আন-নাসর মিডিয়া পরিবেশিত
বিপ্লবের রূপরেখা
।। মুহাম্মাদ সালাহুদ্দীন যায়দান–
(বিপ্লবী বক্তৃতা পর্ব - ০১)।। থেকে- তৃতীয় পর্ব
বিপ্লবের রূপরেখা
।। মুহাম্মাদ সালাহুদ্দীন যায়দান–
(বিপ্লবী বক্তৃতা পর্ব - ০১)।। থেকে- তৃতীয় পর্ব
বৈপ্লবিক পদযাত্রার স্তরসমূহ
বিপ্লবের ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদেরকে প্রত্যেক দেশের এবং যুগের বৈশিষ্ট্য ও গতিবিধির প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে এবং সেই দেশের ও সেই যুগের বিপ্লবের ধরণ কি, গতিবিধি কেমন, পরিণতি কেমন হয়েছে বা হতে পারে? ইত্যাদি বিষয় সামনে রেখে অগ্রসর হতে হবে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
যে কোন আন্দোলন-সংগ্রাম ও বিপ্লব-বিদ্রোহের কয়েকটি স্তর থাকে। পর্যায়ক্রমে সেগুলো পাড়ি দিতে হয়।
১-সূচনা এবং প্রস্তুতির স্তর:
ক. বিপ্লবের বীজ রোপন করা।
বিপ্লব বিষয়ের গবেষক টিম দেশের সকল সমস্যা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে। শক্তির মাধ্যমে সে সব সমস্যা নিরসন করবে, কৌশল ও টেকনিক র্নিধারণ করবে, বিপ্লবের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ঠিক করবে, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তো সর্বপ্রথম গবেষক দল এই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। অতঃপর সেই অনুযায়ী পরবর্তী স্তরে অগ্রসর হবে।
এরপর জনগণকে সচেতন করতে হবে এবং বিপ্লবের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে। অতঃপর যে কোন মূল্যেই হোক, কোণঠাসায় থাকা অন্যান্য দলগুলোর সাথে মৈত্রীতে আবদ্ধ হতে হবে। যারা সরকারের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আছে বা সরকারের নির্যাতনের স্বীকার হয়ে আছে। ব্যাপকভাবে মানুষকে বিপ্লবের প্রতি উৎসাহ দিতে হবে। তাদের সামনে দেশের মধ্যে চলমান বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক নৈরাজ্যগুলো তুলে ধরতে হবে। যেন এর দ্বারা তাদের মাঝে বিপ্লবের মানসিকতা তৈরী হয় এবং গণবিপ্লবের জোয়ার শুরু হয়। আর বিপ্লব চলাকালীন সময়টুকু এতটাই সংকটময় যে, এ সময় বৈপ্লবিকদের উপর সীমাবদ্ধতা ও সংকীর্ণতা চূড়ান্ত পর্যায়ে আত্মপ্রকাশ করে, সার্বক্ষণিক দমন-পীড়ন চলতে থাকে, আভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো ক্রমেই সর্বশেষ পর্যায়ের দিকে গড়াতে থাকে, একের পর এক প্রাণহানি হতে থাকে এবং জনসাধারণের মনে এই প্রত্যয় জাগে যে, এহেন নাজুক পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের সাথে শান্তিপূর্ণ সমাধানে ফিরে গেলেও কোন শান্তি ফিরে আসবে না। বরং শুধুমাত্র এমন শান্তিপূর্ণ সমাধানের চিন্তা-ভাবনা করলে শহীদদের সেই পবিত্র রক্তের সাথে গাদ্দারী করা হবে, যেই রক্তবন্যার শ্রোত প্রবাহিত হয়েছিল, এই জাগরণকে চূড়ান্তভাবে সফল করার জন্য।
খ. ঐতিহাসিক পরিস্থিতি থেকে করণীয় নির্ধারণ করা:
এই পর্যায়ে এসে মানুষের মনের মাঝে বৈপ্লবিক সজাগ মানসিকতা এবং পরিবর্তনের উচ্চ মনোবল পরিপূর্ণরূপে থাকতে হবে। তবে এই সময় অন্ধকারাচ্ছন্ন কালো রাতের মত বিপদাপদের স্বীকার হতে হবে। সমুদ্রের ঝড়ের ন্যায় মহাপ্রলয় ধেয়ে আসবে। যেমন: জনপ্রিয় ব্যক্তিদেরকে গুম করা হবে, কোন কোন আন্দোলনকারীকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, আবার কাউকে হত্যা করা হবে, কখনো সভা-সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে, শ্রমিক ধর্মঘটের ডাক দিবে, বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ হবে, শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গকে এবং জননেতাদেরকে গ্রেফতার করা হবে। বিপ্লবীদেরকে হতাশ করে দেওয়া, তাদের ক্ষতি সাধন করা এবং তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এই নাজুক মুহূর্তে মানুষের মাঝে দু’টি শ্রেণী তৈরী হয়ে যাবে। একদল নিরাশ হয়ে পেছনে ফিরে যাবে, কষ্টে জর্জরিত হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে চাইবে। আরেকদল শত বাধা-প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে সম্মুখে অগ্রসর হতে থাকবে। নতুন উদ্যমতার সাথে পাহাড়সম দৃঢ়তা নিয়ে শক্তিধর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ময়দানে আবির্ভূত হবে, জনগণকে জাগিয়ে তুলবে এবং বিপ্লবের দিকে টেনে নিয়ে যাবে। চূড়ান্ত সফলতা অর্জনের জন্য যা কিছু করা দরকার, তারা তার সবটুকুই করবে এবং সবার মাঝে প্রতিশোধের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে দিবে। (যেমনটি ২৫ জানুয়ারীতে মিশরে ঘটেছিল।)
উত্থানকামী প্রত্যেক সদস্যকে অবশ্যই অন্যান্য সাধারণ জনগণ থেকে সতর্ক থাকতে হবে। আন্দোলনরত জনগোষ্ঠিকে এই মানসিকতা পরিহার করতে হবে যে, আন্দোলন যেভাবেই অগ্রসর হোক একসময় সফলতা এমনিতেই চলে আসবে। বরং তাদেরকে সফলতা ও বিজয়ের জন্য অপেক্ষায় না থেকে সেটি অর্জনের জন্য সতর্কতার সাথে কঠোর চেষ্টা-সাধনা চালিয়ে যেতে হবে। বিজয়ের জন্য খুব তাড়াহুড়া করা যাবেনা, যাতে মাঝপথ থেকে ফিরে আসা যায়। আবার এমন দেরীও করা যাবে না, যাতে উপযুক্ত সময় ছুটে যায়।
এই স্তরে প্রচুর পরিমাণ সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ, অবরোধ হয়ে থাকে। পাশাপাশি এর হাত ধরেই সকলের মাঝে বিপ্লবের স্পৃহা তৈরী হয়।
২-পূর্বের রাষ্ট্রব্যবস্থা ধ্বংস করার স্তর:
পঞ্চম অনুচ্ছেদে আমরা এ বিষয়ে সামান্য আলোচনা করেছিলাম। বর্তমান সময় এবং মানুষের উন্নতির সাথে সাথে মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃষ্টিশীলতারও উন্নতি হয়েছে। আমি এখানে পূর্ববর্তী বিপ্লবীদের কিছু মুহূর্তের কথা উল্লেখ করবো। সেসময় তারা যে সমস্ত মৌলিক বিষয়ের মুখোমুখি হয়েছিল।
প্রথমত: নিরাপত্তাকর্মী এবং সেনাবাহিনী কর্তৃক ধর-পাকড়:
আন্দোলনকারী জনতার উপর চালানো নির্যাতন ও দৈনন্দিন বহু ক্ষয়-ক্ষতি সত্ত্বেও কোনভাবেই প্রধান প্রধান সড়কগুলোর দখল ছেড়ে দেওয়া যাবে না। যতই নির্যাতন চালানো হোক না কেন, তারা সেখান থেকে কর্তৃত্ব উঠিয়ে নিবে না। তাছাড়া এমন পরিস্থিতিতে সহিংসতার মোকাবেলা সহিংসতার মাধ্যমেও করা যাবে না।
এর পেছনে কয়েকটি উদ্দেশ্য আছে-
ক. সরকারী বাহিনীর মাঝে ফাটল সৃষ্টি করা।
খ. অনেক সময় বিদ্রোহী জনতার পরিচয় বহন করে পুলিশ বা তাদের নেতৃত্বে জঘন্য খারাপ ও নোংরা কাজ করা হয়। তারা এসব জঘন্য অপকর্মের দায়ভার বিপ্লবীদের উপর চাপিয়ে দেয়। সরকারী অফিস-আদালত, মন্ত্রণালয়ে অগ্নিসংযোগ করে, মসজিদ ও মন্দিরে বিস্ফোরণ ঘটায়, নিজেরাই নিজেদের কিছু অফিসার ও সেনা সদস্যকে হত্যা করে, সাংবাদিকদেরকে গুম ও খুন করে, ওলামায়ে কেরামকে হত্যা করে। তারা এ ধরণের বহু অপকর্ম সাধন করে থাকে। জনগণকে সেই দিকে আকৃষ্ট করার জন্য এবং বিপ্লবীদেরকে তাদের কাছে খারাপ হিসেবে দেখানোর জন্য। এমন কিছু মুহূর্তে তাদের উপর আক্রমণ বা এর প্রতিবাদ করার সুযোগ পেয়েও তা ছেড়ে দিতে হবে।
গ. সরকারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির স্বাভাবিক মানসিক অবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া। যদিও সে অপরাধী, তারপরও মানুষ হিসাবে তার উপর এটার প্রভাব পড়বেই। ফলশ্রুতিতে সে দিশেহারা হয়ে মিডিয়ার সামনে এসে বিভিন্ন দুর্বোধ্য বাক্য দিয়ে, হুমকি-ধমকি দিয়ে, রটানো গুজব বলে এবং নির্লজ্জভাবে মিথ্যাচার করে বিবৃতি দিবে। অতঃপর তার ব্যক্তিগত দুর্বলতা ও সময় ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। তার কাছের মানুষগুলো তার চলমান ক্ষমতার ব্যাপারে আস্থা হারিয়ে ফেলবে। ফলে সে তার মদদপুষ্ট কাছের মানুষগুলো থেকে বাহ্যিক এবং আভ্যন্তরীণভাবে খুব দ্রুততার সাথে বিচ্ছিন্ন হতে থাকবে।
নির্যাতনকারী বাহিনীর মোকাবেলা করা:
এটি বিপ্লবকামীদের জন্য প্রথম চ্যালেঞ্জ। কারণ, এই পর্যায়ে এসে তারা এমন এক বাহিনীর সাথে মোকাবেলা করতে যাচ্ছে, যারা সীমালঙ্ঘন ও জুলুম-নির্যাতনের চূড়ান্ত পর্যায় অতিক্রম করেছে। তারা কোনরূপ বাধা-বিঘ্নতা ছাড়াই একের পর এক জাগ্রত জনতাকে হত্যা করে আসছে। কেননা, এতদিন তারা ছিলো শহরের অভ্যন্তরে। যেখানে তাদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালানো অসম্ভব ছিল। আর এখন তারা সকলেই রাস্তায় নেমে আসায় খুব সহজেই তাদের হত্যা করা যাচ্ছে। তবে যতই নির্যাতন আর হত্যার স্বীকার হোক না কেন, দৃঢ়সংকল্প ও পরস্পরকে সাহায্য করার উচ্চ মনোবল নিয়েই কিন্তু তারা মাঠে নেমেছে।
অপরদিকে জনতার উপর নির্যাতনের স্টিমরোলার চালানো সত্ত্বেও তারা কিন্তু অতি দ্রুতই মনোবল হারিয়ে ফেলছে এবং তারা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে আভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও লাঞ্ছনার ক্ষীণ আওয়াজ অনুভব করছে। প্রত্যেক সীমালঙ্ঘনকারী জালিমের অবস্থা এমনই। তাদের বাহ্যিক বর্বরতার আড়ালে হীনতা আর কাপুরুষতা লুকিয়ে থাকে। যখন সর্বত্র যুদ্ধের দাবানল জ্বলে উঠে, তখন বিরোধীপক্ষের সৈন্যদের সামনে তাদের এই হীনমন্যতা ও দুর্বলতা প্রভাতের মত উজ্জ্বল হয়ে যায়। যদিও প্রতিপক্ষের সেনাদলকে বাহ্যিকভাবে খুবই দুর্বল ও অল্প সংখ্যক মনে হয়। তাদের আভ্যন্তরীণ সকল শক্তি বিদ্রোহীদের কাছে স্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও পরোয়া করে না। বরং শক্তিধর জালিমরাই ভয়ে পলায়ন করে।
আরবের নিরাপত্তাবাহিনী البلطجية- الشبيحة পদ্ধতিতে শাসনব্যবস্থাকে পাহারা দেওয়ার জন্য একটি নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে। এটি ল্যাটিন আমেরিকার فرق الموت তথা ডেথ স্কোয়াড পদ্ধতির অনুকরণে গঠিত। যা সরাসরি আমেরিকান গোয়েন্দাসংস্থার তত্ত্বাবধানে ও নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। এরা আন্দোলনকামী জনতা থেকে দূরে থাকতে ভালোবাসে। তারা সমাজের অন্য সকল মানুষের মত বৈধ ঔরসের ফসল নয়। বরং এরা জাতির উপর পরিকল্পিতভাবে সৃষ্ট দরিদ্রতা এবং চলমান রাষ্ট্রব্যবস্থার ফসল। এদেরকে তারা রাস্তা থেকে এবং বিভিন্ন ফুটপাত থেকে কুড়িয়ে এনেছে। এরা সম্মান, আত্মমর্যাদাবোধ, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা, ওয়াদাপূরণ, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা বলতে কিছুই বুঝে না। তাদের ভিতরে বোঝার ক্ষমতাটুকুও নেই। কারণ, তারা লাঞ্ছনা, অবহেলা, উৎকন্ঠা-অস্থিরতা, সন্দেহ-সংশয়, ধমক-বিতাড়নের মাঝে বেড়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত ধোঁকা আর প্রতারণার স্বীকার হয়ে আসছে। এদেরকে যারা প্রতিপালন করেছে, তারা জনগণের উপর অন্ধ বিদ্বেষের উপর প্রতিপালিত করেছে। আর যদি তাদের ধারণের প্রক্রিয়া সম্ভব হয়, তারপরেও এটি তার উপযুক্ত সময় নয়। কেননা, তাদের মাঝে দয়া বা সহানুভূতির কোন চেতনা নেই। অপরকে ক্ষমা করার মত মানসিকতাও তাদের মাঝে নেই। তাদের কোন আত্মীয়তার সর্ম্পক নেই এবং তাদেরকে সঠিক বুঝ দেওয়ার মত কোন নিকটাত্মীয়ও নেই। অতএব, এদেরকে পরিপূর্ণ দৃঢ় সংকল্পের সাথে প্রতিহত করতে হবে। যাতে করে এরা তাদের ইউনিফর্ম পরিধান করা গোয়েন্দাদের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকতে পারে।
আর যখন বিপ্লবীরা সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সরকারী বাহিনীর ঘাঁটি, অফিস, ক্যাম্প ইত্যাদি দখল করার জন্য আক্রমণ শুরু করবে, তখন অবশ্যই তাদেরকে কঠিনভাবে আক্রমণ চালাতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ অস্ত্র নিয়েই মাঠে নামতে হবে। যাতে করে বিদ্যমান রাষ্ট্রযন্ত্রের অর্থ-কড়ির শেষ পরিমাণটুকুও লোপ পায় এবং তা ধ্বংস হয়ে যায়। আর আন্দোলনের নেতৃস্থানীয়দেরকে অবশ্যই তীক্ষ্মতার সাথে গভীর মনোযোগের সাথে একের পর এক আক্রমণ চালাতে হবে। কারণ, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আক্রমণের মোকাবেলা সমপরিমাণ আরেকটি আক্রমণের দ্বারাই হয়ে থাকে। যেন আন্দোলনের মাঝে বিশৃঙ্খলা, অনৈক্য সৃষ্টি না হয় এবং কেউ পিছু হটে না যায়। জনগণের মানসিকতা ও উত্থানকামীদের অবস্থা দেখে মূলত: আক্রমণের কঠোরতা নির্ধারণ করতে হবে। অতঃপর শক্তি প্রয়োগ করে পরিবর্তনের জন্য কঠোর আক্রমণ চালাতে হবে।
যে কোন ইসলামী বিপ্লবের দর্শন দু’টি বিষয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত:
ক. রাজনৈতিক শক্তিকে ধ্বংস করে দেওয়া। যেন মানুষের বিবেকগুলো তাদের কবল থেকে মুক্ত হয় এবং তারা নিজেদের বিবেক দিয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারে, বিবেচনা করতে পারে, দুনিয়া ও আখেরাতের বাস্তবতা নিয়ে ভাবতে পারে।
খ. পূর্ববর্তী রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দেওয়া। যেন কোন বিপদাপদ, অস্থিরতা, অশান্তি, গন্ডগোল ছাড়াই পরিবর্তনের পথ নিরাপদ হওয়ার নিশ্চয়তা অর্জন করা যায়। আর পূর্ববর্তী রাষ্ট্রব্যবস্থা জোরদারকারী মূল শক্তিকে পরিপূর্ণভাবে ও বাস্তবিকভাবে ধ্বংস সাধন করা ছাড়া কোন বিপ্লবই সফল হতে পারবে না। চাই তা সশস্ত্র অবস্থায় হোক বা নিরস্ত্র। এমন ধ্বংস, যা বিলাল বিন রাবাহের নীতির অধীনে “সে বেঁচে থাকলে আমি বেঁচে থাকি না” এই বাক্যের শব্দগুলো নির্দেশ করে।