসবাস করতাম, তবে তারা এটাকে ততদিনে বাধ্যতামূলক বানিয়ে ফেলবে

    আর সত্যিই, যদি আমরা গণতন্ত্র বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করে দেখি, তাহলে এটাই গণতন্ত্রের বাস্তবতা, যদি আপনি বলেন জনগণের সার্বভৌমত্ব আছে এবং জনগণ আইন প্রণয়ন করতে পারে এবং জনগণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে

    আমি এখানে একান্ত মৌলিক দর্শনগত দিক দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছি। আমি জানি সকল দেশের সংবিধান আছে আমি জানি গণতন্ত্রের বিভিন্ন ধারণায় সংখ্যালঘুদের জন্য বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা পাওয়া যায় এবং এরকম আরো অনেক কিছু আছে, কিন্তু আমি এ ব্যাপারে আলোচনা করছি না আমি শুধুমাত্র অত্যন্ত মৌলিক বিষয় নিয়ে আলচনা করছি কারণ গণতন্ত্রের মৌলিক বিশ্বাসমালা অনুসারে চলতে গেলে সকল মুসলমানদেরকে এমন সব গর্হিত অপরাধকে মেনে নিতে হবে ইসলাম যেগুলোর কঠোরভাবে সমালোচনা করে! আপনারা কি বুঝতে পারছেন আমি কি বলছি?

    ইংল্যান্ডে কাউকে তার সমকামিতার জন্য সমালোচনা করা হচ্ছে একটি ফৌজদারী অপরাধ! সুতরাং এখন অপরাধকে ঘৃণা করাই একটা অপরাধ হয়ে গেছে মুসলমান হিসেবে আমরা কি এটা গ্রহণ করতে পারি? আমরা কি বলতে পারি ইসলাম এটির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ?


    এখানে কেউ কি চিন্তাও করতে পারেন যে, এই ধরনের ভাবাদর্শ আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ? আমার আশা, উত্তরটি না যদি সে মুসলমান হয়, এমনকি যদি সে মুসলমান নাও হয়ে থাকে, যুক্তি অনুসারে উত্তরটি হবে “না” সে বলবে, “আপনার ধর্ম এবং এই ভাবাদর্শ সঙ্গতিপূর্ণ না

    সুতরাং অত্যন্ত মৌলিক দর্শনগত দিক থেকে আমাদের বলতে হবে, ইসলাম গণতন্ত্রের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় যদি আমরা গণতন্ত্র দ্বারা বুঝে থাকি যে, জনগণের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা আছে এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব আছে

    কিন্তু অবশ্যই গণতন্ত্র দ্বারা শুধুমাত্র এটাই বোঝাতে হবে বিষয়টি তা নয় গণতন্ত্র সম্পর্কে জনগণের বিভিন্ন ধারণা আছে গণতন্ত্র কি নিয়ে গঠিত এ ব্যাপারে জনগণের বিভিন্ন ধারণা আছে কিন্তু আজ রাতে গণতন্ত্রের ঐ সমস্ত প্রকারের সম্ভাবনা ও রূপসমূহ এবং কিভাবে আমরা ইসলামের সাথে গণতন্ত্রের সামঞ্জস্য করতে পারি - এ নিয়ে আলোচনা করা আমার উদ্দেশ্য না আমি মনে করি না যে, এটা আমাদের প্রয়োজন কারণ আমি বিশ্বাস করি ইসলাম ইতিমধ্যে আমাদের জন্য সরকার ব্যবস্থার একটি ভালো পদ্ধতি দিয়েছে এবং সরকার ব্যবস্থার সেই ভালো পদ্ধতিটি সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের দেখিয়ে গেছেন

    প্রকৃতপক্ষে, যদি আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনীর দিকে ফিরে তাকাই, আমরা কি দেখতে পাই? আমরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পাই, যে উপায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জনগণের সাথে আচরণ করেছিলেন, তা বর্তমান পৃথিবীর যে কোনো গণতান্ত্রিক সমাজ অপেক্ষা অনেক সুন্দর, অনেক সঠিক এবং অনেক ন্যায়পরায়ণ।

    আমাদের একটা ব্যবস্থা আছে যার নাম “শূরা”, যার মানে পরামর্শ। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের সাথে তাঁদের সার্বজনীন বিষয়ে পরামর্শ করতেন কিংবা কিছু সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করতেন যারা কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ছিলেন সুতরাং প্রত্যেকটি বিষয়ে প্রত্যেকের সাথে পরামর্শ করা হবে না কারণ প্রত্যেকে প্রত্যেকটি বিষয়ে অভিজ্ঞ না প্রকৃতপক্ষে এটি এমন একটি বিষয় যা সাধারণ কান্ডজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।

    আমি এখানে ভারতের কথা জানি না, কিন্তু ইংল্যান্ডে সরকার যখন এমন কোনো খুঁটিনাটি বৈজ্ঞানিক বিষয়ে দৃষ্টিপাত করে যেটি অল্প কিছু লোকেরা বুঝতে সক্ষম, তখন তারা সেটির ব্যাপারে সমস্ত জনগণের সাথে পরামর্শ করে না। বরং তারা ঐ সকল ব্যক্তিদেরকে একসাথে জড়ো করে যারা সেই ব্যাপারে জ্ঞানী, এবং এরপর সেই ব্যাপারে তাদেরকে প্রশ্ন করে। তারপর তারা বলে যে, আমরা বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করেছি এবং বিশেষজ্ঞরা আমাদের এই পরামর্শ দিয়েছে এবং এখন এটাই আমাদের নীতি। এটা যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতি

    সুতরাং আমাদের এরকম পারস্পরিক পরামর্শের ব্যবস্থা আছে যেটি আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখিয়ে গেছেন এবং তা সমাজের সকল স্তরে প্রয়োগ করা হয়েছিল এই পদ্ধতিতেই মুসলমানদের নিজেদের কাজ পরিচলনা করা উচিত; ন্যায়বিচার, বোঝাপড়া এবং সহমর্মিতার সাথে আমরা নিজেদের জন্য যে বিষয়টিকে ভালোবাসি আমাদের ভাইদের জন্যও আমাদের সেই বিষয়গুলোই নির্ধারণ করা উচিত। এই সবকিছুর মানে হলো আমাদের পরস্পরের মধ্যে পরামর্শ, আলোচনা ও জ্ঞানের আদান প্রদান করা প্রয়োজন

    কিন্তু আমি এটাকে গণতন্ত্র বলতে চাই না, আমি এটাকে বলতে চাই “ইসলাম” কি জন্য আমাদের বলা দরকার যে, ইসলাম হচ্ছে গণতান্ত্রিক? কি কারণে?

    কারণ আমরা এমনই এক সময়ে বাস করছি যখন আমরা মনে করছি যে, আমাদের ধর্মকে পরিবর্তন করা প্রয়োজন যাতে এই কর্তৃত্বশীল সংস্কৃতি ও দর্শন এর সাথে খাপ খাইয়ে চলতে পারি যেটি এই মুহূর্তে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব করছে বলে অনুভূত হয়।

    কিন্তু আমি মনে করি না যে, আমাদের এমন করার কোনো প্রয়োজন আছেপ্রকৃতপক্ষে আমি এটা মোটেই পছন্দ করি না। আমি এটা একদমই পছন্দ করি না আর আমি প্রায়ই এভাবে উদাহরণ দেইআমি যা বলতে যাচ্ছি তা আপনাদের আঘাত করতে পারে, কিন্তু আমি আশা করি আপনারা এ ব্যাপারে চিন্তা করবেন

    কল্পনা করুন আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে পতিতাবৃত্তি হলো নারী ও পুরুষের মাঝে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের একটি সাধারণ উপায়

    কল্পনা করুন পতিতাবৃত্তি এতই সাধারণ যে, এটা একটা আদর্শ প্রথা, আরও কল্পনা করুন আপনি যখন পতিতাদের দেখেন তখন তাদের অত্যন্ত সুখী মনে হয় এবং মনে হয় যে, তারা এক রকম সমৃদ্ধশালী জীবন উপভোগ করছে; আরও মনে হয় যে, তাদের তৈরি সমাজটি তো সত্যিই অনেক সমৃদ্ধশালী; তারা চমৎকার সব যন্ত্রপাতি তৈরি করছে এবং তাদের রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি

    আর এভাবে আপনি ভেবে বসলেন যে, যেহেতু তাদের এইসব যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি রয়েছে, তাই সেই সাথে তাদের পতিতাবৃত্তিও অবশ্যই একটা ভালো ব্যবস্থাই হবে

    এভাবে আপনি মনে করলেন, এই যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি, পতিতাবৃত্তি - সব মিলিয়ে এটা একটা পরিপূর্ণ প্যাকেজ। ফলে কিছু দুর্ভাগা মুসলমান এগিয়ে এসে বলে বসলো, “জানেন নাকি! ইসলামেও পতিতাবৃত্তি আছে হ্যাঁ, সত্যিই আছে। আর সেটাকে বলা হয় নিকাহ (বিয়ে) দেখেন! যেভাবে আপনারা পতিতাদের কাছে যান এবং তাকে টাকা দেন, একইভাবে আমরা আমাদের স্ত্রীদের কাছে যাই এবং দেনমোহর দেই। এটা তো পতিতাবৃত্তির মতোই!”

    আস্তাগফিরুল্লাহ। কিভাবে আপনি এটিকে তুলনা করতে পারেন জীবন পরিচালনার সেই সুন্দর ব্যবস্থার সাথে যেটিকে আল্লাহ নাযিল করেছেন? তাই একইভাবে আমি অত্যন্ত ব্যথিত হই যখন দেখি মুসলমানেরা বলা শুরু করেছে যে, ইসলামে গণতন্ত্র আছে কারণ আমার কাছে এই কথাটিকে এরকম লাগে যেন “ইসলামে কুফর আছে” যেন কথাটা অনেকটা এরকমই শোনায় যে, “বিয়ে তো পতিতাবৃত্তির মতোই

    অবশ্যই না!! গণতন্ত্র এর দর্শনভিত্তিক সংজ্ঞা অনুযায়ী তা ইসলামের সম্পূর্ণ বিপরীত এবং যেই একমাত্র কারণে আমাদের মনে হয় যে, আমাদের এরূপ বলা উচিত, তা হলো, জ্ঞানগতভাবে, দার্শনিকভাবে ও রাজনৈতিকভাবে পশ্চিমা সংস্কৃতির কর্তৃত্বশীল প্রভাব

    আর এটা আমাদের জন্য খুবই কঠিন সতর্কবাণী কেন আমরা কেবল মনে করি যে, আমাদেরকে খাপ খাইয়ে চলতে হবে এবং আপোস করতে হবে? আর এই ধরনের কথা ইদানিং অনেক শুনা যাচ্ছে। এটা এমন কিছু যা ইদানিং অনেক শুনা যায় যেমন: “মুসলমানদের একবিংশ শতাব্দীর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে” “ইসলামকে এগিয়ে নিতে হবে ও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে” “আমাদেরকে তাদেরটা গ্রহণ করতে হবে ও নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে

    সম্প্রতি আমি একটা প্রবন্ধে এরকম পড়েছি: “যদি আমরা দাবি করি যে, ইসলাম হচ্ছে সকল সময় ও সকল স্থানের জন্য আদর্শ জীবন পদ্ধতি, তাহলে ইসলামকে সকল সময় ও সকল স্থানের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে হবে

    এ হলো আরেক পথভ্রষ্ট ব্যক্তি। সে এমন এক যুক্তি নিয়ে এলো যা শুধু ইসলামের ধ্বংসের দিকেই ধাবিত করে। এমন কথা কখনোই আমাদের দাবি হতে পারে না।

    আমরা দাবি করি যে, আল্লাহ চান যেন আমরা শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদত করি এবং আমাদের সর্বোচ্চ সাধ্য অনুযায়ী তাঁর দ্বীনকে অনুসরণ করি সকল স্থানে ও সকল সময়ে

    এর মানে এই নয় যে, ইসলামকে যুগোপযোগী হবার জন্য পরিবর্তিত হতে হবে এর মানে মোটেও তা নয়যদি আধুনিক সমাজ আমাদের দ্বীনের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে আমি বলবো, সেই আধুনিক সমাজকে পরিত্যাগ করুন! পরিত্যাগ করুন!





    আরও পড়ুন​

  • #2
    মাশাআল্লাহ মুহতারাম মডারেটর ভাই। খুবই সময়োপযোগী কিতাব পোস্ট করতেছেন। আল্লাহ আপনাকে নিয়মিত জারি রাখার তাওফিক দিন। আমীন
    ‘যার গুনাহ অনেক বেশি তার সর্বোত্তম চিকিৎসা হল জিহাদ’-শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.

    Comment

    Working...
    X