Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫৩ || গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উলামায়ে দেওবন্দ ।। সংকলনঃ মাওলানা ইব্রাহিম হুসাইন - তৃতীয় পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫৩ || গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উলামায়ে দেওবন্দ ।। সংকলনঃ মাওলানা ইব্রাহিম হুসাইন - তৃতীয় পর্ব

    আল ফজর মিডিয়া পরিবেশিত
    গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উলামায়ে দেওবন্দ
    ।। সংকলনঃ মাওলানা ইব্রাহিম হুসাইন – ।।
    –।।থেকে- তৃতীয় পর্ব


    মাওলানা ফজল মুহাম্মদ দামাত বারাকাতুহুম

    ইসলামী শরয়ী শুরা এবং বর্তমানের গণতন্ত্রের পার্থক্য হল আসমান-যমীনের পার্থক্যের সমান। গণতন্ত্র তো হল পাশ্চাত্য শাসন ব্যবস্থার হৈ চৈ এর নাম। শরীয়তের শুরা ব্যবস্থার সাথে যার দূরতম সম্পর্ক নেই।”

    সূত্র- “ইসলামী খেলাফত” -১১৭ নং পৃষ্ঠা

    তিনি আরও লিখেন-

    গণ্যমান্য কিছু আলেমের বক্তব্য তো হল, ইসলামী গণতন্ত্র বলা তেমনি বোকামী হবে যেমন বোকামী হবে ইসলামী মদ বলা।”

    সূত্র- ইসলামী খেলাফত- ১৭৬ নং পৃষ্ঠা

    তিনি আরও বলেন-

    গণতন্ত্রে ইসলামের সামান্যতম চিহ্ন নেই। যে সকল রাষ্ট্র আমেরিকার ধ্বংসাত্মক কর্মে শরীক সে সকল রাষ্ট্রে গণতন্ত্র ব্যবস্থা চালু আছে। সুতরাং কাফের, মুশরিক, ইহুদী, খ্রীস্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু, অগ্নিপূজক, এবং নাস্তিকরা গণতন্ত্রকে ভাল মনে করে। পাকিস্তানের যে সকল দলের ইসলামের নাম শুনতে ভাল লাগে না তারা সকাল-সন্ধ্যা গণতন্ত্রের সুরে সুর মিলায়। যদি গণতন্ত্রে অনু পরিমাণও ইসলাম থাকত তাহলে ইসলামের ঘোর শত্রু কখনো গণতন্ত্রের নামও নিত না। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, গণতন্ত্রে ইসলামের সামান্যতম চিহ্ন নেই। উলামায়ে কেরামদের ভাল করে স্মরণ রাখতে হবে যে, গণতন্ত্রে ইসলাম তালাশ করা সময় অপচয় করা ছাড়া কিছুই না। کسے درصحن کا چی قلیہ جید اضاع العمر فی طلب للحال
    ক্ষীরের পাত্রে বুট তালাশ করা সময় অপচয় ব্যতিত আর কিছু না।
    কিছু লোক বলে, ইসলামী গণতন্ত্র। আসলে এমনটা বলা তেমনি হবে যেমন হবে ‘ইসলামী মদ’ বলা ... ইসলামী বিশৃঙ্খলা” বলা

    সূত্র- ফিতনায়ে ইরতিদাদ ওয়া জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ- ১৩৯ পৃষ্ঠা।



    খতমে নবুওয়তের আহবায়ক মাওলানা ইউসূফ লুধিয়ানভী রাহিমাহুল্লাহ

    কিছু কিছু ভুল চিন্তা-চেতনা জনগণের গ্রহণযোগ্যতা সনদ এমনি অর্জন করে যে, বড় বড় জ্ঞানী (এবং কিছু নামধারী আলেমও) এ গ্রহণযোগ্যতার সামনে মাথা নত করে দেয়। তারা হয়ত ভুলকে বুঝতেই পারে না অথবা যদিও বুঝতে পারে কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন কিছু বলার সাহস রাখে না। পৃথিবীতে যে সকল বড় বড় ভুল প্রচলিত আছে সেগুলোর ক্ষেত্রে আজ জ্ঞানীজন দুঃখজনক পরিস্থিতির শিকার। জনসাধারণের এ গ্রহণযোগ্যতার প্রভাব আজ গণতন্ত্রের উপর চলছে। বর্তমানে গণতন্ত্র সে বড় মূর্তির আকার ধারণ করেছে যার পূজা প্রথমে পাশ্চাত্যের বুদ্ধিজিবীরা শুরু করেছে। যেহেতু তারা আসমানী হেদায়েত থেকে বঞ্চিত তাই তাদের জ্ঞান অন্য শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে গণতন্ত্রের ভাস্কর্য নির্মান হাতে নিয়েছে। অতপর এটাকে আদর্শ রাষ্ট্র ব্যবস্থা বানিয়ে এর সিঙ্গায় এত জুড়ে ফুঁ দিয়েছে যাতে পুরো দুনিয়ায় এর খ্যাতি ছড়িয়ে পরে। এমনকি মুসলমানও পাশ্চাত্যের অনুসরণ করতে গিয়ে আজ গণতন্ত্রের তাসবীহ জপছেকখনো বলে, ইসলাম গনতন্ত্রের অপর নাম। কখনো বা “ইসলামী গণতন্ত্র ” এর মত নাপাক পরিভাষা তৈরি করে। কিন্তু বাস্তবতা হল, পাশ্চাত্য আজ যে গণতন্ত্রের পূজারী ইসলামের সাথে তার সম্পক নেই শুধু তাই নয় বরং সেটা ইসলামী শাসন ব্যবস্থার বিরোধী। এজন্য ইসলামের সাথে গণতন্ত্র বা এর কোন পরিভাষাকে মিলানো বা গণতন্ত্রকে ইসলামের চেয়ে ভাল মনে করা প্রকাশ্য ভুল বৈ কিছু নয়।

    মোটকথা হল, গণতন্ত্রের শিরোনামে “মানুষের জন্য মানুষের আইন” এর যে শ্লোগান দেয়া হচ্ছে তা কেবল একটি প্রতারণা মাত্র। আর ইসলামের সাথে তাকে মিলানো প্রতারণার উপর প্রতারণা। বর্তমান গণতন্ত্রের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। আর ইসলামের সাথেও গণতন্ত্রের কোন সম্পর্ক নেই।'ضدان لایجتمعان' (দুটি আগুন-পানির সম্পর্ক যা কখনো একত্র হতে পারে না।)”



    শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রাহিমাহুল্লাহ

    المدينة ذات اجتماع عظيم لا يمكن أن يتفق رأيھم جميعاعلى حفظ السنةالعادلة

    শহর হল, মানুষের সমাগমের নাম। সুতরাং তাদের সকলের রায় সুন্নত মোতাবেক হওয়া অসম্ভব।

    এর দ্বারা প্রতীয়মান হল, যে গণতন্ত্র ব্যবস্থা যা অধিকাংশের রায় একমত হওয়ার উপর নির্ভরশীল- এর মধ্যে ইসলাম ও মুসলমানের সফলতা সাব্যস্ত করা ধোঁকা ব্যতিত আর কিছু না”।

    সূত্র- হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা, সিয়াসাতুল মাদিনাহ অধ্যায়



    হাকীমুল ইসলাম কারী মুহাম্মদ তৈয়্যব কাসেমী রাহিমাহুল্লাহ


    এ গণতন্ত্রে আল্লাহ তায়ালার সীফত (গুণ) এর সাথেও শিরক হয় এবং সীফতে ইলমেও শিরক হয়।”

    সংখ্যাগরিষ্ঠের মত ও শক্তিশালী মত।

    গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতকে মাপা হয়, আর ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় শক্তিশালী মতকে মাপা হয়”।

    তিনি আরও বলেন,

    এর দ্বারা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতকে ফায়সালার মৌলিক ভিত্তি বানানোর মূল শেকড় উপরে ফেলা হয়। অর্থাৎ শুরা সদস্যদের নির্বাচিত আমীরের মত গ্রহণ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যলগিষ্ঠের বিষয়কে গ্রহণ করা হবে না। বরং দলিলের মানকে গ্রহণ করা হবে। সুতরাং দলিলের মান মৌলিক বিষয়ের ভিত্তিতে হবে। অধিকাংশের মত একদিকে বেশি হওয়া ইসলামে হক ও বাতিল নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন মৌলিক অবস্থান রাখে না। এজন্য ইসলামী আইনে সংখ্যাগরিষ্ঠকে কোন অবস্থানই দেইনি। ধর্ম, দেশ ও শাসন ব্যবস্থা ও সততাসহ সকল ইসলামী বিষয়ে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠকে গ্রহণযোগ্য কোন পর্যায়ে রাখা হয়নি।

    সুতরাং কুরআন দুনিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের উপর ঈমান, আকল, সত্য ভালবাসা, সঠিক বিষয়ে যাচাই, সচেতনতা, সুস্থ বোধ, অঙ্গিকার পূরণ, হেদায়াতকে অস্বীকার করেছে। আখেরাতে সওয়াবপ্রাপ্ত হওয়া এবং জান্নাতীর ভাগী হওয়াকেও অস্বীকার করেছে। জিহাদে সংখ্যাগরিষ্ঠের দাম্ভিকতার উপরও বিজয় ও সাহায্যের অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

    ব্যবহারিক দিক থেকেও সংখ্যাগরিষ্ঠের মত হকের মাপকাঠি তো দূরের কথা বাতিলের মূল চাবিকাঠি হয়ে থাকে। কেননা বাস্তবতা হল, দুনিয়ার অধিকাংশ মানুষ নির্বুদ্ধিতা, হক বিষয় গ্রহণে অপছন্দ করা, ধারণার অনুসরণ, উদাসিনতা, ওয়াদা খেলাফী, ভ্রান্তি, আখেরাতের শাস্তি, জাহান্নামবাসী হওয়া এবং পরাজিত হয়ে থাকে। এজন্য শুধু সংখ্যায় বেশি হওয়া ইসলামে কী গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে যে তাকে অধিকার বাস্তবায়নে মৌলিক সমাধান মানতে হবে এবং আমীরকে এর অনুসরণ করতে হবে”।

    সূত্র- কারী মুহাম্মদ তৈয়্যব কাসেমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি কৃত ফিতরি হুকুমাত





    আরও পড়ুন​

  • #2
    গণতন্ত্রের ধ্বজাধারীদের নিকট গণতন্ত্রের অসারতাগুলো তাদের সম্মুখে তুলে ধরার দরকার।
    তারা দেখতে চাবে না, এরপর ও তাদের সামনে বারবার তুলে ধরার দরকার।
    প্রশ্ন :- তারা দেখতে চাবে না কেন?
    উত্তর :- আল্লাহ তাআলা বলেন

    আল বাকারা, আয়াতঃ ১৮

    صُمٌّۢ بُکۡمٌ عُمۡیٌ فَہُمۡ لَا یَرۡجِعُوۡنَ ۙ

    অর্থঃ
    অর্থঃ তারা বধির, মূক ও অন্ধ। সুতরাং তারা ফিরে আসবে না।

    ---------------------

    Comment

    Working...
    X