مؤسسة الحكمة
আল হিকমাহ মিডিয়া
Al Hikmah Media
تـُــقدم
পরিবেশিত
Presents
الترجمة البنغالية
বাংলা অনুবাদ
Bengali Translation
بعنوان:
শিরোনাম:
Titled:
إِن يَنتَهُوا يُغْفَرْ لَهُم مَّا قَدْ سَلَفَ
“তারা যদি নিবৃত্ত হয়, তবে অতীতে যা হয়েছে তা ক্ষমা করা হবে।”
"If they desist, what happened in the past will be forgiven. "
للشيخ أبو عبد الرحمن مهد ورسام حفظ الله
শায়খ আবু আব্দুর রহমান মাহাদ ওয়ারসামে হাফিযাহুল্লাহ
By Shaykh Abu Abdur-Rahman Mahad Warsam Hafizahullah

روابط بي دي اف
PDF (673 KB)
পিডিএফ [৬৭৩ কিলোবাইট]
روابط وورد
Word (424 KB)
ওয়ার্ড [৪২৪ কিলোবাইট]
روابط الغلاف- ١
book Banner (842 KB)
বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [৮৪২ কিলোবাইট]
روابط الغلاف- ٢
Banner [245 KB]
ব্যানার ডাউনলোড করুন [২৪৫ কিলোবাইট]
*****
﴿إِن يَنتَهُوا يُغْفَرْ لَهُم مَّا قَدْ سَلَفَ﴾
“তারা যদি নিবৃত্ত হয়, তবে অতীতে যা হয়েছে তা ক্ষমা করা হবে।”
(সূরা আল-আনফাল: ৩৮)
শায়খ আবু আব্দুর রহমান মাহাদ ওয়ারসামে হাফিযাহুল্লাহ
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসুল এবং তাঁর পবিত্র পরিবার ও নেককার সাহাবিদের ওপর। হামদ ও সালাতের পর:
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوّاً مِنَ الْمُجْرِمِينَ وَكَفَى بِرَبِّكَ هَادِياً وَنَصِيراً
“আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু বানিয়েছি। আর পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে আপনার রবই যথেষ্ট।” (সূরা আল-ফুরকান: ৩১)
মানবজাতির সৃষ্টির সূচনা থেকেই সত্য ও মিথ্যার এই চিরন্তন দ্বন্দ্ব চলে আসছে। ইতিহাসের নানা বাঁকে এটি বিভিন্ন রূপ ও পর্যায় অতিক্রম করেছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, কাফিরদের মূল ও সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো— মুসলিমদের তাদের দ্বীন থেকে বের করে আনা। তারা চায় মুসলিমরা কুফরি মতাদর্শের কাছে মাথা নত করুক এবং তারই অন্ধ অনুসরণ করুক।
وَلَا يَزَالُونَ يُقَٰتِلُونَكُمۡ حَتَّىٰ يَرُدُّوكُمۡ عَن دِينِكُمۡ إِنِ ٱسۡتَطَٰعُواْۚ
“আর তারা সর্বদা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেই থাকবে, যে পর্যন্ত না তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দেয়—যদি তারা সক্ষম হয়।” (সূরা আল-বাকারাহ: ২১৭)
وَلَن تَرۡضَىٰ عَنكَ ٱلۡيَهُودُ وَلَا ٱلنَّصَٰرَىٰ حَتَّىٰ تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمۡۗ
“আর ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা কখনোই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন।” (সূরা আল-বাকারাহ: ১২০)
আমাদের পবিত্র ইসলামী ভূখণ্ডগুলোতে আজ ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা যে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে, তা বিভিন্ন কৌশলে রূপ নিয়েছে। কাফিররা তাদের ঘৃণ্য উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নানা উপায় অবলম্বন করেছে। কখনো তারা চালিয়েছে সরাসরি সামরিক আগ্রাসন, কখনোবা চাপিয়ে দিয়েছে বৈশ্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধ। আবার কখনো তাদের হাতিয়ার হয়েছে অর্থনীতি, নৈতিকতা কিংবা রাজনৈতিক কূটচাল। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য একটাই— আমাদের ইসলামী ভূখণ্ডগুলোতে কুফরি গণতন্ত্রের শাসন চাপিয়ে দেওয়া। তারা চায় মানুষকে ইসলামী শরিয়তের অনুসরণ এবং ইলাহি ওহির আলো থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে।
يُرِيدُونَ أَنْ يُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَّا أَنْ يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ . هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ
“তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর আলোকে নিভিয়ে দিতে চায়। কিন্তু আল্লাহ তাঁর আলোকে পূর্ণাঙ্গ করা ছাড়া অন্য কিছু মানবেন না, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। তিনিই তাঁর রাসুলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে একে অন্য সব দ্বীনের ওপর বিজয়ী করতে পারেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।” (সূরা আত-তাওবা: ৩২-৩৩)
কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ! মহান আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহে দীর্ঘ বছরের পর বছর চলা নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধের পরও তারা ব্যর্থ হয়েছে। ক্রুসেডার ও মুরতাদ জোট শরিয়তের শেকড় উপড়ে ফেলার যত চেষ্টাই করেছে, তাদের সব অভিযানই মুখ থুবড়ে পড়েছে। আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের বিজয় ও অবিচলতার সুফল রক্ষার তাওফিক দিয়েছেন। মুজাহিদরা আজ নিজেদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, সংখ্যা ও প্রযুক্তির চেয়ে ঈমানের শক্তি অনেক বেশি শক্তিশালী। তাঁরা দেখিয়ে দিয়েছেন অহংকার ও দম্ভ কখনোই তাওহিদ ও দৃঢ়বিশ্বাসের কাছে জয়ী হতে পারে না। মুজাহিদদের একটি ক্ষুদ্র দল, যারা কেবল নিজেদের রবের ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করে, তারা পরাশক্তিগুলোর সম্মিলিত বিশাল বাহিনীর চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী।
كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ
“কত ছোট দল আল্লাহর হুকুমে বড় দলের ওপর বিজয়ী হয়েছে! আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” (সূরা আল-বাকারাহ: ২৪৯)
সামনাসামনি সামরিক যুদ্ধে যখন কাফিররা চরমভাবে ব্যর্থ হলো এবং মুজাহিদদের পরাজিত করতে তাদের অক্ষমতা প্রকাশ পেল, তখন ক্রুসেডার ও মুরতাদরা চক্রান্ত এবং ছায়াযুদ্ধের পথ বেছে নিলো। তারা শরিয়ত উৎখাতের এই যুদ্ধে গুপ্তচর ও এজেন্টদের নিয়োগের মাত্রা বাড়িয়ে দিলো। এই গুপ্তচরেরাই এখন মুসলিমদের ওপর পরিচালিত পাশবিক বিমান হামলাগুলোতে শত্রুদের সরাসরি সহায়তা করছে।
আজকের দিনে এই দেশদ্রোহী এজেন্টরাই মুসলিমদের ভূমি জবরদখল করার পথ সহজ করে দিচ্ছে। নিরীহ সাধারণ মানুষের ওপর চালানো প্রতিটি গণহত্যার পেছনে রয়েছে এদেরই হাত। বাজার, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি— যেগুলো সামরিক ঘাঁটি থেকে বহু দূরে অবস্থিত, ঠিক সেগুলোর অবস্থান কাফিরদের যুদ্ধবিমানের কাছে চিহ্নিত করে দেয় এই গুপ্তচরেরাই।
গুপ্তচরবৃত্তি বা চর নিয়োগের বিষয়টি কিন্তু নতুন কোনো কৌশল নয়। নবীজি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়কাল থেকেই কাফিররা এই কূটচাল ব্যবহার করে আসছে। মদিনার মুনাফিকরাই সেসময় ইহুদি ও কুরাইশ মুশরিকদের সাথে হাত মিলিয়েছিল। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সম্মানিত সাহাবিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় এরাই আল্লাহর শত্রুদের কাছে গোপন তথ্য পাচার করত। এই মুনাফিকদের চরিত্র তুলে ধরতে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ‘সূরা আল-মুনাফিকুন’ নামে একটি আস্ত সূরাই নাজিল করেছেন। তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে, মুনাফিকদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যই হলো কাফিরদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা এবং আল্লাহর শত্রুদের সহায়তা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন:
بَشِّرِ الْمُنَافِقِينَ بِأَنَّ لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا (138) الَّذِينَ يَتَّخِذُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ أَيَبْتَغُونَ عِنْدَهُمُ الْعِزَّةَ فَإِنَّ الْعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا
“মুনাফিকদের এই সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। যারা মুমিনদের পরিবর্তে কাফিরদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করে। তারা কি তাদের কাছে সম্মান খোঁজে? অথচ সমস্ত সম্মান তো কেবল আল্লাহরই।” (সূরা আন-নিসা: ১৩৮-১৩৯)
ঠিক একইভাবে, আজকের দিনে মুসলিমদের কাতারে মিশে থাকা এই গুপ্তচরেরা মূল কাফিরদের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। কারণ তারা হলো ঘরের ভেতরের অদৃশ্য শত্রু। সাধারণ মানুষের সামনে তারা নিজেদের অত্যন্ত ভালো মানুষ হিসেবে তুলে ধরে, অথচ তাদের অন্তরে লুকিয়ে থাকে চরম নোংরামি ও বিশ্বাসঘাতকতা। সুযোগ পেলেই তারা মুসলিমদের পিঠে বিষাক্ত খঞ্জর বসিয়ে দেয়। ইসলামের ইতিহাসে মূল কাফিররা কখনোই সরাসরি যুদ্ধ করে মুসলিমদের পরাজিত করতে পারেনি। তারা যখনই সফল হয়েছে, তার পেছনে মূল কলকাঠি নেড়েছে এই মুনাফিক ও গুপ্তচরেরাই। আর এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুসলিমদের কাফির ও মুনাফিক— উভয় শ্রেণির বিরুদ্ধেই সমান্তরালভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ
“হে নবী! কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন। তাদের ঠিকানা জাহান্নাম, আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্যস্থল।” (সূরা আত-তাওবা: ৭৩)
এর ওপর ভিত্তি করে এবং আমাদের উম্মাহর প্রতি অর্পিত দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আমরা মুসলিম সমাজকে কাফিরদের এই কূটচালে প্রতারিত না হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করছি। আমরা তাদের আহ্বান জানাচ্ছি, শত্রুদের যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করা থেকে যেন তারা নিজেদের বিরত রাখে। সবারই এটি স্পষ্টভাবে জেনে রাখা উচিত যে, ইসলাম ধ্বংসের এই যুদ্ধে যে ব্যক্তিই কাফিরদের সহায়তা করবে— তা যেভাবেই হোক না কেন— সামরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, অর্থনৈতিকভাবে অথবা কাফিরদের কাছে তথ্য পাচার করে বা মুসলিমদের গোপন বিষয় ফাঁস করে দিয়ে; এই সব কাজই কুফরি এবং দ্বীন থেকে বের হয়ে যাওয়ার (মুরতাদ হওয়ার) শামিল। মহান আল্লাহ বলেন:
لَّا يَتَّخِذِ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ ٱلۡكَٰفِرِينَ أَوۡلِيَآءَ مِن دُونِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَۖ وَمَن يَفۡعَلۡ ذَٰلِكَ فَلَيۡسَ مِنَ ٱللَّهِ فِي شَيۡءٍ إِلَّآ أَن تَتَّقُواْ مِنۡهُمۡ تُقَىٰةٗۗ
“মুমিনরা যেন মুমিনদের বাদ দিয়ে কাফিরদের বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। আর যে এমনটি করবে, আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক থাকবে না। তবে ব্যতিক্রম হলো, যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোনো বিপদের আশঙ্কা করো এবং আত্মরক্ষার জন্য তা করো।” (সূরা আল ইমরান: ২৮)
تَرَى كَثِيرًا مِنْهُمْ يَتَوَلَّوْنَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَبِئْسَ مَا قَدَّمَتْ لَهُمْ أَنْفُسُهُمْ أَنْ سَخِطَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَفِي الْعَذَابِ هُمْ خَالِدُونَ (80) وَلَوْ كَانُوا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالنَّبِيِّ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مَا اتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَاءَ وَلَكِنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ فَاسِقُونَ
“আপনি তাদের অনেককেই দেখবেন কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব করতে। তাদের অন্তর নিজেদের জন্য যা অগ্রিম পাঠিয়েছে, তা কতই না নিকৃষ্ট! তা হলো, আল্লাহ তাদের ওপর ক্রোধান্বিত হয়েছেন এবং তারা চিরকাল আজাবের মাঝেই থাকবে। যদি তারা আল্লাহ, নবী ও তাঁর প্রতি যা নাজিল হয়েছে তাতে ঈমান আনত, তবে কখনোই তাদের (কাফিরদের) বন্ধুরূপে গ্রহণ করত না। কিন্তু তাদের অনেকেই পাপাচারী।” (সূরা আল-মায়িদাহ: ৮০-৮১)
আল্লাহর এই বাণীগুলো থেকে বিষয়টি একেবারে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে যায়। যে ব্যক্তি কাফিরদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে ও তাদের ভালোবেসে তাদের সাহায্যকারী হবে, তাদের কাছে মুসলিমদের তথ্য পাচার করবে কিংবা মুসলিমদের দুর্বলতা ও গোপনীয়তা তাদের সামনে তুলে ধরবে; সে প্রকাশ্য কুফরিতে লিপ্ত হবে। এটি এমন এক জঘন্যতম পাপ, যা আল্লাহর ক্রোধকে প্রবলভাবে উসকে দেয় এবং এর শাস্তিস্বরূপ সে অনন্তকাল জাহান্নামে থাকার উপযুক্ত হয়ে যায়।
আর এই দুনিয়াতেও একজন গুপ্তচরের জন্য অপেক্ষা করছে চরম দুর্ভাগ্যজনক শাস্তি। সে সর্বদা এক তীব্র মানসিক যন্ত্রণা, বিষণ্ণতা আর আতঙ্কের মাঝে জীবন পার করে— যা বাইরের কেউ সহজে উপলব্ধি করতে পারে না। সে যেমন মুসলিমদের ভয়ে তটস্থ থাকে, তেমনি যেসব কাফিরদের সাথে সে হাত মিলিয়েছে, তাদেরও সে ভয় পায়। তার ভবিষ্যৎ থাকে এক অনিশ্চিত অন্ধকারে ঢাকা, যেখানে প্রতি মুহূর্তে থাকে কেবল সন্দেহ আর বিপদের হাতছানি।
একজন গুপ্তচর দ্বীন ও মুসলিমদের যে সীমাহীন ক্ষতিসাধন করে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
- মুসলিমদের পিছিয়ে পড়া এবং কাফিরদের সফলতার অন্যতম বড় কারণ এই গুপ্তচর।
- তার ইশারা ও তথ্যের ভিত্তিতে বহু মুসলিমকে বন্দিজীবন বরণ করতে হয়।
- তার কারণেই কাফিররা অসংখ্য নিরীহ মুসলিমের রক্ত ঝরায়, যাদের এই গুপ্তচরের প্রতি বিন্দুমাত্র কোনো অপরাধ ছিল না।
- সে শত্রুদের হাতে এমন সব দুর্লভ তথ্য ও সুযোগ তুলে দেয়, গুপ্তচরের অস্তিত্ব ছাড়া যা তাদের পক্ষে কখনোই অর্জন করা সম্ভব হতো না।
- তার কারণেই বহু বাবা-মা তাদের প্রিয় সন্তানকে হারায় এবং অসংখ্য মুসলিম শিশু পরিণত হয় এতিমে।
- মুসলিম সমাজের ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট করা এবং একে অপরের প্রতি আস্থার জায়গাটি ধসিয়ে দেওয়ার মূল হোতা এই গুপ্তচর।
একইসাথে, শয়তান মানুষকে শত্রুদের ফাঁদে ফেলে গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়ানোর জন্য যেসব পিচ্ছিল পথ তৈরি করে রেখেছে, সেসব মায়াজাল থেকে বেঁচে থাকার জন্যও আমরা মুসলিমদের সতর্ক করছি। এই পিচ্ছিল পথগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: যৌন প্রবৃত্তি ও অশ্লীলতার স্রোতে গা ভাসিয়ে দেওয়া, আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হওয়া এবং জিনার পথে আহ্বানকারী প্রতিটি ডাকে সাড়া দেওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ وَمَنْ يَتَّبِعْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। আর যে ব্যক্তি শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তবে সে তো তাকে নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই নির্দেশ দেবে।” (সূরা আন-নূর: ২১)
উলামায়ে কেরাম বহুকাল আগেই বলে গেছেন, “পাপকাজ হলো কুফরির ডাকপিয়ন।” বাস্তবতায়ও বারবার দেখা গেছে, যে ব্যক্তি পাপাচার ও অশ্লীলতায় যত বেশি নিমজ্জিত, শয়তান ও কাফিরদের পাতা গুপ্তচরবৃত্তির ফাঁদে তার পা হড়কে যাওয়ার আশঙ্কা ততটাই বেশি।
তাছাড়া, মানুষ যখন পাপ ও নাফরমানিতে লিপ্ত হয়, তখন তার অন্তর অন্ধ হয়ে যায় এবং তার ভেতরের আলো নিভে যায়। ফলে তার জন্য যেকোনো ধরনের মন্দ কাজে লিপ্ত হওয়া খুব সহজ হয়ে যায়; তার ভেতরে তখন কোনো ভয় বা দ্বিধা কাজ করে না।
শত্রুরা মানুষকে ফাঁদে ফেলে গুপ্তচরে পরিণত করার জন্য আরেকটি মোক্ষম হাতিয়ার ব্যবহার করে। তারা এমন লোকদের খুঁজে বের করে, যারা সারাক্ষণ মুজাহিদদের ভুলত্রুটি তালাশ ও তাদের সমালোচনা করায় ব্যস্ত থাকে। অথবা যারা মুজাহিদদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণের জন্য পরিচিত, শত্রুদের কোনো সফলতায় যারা আনন্দিত হয় এবং মুজাহিদদের বিজয়ে যাদের গাত্রদাহ শুরু হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা এমন সব বৈশিষ্ট্যধারী মুনাফিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন:
أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ أَنْ لَنْ يُخْرِجَ اللَّهُ أَضْغَانَهُمْ (29) وَلَوْ نَشَاءُ لَأَرَيْنَاكَهُمْ فَلَعَرَفْتَهُمْ بِسِيمَاهُمْ وَلَتَعْرِفَنَّهُمْ فِي لَحْنِ الْقَوْلِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ أَعْمَالَكُمْ
“যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, তারা কি মনে করে যে আল্লাহ কখনোই তাদের ভেতরের বিদ্বেষ প্রকাশ করে দেবেন না? আমি চাইলে আপনাকে তাদের এমনভাবে দেখিয়ে দিতাম যে, আপনি তাদের লক্ষণ দেখেই চিনে ফেলতেন। আর তাদের কথার সুর শুনে তো আপনি অবশ্যই তাদের চিনতে পারবেন। আল্লাহ তোমাদের সকল আমল সম্পর্কে অবগত।” (সূরা মুহাম্মাদ: ২৯-৩০)
শত্রুরা যাদের বিশেষভাবে টার্গেট করে গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগ দেয়, তাদের মধ্যে একদল হলো— যারা একসময় মুজাহিদ ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে জিহাদের ময়দান থেকে পিঠ দেখিয়ে পালিয়েছে। যারা জিহাদ পরিত্যাগ করে এই পাপাচারের পথ বেছে নিয়েছে, তাদের দ্বারা ইসলামের কী পরিমাণ ক্ষতি হয় সে সম্পর্কে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “ব্যভিচারী, সমকামী, জিহাদ পরিত্যাগকারী, বিদআতি এবং মদ্যপায়ী— এরা সবাই এবং এদের সাথে মেলামেশা করা ইসলাম ধর্মের জন্য চরম ক্ষতিকর।”
মুসলিমদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করা এবং ইসলামী প্রদেশগুলোতে শত্রুদের পরিচালিত বিভিন্ন হামলা ও সামরিক অভিযানে সাহায্য করা ছাড়াও গুপ্তচরদের কাঁধে আরও অনেকগুলো দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। এসব কাজের মাধ্যমে তারা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বহুমুখী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
- মানুষদের জিহাদ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো এবং গুজব রটানো।
- মুসলিমদের মনে ভীতি সঞ্চার করা এবং শত্রুদের খবরগুলোকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রচার করা।
- সমাজে পাপাচার, অশ্লীলতা, ব্যভিচার এবং নৈতিক অবক্ষয়ের বিস্তার ঘটানো।
- সাধারণ মানুষের মাঝে ফেতনা সৃষ্টি করা এবং মুজাহিদদের চরিত্র হনন করে তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করা।
শত্রুরা যাকে নিজেদের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই ক্ষুদ্র ও দুর্বল গোষ্ঠীটিকে প্রতিহত করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য। শত্রুরা যেন আমাদের সন্তানদের ব্যবহার করে মুসলিমদের ক্ষতিসাধন করার সুযোগ না পায়, সে ব্যাপারে আমাদের চূড়ান্ত সতর্ক থাকতে হবে। আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই— পিতা-মাতা এবং অভিভাবকদের ওপর তাদের অধীনস্তদের রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির বিশাল দায়িত্ব রয়েছে।
পরিশেষে, যারা শত্রুদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তিতে লিপ্ত, তাদের প্রতি আমরা ফিরে আসার ও তাওবা করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা তাদের বলছি— আল্লাহর দিকে ফিরে এসো, নিজেদের দ্বীনে প্রত্যাবর্তন করো এবং শত্রুদের সাথে এই চরম বিশ্বাসঘাতকতামূলক সহযোগিতা এখনই বন্ধ করো। তোমরা এযাবৎ যা করেছো, তা তোমাদের জন্য শিক্ষার কারণ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। আমরা বিশ্বাস করি, দুনিয়া ও আখিরাতের নিশ্চিত ধ্বংস থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর দরবারে নিখাদ তাওবা করা ছাড়া তোমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।
যতক্ষণ তোমাদের দেহে প্রাণ আছে, এই সুবর্ণ সুযোগটি লুফে নাও। যারা এই সুযোগ হাতছাড়া করে মুজাহিদদের হাতে ধরা পড়েছে, তাদের করুণ পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো। তারা শত্রুদের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছিল ঠিকই, কিন্তু শেষমেশ মুজাহিদদের জালে আটকা পড়েছে। যে ব্যক্তি এই কুফরি কাজ থেকে তাওবা ঘোষণা করবে এবং নিজে এসে স্বেচ্ছায় মুজাহিদদের কাছে আত্মসমর্পণ করবে, আমরা তাকে পূর্ণ নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিচ্ছি। আল্লাহর ইচ্ছায় তার সমস্ত গোপনীয়তা সযত্নে রক্ষা করা হবে।
إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ
“তবে তোমাদের আয়ত্তে আসার আগেই যারা তাওবা করে নিয়েছে। জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অসীম দয়ালু।” (সূরা আল-মায়িদাহ: ৩৪)
إِلَّا ٱلَّذِينَ تَابُواْ وَأَصۡلَحُواْ وَبَيَّنُواْ فَأُوْلَٰٓئِكَ أَتُوبُ عَلَيۡهِمۡ وَأَنَا ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ
“তবে যারা তাওবা করে, নিজেদের সংশোধন করে এবং সত্যকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে, আমি তাদের তাওবা কবুল করি। আর আমি তো তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।” (সূরা আল-বাকারাহ: ১৬০)
তোমার পাপের পাহাড় যত বিশালই হোক না কেন, জেনে রাখো, আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। মৃত্যু ঘনিয়ে আসার আগে কেউ যদি তাওবা করে ফিরে আসে, তবে আল্লাহর কাছে এমন কোনো বড় পাপ নেই যা তিনি ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র কিতাবে অত্যন্ত মায়ামাখা সুরে বলেছেন:
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ (53) وَأَنِيبُوا إِلَى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنْصَرُونَ (54) وَاتَّبِعُوا أَحْسَنَ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ بَغْتَةً وَأَنْتُمْ لَا تَشْعُرُونَ (55) أَنْ تَقُولَ نَفْسٌ يَا حَسْرَتَا عَلَى مَا فَرَّطْتُ فِي جَنْبِ اللَّهِ وَإِنْ كُنْتُ لَمِنَ السَّاخِرِينَ (56) أَوْ تَقُولَ لَوْ أَنَّ اللَّهَ هَدَانِي لَكُنْتُ مِنَ الْمُتَّقِينَ (57) أَوْ تَقُولَ حِينَ تَرَى الْعَذَابَ لَوْ أَنَّ لِي كَرَّةً فَأَكُونَ مِنَ الْمُحْسِنِينَ (58) بَلَى قَدْ جَاءَتْكَ آيَاتِي فَكَذَّبْتَ بِهَا وَاسْتَكْبَرْتَ وَكُنْتَ مِنَ الْكَافِرِينَ (59(
“বলুন, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছো, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেন। তিনি তো চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর তোমাদের ওপর আজাব নেমে আসার আগেই তোমরা তোমাদের রবের দিকে ফিরে এসো এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করো। এরপর আর তোমাদের সাহায্য করা হবে না। আর তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে তার সর্বোত্তমটির অনুসরণ করো, তোমাদের অজান্তেই হঠাৎ করে তোমাদের ওপর আজাব নেমে আসার আগেই। যাতে কাউকে বলতে না হয়— ‘হায় আফসোস! আল্লাহর প্রতি আমার কর্তব্যে আমি চরম অবহেলা করেছি এবং আমি তো কেবল ঠাট্টাকারীদেরই দলভুক্ত ছিলাম।’ অথবা যাতে এ কথা বলতে না হয়— ‘আল্লাহ যদি আমাকে পথ দেখাতেন, তবে আমি অবশ্যই মুত্তাকিদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’ অথবা আজাব চোখের সামনে দেখে যাতে বলতে না হয়— ‘হায়! যদি আমার একবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ হতো, তবে আমি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম।’ (তখন আল্লাহ বলবেন,) ‘হ্যাঁ! আমার নিদর্শন তো তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলে এবং অহংকার করেছিলে। আর তুমি ছিলে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত’।” (সূরা আয-যুমার: ৫৩-৫৯)
যে ব্যক্তি এই আন্তরিক ডাক শোনার পরও সুযোগটি কাজে লাগাবে না, তার জেনে রাখা উচিত— মুজাহিদদের শ্যেন দৃষ্টি তার দিকেই ধেয়ে আসছে। একবার মুজাহিদদের হাতে ধরা পড়ার পর ইনশাআল্লাহ তার কোনো তাওবাই আর গ্রহণ করা হবে না। মুসলিমদের ক্ষতি করেছে এমন কাউকেই মুজাহিদরা বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। আল্লাহ খুব শীঘ্রই তাদেরকে আমাদের হাতের মুঠোয় এনে দেবেন। আর মুসলিমদের ক্ষতিসাধনকারী প্রত্যেককে তার প্রাপ্যানুযায়ী চরম শাস্তি দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। সে আজ হোক কিংবা কাল।
وَلَا تَحۡسَبَنَّ ٱللَّهَ غَٰفِلًا عَمَّا يَعۡمَلُ ٱلظَّٰلِمُونَۚ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمۡ لِيَوۡمٖ تَشۡخَصُ فِيهِ ٱلۡأَبۡصَٰرُ
“আর আপনি কখনোই মনে করবেন না যে, জালিমরা যা করছে সে বিষয়ে আল্লাহ গাফিল। তিনি তো তাদের কেবল সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিচ্ছেন, যেদিন আতঙ্কে তাদের চোখ স্থির হয়ে যাবে।” (সূরা ইবরাহীম: ৪২)
وَٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَا سَنَسۡتَدۡرِجُهُم مِّنۡ حَيۡثُ لَا يَعۡلَمُونَ وَأُمۡلِي لَهُمۡۚ إِنَّ كَيۡدِي مَتِينٌ
“আর যারা আমার আয়াতগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছে, আমি তাদেরকে এমনভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাব যে, তারা টেরও পাবে না। আমি তাদের অবকাশ দিই। নিশ্চয়ই আমার কৌশল অত্যন্ত সুদৃঢ়।” (সূরা আল-আরাফ: ১৮২-১৮৩)
আমরা আল্লাহর অমোঘ সুন্নাহ (নিয়ম) থেকে এ কথা খুব ভালোভাবেই জানি যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর দ্বীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং জিহাদের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই লাঞ্ছিত করেন। তার সব জঘন্য চক্রান্ত বুমেরাং হয়ে তার নিজের ঘাড়েই এসে পড়ে।
اسْتِكْبَارًا فِي الْأَرْضِ وَمَكْرَ السَّيِّئِ وَلَا يَحِيقُ الْمَكْرُ السَّيِّئُ إِلَّا بِأَهْلِهِ فَهَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا سُنَّتَ الْأَوَّلِينَ فَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللَّهِ تَبْدِيلًا وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللَّهِ تَحْوِيلًا
“পৃথিবীতে তাদের ঔদ্ধত্য প্রকাশ এবং জঘন্য চক্রান্তের কারণে। আর জঘন্য চক্রান্ত কেবল চক্রান্তকারীদেরই বেষ্টন করে। তবে কি তারা কেবল পূর্ববর্তীদের প্রতি যে নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে তার অপেক্ষাতেই রয়েছে? আপনি আল্লাহর নিয়মে কখনোই কোনো পরিবর্তন পাবেন না এবং আল্লাহর নিয়মে কোনো ব্যত্যয়ও দেখতে পাবেন না।” (সূরা ফাতির: ৪৩)
আমাদের প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ لَيُمْلِي لِلظَّالِمِ حَتَّى إِذَا أَخَذَهُ لَمْ يُفْلِتْهُ» قَالَ: ثُمَّ قَرَأَ: {وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ القُرَى وَهِيَ ظَالِمَةٌ إِنَّ أَخْذَهُ أَلِيمٌ شَدِيدٌ}
“নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমকে ছাড় দেন। এরপর যখন তাকে ধরেন, তখন আর তাকে রেহাই দেন না।” বর্ণনাকারী বলেন, এরপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন— ‘আর এভাবেই আপনার রব পাকড়াও করেন, যখন তিনি কোনো জনপদকে তার জুলুমের কারণে পাকড়াও করেন। নিশ্চয়ই তাঁর পাকড়াও অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও কঠোর’। (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৪৬৮৬, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ২৫৮৩)
আমরা আবারও পরিষ্কার করে বলছি, যারা এই জঘন্য গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েছে, তাদের জন্য আজো তাওবার দরজা খোলা আছে। এটি পবিত্র রমজান মাস, যে মাসে আল্লাহ তাঁর অসংখ্য বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। সুতরাং, এই মহিমান্বিত সুযোগকে কাজে লাগাও।
আর আমরা মুজাহিদগণ, এই মর্মে পুনরায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, গুপ্তচরবৃত্তির মতো নোংরা কাজ থেকে তাওবা করে যে ব্যক্তিই আমাদের কাছে ফিরে আসবে, আমরা তাকে সাদরে গ্রহণ করব। আমরা তার অতীতকে ঢেকে রাখব এবং তাকে পূর্ণ নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করব। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ يَنْتَهُوا يُغْفَرْ لَهُمْ مَا قَدْ سَلَفَ وَإِنْ يَعُودُوا فَقَدْ مَضَتْ سُنَّتُ الْأَوَّلِينَ (38) وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ فَإِنِ انْتَهَوْا فَإِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌ (39) وَإِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَوْلَاكُمْ نِعْمَ الْمَوْلَى وَنِعْمَ النَّصِيرُ
“যারা কুফরি করেছে তাদের বলে দিন, তারা যদি নিবৃত্ত হয়, তবে অতীতে যা হয়েছে তা তাদের জন্য ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর যদি তারা পুনরায় আগের মতো আচরণ করে, তবে পূর্ববর্তীদের দৃষ্টান্ত তো আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে। আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকো, যে পর্যন্ত না ফিতনার অবসান হয় এবং দ্বীন পুরোপুরি আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। এরপর তারা যদি নিবৃত্ত হয়, তবে তারা যা করে আল্লাহ তো তা সম্যক দ্রষ্টা। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখো যে আল্লাহই তোমাদের অভিভাবক। কতই না উত্তম অভিভাবক তিনি এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী!” (সূরা আল-আনফাল: ৩৮-৪০)
وَٱللَّهُ غَالِبٌ عَلَىٰٓ أَمۡرِهِۦ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعۡلَمُونَ
“আর আল্লাহ তাঁর নিজ কাজে পূর্ণ কর্তৃত্বশীল; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।” (সূরা ইউসুফ: ২১)
আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের ওপর আল্লাহর অজস্র দরুদ ও শান্তি বর্ষিত হোক।
******
مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة الحكمة للإنتاج الإعلامي
قاعدة الجهاد في شبه القارة الهندية
আপনাদের দোয়ায়
আল হিকমাহ মিডিয়ার ভাইদের স্মরণ রাখবেন!
আল কায়েদা উপমহাদেশ
In your dua remember your brothers of
Al Hikmah Media
Al-Qaidah in the Subcontinent