Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ - একবিংশ পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ - একবিংশ পর্ব

    আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
    ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
    বিজয়ের সোপান
    ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
    [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
    –।।থেকে- একবিংশ পর্ব


    শাইখুল ইসলামের উপরোক্ত বক্তব্য হেদায়েত প্রত্যাশী ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট তবুও বিষয়টি আরো স্পষ্ট করার লক্ষ্যে আমরা আরও কিছু সংযোজন করতে চাইএতে ইসলামের ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ সুহৃদ পাঠকমণ্ডলী পুরোপুরিভাবে বুঝতে পারবেন, আলোচ্য বৈশিষ্ট্যাবলী আল্লাহ রাস্তার সেসব মুজাহিদদের মাঝেই পাওয়া যাচ্ছে, যারা তাঁদের নবী করীম ও তাঁর সাহাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের মানহাজ দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছেন। যারা সর্বাঙ্গীণভাবে তাওহীদ, এর প্রচার-প্রসার এবং ভূপৃষ্ঠে তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জিহাদের দিকে আহ্বান করে থাকেন। এ পর্যায়ে আমরা আমাদের দাবির যথার্থতা প্রমাণে উপরোক্ত মহান জামাত সম্পর্কে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য একটু গভীরে ডুব দেবো আমরা দেখব, আলোচ্য বৈশিষ্ট্যগুলো কীভাবে তাঁদের মাঝে পাওয়া যাচ্ছে।

    প্রথমত:

    মুজাহিদিন নেতৃবৃন্দ, তাঁদের দাঈ ও কর্ণধারগণ আরব,অনারব সর্বস্থানের তাগুত গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁরা উদাত্ত কণ্ঠে গর্জন করে এই ঘোষণা দিয়েছেন। কোনো লুকোচুরির আশ্রয় নেননি তাগুত গোষ্ঠীর শক্তিমত্তা, বাহ্যিক চাকচিক্য, সামরিক সক্ষমতা ও প্রচারমাধ্যমের দিকে মুজাহিদরা কোনো ভ্রুক্ষেপই করেননি। তাঁদের জন্য আদর্শ স্থাপন করে ইতিপূর্বে এভাবে ঘোষণা দিয়ে গেছেন তাঁদের পিতা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-

    إِنَّا بُرَآءُ مِنكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّىٰ تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ ﴿الممتحنة: ٤﴾

    ‘তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইবাদাত কর, তার সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে’ [1]

    সত্যিকার অর্থেই আল্লাহ ভিন্ন আরাধ্য সকল তাগুতগোষ্ঠীকে তাঁরা অস্বীকার করেছেন। হয় আল্লাহর শরীয়ত সমুন্নত করে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করবেন, নয়তো তাঁরা এই লক্ষ্যের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়ে দেবেন- এমনই তাদের চিন্তাধারা।



    দ্বিতীয়ত:

    জিহাদী দলগুলোর কর্মীরা নিজেদের প্রাণ হাতে নিয়ে আল্লাহর বরকতের ওপর নির্ভর করে তাঁরই নির্দেশমত সব কাপুরুষ তাগুতের দল আর ভীরু মুরতাদ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। সুদীর্ঘ এই দুর্গম পথে তাদের অনুপ্রেরণা রাসূলুল্লাহ -এর এই বাণী-

    «لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ».

    সর্বদাই আমার উম্মতের একটি দল সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে লড়াই চালিয়ে যাবে। কেয়ামত পর্যন্ত তারা বিজয়ী থাকবে’[2]

    জি হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে তাঁরা মুহাম্মাদ -এর উত্তরসূরী। অন্যেরা যখন পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালিয়ে গেছে, সবাই যখন হাত গুটিয়ে বসে আছে, তখন তাঁরা তাওহীদের প্রতিরক্ষা শক্তি হবার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। যখন অনেকেই শিরকী পার্লামেন্টগুলোকে জিহাদী কাজের কেন্দ্র ধরে নিয়ে পরিতুষ্ট হয়ে আছে, তখন তাঁরা তাওহীদের প্রতিরক্ষায় সরাসরি জিহাদের ময়দানে রয়েছেন।

    এই কাফেলার বীর সেনানীরা সম্মান আর গৌরবের চাদর জড়িয়ে বিমান নিয়ে ভূপৃষ্ঠে জাহেলিয়াতের সাম্রাজ্যের বুরুজগুলোকে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তাঁদের এই কৃতিত্ব মুসলিম সন্তানেরা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষভাবে অবলোকন করেছে। আমীরুল মু’মিনীন মোল্লা মুহাম্মাদ উমর রহিমাহুল্লাহ'র নেতৃত্বে আফগানিস্তানে ইমারতে ইসলামীয়ার অধীনে, আবু উমর বাগদাদীর নেতৃত্বে বিলাদুর রাফেদাইন (দুই নদীর দেশ) ইরাকে দাওলাতুল ইরাক আল ইসলামীয়াহ্'র অধীনে[3], এমনিভাবে আনসারুস সুন্নাহ সহ পূর্ব থেকে পশ্চিমে আল্লাহর নির্দেশ পালন করে লড়াইকারী আরো বহু হকপন্থী দলের অধীনে কালিমার পতাকাবাহীরা সাফল্যের যে স্বাক্ষর রেখেছেন, তা মুসলিমদের সামনে রয়েছে।



    তৃতীয় বিষয়:

    আল্লাহর নির্দেশ পালন করে লড়াইকারী জিহাদী জামাতগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলে এটি সুস্পষ্ট হয় যে, তাঁরা কতটা কষ্ট ভোগ করছেন! শেষ যুগে আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে বর্ণিত অপরিচিতি কতটা তাদের মাঝে পাওয়া যাচ্ছে! মানুষ আজ তাঁদের প্রতি অবিচার করছে। জাহেলিয়াতের ধ্বজাধারীরা তাঁদেরকে শত্রু জ্ঞান করছে। নিকটস্থরা তাঁদেরকে থেমে যেতে বলছে। দূরের যারা তারা বিরোধিতা করছে। কিন্তু এই অবস্থায় তাঁদের জন্য রাসূলুল্লাহ -এর নিম্নোক্ত বাণীই যথেষ্ট-

    "بَدَأَ الإِسْلاَمُ غَرِيباً، وَسَيَعُودُ كَمَا بَدَأَ غَرِيباً، فَطُوبى لِلْغُرَبَاءِ" رواه مسلم.

    ইসলামের যাত্রা শুরু হয়েছে অপরিচিত অবস্থায়। আর অচিরেই তা পূর্বের ন্যায় অপরিচিত হয়ে যাবে। তাই অপরিচিতদের জন্য সুসংবাদ[4]

    ইমাম কুরতুবী রহিমাহুল্লাহ বলেন, নবীজির যুগ তো সর্বশ্রেষ্ঠ। কারণ, ঈমান আনার কারণে মুসলিমরা কাফেরদের আধিক্য এবং তাদের জুলুম নির্যাতন সত্ত্বেও নিজেদের দ্বীনকে আঁকড়ে ধরে রাখার দরুন অপরিচিত হয়ে পড়তেন।

    একইভাবে এই উম্মতের শেষাংশ যখন নিজেদের দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করবে, যখন তা আঁকড়ে ধরবে, রবের নির্দেশ পালন করতে গিয়ে যখন তাঁরা দুঃখ-কষ্ট সহ্য করবে, আর ওই অবস্থায় যখন পাপাচার ছড়িয়ে পড়বে,আল্লাহর নাফরমানির যখন হিড়িক পড়ে যাবে, ফ্যাসাদ হাঙ্গামা আর কবিরা গুনাহের যখন ছড়াছড়ি থাকবে, ওই পরিস্থিতিতে উম্মাহর সেই শেষ অংশটাই হবে গুরাবা তথা অপরিচিত। ওই অবস্থায় তাঁদের আমলের সওয়াব বহুগুণ বেড়ে যাবে, যেমনটা ঘটেছিল এই উম্মাহর প্রথমাংশের বেলায়। এ বিষয়টি প্রমাণিত হয় রাসূলুল্লাহ -এর এই হাদীস দ্বারা ইসলামের যাত্রা শুরু হয়েছে অপরিচিত অবস্থায় আর অচিরেই তা পূর্বের সেই অবস্থায় ফিরে যাবে। তাই অপরিচিতদের জন্য সুসংবাদ!

    জি হ্যাঁ, হকের উত্তরসূরীরা ও সত্যের পতাকাবাহীরা আজ অপরিচিত আর বিতাড়িত। হকের সাহায্যকারী আজ খুবই কম। লা 'হাওলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল 'আলিয়্যিল 'আযীম!



    চতুর্থ বিষয়:

    নিজেদের মতাদর্শ ও মতবাদের ওপর টিকে থাকার ক্ষেত্রে জিহাদী দলগুলো বর্তমান সময়ে প্রবাদতুল্য অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল এমন এক সত্য পন্থার জন্য তাঁরা টিকে আছেন, যার প্রতি তাঁরা ঈমান এনেছেন, যার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছেনচির অম্লান সেই আদর্শের নাম হচ্ছে ইসলাম।

    তাঁদের ইতিহাস এমন অনেক উদাহরণে ভরপুর, যা জিহাদ পরিত্যাগকারীরা কোনমতেই বুঝতে পারে নাকারণ, পরিত্যাগকারীরা তো জিহাদের পথে অবিচলতা এবং এর কষ্ট সহ্যের স্বাদ আস্বাদন করেনি। এইতো আমীরুল মু’মিনীন মোল্লা মুহাম্মাদ উমর রহিমাহুল্লাহ- বিশজন লোকের জন্য[5] নিজের দেশকে উৎসর্গ করে দিয়ে এই উম্মাহর সৌভাগ্যবান পূর্বসূরীদের কথাই আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিলেন। এইতো মহান নেতা শাইখ উসামা বিন লাদেন দ্বীনের সাহায্যের জন্য নিজের সমস্ত সহায় সম্পত্তিকে বিসর্জন দিয়েছিলেন। অতঃপর দ্বীনি ভাইদের সঙ্গে বনে-জঙ্গলে আর পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন। তিনি কতটা ধনাঢ্য, কতটা মর্যাদাবান এবং কতটা প্রভাবশালী ছিলেন, তা কী আর বলে দেয়া লাগে! তাঁর ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন শাইখ আইমান আল জাওয়াহিরি হাফিজাহুল্লাহ-সহ বরকতময় জিহাদী আন্দোলনের আরো অনেকেই।

    তাঁদের এই দৃঢ়তা ও অবিচলতার কথা অন্তঃসারশূন্য এমন দাবি নয় যে, তার পক্ষে কোনো দলীল নেই। বরং এগুলো এমনই চাক্ষুষ বাস্তবতা ও সুপ্রসিদ্ধ বর্ণনা, পক্ষ-বিপক্ষের সকলেই যা স্বীকার করে নিয়েছে। সমস্ত প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য এবং অনুগ্রহ একমাত্র তাঁর পক্ষ থেকেই!

    আমরা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত গৌরবের অধিকারী মোবারক এই জামাতের সুকীর্তি আলোচনা করে মুসলিমদেরকে আফগানিস্তান, ইরাক, আলজেরিয়া, সোমালিয়া, ককেশাস কিংবা ইয়ামেনযেখানেই হোক তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হবার আহ্বান জানাচ্ছি। এ কারণেই আহ্বান জানাচ্ছি যে, আমরাই শুধু নয়; বরং সুস্থ রুচি ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, ন্যায়পরায়ণ প্রতিটি মুসলিম এই জামাতের সরল মানহাজ, এই মানহাজের সামগ্রিকতা, এর গভীর আবেদন, প্রবৃত্তির বাঁধন ছিন্ন করে সালফে সালেহীনের মতাদর্শ আঁকড়ে থাকার ব্যাপারে এই মানহাজের অনুসারীদের অঙ্গীকার পূরণ, তাঁদের ত্যাগ-তিতিক্ষা, তাঁদের নেতৃবৃন্দের দৃঢ়তা ও অবিচলতা প্রত্যক্ষ করেছেন।

    যদিও এই জামাতের সাহায্যকারীরা সংখ্যায় অল্প, এই পথে যাত্রাকারীদের ভীষণ অভাব, এই পথের বিপুল কল্যাণ পরিত্যাগকারীদের সংখ্যা বিরাট, কিন্তু তবুও আল্লাহর সন্তুষ্টির এই দুর্গম গিরি আর দুর্লঙ্ঘনীয় সুদীর্ঘ পথে তাঁদের সান্ত্বনা হচ্ছে গুরাবাদের নেতা নবী কারীম -এর নিম্নোক্ত বাণী-

    "لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَذَلِكَ".

    নিরবচ্ছিন্নভাবে আমার উম্মতের একটি জামাত সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। তাঁদেরকে বারণকারীরা তাঁদের কোনো ক্ষতি করতে পারবেনা। আল্লাহর নির্দেশে কেয়ামত পর্যন্ত তাঁরা এই অবস্থাতেই থাকবে।[6]

    অন্যত্র নবীজি - ইরশাদ করেছেন-

    «لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ».

    নিরবচ্ছিন্নভাবে আমার উম্মতের একটি দল কেয়ামত দিবস পর্যন্ত সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে লড়াই চালিয়ে যাবে। কেয়ামত পর্যন্ত তারা বিজয়ী থাকবে[7]

    আল্লাহ তা’আলা ইমাম ইবনুল কায়্যিমের ওপর অনুগ্রহ বর্ষণ করুন! তিনি তাঁর অমর গ্রন্থ ‘মাদারিজুস সালেকীনে’ সাবধান করে দিয়ে বলেন, সীরাতে মুস্তাকীমের তলবকারীরা এমন একটা বিষয়কে লক্ষ্য বানিয়েছেন, অধিকাংশ মানুষ যা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তাই চলার পথের লোক-স্বল্পতা ও অবিরাম কষ্টের মাঝে তাঁরা সফরসঙ্গী পেতে আগ্রহী হবেন এটাই স্বাভাবিক। কারণ, একাকীত্বে সঙ্গী-সাথীর সান্নিধ্য পেতে স্বভাবতই মন উন্মুখ হয়ে থাকে। তাই, আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা এই পথে তাঁদের সঙ্গীদের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। সেই সাথীবর্গ হলেন ওই সমস্ত লোক যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা নিজ নেয়ামত দ্বারা ভূষিত করেছেন অর্থাৎ আম্বিয়া, সিদ্দিকিন, শুহাদা, সালেহীনসঙ্গী হিসেবে তাঁরা কতই না উত্তম! আল্লাহ তা’আলা সঠিক পথের সঙ্গে সঙ্গে উক্ত পথের ঐশী পুরস্কারপ্রাপ্ত যাত্রীদের কথা উল্লেখ করে দিয়েছেন, যাতে হেদায়েতের পথের যাত্রী এবং সীরাতে মুস্তাকীমের পথচারী নিজের যুগ ও সমকালীন লোকদের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতার হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেন যাতে তিনি বুঝতে পারেন, এই পথে তাঁর সঙ্গী-সাথী হচ্ছেন ওই সমস্ত লোক, যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা নেয়ামত দান করেছেন। আর তাই বিরোধিতাকারীদের কথায় যাতে তারা কর্ণপাত না করেন কারণ, বিরোধিতাকারীরা যদিও সংখ্যায় অনেক, কিন্তু মর্যাদা বিচারে তারা অনেক নিচে। সালাফদের ভেতর কেউ কেউ এমনটাই বলেছেন যে, তোমাকে সত্যের পথে থাকতে হবে এবং এ পথের অনুসারীদের স্বল্পতার কারণে হতাশ হওয়া যাবে না। আর বাতিল পথ এড়িয়ে চলতে হবে এবং সে পথের অনুসারীদের আধিক্য দেখে প্রতারিত হওয়া যাবে না। আর যখনই পথ চলতে গিয়ে নিঃসঙ্গতার অনুভব হবে, তখনই পূর্ববর্তী সফরসঙ্গীদের দিকে তাকিয়ে তাদের সঙ্গে মিলিত হবার আগ্রহ মনের মাঝে সঞ্চার করতে হবে। আর এর বাইরে অন্য সবার থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতে হবে। কারণ, অন্যেরা আল্লাহর মোকাবেলায় তোমার কোনই কাজে আসবে না। তোমাকে পথ চলতে দেখে যদি তারা চিৎকার-চেঁচামেচি করে তবে তাদের দিকে তাকানো যাবে না। কারণ, তাদের দিকে দৃষ্টি ফেললে; তারা তোমাকে ধরে ফেলবে এবং পথ আটকে দেবে।

    পরিশেষে বলতে চাই, মুজাহিদ এসব জামাতের হকপন্থী হওয়ার নিদর্শন অসংখ্য। অনুসন্ধান করে সেগুলো সংকলন করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমাদের উদ্দেশ্য শুধু এটাই, সত্য প্রত্যাশী ব্যক্তির সামনে এই তাইফা আল মানসূরার কিছু গৌরবময় কীর্তি তুলে ধরা, যাতে তাঁদের সঠিক পথের সঙ্গে তিনি পরিচিত হতে পারেন যাতে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁরাই ওই তাইফা যারা আল্লাহর নির্দেশ পালন করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। আর আল্লাহ তা’আলাই সঠিক পথের দিশা দানকারী।


    [1] সূরা আল-মুমতাহিনা; ৬০: ৪
    [2] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৫০৬৩
    [3] লেখাটি ২০০৬-২০০৭ এর দিকে রচিত। যখন দাউলাতুল ইরাক আল ইসলামিয়া নামক দলটি আল-কায়েদার অধীনে বাইয়াতভুক্ত ছিল। পরবর্তী সময় এ দলটির চরমপন্থা এবং অবাধ্যতার কারণে আল-কায়েদা এর সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে। দলটি পরে ‘দাউলাতুল ইসলাম’ বা আইএস নাম গ্রহণ করে। এরা তাকফিরের ক্ষেত্রে খাওয়ারিজদয়ের বিকৃত উসুল গ্রহণ করেছে। এবং তাদের দলের বিরুদ্ধে লড়াই করাকে ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াই করা সাব্যস্ত করে, নানা দলকে তাকফির করেছে। উল্লেখ্য আল-কায়েদা নেতৃবৃন্দ ইরাকের ‘দাউলাতুল ইসলামিয়া আল ইরাক’-কে একটি ইমারত গণ্য করতেন, খিলাফাহ গণ্য করতেন না। যা শাইখের উপরের বক্তব্য থেকেও স্পষ্ট।
    [4] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৩৮৯
    [5] যাদেরকে তিনি আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং সাহায্য করেছিলেন।
    [6] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৫০৬৯
    [7] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৫০৬৩






    ​আরও পড়ুন
Working...
X