আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
বিজয়ের সোপান
।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
[আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
–।।থেকে- একত্রিংশ পর্ব
ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
বিজয়ের সোপান
।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
[আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
–।।থেকে- একত্রিংশ পর্ব
৬) জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ছেড়ে দেয়া ফিতনায় নিপতিত হওয়ার কারণ এবং তা নেফাকের আলামতসমূহের মধ্য থেকে একটি সুস্পষ্ট আলামত...
আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-
إِنَّمَا يَسْتأْذِنُكَ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْآخِرِ وَٱرْتَابَتْ قُلُوبُهُمْ فَهُمْ فِى رَيْبِهِمْ يَتَرَدَّدُونَ ﴿التوبة: ٤٥﴾
“নিঃসন্দেহে তারাই আপনার কাছে অব্যাহতি চায়, যারা আল্লাহ ও রোজ কেয়ামতে ঈমান রাখে না এবং তাদের অন্তর সন্দিহান হয়ে পড়েছে, সুতরাং সন্দেহের আবর্তে তারা ঘুরপাক খেয়ে চলেছে”। [1]
উস্তাদ সাইয়্যেদ কুতুব রহিমাহুল্লাহ উক্ত আয়াতের তাফসীরে লিখেন,
“কুরআনের সাক্ষ্য এবং দলিলের চাইতে আর কোন সাক্ষ্য অধিক সত্য হতে পারে? কোন দলীল অধিক শক্তিশালী হতে পারে? সুরা বারাআর এই আয়াতগুলোতে কুরআনে কারীম দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছে, যে ব্যক্তি জিহাদের ডাকে সাড়া না দেবে, আল্লাহর কালিমাকে বুলন্দ করার জন্য, নিজের পছন্দকৃত দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য এবং এই দ্বীনের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থা সুদৃঢ় করার জন্য জান ও মাল দ্বারা জিহাদ না করবে, তবে সে ঐ সমস্ত লোকের মাঝে গণ্য হবে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে না। যাদের অন্তর সন্দিগ্ধ আর এর ফলে যারা সন্দেহের দোলাচলে আন্দোলিত হচ্ছে...।”
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ, আল্লাহ তা’আলার এই বাণী— “وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ-আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাও যতক্ষণ না ফিতনা নির্মূল হয় এবং সর্বময় শাসন ও কর্তৃত্ব আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত না হয়-প্রসঙ্গে বলেন, “যে ব্যক্তি ফিতনার সৃষ্টির আশংকায় আল্লাহর নির্দেশিত লড়াই পরিত্যাগ করবে, নিজ অন্তরের রোগ এবং আত্মার ব্যাধির কারণে সে তো ফিতনার মাঝেই রয়েছে। আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত জিহাদ পরিত্যাগ করার কারণে সে তো ফিতনায়-ই ডুবে আছে”।[2]
অন্যত্র তিনি বলেন, “জিহাদ থেকে বিমুখ থাকা মুনাফিকদের চরিত্রের একটি (বৈশিষ্ট্য)।
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন,
«مَنْ ماتَ ولم يغْزُ ، ولم يُحَدِّثْ نفْسَهُ بغزْوٍ مات على شُعْبَةٍ منَ نفاقٍ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ.
“যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল যে, সে যুদ্ধ করেনি অথবা যুদ্ধের বাসনা করেনি, তবে সে নিফাকের একটি শাখার ওপর মৃত্যুবরণ করল।” [3]
অতএব, আমরা বুঝতে পারলাম- জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ঈমানের ব্যাপারে সততার একটি শক্তিশালী আলামত। আল্লাহর ভালোবাসা এবং তাঁর রাসূল ﷺ-এর ভালোবাসার একটি বড় নিদর্শন হল এই জিহাদ।
আর জিহাদ পরিত্যাগ করা, এ ব্যাপারে অলসতা করা নিফাকের একটি বড় আলামত। যা আত্মিক ব্যাধি ও ফিতনায় নিপতিত হবার কথা জানান দেয়।
৭) জিহাদ জাতি গঠন ও সমাজ নির্মাণের সর্বোত্তম পন্থা এবং সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পথ...
এ বিষয়ে নিশ্চয়ই কেউ সন্দেহ বা তর্ক করবে না যে, আকীদা-বিশ্বাস, চিন্তাধারা, নাম ও পরিচয় নির্বিশেষে এই মানব সভ্যতার ইতিহাসে যত জাতিগোষ্ঠী গঠিত হয়েছে, মানব সদস্যদের প্রচেষ্টায় যত সাম্রাজ্য অস্তিত্ব লাভ করেছে, তারা লাশের স্তুপ, রক্তের সাগর আর রক্ত-মাংসের উপরেই সেই জাতি বা সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেছে। রক্ত-মাংসের সেতুবন্ধনের সাহায্য তাদের রাজত্বের বাহন গৌরবের শীর্ষ চূড়ায় আরোহণ করেছে। রক্ত সাগর পাড়ি দেয়া বিজয়ী দল পূর্ববর্তী রাজা-বাদশাহদের সিংহাসন আর রাজদণ্ড করায়ত্তে এনেছে। এ বিষয়ে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাধারা সরিয়ে রেখে পশ্চিমা খ্রিস্টান জাতিগোষ্ঠীর কর্মপ্রণালী, ব্যবস্থাপনা, মূল্যবোধ, জীবন দর্শন পর্যবেক্ষণ করা যাক।[4]
আমরা দেখতে পাব তাদের বর্তমান অবস্থা দু’টি পক্ষের মাঝে সংঘটিত একটি ভয়াবহ যুদ্ধের পরিণতি। একটি পক্ষ হচ্ছে খ্রিস্টান চার্চগুলোর প্রভু দাবিদার যাজক গোষ্ঠী, যারা অত্র অঞ্চলের উদ্ভ্রান্ত খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীকে দাস বানিয়ে রেখেছিল। আরেকটি পক্ষ হচ্ছে, যারা গির্জার শিক্ষাকে অস্বীকার করেছে, তার কথিত পবিত্র আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করেছে। পোপতান্ত্রিক চার্চগুলোর অন্ধ অনুসরণ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। আইন প্রণয়ন ও বিধান রচনার ক্ষেত্রে যাজকদের অধিকার কেড়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এবং এসব অধিকারকে একমাত্র জনগণের হাতে ন্যস্ত করার দাবি উঠিয়েছে। অনেক যুদ্ধবিগ্রহের পর, অনেক রক্ত ঝরানোর পর, অনেক প্রাণ বিসর্জন দেবার পর হতভাগ্য জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা লাভ করেছে।
জি হ্যাঁ! এটাই হচ্ছে সেই রক্ত পিচ্ছিল পথ, যা খ্রিস্টান জনগণ বেছে নিয়েছিল। এভাবেই তাদের অলক্ষুণে হতভাগা সভ্যতার প্রাসাদ নির্মিত হয়েছিল। এটাই সেই চড়া মূল্য, যা এ সমস্ত জাতিগোষ্ঠী পরিশোধ করেছিল, স্বাধীনতার শীর্ষ চূড়া ও মেকি গৌরবের উচ্চশিখরে আরোহনের জন্য। এসব ধর্মহীন কাফির জাতি অনুধাবন করতে পেরেছিল, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও লড়াইয়ের ময়দানে বীর সেনানীদের শক্তি প্রদর্শন ছাড়া কখনোই জাতি গঠন হয় না, গৌরব অর্জিত হয় না।
আমাদের প্রিয় শাইখ মুজাহিদ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ বলেন,
“আল্লাহর পথে লড়াই করা আমাদের দ্বীনের অবিভাজ্য একক। এটি আমাদের দ্বীনের পরমাণু। বরং এটি দ্বীনের সর্বোচ্চ চূড়া। আর সর্বোচ্চ চূড়া বাদ দিয়ে দ্বীন কীভাবে বাকি থাকবে? আমাদের জাতীয় জীবন, আমাদের সম্মান ও গৌরব অবশিষ্ট রাখতে এটি অত্যাবশ্যকীয়। মিথ্যাবাদী হওয়া সত্ত্বেও আমাদের শত্রু, তাদের সন্তানদেরকে শিক্ষা দিতে গিয়ে সত্য কথাটাই বলেছে, ‘তুমি লড়াই করলে তবেই তোমার অস্তিত্ব থাকবে।’ এটাই হচ্ছে বাস্তবতা; যা তারা নিজেদের সন্তানদেরকে শেখাচ্ছে, আর আমাদেরকে তার বিপরীত বার্তা দিচ্ছে। এ কারণে সাধারণভাবেই লড়াই বড় বড় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আবশ্যক। তোমরা চাইলে ইতিহাস ঘেঁটে দেখতে পারো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস আমাদের সামনে রয়েছে। মাত্র ছয় দশকের ভেতরে কতগুলো যুদ্ধের বহ্নিশিখা তারা জ্বালালো! কারণ একটাই, (তাদের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখার জন্য) এগুলোর প্রয়োজন ছিল। যেদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সারাবিশ্বে যুদ্ধ বন্ধের আন্তরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, ওই দিনটি হবে তার পতন ও কর্তৃত্ব শূন্যতার সূচনা—এটা তারা ভালভাবেই জানে। আর আল্লাহর ইচ্ছায় ওই দিনটি অচিরেই আসছে। তাই শান্তিপূর্ণ দাওয়াতের নামে অস্ত্র পরিত্যাগের যেকোনো আহ্বানের ব্যাপারে সাবধান! কারণ প্রকৃত অর্থে তা হচ্ছে আমাদের পথে বাধা সৃষ্টি করা এবং আমাদেরকে আত্মসমর্পণ করতে বলার আহ্বান। মূর্খ অথবা মুনাফিক ছাড়া এজাতীয় দাওয়াতের পক্ষে কেউ যেতে পারে না”।
শাইখ মুজাহিদ আবু কাতাদা ফিলিস্তিনি 'আল-জিহাদ ওয়াল ইজতিহাদ' নামক তাঁর অনবদ্য গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন,
“আল্লাহ তা’আলার দ্বীনে জিহাদের আকীদাহ পূর্ব থেকেই কুফর ও কাফের গোষ্ঠীকে উপর্যপুরি আক্রমণ করে এসেছে। আর এটা জানা কথা যে, সর্বাংশে কুফরিকে দুর্বল করে দেয়া এবং তার মূলোচ্ছেদ করা লড়াই ছাড়া সম্ভব নয়। প্রাণ বিসর্জন দেয়া এবং রক্ত প্রবাহিত করা ছাড়া কোনো অবস্থায়ই কোনো দেশের পক্ষে নিজেদের ভিত্তি সুদৃঢ় করা এবং পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করা সম্ভব নয়। অতীতে, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও ভূপৃষ্ঠে এমন কোনো স্বয়ংসম্পূর্ণ, পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরক্ষা শক্তির অধিকারী রাষ্ট্র পাওয়া যাবে না, যাদের অনেকগুলো যুদ্ধের ইতিহাস নেই, শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মবিসর্জন আর শ্রেষ্ঠ যুবকদের রক্তদান যাদের ইতিহাসে নেই। পশ্চিমা বিশ্বের কথিত গণতন্ত্রের কথা শুনে প্রতারিত হওয়া যাবে না। কারণ মুসলিমরা যদি শাসন ক্ষমতা লাভ এবং শাসকবর্গকে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষেত্রে কিছুটা সহজতার কথা চিন্তা করে থাকেন তবে তা হবে এক জঘন্য ভুল। শাসন ক্ষমতা লাভের ক্ষেত্রে জন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে বলে মনে করে থাকেন, আর এতে করে যদি এই ধারণার সৃষ্টি হয় যে, এই পথ ধরে শাসন ক্ষমতা লাভ করা মুসলিমদের পক্ষে সম্ভব, তবে তা হবে এক জঘন্য বিভ্রাট। কারণ, এই সমস্ত শাসনব্যবস্থা গণতান্ত্রিক চিন্তাধারার লোকদের এবং তাদের প্রতিপক্ষের মাঝে ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পরেই অস্তিত্ব লাভ করেছে। সার্বভৌমত্বের অধিকারী এমন কোনো রাষ্ট্র নেই, যাকে তার প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হতে হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন গণতান্ত্রিক বিশ্বের প্রধান রাষ্ট্র। এর অধীনে রয়েছে অনেকগুলো রাজ্য। বর্তমানে রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সুবিস্তৃত ভৌগোলিক সীমারেখার যে কাঠামোর ওপর এই রাষ্ট্রপুঞ্জ প্রতিষ্ঠিত, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার মাঝে সংঘটিত সাংঘাতিক যুদ্ধের পরেই তা বাস্তবায়িত হয়েছে। সর্বগ্রাসী অনেকগুলো যুদ্ধ তাদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। অতঃপর এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর বিজয় লাভ করেছে। রাজনৈতিক এই পন্থায়ই পরাজিত দল আত্মসমর্পণ করেছে। এটাই বাস্তব দুনিয়ার চিত্র।
একইভাবে ইউরোপ এবং তার অধীনে যতগুলো রাষ্ট্র ও সরকার রয়েছে, তাদেরকে এই কাঠামোর ভেতরে আসার জন্য মহাদেশের ভেতরে এবং বাইরে অনেকগুলো যুদ্ধ লড়তে হয়েছে। সেসব যুদ্ধে প্রতিপক্ষ সর্বাত্মক শ্রম ব্যয় করেছে। এভাবেই কোনো একটা পক্ষ জয়লাভ করেছে, আর পরাজিত পক্ষ বর্তমান এই কাঠামো মেনে নিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে। সর্বক্ষেত্রে বাস্তব দুনিয়ার চিত্র এমনই।
পশ্চিমা বিশ্ব অস্ত্রের সাহায্যে শক্তি প্রয়োগ করে তাদের চিন্তাধারার বিস্তার ঘটাতে পারবে[5] আর তাদের প্রতিপক্ষের এই অধিকার থাকবে না। কেন? কেন এমন হবে? আমাদের মনে কেন এই প্রশ্ন আসছে না?
যারা চিন্তাধারার বিস্তার ঘটাতে এবং রাজনৈতিকভাবে চিন্তাধারাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, কিন্তু এর জন্য যুদ্ধবিগ্রহ এবং অস্ত্রের সাহায্যে শক্তি প্রয়োগের কথা চিন্তা করে না, কূটতার্কিক 'সাফসাতী' (sophists) দার্শনিকদের সাথেই তাদের মিল। কারণ, তাদের দাবি আর চেঁচামেচিগুলো হচ্ছে অন্তঃসারশূন্য...!”
আমরা শাশ্বত গৌরবের মুসলিম উম্মাহ। জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহকে শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন। উম্মতে মুহাম্মাদির অধিকাংশের কাছে অবহেলিত এই ফরজ কাজকে পুনর্জীবিত করা আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্তির সর্বোত্তম পন্থাগুলোর একটি। এটি আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় ও পছন্দের আমলগুলোর অন্যতম। তিনি এই আমলকারীকে বিশেষভাবে এমন মর্যাদা দান করেছেন, খুব কম মানুষই যা অর্জন করতে পারে। আসমানে এই আমল পালনকারীদেরকে এমন সুনাম ও প্রশংসার পাত্র বানিয়েছেন, খুব কম শ্রেণীর ক্ষেত্রেই যা হয়ে থাকে। শেষ বিচার দিবসে তাঁদের জন্য তিনি সর্বোচ্চ মাকাম ও সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান প্রস্তুত করে রেখেছেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন-
بُعِثْتُ بِالسَّيْفِ حَتَّى يُعْبَدَ اللَّهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَجُعِلَ رِزْقِي تَحْتَ ظِلِّ رُمْحِي وَجُعِلَ الذِّلَّةُ وَالصَّغَارُ عَلَى مَنْ خَالَفَ أَمْرِي وَمَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
'কেয়ামতের পূর্বে আমি তরবারি সহকারে প্রেরিত হয়েছি যতক্ষণ না এক আল্লাহর ইবাদাত করা হয়। আর আমার রিজিক রাখা হয়েছে আমার বর্শার ছায়া তলে। আমার নীতির বিরোধিতাকারীর জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা ও অপদস্থতা। আর যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।'[6]
রাব্বে কারীম তাঁর প্রিয় নবীকে এই যুদ্ধ বিষয়ে পথ নির্দেশনা দিয়েছেন। শিরক ধ্বংসের কার্যকরী সরল-সঠিক পথে চলার বিষয়টি তাঁকে এবং কেয়ামত দিবস পর্যন্ত আসতে থাকা তাঁর সকল অনুসারী ও উত্তরসূরীকে হাতে-কলমে শিখিয়েছেন। হাত ধরে ধরে তাদেরকে সে পথে চলতে সাহায্য করেছেন, যে পথে চললে ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
وَقَٰتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ كُلُّهُۥ لِلَّهِ فَإِنِ ٱنتَهَوْا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ﴿الأنفال: ٣٩﴾
‘তোমরা কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে থাকো, যতক্ষণ না ফিতনা বাকী থাকবে এবং দ্বীন সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ তা’আলার জন্যেই (নির্দিষ্ট) হয়ে যাবে, অতঃপর, যদি তারা নিবৃত্ত হয়, তবে আল্লাহ তা’আলাই হবেন তাদের কার্যকলাপের পর্যবেক্ষণকারী। [7]
[1] সূরা আত-তাওবা; ০৯: ৪৫
[2] অর্থাৎ জিহাদ করলে ফিতনা ফ্যাসাদ তৈরি হবে এই ভয়ে যারা জিহাদ পরিত্যাগ করে তারাই আসলে ফিতনার মধ্যে পড়ে গেছে। জিহাদ করা ফিতনা নয়। বরং জিহাদ না করাটাই ফিতনা। - সম্পাদক
[3] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৫০৪০
[4] এগুলোকে আমরা অস্বীকার করি, এগুলোর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করি এবং এগুলো থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করি।
[5] ইউরোপ আমেরিকা যেমনটা করেছে
[6] মুসনাদে আহমাদ: ৫১১৪
[7] সূরা আল-আনফাল; ০৮: ৩৯