Announcement

Collapse
No announcement yet.

গোঁজামিল নয়, গবেষণা হোক বাস্তবতা নির্ভর - ‌দারুল ইসলাম দারুল হারব নিয়ে একটি গবেষণার ব্যাপারে মন্তব্য (সমাপ্ত)

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • গোঁজামিল নয়, গবেষণা হোক বাস্তবতা নির্ভর - ‌দারুল ইসলাম দারুল হারব নিয়ে একটি গবেষণার ব্যাপারে মন্তব্য (সমাপ্ত)

    নামের মুসলমান’ শব্দটির মধ্যে এক প্রকারের ধোঁয়াশা রয়েছে।

    সাধারণ মানুষ যখন ‘নামের মুসলমান’ শব্দটি শুনে, তাদের মনে আসে এমন মুসলমান: ‘যারা নামায পড়ে না, রোযা রাখে না। সুদ খায়, ঘুষ খায়। তবে তারা বাস্তবিক অর্থেই মুসলমান। আল্লাহ রাসূল কুরআন কিতাব দ্বীন শরীয়ত বিশ্বাস করে। অন্যায়ের কারণে নিজেকে গুনাহগার মনে করে। শরীয়ত মানতে পারাকে সৌভাগ্যের বিষয় মনে করে, যদিও নিজের নফসকে দমন করতে পারে না, ঠিকমতো দ্বীন শরীয়ত ফলো করে না।’


    নামের মুসলমান বলতে সাধারণত মানুষ এ ধরনের মুসলমানদের বুঝে থাকে।


    পক্ষান্তরে রিসালাওয়ালারা নামের মুসলমান বলতে বর্তমান সেক্যুলার শাসকগোষ্ঠীকে বুঝাচ্ছে। আকাশ পাতাল ব্যবধান। এই অর্থে নামের মুসলমান শব্দটি ব্যবহার করা; যদি না বুঝে করে থাকে তাহলে অজ্ঞতা, বুঝে করে থাকলে প্রতারণা। যেটিই হোক, এটি বাস্তবতা বিরোধী এবং প্রত্যাখ্যানযোগ্য।




    হাকিকত এড়িয়ে সূরতে ফেল দিয়ে ধোঁয়াশা
    আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ইসলামে হত্যার শাস্তি কি? আপনি কি উত্তর দিবেন?
    স্বভাবতই আপনি উত্তর দিবেন: হত্যার বদলে হত্যা।

    মোটাদাগে আপনার উত্তর সঠিক। সাধারণত মানুষ ‘হত্যা’ বলতে ‘ইচ্ছাকৃত অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা’ বুঝে থাকে। আর এর শাস্তি ইসলামে ‘হত্যার বদলে হত্যা’-ই।

    কিন্তু এই কথাকে কাজে লাগিয়ে যদি সেক্যুলার সরকার ‘শাতিমে রাসূলের হত্যাকারীকে’ মৃত্যুদণ্ড দেয়, আপনি কি মানবেন? শাতিমে রাসূলকে হত্যা করলে হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে- আপনি কি এটা বুঝেছিলেন বা বুঝিয়েছিলেন?

    তো এই যে ‘হত্যা’ এটা একটা সূরতে ফেল। এর দ্বারা সমাজে সাধারণত নিরপরাধ ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা বুঝা হয়। এর শাস্তি এটাই যে, হত্যার বদলে হত্যা। কিন্তু …. হত্যা মানেই সবক্ষেত্রে হত্যার বদলে হত্যা নয়।


    হত্যার কয়েকটি ক্ষেত্রে দেখেন-
    এক. শাতিম হত্যা
    এক লোক শাতেমে রাসূল। তাকে ‘হত্যা করা’ ফরয।

    দুই. ডাকাত হত্যা
    এক মুসলমান কারও বাড়িতে ডাকাতি করতে ঢুকেছে। নিজেদের ধন-সম্পদ রক্ষা করতে হলে এই ডাকাতকে হত্যা করা ছাড়া উপায় নাই।
    এই সূরতে হত্যা জায়েয। হত্যার বদলে কোনো শাস্তি নেই।

    তিন. ভুলবশত হত্যা
    শিকার করতে গিয়ে বা ট্রেনিংয়ের সময় ভুলবশত কোনো মুসলমানের গায়ে গুলী লেগে মারা গেল।
    এটি ইচ্ছাকৃত হত্যা নয়। হত্যার বদলে হত্যার শাস্তি নেই, তবে দিয়ত দিতে হবে (একশত উট)। নিহতের অলীরা চাইলে মাফও করতে পারবে।

    চার. অন্যায় হত্যা
    ঝগড়া ও বিরোধের জের ধরে জিদবশত হত্যা।
    এই হত্যা ‘হারাম’। শাস্তি: হত্যার বদলে হত্যা। তবে নিহতের অলীরা চাইলে হত্যাকারীকে মাফ করতে পারবে।

    পাঁচ. ডাকাতি করতে গিয়ে পথচারীকে হত্যা
    একটা ব্যবসায়ী কাফেলার উপর রাতের অন্ধকারে ডাকাত পড়লো। ব্যবসায়ীরা তাদের তিলে তিলে জমানো টাকার ব্যাগগুলো আঁকড়ে ধরে পড়ে রইলো, কোনোভাবেই ডাকাতের হাতে ছাড়তে চায় না। বেগতিক দেখে ডাকাতরা অর্থ হাতে নিতে এক বা একাধিক ব্যবসায়ীকে হত্যা করলো।
    এই হত্যা ‘হারাম’ এবং ‘হিরাবাহ’। শাস্তি: হত্যার বদলে হত্যা। নিহতের অলীলা চাইলেও মাফ করতে পারবে না। এটি হদ, সাধারণ হত্যা নয়।

    ছয়. ইসলামী বিশ্বাসের কারণে হত্যা
    এক ‘নামের মুসলমান’ আরেকজন সত্যিকারের মুসলমানকে এই কারণে হত্যা করলো যে, সে বিশ্বাস করে: সত্য ধর্ম শুধু একটিই, সেটি হচ্ছে ইসলাম। ইসলাম ছাড়া অন্য সকল ধর্ম বাতিল।
    এই হত্যা শুধু হারাম নয়, ‘কুফর’। এই হত্যার কারণে এই নামের মুসলমানটি মুরতাদ হয়ে যাবে।



    আমরা দেখছি, ‘হত্যা’ নামের শব্দটি সাধারণত সমাজে এতগুলো অর্থের মধ্য থেকে বিশেষ একটি অর্থ বুঝলেও সব ‘হত্যা’ সেই বিশেষ মর্মটি ধারণ করে না। একই কাজ (হত্যা)-
    কখনও ফরয
    কখনও জায়েয
    কখনও হারাম
    কখনও দিয়াত
    কখনও কিসাস
    কখনও মাফের সুযোগ আছে
    কখনও মাফের সুযোগ নাই
    আবার কখনও কুফর ও রিদ্দাহ।


    হত্যাকারীকে সাধারণত সমাজে নামের মুসলমান মনে করা হয়। কিন্তু হত্যাকারী কখনও হতে পারে মুসলিমদের গৌরব (শাতিম হত্যা), আবার হত্যাকারী কখনও হতে পারে মুরতাদ, বেইমান (ইসলামী বিশ্বাসের কারণে হত্যা)।


    তো সব হত্যাকারী যেমন নামের মুসলমান নয়, বরং কোনো কোনো হত্যাকারী দ্বীন থেকে বহিষ্কৃত মুরতাদ ও বেইমান; তদ্রুপ সব নামের মুসলমান ‘মুসলমান’ নয়, কিছু কিছু নামের মুসলমান আছে ‘বেইমান’।

    রিসালাওয়ালারা যাদেরকে নামের মুসলমান বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছে:

    তাদের কেউ ববি হাজ্জাজ হয়ে বলে, শরীয়াহ আইন উপযোগী নয়, ব্রিটিশ ল উপযোগী।

    কেউ মির্জা ফখরুল হয়ে বলে, বিনএনপি শরীয়াহ আইনে বিশ্বাস করে না।

    কেউ সালাউদ্দীন হয়ে শরীয়াহ আইনের ব্যাপারে বলে, মধ্যযুগীয় বর্বরতা, আমরা মধ্যযুগে ফিরে যেতে চাই না।



    রিসালাওয়ালারা কি জানে না যে, এইসব নামের মুসলমান সেক্যুলারদের হাতে রাষ্ট্রটি? তারপরও তারা নামের মুসলমান, আর তাদের শাসনাধীন রাষ্ট্রটি দারুল ইসলাম? যদিও রাষ্ট্রটি রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামে বিশ্বাসই করে না; বরং ইসলামকে বর্বরতা, মধ্যযুগীয়, আধুনিকতার আপডেট যামানায় অচল মনে করে?


    রিসালাওলারা কি রিসালাটি প্রকাশ করার পূর্বে আবারও ভাববেন?

    (সমাপ্ত)


Working...
X