Announcement

Collapse
No announcement yet.

Bengali Translation || গর্বিত কান্দাহারের মাটিতে নারী শহীদদের কাফেলা

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • Bengali Translation || গর্বিত কান্দাহারের মাটিতে নারী শহীদদের কাফেলা


    مؤسسة النصر
    আন নাসর মিডিয়া
    An Nasr Media

    تـُــقدم
    পরিবেশিত
    Presents

    الترجمة البنغالية
    বাংলা অনুবাদ
    Bengali Translation

    بعنوان:
    শিরোনাম:
    Titled:



    قافلة الشهداء النسائية على أرض قندهار الأبية

    গর্বিত কান্দাহারের মাটিতে নারী শহীদদের কাফেলা

    Caravan of women martyrs in Kandahar



    للشيخ سيف العادل حفظه الله
    শায়খ সাইফ আল-আদেল হাফিযাহুল্লাহ
    By Sheikh Saif Al-Adel Hafizahullah






    روابط بي دي اب
    PDF [569 KB]
    পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৫৬৯ কিলোবাইট]




    https://mega.nz/file/SdMxHABD#0mmdyONcEpX70w0EZ0Vo8pAq539jSPNPPPxI02iOG d4


    روابط ورد
    Word (332 KB)
    ওয়ার্ড [৩৩২ কিলোবাইট]




    https://mega.nz/file/aQE1xJ5a#A7xnnSu3ck1Vfh2X0ohPQSueweXy0v02CYWv0cTHY QQ


    روابط الغلاف- ١
    book Banner (832 KB)
    বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [৮৩২ কিলোবাইট]




    https://mega.nz/file/6UlRlSoK#LMzugEcUHIuot4GzePXhTcGY_uxvvvaO5A3xymHEC _E


    روابط الغلاف- ٢
    Banner [1.5 MB]
    ব্যানার ডাউনলোড করুন [১.৫ মেগাবাইট]







    مع تحيّات إخوانكم
    في مؤسسة النصر للإنتاج الإعلامي
    قاعدة الجهاد في شبه القارة الهندية
    আপনাদের দোয়ায় মুজাহিদ ভাইদের ভুলবেন না!
    আন নাসর মিডিয়া
    আল কায়েদা উপমহাদেশ
    In your dua remember your brothers of
    An Nasr Media
    Al-Qaidah in the Subcontinent





    রোববারের রাত। পবিত্র রমযান মাসের তৃতীয় রজনী। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত একটা পেরিয়ে গেছে। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল এক অজানা আশঙ্কায়; মনে হলো বিপদ যেন ওৎ পেতে আছে খুব কাছেই। আমি সাথে সাথে আমার সঙ্গীদের জাগিয়ে তুললাম। আমার সাথে ছিলেন শায়খ আবু মুহাম্মাদ আল-আবিয়াদ, আব্দুর রহমান আল-মাসরি এবং আবু উসামা আল-ফিলিস্তিনি। সেই রাতে আমাদের মেহমান হিসেবে ছিলেন ভাই আবু হুসাইন আল-মাসরি এবং ফারুক আস-সুরি। আমরা সাধারণত দিনের বেলা একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে কাজ করতাম এবং রাতে আমার এই খালি বাড়িতে এসে ঘুমাতাম।
    সবাইকে জাগিয়ে আমার উদ্বেগের কথা জানালাম। বললাম, ‘চলুন, এখন সেহরী করে নিই। আল্লাহই ভালো জানেন কী ঘটতে চলেছে। তবে যদি কোনো মিসাইলের শব্দ শোনেন, তবে নিশ্চিত থাকুন সেটি আমাদের ওপর পড়বে না। কারণ, দুটি মিসাইল যদি একসাথে না ছোঁড়া হয়, তবে একটির পর আরেকটি আসার মাঝে পাঁচ থেকে সাত মিনিটের ব্যবধান থাকে। এই সময়ের মধ্যেই আমরা নিজেদের গুছিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারব।’
    হঠাৎ দূর থেকে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে এল। আমি ওয়ারলেসে ভাইদের কাছে খবর নিয়ে জানতে পারলাম, স্যাটেলাইট ফোন চালু করার কারণে ‘আল-ওফা চ্যারিটি ফাউন্ডেশন’-এর দ্বিতীয় বাড়িটি শনাক্ত করে সেখানে ‘ক্রুজ’ মিসাইল দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় ভাই আব্দুল ওয়াহিদ শাহাদাত বরণ করেছেন।
    আমার উদ্বেগ সত্য প্রমাণিত হওয়ায় যুবকরা কিছুটা অবাক হলেন। আমরা সেহরীর খাবার প্রস্তুত করে খেতে বসলাম। খাওয়া শেষ হতে না হতেই আমাদের মাথার ঠিক ওপর দিয়ে সাঁ করে একটি মিসাইল উড়ে যাওয়ার শব্দ পেলাম এবং সেটি বাড়ি থেকে মাত্র একশত মিটার দূরে বিস্ফোরিত হলো। আমরা তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিলাম; আশঙ্কা হচ্ছিল—হয়তো আমরাই তাদের মূল টার্গেট, আর আগেরটি ছিল লক্ষ্যভেদের ভুল সংশোধনআমরা দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাম। রাস্তার একপাশে তখন ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে, আর মাথার ওপর চক্কর দিচ্ছে শত্রুর বিমান।
    যে স্থানে মিসাইলটি পড়েছিল, সেখানে দুটি বাড়ি ছিল। একটি আরব পরিবারের, যা তখন খালি ছিল। আর অন্যটি ছিল তালেবানদের একটি ‘পোস্ট’ তথা আস্তানা। আমি ভাবলাম, হয়তো তালেবানরাই তাদের লক্ষ্য ছিল।
    আমরা বিমানের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিলাম। ঠিক পাঁচ মিনিট পর বিমানটি দ্বিতীয় মিসাইলটি ছুঁড়ল। আমরা আড়াল নিলাম। মিসাইলটি রাস্তার ঠিক মাঝখানে এসে পড়ল। আমি ভাইদের নিয়ে পায়ে হেঁটে নিকটবর্তী একটি নিরাপদ স্থানের দিকে রওনা হলাম। পথিমধ্যে তালেবানদের একটি টহল দল আমাকে জানাল যে, ওই বাড়িতে আরব নারীরা অবস্থান করছিলেন। হামলায় একজন ভাই শহীদ হয়েছেন এবং অন্য একজন আহত হয়েছেন, যাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আর নারীরা সবাই অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে গ্রামের দিকে চলে গেছেন।
    আহত ভাইয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনার জন্য আমি হাসপাতালের দিকে রওনা হলাম। পৌঁছেই প্রথমে শহীদের মুখটি দেখতে চাইলাম। দেখলাম, তিনি হলেন ভাই আসিম আল-ইয়ামেনি—ফারুক ক্যাম্পের একজন প্রশিক্ষক। এরপর আহত ভাইয়ের কাছে গেলাম। তিনি ছিলেন আবু আব্দুর রহমান আল-ইব্বি—আমাদের অনেক পুরনো সাথি। তাঁর আঘাত প্রাণঘাতী না হলেও তা স্থায়ী পঙ্গুত্ব সৃষ্টি করার মতো ছিল।
    আমি তাঁকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, “আল-ওফা ফাউন্ডেশনের বাড়িটিতে যখন ক্রুজ মিসাইল হামলা হলো, তখন আমরা পাশেই ছিলাম। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আব্দুল ওয়াহিদের মৃতদেহ বের করার পর আমরা নিজেদের বাড়ির বিষয়ে পরামর্শ করলাম। আশঙ্কা করলাম, হয়তো আমাদের বাড়িটির ওপরও নজরদারি করা হচ্ছে। তাই নারীদের বের করে পাশের একটি বাড়িতে সরিয়ে নিলাম। ভাই মারওয়ান—যিনি পিকআপ গাড়ির চালক ছিলেন—তিনি আল-ওফা ফাউন্ডেশনের বাড়িতে অবস্থানরত যুবকদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে সাহায্য করছিলেন। রাতে কাজ শেষে তিনি ফিরে এলেন। তিনি ঘরে ঢোকামাত্রই আমরা মিসাইল হামলার শব্দ শুনলাম, যা সরাসরি মারওয়ানের গাড়িতে আঘাত হানল। স্পষ্ট বোঝা গেল, তারা গাড়িটির গতিবিধি লক্ষ করছিল এবং পিছু নিয়েছিল।
    আমরা দ্রুত নারীদের বের করে দুটি গাড়িতে করে গ্রামের দিকে পাঠিয়ে দিলাম। আমি আর আসিম আল-ইয়ামেনি কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধারের জন্য বাড়ির কাছেই থেকে গেলাম। ঠিক সেই মুহূর্তে বিমান থেকে দ্বিতীয় মিসাইলটি ছোঁড়া হলো। আমি মিসাইলটিকে আমাদের দিকে ধেয়ে আসতে দেখে মাটিতে শুয়ে পড়লাম। মিসাইলটি ভাই আসিমের খুব কাছেই বিস্ফোরিত হলো। এরপর কী ঘটেছে, আমার আর মনে নেই।”
    আমি তাঁকে আসিমের শাহাদাতের সংবাদ দিলাম এবং তাঁকে সান্ত্বনা দিলাম। ডাক্তারের কাছে তাঁর অবস্থার খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, চিকিৎসার জন্য তাঁকে পাকিস্তানে পাঠানো প্রয়োজন। আমি ভাইদের নির্দেশ দিলাম সকালের মধ্যেই যেন সেই ব্যবস্থা করা হয়।
    আমি নতুন অবস্থানে ফিরে এলাম, যেখানে ভাইদের রেখে গিয়েছিলাম। ভেতরে ঢোকামাত্রই পশ্চিম দিক থেকে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ ভেসে এল। হেলিকপ্টার এবং ‘শিলকা’-সজ্জিত সি-১৩০ গানশিপ বিমান দিয়ে সেই হামলা চালানো হচ্ছিল।
    প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে এই হামলা চলল। ‘মারকাজ সাকার’ থেকে আমাকে জানানো হলো, হামলাটি হচ্ছে ‘পাঞ্জওয়াই’ গ্রামের দিকে। খবরটি শুনে রাস্তায় অবস্থানরত পরিবারগুলোর জন্য আমার বুক কেঁপে উঠল। আমি চুপচাপ ভাবতে লাগলাম। হঠাৎ আবু আলী আস-সুরির উত্তেজিত কণ্ঠস্বর আমার চিন্তায় ছেদ ঘটাল। তিনি চিৎকার করে বলছেন, “হে আব্দুল আহাদ... কুত্তার বাচ্চারা আমাদের ওপর ব্রাশফায়ার করেছে! ওরা নারীদের হত্যা করেছে!”
    আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কোথায়?”
    তিনি বললেন, “পাঞ্জওয়াই রোডে।”
    আমি বললাম, “আমি এখনই আসছি।”
    সবাই এই দুঃসংবাদ শুনলেন এবং সেদিকে ছুটে গেলেন। ততক্ষণে ফজর ওয়াক্ত হয়ে গেছে। আমি দ্রুত নামায শেষ করে আবু আব্দুর রহমান আল-মাসরিকে সাথে নিয়ে গ্রামের দিকে রওনা হলাম।
    রাস্তায় পৌঁছে আমরা সেই মর্মান্তিক দৃশ্যের মুখোমুখি হলাম, যা ছিল আল্লাহ তাআলার অমোঘ ফয়সালার এক বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত ও করুণ উপাখ্যান।
    ঘটনাটি ছিল এমন—শহরের প্রান্তে হামলার তীব্রতা এবং কান্দাহার ও এর আশপাশে বিমানের আনাগোনা দেখে ‘পাঞ্জওয়াই’ গ্রামের কিছু ভাই তাদের সন্তানদের নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। একটি বাড়িতে ছয়টি আরব পরিবার ছিল, যারা সবাই মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) অঞ্চলের নারীদের বিয়ে করেছিলেন। পুরুষরা সিদ্ধান্ত নিলেন, নারীদের নিয়ে চারটি গাড়িতে করে তারা বেরিয়ে পড়বেন এবং খোলা মাঠে রাত কাটাবেন। ঠিক একই সময়ে, কিছুক্ষণ আগে শহরে যাদের বাড়ি বোম্বিং করা হয়েছিল, সেই নারীদের নিয়ে দুটি গাড়ি আসছিল। শহরের পরিবারগুলো দেখল, রাস্তার পাশে প্রায় একশত মিটার দূরে মরোক্কান ভাইদের গাড়িগুলো দাঁড়িয়ে আছে। তখন দুই দল রাস্তায় মিলিত হলো। কিছুক্ষণ পর ভাই সুরাকা আল-ইয়ামেনি এবং হামজা আস-সুরিও সেখানে এসে পৌঁছালেন।
    শত্রুর বিমান থেকে হয়তো এই গাড়িগুলোর বহর থামতে দেখা গিয়েছিল। ভাইয়েরা নিজেদের মধ্যে কিছুক্ষণ কথা বলে গ্রামের দিকে রওনা হলেন। দুই দলের গাড়ির দূরত্ব যখন প্রায় ১.৫ কিলোমিটার, ঠিক তখনই হেলিকপ্টারগুলো তাদের ওপর হামলে পড়ল। কিছুক্ষণ পর সি-১৩০ বিমান এসে নারীদের ওপর এই অসম যুদ্ধে যোগ দিল।
    প্রথম গাড়িটিতে হামলা চালানো হলো—সেটিতে ছিলেন আবু আলী আল-ইয়াফি, তাঁর স্ত্রী, আরো চারজন নারী এবং দুটি শিশু। দ্বিতীয় গাড়িটিতেও আঘাত করা হলো, যেখানে ছিলেন সুরাকা আল-ইয়ামেনি এবং হামজা আস-সুরি। তৃতীয় গাড়িতে ছিলেন আবু আলী আল-মালিকি ও তাঁর পরিবার। সামনের দুটি গাড়িতে হামলা হতে দেখে তিনি দ্রুত পাহাড়ের দিকে গাড়ি ঘুরিয়ে দিলেন। বিমানের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য গাড়ির হেডলাইট বন্ধ করে এবড়োখেবড়ো জমিন দিয়েই তীব্র গতিতে গাড়ি চালিয়ে তিনি কোনোমতে আত্মরক্ষা করলেন। সবগুলো গাড়িই ছিল ‘করোলা স্টেশন’ ওয়াগন।
    প্রথম আঘাতটি সরাসরি প্রাণঘাতী ছিল না, তবে তা গাড়িগুলোকে অচল করে দিয়েছিল। আতঙ্কিত নারীরা গাড়ি থেকে নেমে মরুভূমির ভেতর দিয়ে পাহাড়ের দিকে দৌড়াতে শুরু করলেন। তাদের সাথে ছিলেন তিনজন পুরুষ, তিন বছর বয়সী একটি শিশু এবং মায়ের কোলে থাকা এক দুগ্ধপাষ্য কন্যাসন্তান। নারীদের পরনে ছিল আফগানি বোরকা, ফলে তাদের নারী হিসেবে চিনতে পারার কথা। কিন্তু হেলিকপ্টারের চালক ওই অপরাধীদের অন্ধ আক্রোশ নারী, পুরুষ বা শিশুদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেনি। তারা এই অসহায় পলায়নরত মানুষদের লক্ষ করে মিসাইল ছুঁড়ল এবং মেশিনগান দিয়ে বৃষ্টির মতো গুলি বর্ষণ করল। এমনকি তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শহীদ হওয়ার পরও ওই অপরাধীরা তাদের পবিত্র দেহগুলোর ওপর গুলিবর্ষণ অব্যাহত রাখল। গুলিতে তাদের শরীর টুকরো টুকরো হয়ে গেল, দুগ্ধপাষ্য শিশুটির দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল এবং ছেলেশিশুটির দেহও খণ্ডবিখণ্ড হয়ে ছড়িয়ে পড়ল। এমনকি তাদের ওজুমাখা নূরানি চেহারাগুলোও আর অবশিষ্ট রইল না। নারী শহীদদের এই দ্বিতীয় কাফেলাটি এভাবেই তাদের রবের কাছে নিজেদের আত্মা সঁপে দিলেন। আশ্চর্যজনকভাবে, পুরুষদের দেহগুলো প্রায় অক্ষত ছিল।
    অন্যদিকে, মরোক্কান ভাইদের গাড়িগুলোতেও হামলা চালানো হলো। সংঘর্ষের শব্দ শুনে তাঁরাও পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। এতে আব্দুল ওয়াহহাব আল-মাসরি এবং আবু আলি আস-সুরি আহত হলেন। মাগরিব অঞ্চলের প্রথম এক নারী শাহাদাত বরণ করলেন, যাঁর পবিত্র দেহে বিশটিরও বেশি গুলি বিদ্ধ হয়েছিল।
    ঘটনাস্থলে চারপাশ থেকে আরব ও অনারব ভাইয়েরা জড়ো হলেন। দৃশ্যটি ছিল এক ভয়ংকর ও গাম্ভীর্যপূর্ণ। আফগানরা এই দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ল, কিন্তু আরবদের ধৈর্য ছিল পাহাড়ের মতো। যুবকরা ছিন্নভিন্ন দেহের টুকরোগুলো কুড়াতে শুরু করলেন—এখানে শিশুর হাত, ওখানে মাথার খুলির অংশ, এখানে এক টুকরো মাংস, ওখানে চামড়া; কার দেহের অংশ, তা চেনার কোনো উপায় নেই।
    বিমান ফিরে আসার আশঙ্কায় আমি ভাইদের সরে যেতে নির্দেশ দিলাম। কবর খোঁড়ার জন্য একদলকে গ্রামে পাঠালাম এবং আরেক দলকে দেহাংশগুলো সংগ্রহের দায়িত্ব দিলাম। তাঁরা পাঁচজন নারী এবং দুটি শিশুর অবশিষ্ট দেহাবশেষ একটিমাত্র বস্তার ভেতর কোনো মতে জমা করলেন। পুরুষ ভাইদের লাশগুলো তুলে আমরা সবাইকেই ‘পাঞ্জওয়াই’ গ্রামে দাফন করলাম। কেবল মরোক্কান বোনটিকে কান্দাহরের সেই কবরস্থানে দাফন করা হলো, যেখানে শায়খ আবু হাফস এবং তাঁর সঙ্গীরা শায়িত আছেন।
    গত রাতের হামলায় পুরুষদের মাঝে যাঁরা শাহাদাত বরণ করেছেন, তাঁরা হলেন: আবু আসিম আল-ইয়ামেনি, আবু আলী আল-ইয়াফি (যিনি শায়খ আবু হাফসের বাড়িতে হামলার সময় প্রহরী ছিলেন এবং সেবার বেঁচে গিয়েছিলেন), সুরাকা আল-ইয়ামেনি এবং আবু হামজা আস-সুরি (যাঁকে আমরা দুদিন আগেই আবু হাফসের সাথে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করেছিলাম)।
    আর নারী শহীদদের তালিকা—যাঁদের একজন ছাড়া সবাই ছিলেন ইয়েমেনি: আবু আলী আল-ইয়াফির স্ত্রী, আবু উসামা আল-কিনি-এর স্ত্রী, রায়হান আত-তায়িজির স্ত্রী, আবু উসামা আত-তায়িজির স্ত্রী ও তাঁর দুই শিশু সন্তান, জুবায়ের আদ-দালির স্ত্রী (যিনি স্বামীর অপেক্ষায় ছিলেন তাঁকে নিতে আসার জন্য) এবং আবু বারা আল-হিজাজির স্ত্রী (যিনি ছিলেন মাগরিব অঞ্চলের)।
    দাফন কাজ সম্পন্ন করতে আমি গ্রামের দিকে যাচ্ছিলাম, আর আমার বুকে তখন আল্লাহ তাআলার এই বাণীর প্রতিধ্বনি বাজছিল:
    قُلْ إِنَّ الْمَوْتَ الَّذِي تَفِرُّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مُلَاقِيكُمْ
    “বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়ন করছ, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে।” (সূরা আল-জুমুআ, ৬২:০৮)
    সুবহানাল্লাহ! কুরআনের এই আয়াত যেন এই ঘটনার সাথে হুবহু মিলে গেছে।
    ভাইয়েরা নারীদের মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে কান্দাহারের এক প্রান্ত থেকে শহরের ভেতরে নিয়ে এসেছিলেন। এরপর সেখান থেকে আবার গ্রামের দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু শাহাদাতের দিনক্ষণ এবং স্থান তো আগে থেকেই নির্ধারিত—না এক মুহূর্ত আগে, না পরে। পৃথিবীর নির্দিষ্ট এক টুকরো জমিনেই তাঁদের শাহাদাত লেখা ছিল।
    আমি ভাইদের সাথে মিলিত হলাম। আল্লাহ আমাকে কিছু কথা বলার তাওফীক দিলেন, যার মাধ্যমে আমি তাঁদের মনোবল সুদৃঢ় করার চেষ্টা করলাম। আমি বললাম, এটি বান্দার ওপর আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ যে তিনি তাদের দিকে নজর দিয়েছেন। আর আল্লাহ তাআলার সুদৃষ্টি পাওয়া কতই না সৌভাগ্যের বিষয়! তিনি পুরুষ, নারী ও শিশুদের মধ্য থেকে যাঁদের ইচ্ছা করেছেন, তাঁদের শহীদদের কাফেলায় অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছেন। আমি জোর দিয়ে বললাম, “আমাদের নারী ও সন্তানরা আল্লাহর আমানত। আমানতের মালিক যখন তাঁর আমানত ফিরিয়ে নিতে চান, তখন তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করা এবং তাঁর ফয়সালায় ধৈর্য ধারণ করা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই।” ভাই আবু উসামা আত-তায়িজিকে স্মরণ করিয়ে দিলাম যে, ইনশাআল্লাহ কিয়ামতের দিন তাঁর দুই শিশু সন্তান তাঁর হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাবে।
    এরপর আমি আমার পরিবারের সাথে দেখা করতে গেলাম, যাঁদের সাথে কাবুলে রওনা হওয়ার পর থেকে আর দেখা হয়নি। আমি বোঝার চেষ্টা করছিলাম, এই মর্মান্তিক ঘটনা নারীদের মনে কী প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে আমার স্ত্রী এক হাস্যোজ্জ্বল ও প্রশান্ত বদনে আমাকে স্বাগত জানালেন—আমি যা বলছি, আল্লাহ তাঁর সাক্ষী। তিনি বললেন: “আপনি কি শুনেছেন কী ঘটেছে? বোন উম্মে আলী আল-ইয়াফি তাঁর স্বামীর সাথে সাথেই শহীদ হয়েছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে, আপনাকে এবং আমাদের সন্তানদেরও তাঁদের মতো একসাথে শাহাদাত নসিব করেন।”
    অবশ্য তাঁর কাছ থেকে এমন কথা শোনা বিস্ময়কর নয়। কারণ, তাঁর ভাই ১৯৮৮ সালে শহীদ হয়েছিলেন। আর তাঁর বাবা হলেন মুজাহিদদের মুরুব্বি শায়খ আবু ওয়ালিদ—যিনি ১৯৭৯ সালে আরবদের মধ্যে সর্বপ্রথম জিহাদে এসেছিলেন এবং ১৯৯০ সালে খোস্ত বিমানবন্দর অবরোধ অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
    তাঁর এই অবিচলতা দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হলাম। আমার পাঁচ সন্তানের সাথে দেখা করলাম এবং জোহরের সময় ঘনিয়ে এলে কান্দাহারের উদ্দেশে রওনা হলাম।


    আপনাদের দোয়ায় মুজাহিদ ভাইদের ভুলবেন না!
Working...
X