Announcement

Collapse
No announcement yet.

যে ইতিহাস আমাদেরকে জানানো হয় না!!

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • যে ইতিহাস আমাদেরকে জানানো হয় না!!

    যে ইতিহাস আমাদেরকে জানানো হয় না!!

    মাদ্রাসাছাপ মোল্লাদের হাতেই আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি গড়ে উঠেছে। মাদ্রাসা থেকে অক্সফোর্ড জ্ঞানের অনন্য যাত্রা। মূলত মাদ্রাসার কাঠামোর অনুকরণেই পশ্চিমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, ইউরোপের শিক্ষাব্যবস্থার পিছনে ছিল মুসলিমদের মাদ্রাসার প্রভাব, যে ইতিহাস আমাদেরকে জানানো হয় না সহজে……..

    ইতিহাসবিদ রবার্ট ব্রিফল্টের মতে, এই যে বিজ্ঞান চর্চা বা প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণাকর্ম এগুলো সবই ইউরোপে এসেছে আরবদের হাত ধরে। আরব অবদান না থাকলে আধুনিক ইউরোপের উত্থানই ঘটতো না। তিনি লিখেন,
    “What we call science arose in Europe as a result of a new spirit of inquiry, of new methods of investigation, of the method of experiment, observation, measurement……… were introduced into the European world by the Arabs.”(Making Humanity, Robert Briffout, p 191.)

    যাকে আমরা বিজ্ঞান বলি, সে বিজ্ঞান ইউরোপে জন্ম নিয়েছিল এক নতুন জিজ্ঞাসু চেতনার ফলে, নতুন অনুসন্ধানের পদ্ধতির ফলে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ এবং পরিমাপের পদ্ধতির ফলে……… এই সবকিছু আরবরা ইউরোপীয় জগতে এনে দিয়েছিল।

    আর এই আরবরা কোথা থেকে শিক্ষালাভ করেছিলো?— মাদ্রাসা থেকে। কারণ ইসলামি সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদ্রাসা ছিল জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র, আর মাদ্রাসা ছিলো সেই যুগের কলেজ (অথবা বিশ্ববিদ্যালয়), Bayard Dodge-এর মতে,

    “The Muslim educators developed a new type of institution called in Arabic ‘al-madrasah’, referred to in English as the ‘college’.”(Muslim education in medieval Times, Bayard Dodge, p-19.)

    মুসলিম শিক্ষাবিদগণ একটি নতুন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন, যার আরবি নাম ‘আল-মাদ্রাসা’ এবং ইংরেজিতে যাকে ‘কলেজ’ বলা হয়।

    জর্জ মাকদিশির মতেও ‘মাদ্রাসা’ মূলত ‘কলেজ’ প্রতিষ্ঠান। তবে স্প্যানিশ ইতিহাসবিদ জুলিয়ান রিবেরা মুসলিম বিশ্বের মাদ্রাসাগুলোকে, ‘প্রাচ্য বিশ্ববিদ্যালয়’ বলেছেন। ইউনেস্কোর মতে,
    ‘During the 10th century, madrasas emerged as independent institutions, distinct from mosques, which helped to create a new type of educational system. As a result, these madrasas became centers for religious and secular learning, as well as places where officials were educated according to Muslim orthodoxy.’
    দশম শতাব্দীতে মাদ্রাসাগুলো মসজিদ থেকে স্বতন্ত্র ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে আবির্ভূত হয়, যা একটি নতুন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। ফলস্বরূপ, এই মাদ্রাসাগুলো ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং মুসলিম অর্থোডক্সি অনুসারে কর্মকর্তাদের শিক্ষিত করার স্থান হয়ে ওঠে।

    বিশেষ করে বাগদাদ, কায়রো, নিশাপুর ও কর্ডোভাতে বিশাল মাদ্রাসা নেটওয়ার্ক ছিল। টার্নার বলেন,
    “A young man seeking high-level education in the sciences had to wait until he had progressed beyond elementary school and the madrasa, where he could receive instruction in basic mathematics.”(Science in Medieval Islam: An Illustrated Introduction’, p-31.)

    বিজ্ঞানে উচ্চস্তরের শিক্ষা লাভের আকাঙ্ক্ষী একজন তরুণকে অপেক্ষা করতে হতো যতক্ষণ না সে প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসার স্তর অতিক্রম করে, যেখানে সে কেবলমাত্র মৌলিক গণিতের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারত।

    বিষয়টা বেশ সহজসরল—ইসলামি সাম্রাজ্যে মুসলমানরা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে সেখানে শিক্ষা লাভ করে, গবেষণা করে ও বিজ্ঞানচর্চা করে এবং তারই প্রভাবে ততকালীন অন্ধকার ইউরোপে বিজ্ঞানচর্চা শুরু হয়। ব্রিফল্টের ভাষায়, বিজ্ঞান তার অস্তিত্বের জন্যই আরবদের কাছে ঋণী। তিনি বলেন,
    “…science owes a great deal more to Arab culture, it owes its existence.”
    …বিজ্ঞান আরব সংস্কৃতির কাছে অনেক বেশি ঋণী, এর অস্তিত্বই তার কাছে ঋণী।

    এসব আরব বিজ্ঞানীরা প্রায় সকলেই মোটাদাগে ছিলেন মাদ্রাসা পড়ুয়া। মূলত এদের হাতেই আধুনিক বিজ্ঞানের জন্ম। যাইহোক আরবরা কর্ডোভাতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় (মাদ্রাসা) স্থাপন করেছিলেন যেখানে উত্তর ইউরোপের খ্রীষ্টানরা জ্ঞান অর্জনের জন্যে আসত, J. H. Robinson বলেন,
    “They founded a great university at Cordova, to which Christians from the north sometimes went in search of knowledge.”(James Harvey Robinson, A General History of Europe’ (1921), p 194.)

    তারা কর্ডোভায় একটি মহান বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেখানে উত্তরাঞ্চল থেকে খ্রিস্টানরা মাঝে মাঝে জ্ঞানের সন্ধানে যেতেন। এ দিকে ব্রিফল্টের মতে আরবী জ্ঞান দশম শতাব্দীর মধ্যেই ইউরোপে ঢুকতে শুরু করে,
    “Arabian knowledge began at an early date to percolate into Christian Europe……Arabian lore must have been much more widely diffused in the tenth century….”(Making Humanity, Robert Briffout, p 198.)

    আরবীয় জ্ঞান খুব প্রথমকাল থেকেই খ্রিস্টান ইউরোপে ধীরে ধীরে অনুপ্রবেশ করতে শুরু করেছিল……দশম শতাব্দীতে আরবীয় বিদ্যা নিশ্চয়ই অনেক বেশি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।

    এছাড়া William C. Dumpier-ও বলেছেন, “দশম শতাব্দীতে, লিয়েজ ও লরেনের অন্যান্য শহরে আরবি শিক্ষার পরিচয় ঘটে; সেখান থেকে তা ফ্রান্স, জার্মানি ও ইংল্যান্ডে ছড়িয়ে পড়ে।” Dumpier-এর মতে, আরব জ্ঞান ইউরোপের শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল,
    “In the Europe which received and slowly absorbed this stream of Arabic knowledge, the apparatus of learning had made appreciable progress.”(The History of science, William Cecil Dumpier, p 77)

    যে ইউরোপ এই আরবীয় জ্ঞানের স্রোত গ্রহণ করছিল এবং ধীরে ধীরে তা আত্মস্থ করছিল, সেই ইউরোপে শিক্ষার যন্ত্রপাতি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করেছিল।

    আর্নল্ড গ্রিন ও সাইয়্যেদ হোসেইন নাসরের মতানুযায়ী, দশম শতকের দিকে ইসলামি মাদ্রাসাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো হয়ে উঠেছিল। (Arnold H. Green. “The History of Libraries in the Arab World: A Diffusionist Model”. Libraries & the Cultural Record. 23 (4): 459.)

    যাইহোক– পৃথিবীর সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হলো মরক্কোর আল-কারাউইয়িন বিশ্ববিদ্যালয়, যেটা ৮৫৭ সালে নির্মিত হয়েছিল যা ইসলামি পরিভাষায় একটা মাদ্রাসা ছিলো। এছাড়াও ৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত আল-আজহার পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম। এরপরই ১১শ–১৩শ শতাব্দীর মধ্যে ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গড়ে উঠতে শুরু করে, যেগুলো প্রথমদিকে চার্চস্কুল ছিলো, “European universities began to emerge mainly between the 11th and 13th centuries”.
    যেমন –ইতালির বোলোগনা ইউনিভার্সিটি, ১০৮৮ সালে। এটা ইউরোপের সর্বপ্রথম ইউনিভার্সিটি।

    ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড, ১০৯৬ সালে।
    ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি অব প্যারিস ১২শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে গঠিত। ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ ১২০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। এগুলো সবই ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা মাদ্রাসা ব্যবস্থার ২০০–৩০০ বছর পরে এসেছে। মূলত আরবদের তৈরী শিক্ষাব্যবস্থা তথা মাদ্রাসার কাঠামোই ইউরোপে কলেজ তথা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করে দেয় ১২শ–১৩শ শতকে।

    স্প্যানিশ পণ্ডিত Julian Ribera-র মতে, ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল উৎস বা ভিত্তি হলো ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংস্কৃতি। অর্থাৎ, ইসলাম থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই ইউরোপে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার জন্ম হয়েছে, –
    “The European Universities were the outcome of Islamic influence.”(The rise of College…. Gorge Makdisi, p 294)

    ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইসলামী প্রভাবেরই ফলস্বরূপ গড়ে উঠেছিল।
    ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ F. M. Powicke রিবেরার সাথে একমত না হলেও তিনি আরবি জ্ঞানকে ইউরোপের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন,
    “…One of the greatest forces in the medieval university, Mohammedan learning, found a footing in the West in centres, especially Toledo, which were under royal and episcopal influence, in Jewish and other circles in the south of France and, to some extent, in the royal court of Sicily.”(The Universities of Europe and Middle Age,ed. F. M. Powicke and A. G. Emden, Oxford University Press 1936. Vol I, xxxix.)

    “…মধ্যযুগের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির একটি সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী প্রভাবক ছিল মুসলিম জ্ঞান-বিজ্ঞান। পশ্চিমে বিশেষ করে টলেডোর মতো কেন্দ্রে, যেগুলি রাজকীয় ও ধর্মাধ্যক্ষদের প্রভাবে পরিচালিত হত, দক্ষিণ ফ্রান্সের ইহুদি ও অন্যান্য মহলে এবং কিছু মাত্রায় সিসিলির রাজদরবারেও এই জ্ঞানের প্রসার ঘটে।”

    জর্জ মাকদিসির মতে, ‘মাদরাসা এবং পশ্চিমা কলেজ মূলত একই ধরনের প্রতিষ্ঠান।’ তিনি স্বীকার করেন যে ইউরোপীয় ‘কলেজ’ ধারণাটি ইসলামী উৎস থেকে এসেছে। আরো উল্লেখ করেন, মাদ্রাসাগুলোতে থাকতো সাহিব। সাহিব-এর লাতিন সমতুল্য ছিল socius, যা কলেজগুলোতে ব্যবহৃত হতো এবং এটি আরবি শব্দের সরাসরি অনুবাদ।(From Jamiah to University, Syed Farid Alatas,National University of Singapore, p 123-24.)
    Read More... সুলতান মাহমুদঃ অমুসলিম প্রসঙ্গে - পর্ব ৩ [শেষ পর্ব]
    William C. Dumpier ইউনিভার্সিটি তৈরী প্রসঙ্গে বলেন,-
    “…And, carlier in the tenth century, Arabic learning became known in Liége and other cities of Lorraine, whence it spread to France, Germany and England….. The effect of the increasing demand for teaching was that the monastic and cathedral schools were found insufficient to meet the growing needs, and new secular schools began to assume their modern form of Universities. A revival of legal studies took place in Bologna about the year 1000, and, in the twelfth century, schools of medicine and philosophy were added to that of law.” (The History of science, William Cecil Dumpier, p 78)
    “…অতীতের দশম শতাব্দীতেই আরবীয় বিদ্যা লিয়েজ ও লোরেনের অন্যান্য শহরে পরিচিত হয়ে ওঠে, যেখান থেকে তা ফ্রান্স, জার্মানি ও ইংল্যান্ডে ছড়িয়ে পড়ে… শিক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রভাবে মঠ ও ক্যাথেড্রাল স্কুলগুলি এই বৃহৎ প্রয়োজন মেটাতে অক্ষম হয়ে পড়ে, এবং নতুন ধর্মনিরপেক্ষ বিদ্যালয়গুলি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ নিতে শুরু করে। প্রায় ১০০০ খ্রিস্টাব্দে বোলোনিয়ায় আইন চর্চার একটি পুনর্জাগরণ ঘটে, এবং দ্বাদশ শতাব্দীতে আইনের বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হয় চিকিৎসাবিদ্যা ও দর্শনের বিদ্যালয়সমূহ।”

    ইউরোপে পরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠিত প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হলো, ১২২৪ সালে রোমান সম্রাট ফ্রেডেরিক (দ্বিতীয়)-র প্রতিষ্ঠা করা ‘University of Naples Federico II’, আর এটার উপরও ইসলামী প্রভাব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।(Goddard, Hugh (2000), A History of Christian-Muslim Relations, Edinburgh University Press, p. 100)

    মাদ্রাসা সিস্টেম থেকে যেসব বিষয়গুলো নেওয়া হয়েছে

    মাদ্রাসা ও ইউরোপীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বহু মিল পাওয়া যায়, যেমন—

    মাদ্রাসায় ছাত্রদের দেওয়া হতো, ইজাজা! শিক্ষক থেকে ছাত্রকে নির্দিষ্ট বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুমতি বা সনদ অর্থাৎ এক ধরনের একাডেমিক লাইসেন্স। ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরে এই ধারণাকে গ্রহণ করে, Bachelor, Master ও Doctorate ডিগ্রির প্রচলন করে।

    এছাড়াও George Makdisi মাদ্রাসা ও ইউরোপীয় কলেজ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বহু মিল দেখিয়েছেন, যেমন—
    ১| স্থায়ী শিক্ষক পদ
    ২| ছাত্রাবাস (Ribāt – Dormitory)
    ৩| সনদ বা ডিগ্রি ব্যবস্থা (Ijazah – Degree )
    ৪| Trust-Based Endowment (Waqf – College Endowment)
    ৫| শিক্ষকের সহচর (Sahib – Socius)

    ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে (যেমন অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজে) College-Based Residential System গড়ে ওঠে, যা পুরোপুরি মুসলিম বিশ্বের মাদ্রাসার ন্যায়। Bayard Dodge এ বিষয়ে বলেন,
    “At Fãs in Morocco and al-Najaf in ‘Iraq another method for providing for the students was used. This plan is of special interest, because it is so similar to the system adopted by Oxford and Cambridge.”(Muslim education in medieval Times, Bayard Dodge, p 27.)

    মরক্কোর ফেসে এবং ইরাকের আন-নাজাফে ছাত্রদের ভরণপোষণের জন্য আরেকটি পদ্ধতি প্রয়োগ করা হতো। এই পরিকল্পনাটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয়, কারণ এটি অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজে গৃহীত ব্যবস্থার সঙ্গে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ।

    জর্জ মাকদিসি দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন যে, ডিগ্রি প্রদান ও ডক্টরেট ধারণাসহ ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুকিছু মাদ্রাসা ব্যবস্থা থেকে এসেছে। মাকদিসি এমন আঠারোটি পরিভাষাগত ও ধারণাগত মিলের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলোর শিকড় মাদ্রাসা ব্যবস্থায় পাওয়া যায়।(Makdisi, George (April–June 1989), “Scholasticism and Humanism in Classical Islam and the Christian West”, Journal of the American Oriental Society, 109 (2), American Oriental Society: 175–182 [176)

    মাকদিসি ও হিউ গডার্ড মতে, আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত বহু রীতিও, যেমন উদ্বোধনী বক্তৃতা প্রদান, একাডেমিক পোশাক পরিধান, ডক্টরেট অর্জন, এমনকি একাডেমিক স্বাধীনতার ধারণাও ইসলামী ঐতিহ্য থেকে এসেছে।(Goddard, Hugh (2000), A)

    আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহৃত বহু শব্দ ও ধারণার উৎস ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থায় নিহিত। যেমন, ‘চেয়ারপারসন’ ধারণাটা এসেছে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা থেকে। একইভাবে, ‘একাডেমিক সার্কেল’ শব্দটিও এসেছে সেই ইসলামী শিক্ষাপদ্ধতি থেকে, যেখানে ছাত্ররা শিক্ষকের চারপাশে বৃত্তাকারে বসে পড়াশোনা করত। মাকদিসি ও গডার্ডের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘একাডেমিক স্বাধীনতা’ ধারণাটিও নবম শতাব্দীর মাদ্রাসা ব্যবস্থার অনুসরণে গড়ে উঠেছে।(History of Christian-Muslim Relations, Edinburgh University Press, p. 100,)

    মাকদিশির মতে, মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা শেষ করার পর ইজাযা লাভ করতো, এর ফলে তারা Faqih , Mufti ও হিসেবে স্বীকৃতি পেত। একইভাবে, ইসলামী শিক্ষকের যোগ্যতা প্রমাণের সনদপত্র হিসেবে ‘ডক্টরেট’ তথা ‘ইজাজাত আল-তাদরিস’ প্রদান করা হতো। পরবর্তীকালে এই Mufti ও Mudarris শব্দগুলো লাতিনে Professor, Registrar, ও Doctor-এ রূপান্তরিত হয়।(Makdisi, George (April–June 1989), “Scholasticism and Humanism in Classical Islam and the Christian West”, Journal of the American Oriental Society, 109 (2), American Oriental Society: 175–182.)

    যাইহোক পরিশেষে এটাই বলা যায় যে ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা তথা মাদ্রাসা সিস্টেম পশ্চিমকে প্রবলভাবে আন্দোলিত করেছিলো। তারা মাদ্রাসা থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয়েছিল যা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্পষ্ট ধরা পড়ে। সুতরাং মাদ্রাসাছাপ হওয়া মোটেও খারাপ কিছু না বরং গর্বের…. যে ‘মাদ্রাসা-ছাপ’ ইউরোপকে আলোকিত করেছিল: ইউরোপের শিক্ষাব্যবস্থার পিছনে মুসলিমদের মাদ্রাসার অদেখা প্রভাব।

    ইতিহাসে মাদ্রাসার গুরুত্ব শিক্ষাব্যবস্থা ইসলামী শিক্ষা থেকে ইউরোপ কী শিখেছে মাদ্রাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মাদ্রাসা সিস্টেম ও আধুনিক কলেজ মাদ্রাসার অবদান আধুনিক শিক্ষা ডিগ্রি প্রদানের ইসলামী উৎস মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস মুসলিম সভ্যতার শিক্ষা ব্যবস্থা ইজাজা থেকে ডিগ্রি মাদ্রাসা শিক্ষার গৌরবময় ইতিহাস ইসলামী স্বর্ণযুগের শিক্ষা ব্যবস্থা মধ্যযুগের মুসলিম শিক্ষা কেন্দ্র মাদ্রাসা শিক্ষা কীভাবে ইউরোপকে প্রভাবিত করলো বিশ্ববিদ্যালয় তৈরিতে মাদ্রাসার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

    সংগৃহীত;

Working...
X