https://archive.org/details/patwary_202602
[লেখাটি পড়ার আগে ভিডিওটি মনোযোগ দিয়ে দেখুন]
সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপি’র নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী আল্লামা বাবুনগরী (রহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে একটি চরম বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন, যা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তার বক্তব্যের একটি সংক্ষিপ্ত অংশ—মাত্র ৫৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ—আমরা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডির আলোকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি।
অনেকে মনে করতে পারেন, এত অল্প সময়ের একটি ভিডিও দিয়ে কোনো বক্তব্যের প্রকৃত অবস্থা বোঝা সম্ভব নয়। তবে আচরণগত বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সময়ের দৈর্ঘ্য নয়, বরং আচরণের ধারাবাহিকতা, প্রতিক্রিয়ার প্রকৃতি ও অ-মৌখিক সংকেতই মূল বিবেচ্য। সে দৃষ্টিকোণ থেকে এই ক্লিপটি পর্যবেক্ষণের জন্য যথেষ্ট উপাদান বহন করে।
অতএব অতিরিক্ত কোনো ভূমিকা না টেনে, চলুন সরাসরি ভিডিওটির বিশ্লেষণে যাওয়া যাক –
কিছু প্রশ্ন:
[লেখাটি পড়ার আগে ভিডিওটি মনোযোগ দিয়ে দেখুন]
সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপি’র নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী আল্লামা বাবুনগরী (রহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে একটি চরম বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন, যা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তার বক্তব্যের একটি সংক্ষিপ্ত অংশ—মাত্র ৫৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ—আমরা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডির আলোকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি।
অনেকে মনে করতে পারেন, এত অল্প সময়ের একটি ভিডিও দিয়ে কোনো বক্তব্যের প্রকৃত অবস্থা বোঝা সম্ভব নয়। তবে আচরণগত বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সময়ের দৈর্ঘ্য নয়, বরং আচরণের ধারাবাহিকতা, প্রতিক্রিয়ার প্রকৃতি ও অ-মৌখিক সংকেতই মূল বিবেচ্য। সে দৃষ্টিকোণ থেকে এই ক্লিপটি পর্যবেক্ষণের জন্য যথেষ্ট উপাদান বহন করে।
অতএব অতিরিক্ত কোনো ভূমিকা না টেনে, চলুন সরাসরি ভিডিওটির বিশ্লেষণে যাওয়া যাক –
- পুরো বক্তব্যজুড়ে নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী মুখ ও হাতের “pacifying cluster” অত্যন্ত স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। বক্তব্যের সংবেদনশীল অংশগুলোতে একই ধরনের মুখভঙ্গি, নির্দিষ্ট কিছু শব্দের অতিরিক্ত পুনরাবৃত্তি এবং বারবার একই ভঙ্গিতে কেবল ডান হাত সামনে আনার প্রবণতা দেখা গেছে। এ ধরনের পুনরাবৃত্তি বেশি মাত্রার মানসিক চাপের ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ বক্তব্য দেওয়ার সময় পাটোয়ারী ভেতরে ভেতরে উল্লেখযোগ্য মাত্রার উদ্বেগ অনুভব করেছে—যা তার শরীরী ভাষায় প্রকাশ পাচ্ছিলো।
- মাত্র ৫৭ সেকেন্ডের ক্লিপে চোখের blink rate কয়েক জায়গায় বেমানান মনে হয়েছে। আচরণগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, কেউ যখন সত্য গোপন করে বা বক্তব্যকে কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে, তখন চোখের পলকে এই ধরনের অস্থিরতা বা অসামঞ্জস্যতা প্রকাশ পায়।
- পাটোয়ারীর আরও কয়েকটি ভিডিওর সাথে তুলনা করলে এই ক্লিপে তার বক্তব্যের গতি স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা মন্থর বলে মনে হয়। মাত্র ৫৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে সে ৯ বার “হলো” শব্দটি ব্যবহার করেছে—যার বেশিরভাগই বক্তব্যের অর্থ বহনে কোনো ভূমিকা রাখে না। এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় ফিলার শব্দ সাধারণত তখনই বাড়তে থাকে, যখন বক্তা কথার প্রবাহ ধরে রাখতে হিমশিম খায়। আচরণগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, কেউ যখন এমন তথ্য উপস্থাপন করে যা তার স্মৃতিতে সুসংগঠিতভাবে উপস্থিত নেই, তখন বক্তব্য দিতে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বাক্য গঠনের চাপ তৈরি হয়। এর ফল হিসেবে কথার গতি ধীর হয়ে যায় এবং ফাঁক পূরণ করতে বারবার ফিলার শব্দ ঢুকে পড়ে। এই ক্লিপে সেই চাপের লক্ষণগুলো স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।
- বক্তব্যের বিভিন্ন অংশে incomplete shoulder shrug একাধিকবার লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে বাম কাঁধ সামান্য উঠছে, কিন্তু শরীরের বাকি অংশ সেই নড়াচড়ার সঙ্গে সমন্বয় করছে না। আচরণগত বিশ্লেষণে এই ধরনের অসম্পূর্ণ কাঁধ ওঠানোকে প্রায়ই কমিটমেন্টের ঘাটতির non-verbal leak হিসেবে ধরা হয়—যেখানে বক্তা মুখে যা বলছে, তার সঙ্গে ভেতরের দৃঢ়তা পুরোপুরি মিলছে না।
কিছু প্রশ্ন:
- ২০১৩ সালে নাসির উদ্দীন পাটেওয়ারীর বয়স কত ছিল?
- সেই বয়সে সে কি তার বাপ-দাদার বয়সী কাউকে “ভাই” বলে সম্বোধন করতো?
- আল্লামা বাবুনগরী (রহিমাহুল্লাহ) পুরো ইন্টারোগেশনের সময় রিমান্ডে থাকাকালীন কোনো অপ্রয়োজনীয় তথ্য দেননি। সেই পরিস্থিতিতে, তিনি কই মাছ খাওয়ার প্রসঙ্গে নাসির উদ্দীনের সাথে এমন কথা বলবেন কেন যা তার ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে?
- এক যুগেরও বেশি সময় পরে এমন একটি ঘটনা সামনে আনার পেছনে পাটোয়ারীর উদ্দেশ্য কি রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য নয়?
কওমী ভাইদের প্রতি কিছু কথা
আপনাদের উচিত রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আরও চৌকস হওয়া। অন্য যে কোনো দলের মতো স্বার্থের রাজনীতি যেন আপনাদের বিতর্কের মাত্রাকে আরও উস্কে না দেয় তা গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণে রাখা। আমরা মনে করি দশটি সেকুল্যার গণতান্ত্রিক দলের পরিবর্তে একজন ইসলামপন্থীর সহায়ক হওয়া আপনাদের জন্য শ্রেয়। যেহেতু “গণতন্ত্র কুফর” সংক্রান্ত আলোচনায় আপনাদের কারণেই একটা পেরেক বিঁধে গেলো, তাই মন্দের ভালো বিবেচনায় প্রতিটি সেক্যুলার দলকে পরিত্যাগ করা আপনাদের জন্য ঈমানী দায়িত্ব। পাশাপাশি এটাও মনে রাখা চাই যে, ইসলামী জাগরণ তাওহীদের পতাকার নিচে হবে—এই চিরন্তন সত্য অন্য সবার চেয়ে আপনাদের কাছে বেশি স্পষ্ট। তাই আকাবীর পূজা কিংবা স্বার্থের রাজনীতি যেন আপনাদের এমন সোনালী ভবিষ্যৎ থেকে ছিটকে না ফেলে যা আফগানরা ইতোমধ্যে অর্জন করেছে।জামাতী ভাইদের প্রতি কিছু কথা
রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আপনারাও অন্য ইসলামপন্থীদের সংলাপে টানতে ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ, আপনারা চেয়েছেন সব ইসলামপন্থীরা আপনাদের বিতর্কিত রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুগামী হোক। অথচ আপনারা ওই রাজনীতির-ই ধারক যার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের শেকড় গেড়ে বসেছে বাংলার জমীনে। সম্ভাবনা ছিল আপনাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এই দেশে ইসলামপন্থীদের হাত শক্ত হবে, কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি অদূর ভবিষ্যতে এই জমীনে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে আপনারাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এবং খতরনাক হয়ে উঠবেন। এই কথা মনে গেঁথে নেয়া চাই যে, ইসলামের নূর পশ্চিমাদের বেঁধে দেয়া রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জ্বলে উঠবে না। পশ্চিমাদের মনতুষ্ঠির মধ্য দিয়ে নয়, বরং ওদের বিরুদ্ধাচারণের মধ্য দিয়েই বিজয় নিশ্চিত হবে বিইযনিল্লাহ।