আন-নাসর মিডিয়া পরিবেশিত
বিপ্লবের রূপরেখা
।। মুহাম্মাদ সালাহুদ্দীন যায়দান–
(বিপ্লবী বক্তৃতা পর্ব - ০১)।। থেকে- দ্বিতীয় পর্ব
বিপ্লবের রূপরেখা
।। মুহাম্মাদ সালাহুদ্দীন যায়দান–
(বিপ্লবী বক্তৃতা পর্ব - ০১)।। থেকে- দ্বিতীয় পর্ব
বিপ্লব প্রাদুর্ভাবের কারণসমূহ:
জনগণ বিদ্রোহের আগুনে জ্বলে উঠতে হবে। তাদের এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য, বিপ্লবের যাবতীয় উপকরণ সংগ্রহ করার জন্য এবং তাদের মাঝে অধিকার হারানোর চেতনা জাগ্রত করার জন্য একজন যোগ্য নেতা থাকতে হবে। বিপ্লবকামী জনতার কাছে হারানো অধিকারের চেতনা জাগ্রত করার কাজটি বিপ্লবকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অবিচ্ছিন্ন নির্দেশনার মাধ্যমে হতে পারে, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, আলেম, জ্ঞানী এবং বিপ্লবের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমেও হতে পারে। অথবা মানুষের মনের মাঝে জালিমের প্রতি জমে থাকা ক্ষোভ ও ক্ষোভের উপলব্ধিকে কাজে লাগিয়েও এই কাজটি করা যেতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং সময়ের ভিন্নতার কারণে প্রত্যেক বিপ্লবের কিছু ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য থাকে। অবশ্য শত ভিন্নতা সত্ত্বেও প্রতিটি বিপ্লবের কিছু সামষ্টিক উপাদান থাকে। বিপ্লবের জন্য কখনো তার এক বা একাধিক উপাদান যথেষ্ট হয়। উপাদানগুলো হচ্ছে-
১-শাসকশ্রেণী নিচের যে কোন অবস্থার মাঝে এক ঘরে হয়ে যাবে:
যখন শাসক ও তার সকল পরিষদ এক শূন্যগর্ভে বাস করবে, উন্নতি সাধনে অক্ষম হয়ে পড়বে (দেউলিয়া অবস্থা), জনগণের সাথে তার সম্পর্কে ভাটা পড়ে যাবে, অথবা সেনাবাহিনীর একটি অংশ কর্তৃত্ব করবে এবং এর দ্বারা পুরো বাহিনীর উপর একচেটিয়া কর্তৃত্ব করবে, ক্ষমতা পরিবর্তনের নীতির প্রতি কোন লক্ষ্য করবে না, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতার স্বীকার হবে, শাসকশ্রেণী শাসন ক্ষমতায় থাকার জন্য সার্বিকভাবে যৌক্তিকতা হারিয়ে ফেলা সত্ত্বেও তারা ক্ষমতায় থাকতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাবে, শাসকদের প্রতিটি সেক্টর জনগণের প্রতি খেয়াল না রেখে নিজেদের কল্যাণকর বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করে নিজেদেরকে দায়মুক্ত করবে এবং নিজেদেরকে এমনভাবে প্রকাশ করবে, যেন তারা অনেক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এক নতুন শ্রেণী। অথচ সম্পদ বণ্টনের নীতির প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবে না। তখন অসন্তোষের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে, সর্বমহল থেকেই পরিবর্তনের দাবি উঠতে শুরু করবে। শাসকশ্রেণী যদি ভারসাম্যপূর্ণ হয়, তবে তারা এহেন পরিস্থিতিতে সংশোধনের দিকে আগাবে। কিন্তু স্বভাবতই তারা অসন্তোষ পোষণকারীদের দাবি-দাওয়া পূরণ করবে না। আর যদি শাসকশ্রেণী পশ্চাদমুখী হয়, তবে এমন দমনমূলক ধ্বংসাত্মক মূর্তি ধারণ করবে যে, তাদের এই ধ্বংসাত্মক মনোভাবের কারণে জনগণের সাথে শত্রুতা এবং রাষ্ট্রের নিঃসঙ্গতা আরও বহু গুণে বেড়ে যাবে। এ উভয় শাসনব্যবস্থার মাঝে দিগন্তে বিপ্লবের বিদ্যুৎ চমকাবে। যার পথ ধরে জালিমদের শাসনব্যবস্থা ধ্বংসের কারণগুলো বৃদ্ধি ও ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বিপ্লবের বিদ্যুৎ চমকও বড় থেকে বড় হতে থাকবে।
রাষ্ট্রব্যবস্থা ধ্বংসের কারণসমূহ:
যেসব কারণে চলমান রাষ্ট্রব্যবস্থাকে পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়, সেগুলো হলো- রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কারমূলক কর্মকান্ড থেমে যাওয়া, প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা, তার আভ্যন্তরীণ দৃঢ়তা দুর্বল হয়ে পড়া, নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করা, তাদের সংস্কারমূলক ও সংশোধনী কর্মকান্ডগুলো জনগণের ইচ্ছানুযায়ী না হওয়া, তাদের ক্রোধ ও অসন্তোষের মূল্য না দেওয়া, যখন শাসকশ্রেণী সাধারণ জনগণের উপর দমনমূলক শাস্তি প্রয়োগ করবে, যেগুলোর কারণে তাদের ও জনগণের মাঝে ক্রমশ শত্রুতা ও দূরত্ব বৃদ্ধি পাবে, দমনের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে ক্ষমতাশীনদের নিঃসঙ্গতা বৃদ্ধি পাওয়া, জুলুম-অত্যাচার বৃদ্ধির সাথে সাথে বিপ্লবী সঙ্কট পরিপক্কতার দিকে এগিয়ে যাওয়া, সাধারণ জনগণের উপর কঠোরতা ও নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে অন্যান্য দল ও গোষ্ঠিগুলো থেকেও সরকার পরিবর্তনের আওয়াজ উঠা, জনগণের পক্ষ থেকে অনেক বেশী পরিমাণে অসন্তুষ্টি প্রকাশ পাওয়ার কারণে বিপ্লব সঙ্কট পরিপক্ক হওয়া, সহিংসতা বৃদ্ধি মানে ক্ষমতাসীনদের সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে যাওয়া এবং জনতার দাবি পূরণকারী সমাধান দানে ও সৃষ্টিশীল ক্ষমতা থেকে অক্ষম হওয়া। সংলাপ জনপ্রিয় বিপ্লবকে উপেক্ষা করার প্রয়াস ব্যতীত অন্য কোন কাজে না আসা, শুধুমাত্র অকেজো থেকে যাওয়া। ফলে তা পরম সহিংসতায় রূপান্তরিত হওয়া। শাসনব্যবস্থার আভ্যন্তরীণ থেকে পরিবর্তন করা বা এটি গ্রহণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ার দরুন তা পরিত্যাগ করা এবং বিপ্লব আবশ্যক হয়ে যাওয়া। এমন আরো অনেক কারণ আছে, যেগুলোর কারণে সাধারণ মানুষ চলমান রাষ্ট্রব্যবস্থার পতন কামনা করে।
১-অর্থনৈতিক সঙ্কট:
জনগণ ভবিষ্যতে ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে বিরাট অস্থিরতার স্বীকার হবে। এর থেকে উত্তরণের জন্য সরকার নিস্ফল চেষ্টা করে যাবে, পরিণতিতে সঙ্কট শুধু বেড়েই যাবে, কিন্তু কমবে না। যখন জনগণের দাবী-দাওয়ার প্রতি অবজ্ঞাবশত: এ সমস্যা সমাধান না করে শাসকশ্রেণী নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকবে, তখন অস্থিরতার মাত্রা আরা কয়েকগুণে বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণের অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘতর হতে থাকবে। আবার কখনো কখনো এ অপেক্ষা নিরর্থকও প্রমাণিত হতে পারে। এমনটি হলে জনতার সামনে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া বিকল্প কোন সমাধান থাকবে না।
২-যৌথ বিস্ফোরণ:
একইভাবে জনগণের মৌলিক অধিকার হরণকারী রাষ্ট্রযন্ত্রের কারণে সৃষ্ট সামাজিক গোলযোগ পুঞ্জীভূত হতে থাকবে। তাদের ক্ষোভগুলোকে প্রশমিত না করে বরং তাদের উপর কর্তৃত্ব করে যাবে। জনতাকে ভবিষ্যত বিনাশী সঙ্কটে ফেলে দিবে। যুবকদের মাঝে বেকারত্ব ছড়িয়ে পড়বে। কিছু অর্থনৈতিক বা সাংবিধানিক বিষয়ের মাধ্যমে জনগণকে প্রতারিত করবে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সর্বময়ী ক্ষমতা ও অর্থনীতি শাসকদের হাতে কুক্ষিগত হয়ে থাকে। আর এ ধরণের সঙ্কট ও নির্যাতন সেসব শাসকদের দ্বারাই হতে পারে, যারা নিজেদেরকে দেশ ও দশের একচ্ছত্র অধিকারী ও একমাত্র মালিক মনে করে। আবার স্বৈরাচারী সামরিক শাসক কর্তৃকও হতে পারে। যারা সামন্ত প্রথার মত অনুপ্রবেশ করে নিজেদেরকে শাসকশ্রেণীর মত দেশের ও জনসাধারণের একচ্ছত্র মালিক ভেবে থাকে। সেনাশাসন ও রাজশাসন উভয় ব্যবস্থার মাঝে সম্পদ বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়। সম্পদের মজুদদারী বৃদ্ধি পায়। তারা বহির্রাষ্ট্র (জর্দান সরকার ও মিসরের সেনা সরকার) থেকে বেতন বা ঘুষ নিয়ে থাকে। দেশে নিজেদের পক্ষীয় লোকদের সর্বোচ্চ পদে বসায়। দেশের বড় বড় কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের মালিক বনে যায়। ফলে কর্তৃত্ব ও সম্পদ জনগণের কাছে না গিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রনে চলে যায়। জাতীয় সম্পদ ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে ব্যয় করে। ফলে তাদের বিলাসিতা, চাকচিক্য, অপব্যয় আর দায়িত্বহীনতা চোখে পরার মত হয়ে যায়। ফেতনা-ফ্যাসাদ আর বিশৃঙ্খলা তাদের দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়। ব্যক্তিগত স্বার্থ সব কিছুর উপরে প্রাধান্য পায়। আসল বিষয়গুলোকে ধ্বংস করা হয়। ফলে চরিত্রবান আর চরিত্রহীনের মাঝে কোন পার্থক্য থাকে না। ভদ্রতা আর আনুগত্য স্মৃতিচারণের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়। ফলে জনগণ এসব বিশৃঙ্খলার শিকার হবে। ক্ষুধায় ছটফট করবে এবং বেকারত্বের কারণে অভাব অনটন আর দরিদ্রতায় ভুগে মরবে। আর এ সকল বিষয় সামাজিক বিস্ফোরণের জন্ম দিবে।
৩-বিভিন্ন যুদ্ধ ও যুদ্ধে পরাজয়সমুহ:
পরাজয়ের ফলাফল দেশে সামাজিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের তীব্রতা বাড়িয়ে দিবে। ধন-সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি, মান-সম্মান এবং অসংখ্য অগণিত তাজা প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে মূলত: বিপ্লবের জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী হবে। সাধারণ জনগণের চিন্তা-চেতনা ও গতিপথকে নতুন করে বিপ্লবের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরাজয়ের পরবর্তী সময়টাই অধিক উপযুক্ত। বিজয়ী রাষ্ট্রগুলোতে বিপ্লবের নামও মানুষের উল্লেখ করা লাগে না, বিপ্লব তো অনেক দূরের কথা। যেহেতু এসব দেশে বিপ্লবের কোন প্রয়োজন ও পরিস্থিতি নেই, সেহেতু সেই দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মাঝে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতামূলক কিছু আলোচনা-সমালোচনা হয়।
৪-বহির্বিশ্বের চাপ:
যখন ঔপনিবেশিক শক্তি বা তাদের এজেন্ডারা উম্মাহকে তার স্বাতন্ত্র, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে, জনগণের সাথে অবহেলাপূর্ণ আচরণ করবে, মজুরিহীন শ্রমের মাধ্যমে তাদের থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করবে, জনগণের ও দেশের সম্পদ লুট করে নিয়ে যাবে, সাধারণ জনগণকে নিঃস্ব-হতদরিদ্র করার জন্য কোন অপচেষ্টা বাদ দিবে না, তাদেরকে উন্নতির পথে বাধা দিয়ে অবনতির অতল গহ্বরে ঠেলে দিবে, উম্মাহকে তাদের ধর্মীয় চাহিদা, কৃষ্টি-কালচার পালন, আকিদা-বিশ্বাস ও মাতৃভাষা থেকে বাধা প্রদান করবে, তাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ধ্বংস করার চেষ্টায় মত্ত্ব থাকবে এবং ঔপনিবেশিকদের সংস্কৃতি, ভাষা, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও স্বভাব-চরিত্র গ্রহণে বাধ্য করবে। যখন তারা এসব ন্যাক্কারজনক কাজ করতে থাকবে, তখন জনগণ মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার নেশায় বিভোর হয়ে উঠবে।
৫- আকিদা-বিশ্বাস এবং পবিত্র বিষয়গুলো নিয়ে তামাশা করা:
বিশেষ করে মুসলিম দেশের শাসকরা প্রজাদের ধর্মীয় চেতনাকে খুব সহজ উপায়ে পরিবর্তন করে দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। এর উদ্দেশ্য হলো: তারা জনসাধারণের আকিদাগত ঐতিহ্য এবং সামাজিক দৃঢ় অবস্থানকে খণ্ড-বিখণ্ড ও বিভক্ত করে ফেলতে চায়। অথচ এই বিষয়টি জনগণের কাছে তাদের জাতীয় সুরক্ষার চেয়েও অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলামের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হয়, মানুষকে ইসলাম থেকে দূরে রেখে হারাম কামনা-বাসনা ও প্রবৃত্তি পূজার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়, হারাম কাজের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়, শক্তি প্রয়োগ করে সমাজে হারামগুলো ভরপুর করে দেওয়া হয়, শুধু তাই নয় বরং তা গ্রহণে বাধ্যও করা হয়। আবার কখনো ভিন্ন মতাদর্শ লালনকারী বহিরাগত শত্রুরা এসে সরাসরি দেশ দখল করা শুরু করে, নৈতিক ও বোধগম্য দ্বীনি বন্ধনকে ভেঙ্গে ফেলতে আরম্ভ করে। তখন জনগণ তাদের ঐতিহ্য ও আত্মমর্যাদার বলে বলিয়ান হয়ে স্বতস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দেশ দ্রুতই রক্তক্ষয়ী স্বশস্ত্র আন্দোলনের রুপ লাভ করে। আর স্বভাবতই তাতে তীব্রতা ও রক্তস্রোত শুরু হয়। দেশের আনাচে কানাচে ও সমাজের সর্ব মহলে তা গ্রহণযোগ্যতা পায়। বহির্বিশ্বের কাছে তা একটি আদর্শিক শক্তিশালী আন্দোলনের রূপ নিবে এবং বিভিন্ন দেশ থেকে অর্থনৈতিক ও জনবলের মাধ্যমে সাহায্য-সহযোগিতা করা হবে। সাধারণত: এসব যুদ্ধ ও বিপ্লব এক যুগ বা তার চেয়ে কিছুটা কম-বেশী সময়ের মাঝে সমাপ্ত হয়ে যায়। কারণ, বিপ্লবীদের প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা দায়িত্বশীলরা অভিজ্ঞতায় নতুন। যার ফলে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তাদের ভুল-ভ্রান্তি হতে থাকে। অবশ্য নতুন ঘটনা প্রবাহ, গুণীজনদের পরামর্শ ও বিপ্লবের পুরো সময় জুড়ে তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতাগুলো তাদেরকে ক্রমান্নয়ে সৃজনশীল পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য উপযোগী করে তোলে। এভাবে তারা একটা সময়ে দেশ ও জনগণের চাহিদা, প্রয়োজন ও সঙ্কটগুলো অনুধাবন করতে সক্ষম হয়। অপরদিকে জনগণ একটা সময়ে ধীরে ধীরে আন্দোলন এবং আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তগুলো মেনে নিতে থাকবে, ধৈর্যের সাথে তাদের সহযোগিতা করে যাবে এবং চলমান রাষ্ট্র যন্ত্রের ধারক বাহকদের থেকে দেশকে মুক্ত করতে আগ্রহী হয়ে উঠবে। যেমনটি ঘটেছিলো আফগানিস্তানে তালেবান আন্দোলনের সময়। এই কারণগুলোর উপর একক বা সামষ্টিকভাবে বিপ্লবের উদ্দেশ্যগত দিকটি নির্ভর করে। কিন্তু দ্বিতীয় পক্ষ ছাড়া শুধু এক পক্ষ নিয়ে বিপ্লব শুরু হবে না। কারণ এটাই বিপ্লবের মৌলিক অংশ। যা জনতার সমস্ত শক্তি-সামর্থ, বুদ্ধি ও স্বাধীনতা লাভের আগ্রহের সাথে সম্পৃক্ত। আর সব কিছু তৈরী হওয়ার পর একটি পরিপক্ক বিপ্লবী গোষ্ঠীর প্রয়োজন দেখা দিবে। যারা জনগণকে তাদের হারানো অধিকার সম্পর্কে জাগ্রত করবে, সরকার কর্তৃক দেশের সম্পদ চুরি ও লুন্ঠন, তাদের উপনিবেশবাদ, অবৈধ প্রভাব বিস্তার ইত্যাদি বিষয়গুলো জনগণের সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরবে এবং তাদেরকে এসব কিছুর পরিবর্তনের বিভিন্ন পদ্ধতি বলে দিবে। এরপর বিপ্লবের নেতৃত্ব হাতে নিয়ে, তা পরিপক্কতায় পৌঁছা পর্যন্ত কাজ করে যাবে। এটাকে বিপ্লবের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার স্টেপ/স্তর বলে। পরবর্তীতে এই সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব, ইনশা আল্লাহ।
***