নারীবাদীদের US টিকা "জেন্ডার উন্মাদনার" অবসান। যুক্তরাষ্ট্রের ছুঁড়ে ফেলা আবর্জনা বাংলাদেশ কেন কুড়িয়ে নেবে??
§
§
গতকালের একটি খবরে চোখ আটকে গেল- “জেন্ডার-অন্তর্ভুক্তিমূলক নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতির দাবি“। এই খবরটা পড়ার সাথে সাথেই মনে পড়ে গেল ট্রাম্পের সেই নির্বাহী আদেশের কথা, যেখানে সরকারি দলিল থেকে “জেন্ডার” শব্দটাই মুছে ফেলতে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে সরকারি নথি থেকে ‘জেন্ডার’ শব্দ উঠিয়ে সেখানে ‘সেক্স’ বসাতে বলছে আমাদের দেশে সেখানে ‘নারী-পুরুষ’ উঠিয়ে দিয়ে সব জায়গায় ‘জেন্ডার’ বসানোর পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে।
২০ জানুয়ারি ২০২৫। ক্ষমতায় বসার প্রথম দিনেই ট্রাম্প যে কয়েকটি নির্বাহী আদেশে সই করলেন, তার একটির শিরোনাম ছিল “Defending Women from Gender Ideology Extremism and Restoring Biological Truth to the Federal Government”। শিরোনামটা দীর্ঘ, কিন্তু বক্তব্য একেবারে সরল —
যুক্তরাষ্ট্র সরকার মাত্র দুটো লিঙ্গের স্বীকৃতি দেবে: পুরুষ আর নারী। এটা জন্মের সময়ই নির্ধারিত হয় এবং পরিবর্তনযোগ্য নয়।
“জেন্ডার আইডেন্টিটি” বলে কোনো আইনি সত্তার অস্তিত্ব থাকবে না ফেডারেল কাগজপত্রে।
শুধু কাগজে নয়, কাজেও:
পাসপোর্টে জন্মগত লিঙ্গ থাকবে।
কারাগারে পুরুষ মানে পুরুষ, নারীর জায়গায় পুরুষ রাখা যাবে না।
জেন্ডার পরিবর্তনের চিকিৎসায় সরকারি কানাকড়িও ব্য়য় করা যাবে না।
সরকারি ফরমে “জেন্ডার আইডেন্টিটি” বাক্স থাকবে না — অপশন থাকবে শুধু দুটি: পুরুষ অথবা নারী।
‘হোয়াইট হাউস জেন্ডার পলিসি কাউন্সিল’ বিলুপ্ত।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ট্রান্সজেন্ডার এবং এলজিবিটিকিউআই+ বান্ধব নির্দেশিকার স্তূপ বাতিল।
আদেশটি পড়তে পড়তে একটা জায়গায় এসে থামলাম। সেখানে লেখা, এই “জেন্ডার মতাদর্শ” নারীর জৈবিক পরিচয়কে ধ্বংস করছে, তার নিরাপত্তা কেড়ে নিচ্ছে এবং বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে একটি “purposeful attack” চালাচ্ছে। ভাষাটা রাজনৈতিক, কিন্তু উদ্বেগটা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
এবার চোখ ফেরাই ঢাকায়।
বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় তিন বছর ধরে “জেন্ডার ফিন্যান্সিয়াল ট্র্যাকিং” বা ট্র্যাকিং মডেল চালু করেছে। এ বছরের বাজেটে জেন্ডার-সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ মোট বাজেটের ৩৪.৮ শতাংশ, জিডিপির ৪.৮ শতাংশ। প্রায় ৪৩টি মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে “জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদন” তৈরি করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিতে, জলবায়ু কৌশলে, কৃষি পরিকল্পনায় — সর্বত্র “জেন্ডার-রেসপনসিভ” তকমা লাগানো হচ্ছে। সম্প্রতি তো তৃণমূল পর্যায়ে সিসিডিবির (CCDB) উদ্যোগে ‘জেন্ডার সমতা বিষয়ক তথ্য যাচাইকরণ’ কর্মশালাও অনুষ্ঠিত হতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি মহিলা পরিষদের মতো সংগঠনগুলো সংবাদ সম্মেলন করে দাবি তুলছে যে, নারীর ক্ষমতায়নে এই জেন্ডার বাজেটের শতভাগ বাস্তবায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশে “জেন্ডার মেইনস্ট্রিমিং” নামে যা চলছে, তার প্রায় পুরোটাই আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়নে এবং তাদের তৈরি নীলনকশায়। ইউএনডিপি বাংলাদেশ তাদের ২০২৩-২০২৬ কৌশলপত্রে স্পষ্ট লিখেছে, তারা সমাজের “underlying power structures” — মূল ক্ষমতাকাঠামো — ভেঙে দিতে চায় ইউএন উইমেন বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করছে জাতীয় বাজেট ও আইনে এই দর্শন ঢুকিয়ে দিতে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে “জেন্ডার ফোকাল পয়েন্ট” নিয়োগের নির্দেশ এসেছে এবং স্থানীয় পর্যায়েও ‘জেন্ডার রেসপনসিভ’ নীতিমালার চর্চা বাড়ানো হচ্ছে।
নারীর অধিকারের মোড়কে ‘নারী অধিকার হরণকারী’ এই অদ্ভূত দার্শনিক প্যাকেজ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে — যেখানে কেউ “নিজেকে যা মনে করে” সেটাই তার পরিচয়। এই দর্শনটি পশ্চিমের বিশেষ একটি একাডেমিক গোষ্ঠীর ফসল হলেও পশ্চিমের বিরাট একটি অংশ এখন এই দর্শনের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার জেন্ডার মতাদর্শকে “extremism” বলে চিহ্নিত করে রাষ্ট্রকাঠামো থেকে বের করে দিচ্ছে। সেই একই মতাদর্শ বাংলাদেশের বাজেট, নীতি আর আইনের ভেতর দিয়ে ঢুকে পড়ছে — বিদেশি অর্থের হাত ধরে, “নারীর ক্ষমতায়ন” এর মোড়কে!!
সংগৃহীত: