Announcement

Collapse
No announcement yet.

হাকীমুল উম্মত শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী শহীদ নাকি গাজী?

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • হাকীমুল উম্মত শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী শহীদ নাকি গাজী?

    হাকীমুল উম্মত শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী শহীদ নাকি গাজী?



    বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
    الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه، أما بعد




    আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ.

    মুহতারাম দ্বীনি ভাই-বোনেরা! সোশ্যাল মিডিয়া দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমসহ সর্বত্র একটি খবর ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে আর তা হলো- বৈশ্বিক জিহাদের স্বপ্নদ্রষ্টা শহীদ শাইখ উসামা বিন লাদেন রহ. এর প্রতিষ্ঠিত জামাআত কায়িদাতুল জিহাদের বর্তমান আমীর মুহতারাম শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরী হাফিযাহুল্লাহ শাহাদাতের সংবাদ এছাড়াও বিশ্ব কুফফারদের অন্যতম লিডার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও গর্বের সাথে ঘোষণা দিয়েছে
    তো এরপর থেকেই মুসলিম উম্মাহ, বিশেষ করে জিহাদপ্রেমী ভাই-বোনেরা বিষয়টি নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে নিপতিত হয়েছেন। অনেকেই শোকাহত হয়েছেন। অশ্রুসিক্ত হয়েছেন। রবের দরবারে ফরিয়াদ জানিয়েছে- যেন এই সংবাদটি মিথ্যা হয়। নিশ্চয় এটি শাইখের প্রতি আপনাদের নিঃস্বার্থ ও নির্মল ভালবাসার বহির্প্রকাশ। ফলশ্রুতিতে অনেকে আমাদের কাছে বিভিন্নভাবে বিষয়টির সত্যতা জানতে চেয়েছেন দ্রুত জানানোর আবেদন করেছেন
    তাই আপনাদের সকলের অবগতির জন্য আমরা জানাচ্ছি যে, মুহতারাম শাইখের শাহাদাত বিষয়ক নিউজটি এবং বাইডেনের ঘোষণাটি আমাদের নজরে এসেছে। তো আমরা এ ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত একিউ এর অফিসিয়ালি কোন ঘোষণা পায়নি বা জানতে পারেনি তাই নিউজটি সত্য কিংবা মিথ্যা কোনটাই নিশ্চিতরূপে বলতে পারছি না। অনুরূপ কথা বাইডেনের দাবির ব্যাপারেও প্রযোজ্য। সুতরাং অফিসিয়ালি কোন ঘোষণা আসার আগ পর্যন্ত সকলকে সবরের সাথে অপেক্ষা করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। পাশাপাশি প্রত্যেককেই নিজ নিজ কাজে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। এমনিভাবে কোন সংবাদের ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে প্রচার করা থেকে বিরত থাকি। আল্লাহ আমাদের সহীহ বুঝ দান করুন।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: আমরা মিথ্যাবাদী মার্কিনীদের ও তাদের দালাল মিডিয়ার প্রচারিত সংবাদকে কখনোই বিশ্বাস করি না। যতক্ষণ না একিউ সম্পৃক্ত নির্ভরযোগ্য কোন মিডিয়া থেকে সঠিক সংবাদ পাই। সুতরাং তাদের প্রোপাগান্ডা ও প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক সংবাদ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করাই কাম্য।

    তদুপরি আমরা বলবো-
    এই সংবাদ নিঃসন্দেহে মুসলিম উম্মাহর অন্তরকে ব্যথিত করেছে, ইসলাম ও জিহাদপ্রিয় শত-সহস্র চোখকে অশ্রুসিক্ত করেছে। আর শাইখ (হাফি.)-এর শাহাদাতের এই সংবাদটি সত্য হয়ে থাকলে, তা নিঃসন্দেহে উম্মাহর জন্য এক বিশাল ও অপূরণীয় ক্ষতি। তবে তা উম্মাহর অগ্রযাত্রার পথে কোন বাধা নয়, থমকে যাবার কোন কারণ নয়। কেননা মুসলিমদের রব আল্লাহ তা‘আলা আল হাইয়ুল কাইয়ুম, তিনি অবিনশ্বর। আর অমুসলিমদের কোন মাওলা নেই, সাহায্যকারী নেই।

    সুতরাং, যাদের অন্তরে উম্মাহ, ইসলাম ও শাইখের প্রতি ভালবাসা রয়েছে, তাদের উচিৎ সবর করা ও ভেঙ্গে না পড়া। উদ্যেমের সাথে কাজ চালিয়ে যাওয়া।


    পরিশেষ পবিত্র কুরআনের দু’টি আয়াত ও মহানবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুখ নিঃসৃত অসংখ্য হাদীস থেকে মাত্র দু’টি হাদীস স্মরণ করিয়ে দিয়ে লেখার ইতি টানছি।

    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ইরশাদ করেন-
    يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَن تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَىٰ مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ
    অর্থ: মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও।– সূরা হুজুরাত: ৬
    وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۚ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا
    অর্থ: যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে। -সূরা ইসরা: ৩৬


    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
    }إيَّاكم والظنَّ, فإن الظنَّ أكذبُ الحديث.{
    অর্থাৎ তোমরা ধারণা থেকে বিরত থাক। কারণ ধারণা হচ্ছে নিকৃষ্টতম মিথ্যা। [সহীহ বুখারী, হাদীস: ৫১৪৩]
    }كَفَى بالمَرْءِ كَذِبًا أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ{ رَوَاهُ مُسْلِم
    অর্থাৎ কোন ব্যক্তি মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এই যথেষ্ট যে, সে যা কিছু শুনে (যাচাই বাছাই করা ছাড়া) সব বর্ণনা করে। [সহীহ মুসলিম (মুকাদ্দিমা) ৫]


    উক্ত আয়াতদ্বয় ও হাদীসের শিক্ষা এটাই যে, সব কিছু দলীলের আলোকে প্রমাণিত হতে হবে। শুধু আন্দাজ-অনুমানের ভিত্তিতে কোন কথা বলা বা প্রচার করা যাবে না। তাছাড়া ইসলামী শরীয়াহতে দলীলবিহীন কোন কথা শুধু অনুমান ও আন্দাজের ভিত্তিতে গ্রহন করার কোন সুযোগ নেই।

    সারকথা: এ বিষয়ে নিশ্চিত কোন বিষয় জানার আগ পর্যন্ত আমাদের সবার চুপ থাকাই শ্রেয়। কোন ধরনের বাড়াবাড়ি বা ছাড়াছাড়ি কোন অবস্থাতেই কাম্য নয়। এমনিভাবে অযাচিত মন্তব্য করার তো প্রশ্নই আসে না। নিজেদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করুন! মহান আল্লাহর দরবারে দু‘আর আমল অব্যাহত রাখুন! আল্লাহ যেন উম্মাহর প্রতি রহম করেন ও শাইখের জন্য কল্যাণের ফায়সালা করেন! আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের শক্রকে সব ময়দানে শোচনীয় পরাজয় দান করেন! আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন।

    আশা করি- বিষয়টি সবার কাছে পরিস্কার হয়েছে।
    জাযাকুমুল্লাহু খাইরান আহসানাল জাযা।

    ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ.
    *****

    আমি আবেগী হতে পারি, তবে নই বাস্তবতায় বিমুখ, জানি কারাগার কেড়ে নিতে পারে মোর জীবনের সব সুখ।
    জেনে বুঝেই আমি বেছে নিয়েছি শত কষ্টের এই পথ, যে পথ নিয়ে যাবে জান্নাতে, সে পথে অটল থাকার করেছি শপথ।


    ******************

    “অসত্যের কাছে কভু নত নহে শির
    ভয়ে মরে কাপুরুষ; লড়ে যায় বীর”
    __________________________________________________ __________________________________________________
    Last edited by Munshi Abdur Rahman; 2 weeks ago.
    “ধৈর্যশীল সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”-শাইখ উসামা বিন লাদেন রহ.

  • #2
    মুহতারাম শাইখ আইমান আয-যাওয়হিরী হাফিযাহুল্লাহ’র শাহাদাতের সংবাদ ভাইরাল হওয়ার পর আমি অনলাইনে ও অফলাইনে শাইখের ক্ষেক্রে নিম্মোক্ত হাদীসের একটি বাস্তব উপমা লক্ষ্য করেছি। তা হলো-

    عن أبي هريرة -رضي الله عنه- مرفوعاً: إِذَا أحَبَّ اللَّهُ العَبْدَ نَادَى جِبْرِيلَ: إنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فُلَانًا فأحْبِبْهُ، فيُحِبُّهُ جِبْرِيلُ، فيُنَادِي جِبْرِيلُ في أهْلِ السَّمَاءِ: إنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فُلَانًا فأحِبُّوهُ، فيُحِبُّهُ أهْلُ السَّمَاءِ، ثُمَّ يُوضَعُ له القَبُولُ في الأرْضِ.

    আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি জিবরীলকে ডেকে বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন, অতএব তুমিও তাকে ভালোবাস।সুতরাং জিবরীলও তাকে ভালোবাসেন। অতঃপর তিনি আকাশবাসীদের মধ্যে ঘোষণা করে দেন যে, ‘আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালোবাসেন, কাজেই তোমরাও তাকে ভালোবাসো।তখন আকাশবাসীরা তাকে ভালোবাসে। অতঃপর যমীনের বুকেও তাকে কবুলিয়াত তথা গ্রহণযোগ্য করার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।” (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৬০৪০)
    “ধৈর্যশীল সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”-শাইখ উসামা বিন লাদেন রহ.

    Comment

    Working...
    X