Announcement

Collapse
No announcement yet.

পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদের বিজয়ঃ ধেয়ে আসছে বিপদের কালোমেঘ

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদের বিজয়ঃ ধেয়ে আসছে বিপদের কালোমেঘ

    পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদের বিজয়ঃ ধেয়ে আসছে বিপদের কালোমেঘ



    ‎আল ফিরদাউস এর সম্পাদক মুহতারাম ইবরাহীম হাসান হাফিযাহুল্লাহ’র কলাম

    ‎সম্প্রতি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর আসন থেকে বিজয়ের পর উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর দম্ভোক্তি তথাকথিত রাজনৈতিক শিষ্টাচারের সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। সে সরাসরি মুসলিম সম্প্রদায়কে আক্রমণ করে বলেছে:

    ‎"এবার আমি প্রায় দশ হাজার ভোটে জিতেছি। নন্দীগ্রামের হিন্দুরা আমাকে আবার জিতিয়েছে। সেখানকার সমস্ত মুসলিম ভোট টিএমসি-র (তৃণমূল কংগ্রেসে) দিকে গেছে, এই লোকেরা কট্টরবাদী। আমি নন্দীগ্রামের হিন্দুদের জন্যই কাজ করব।"

    ‎শুভেন্দুর এই বক্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত 'হিন্দুত্ববাদী সিস্টেমের' নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। এই সিস্টেমটি মূলত ইসলামের প্রতি বিদ্বেষের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে একজন জনপ্রতিনিধি জনসমক্ষে ঘোষণা করতে পারে যে সে মুসলিমদের অধিকারকে অস্বীকার করবে। এটি সেই বিভাজনমূলক জাহেলিয়াতেরই ফসল, যা বর্তমানে সমগ্র ভারতে মুসলিমদের কৃতদাসে পরিণত করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে।

    ‎এই 'হিন্দুত্ববাদী কাঠামো' বা সিস্টেমটি কেবল কোনো একজন ব্যক্তির একক চিন্তাধারা নয়। এটি আরএসএস, বজরং দল এবং বিজেপির দীর্ঘমেয়াদী এজেন্ডা, যা মুসলিমদের চিরশত্রু হিসেবে লক্ষ্যবস্তু করে। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আমরা দেখেছি— উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা গরুর মাংসের মিথ্যে অভিযোগে মুসলিমদের পিটিয়ে মারা, বুলডোজার দিয়ে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং সামান্য কারণে নিরপরাধ যুবকদের 'শহীদ' করা, এমনকি মুসলিম বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠন ও জোরপূর্বক ধর্মত্যাগে বাধ্য করছে। এই বাতিল অপশক্তি এখন পশ্চিমবঙ্গকেও সেই একই নির্মম পরিস্থিতিতে ঠেলে দিতে চাইছে। শুভেন্দুর মতো নেতারা যখন মুসলিমদের 'কট্টরবাদী' বলে গালি দেয়, তখন আসলে তারা মুসলিম উম্মাহর ঈমানি পরিচয়কেই লক্ষ্যবস্তু বানায়।

    ‎আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই কুফরী সিস্টেমটি অত্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক। এখানে পুলিশ-প্রশাসন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে সরাসরি মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার একটি অঘোষিত লাইসেন্স দেওয়া হয়। এই নাপাক মুশরিকদের জুলুম থেকে বাঁচার জন্য জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র বা ধর্মনিরপেক্ষতার মতো মানবরচিত ও কুফরী মতবাদ কখনো মুক্তির পথ হতে পারে না। এই মেকি শাসনব্যবস্থাগুলো মূলত বাতিল শক্তিরই হাতিয়ার, যা মুসলিমদের রক্ষার পরিবর্তে তাদের আরও দুর্বল ও পরাধীন করে রাখে।

    ‎পরিশেষে, সত্যটি আমাদের মেনে নিতে হবে যে, শুভেন্দু অধিকারী কেবল এই ঘৃণ্য ব্যবস্থার একটি দাবার ঘুঁটি মাত্র। এই পুরো হিন্দুত্ববাদী সিস্টেমটিই ইসলাম বিদ্বেষের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অকারণে মুসলিমদের ওপর হওয়া নির্যাতন এবং তাদের ধর্মীয় পরিচয়কে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বানানোই এই মিশনের মূল কাজ। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এই কট্টরবাদী মিশন এক ভয়াবহ বিষবাষ্প, যা আজ মুসলিমদের জান-মাল ও সম্মানের জন্য সরাসরি হুমকি।

    ‎এই জুলুম ও আগ্রাসন থেকে উম্মাহর পূর্ণাঙ্গ মুক্তির একমাত্র পথ হলো ইসলামী শরিয়াহ'র বাস্তবায়ন। বাতিল শক্তির মোকাবিলায় কোনো মানবরচিত মতবাদের পেছনে না ছুটে, একমাত্র জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ও আল্লাহর দেওয়া বিধানের দিকে ফিরে আসাই হলো প্রকৃত সমাধানের পথ। যখন একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্ব কায়েম হবে, তখনই কেবল মুসলিমরা এসব কাফেরদের উৎপীড়ন থেকে নিরাপদ থাকতে পারবে এবং প্রকৃত বিজয় ও ইনসাফ লাভ করবে। এই সচেতনতা ও ঈমানি দৃঢ়তা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।​

    নিয়মিত খবর পড়তে ভিজিট করুনঃ https://alfirdaws.org
Working...
X