Announcement

Collapse
No announcement yet.

২৬ এর নির্বাচন থেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা।

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • ২৬ এর নির্বাচন থেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা।

    ২০২৬ সালের এই নির্বাচন আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। তার মধ্য অন্যতম একটি শিক্ষা হলো, অনেক উঁচু মাপের আলেম, জনপ্রিয় আলেমরা ও শিক্ষিত দ্বীনদাররা একটি ভোটের আশায় মানুষের ধারে ধারে ঘুরছে। যে ভোটটি নির্বাচনের রাতে ৫০০/১০০০ টাকায় বিক্রি হয়, এক কাপ চায়ের বিনিময়ে বিক্রি হয়।আর এই ভোটটির আশায় বড় মাপের আলেমরা রাস্তায় নেমে পড়েছে, খেলার মাঠে গিয়ে তরুনদের সাথে সাক্ষাৎ করছে। বিভিন্ন পার্টি ও অনুষ্ঠানে গিয়ে ভোটের দাওয়াত দিচ্ছে, অমুসলিমদের ধারে ধারে গিয়ে ভোটের দাওয়াত দিচ্ছে।

    অথচ এই আলেমরা ও এলিট শ্রেনীর দ্বীনদাররা বিগত দিনে এভাবে সাধারন মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য তাদের কাছে যায় নি। মানুষকে গিয়ে দ্বীন বুঝায় নি, শরীয়া বুঝায় নি।তার মানে কি দ্বীনের দাওয়াতের ছেয়ে ভোটের দাওয়াত বেশি গুরুত্বপূর্ণ? যুবকদের সাথে ভোটের জন্য খেলার মাঠে দেখা করা যাবে, দ্বীনের জন্য কি দেখা করা যাবে না?
    হিন্দুর কাছে ভোটের আশায় যাওয়া যাবে অথচ দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য যাওয়া যাবে না?


    কল্পনা করুন, একজন জনপ্রিয় আলেম,পীর সাহেব বা ইসলামি দলের মহান নেতা, যাদের বয়ানে লক্ষ লক্ষ মানুষ হয়, এমন আলেম যদি সপ্তাহে একবার বা মাসে একবার যদি মানুষের ধারে ধারে যেতেন, সমাজের অবস্থা কি হত? যে জনপ্রিয় আলেমদের হাতের একটু ছোয়া পেতে যুবক তরুনরা মাহফিলে হুমড়ি খায় সে হাত যদি তাদের মাথায় একটু ভুলিয়ে দিতো তরুনরা আলেমদের আজ কত মুহাব্বত করতো। মানুষ কত খুশি হতো। আজ ভোটের জন্য মানুষের কাছে যাওয়া লাগতো না।এদেশে আরো আগেই ইসলামি বিপ্লব হয়ে যেতো। শরীয়া আইন প্রতিষ্ঠা হতো।অথচ আমরা দেখি, আজ আলেমদের জন্য দুলার মত স্টেজ বানানো লাগে, এরপর হাজার হাজার টাকা দিয়ে উনাদের আনতে হয়। উনারা দাওয়ার ক্ষেত্রে স্টেজের মুখাপেক্ষী, মসজিদের মিম্বারের মুখাপেক্ষী।


    রাসূল সাঃ এর চেয়ে সম্মানীত আর কে আছেন? পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হয়েও পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম পাপীদের ধারে ধারে গিয়ে দাওয়াত দিয়েছেন, সমাজের সবচেয়ে ঘৃনিত মানুষটির কাছেও বার বার গিয়েছেন। তায়েফের ময়দানে কায়েক মাইল জুড়ে বৃষ্টির মত পাথর বর্ষন করেছে।এভাবেই দাওয়াত দিয়েছেন। অথচ এই দেশে জনপ্রিয় আলেমরা যদি দাওয়ার কাজে রাস্তায় নেমে পড়তেন, মানুষের ধারে ধারে যেতেন, জনগন পাথর নিক্ষেপ তো দূরের কথা, এমন আলেমদের বুকে আগলে নিতেন। সর্বোচ্চ ভালোবাসা দিতেন। মানুষ আলেমদের ভালোবাসে বলেই এখনও লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে মাহফিলের আয়োজন করে, একটা তারিখের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করে,বয়ানের পর একটু হাত মিলানোর জন্য, একটু দেখার জন্য কত চেষ্টা করে।

    অথচ জনগনের এই ভালোবাসার মূল্য কি আলেমরা দিচ্ছে? যদি আলেমরা, পীর সাহেবরা সপ্তাহে একদিনও নিজের এলাকার জন্য যুগের একজন মুসয়াব বিন ওমায়ের হয়ে যেতেন তাহলে আজ পুরো দেশে একেকটি জ্বেলা মদীনা হয়ে যেতো।
    "অথচ বাস্তবতা হলো মুসয়াব বিন ওমায়ের রাঃ দিছেন দ্বীনের দাওয়াত, আর আমরা এখন দিচ্ছে ভোটের দাওয়াত। "

    আজ নির্বাচনের মাঠে প্রতিপক্ষের নেতাকে কত গায়েল করে কথা বলা হচ্ছে, কত হুমকি দেওয়া হচ্ছে । অথচ এই নেতাদের দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া কি ইমানী দায়িত্ব নয়? আবু জাহেল কি মক্কার নেতা ছিলো না? তাকে কি রাসুল সাঃ দাওয়াত দেন নি?

    আজ কি কখনও যুগের আবু জাহেল, ওতবা শাইবা, মুগীরাদের দাওয়াত দেওয়া হয়? নাকি শুধু তাদের সাথে কথার লড়াই চলে?
    আসলে গনতন্ত্রই আমাদের এই লড়াই করতে বাধ্য করছে। গনতন্ত্রই আমাদের সামান্য একটা ভোটের জন্য ভিক্ষুকের মত মানুষের ধারে ধারে যেতে বাধ্য করছে। একজন গাজাখোর, ইয়াবাখোর, সুদখোর, ঘুষখোরের কাছে গিয়ে ভোট খুঁজতে হচ্ছে। যার কাছে কখনো আমি দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে যাই নাই, তার কাছে ভোটের জন্য যাচ্ছি।
    কোথায় আমাদের আত্নমার্যাদা, কোথায় আমাদের সম্মান?


Working...
X