Announcement

Collapse
No announcement yet.

গভীর ছায়া রাষ্ট্রের আড়ালে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু কার হাতে!

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • গভীর ছায়া রাষ্ট্রের আড়ালে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু কার হাতে!

    ডিপ স্টেট কী ও কীভাবে কাজ করে?

    বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থান ও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরবর্তী ড. মুহাম্মদ ইউনুস কে ক্ষমতায় নিয়ে আসা এবং বর্তমান সরকার গঠনে মার্কিন ডিপ স্টেটের হাত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন মাধ্যমে। এই নিয়ে বিভিন্নভাবে আলোচনা সমালোচনা করা হচ্ছে। কিন্তু কী এই ডিপ স্টেট, কী এর ইতিহাস, কীভাবেই বা কাজ করে এটি আজকে জানবো এর বিস্তারিত।

    ডিপ স্টেট শব্দটির সাথে অনেকেই হয়তো পরিচিত, সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ক্ষমতার পরিবর্তনের পিছনে মার্কিন ডিপ স্টেটের হাত আছে বলে অনেকেই দাবি করেছেন। তা শুধু গুঞ্জনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এই নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও। স্বাভাবিকভাবেই তিনি তা অস্বীকার করেছেন। বর্তমান নির্বাচন পরবতর্তী সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনা জন্ম দিয়েছে কিছু রহস্য।গভীর ছায়া রাষ্ট্রের আড়ালে ক্ষমতার কেন্দ্রুবিন্দু নিয়ন্ত্রণ করে কারা?

    কী এই ডিপ স্টেট?
    ডিপ স্টেট শব্দগুলো এসেছে “derin devlet” শব্দ থেকে যার অর্থ হলো গভীর বা অদৃশ্য সরকার।

    ডিপ স্টেট এমন একটি ধারণা বা তত্ব যা বোঝাতে চায় যে, রাষ্ট্রের ভিতর একটি গোপন বা অদৃশ্য অপ্রকাশিত শক্তি বা অদৃশ্য ক্ষমতার নেটওয়ার্ক কাজ করে যা নির্বাচিত সরকার বা জনগণের ইচ্ছার তোয়াক্কা না করে নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে এবং ক্ষমতার পরিচালনা করে।


    ডিপ স্টেটের উপাদান কি? কারা পরিচালনা করেন এই ডিপ স্টেট?

    এটি এমন একটি ধারণা যেখানে রাষ্ট্রের ভেতরেই একটি গোপন বা অদৃশ্য ক্ষমতার নেটওয়ার্ক থাকে, এটি সাধারণত সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা,সেনাবাহিনী, ক্ষমতাশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলি, স্থায়ী আমলাতন্ত্র কিংবা কর্পোরেট মাধ্যমের ব্যক্তিদের মাধ্যমে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী হয়ে থাকে।


    ডিপ স্টেটের ধারণা নতুন মনে হলেও এর শিকর ইতিহাসের অনেক আগে থেকে পাওয়া যায়। ডিপ স্টেট শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয়েছিলো তুরস্কে৷ ১৯২৩ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর তুরস্কের ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র কাঠামো ধরে রাখার চেষ্টা হিসেবে সামরিক গোয়েন্দা, আমলাতন্ত্র ও গোপন নেটওয়ার্কে গড়ে উঠে প্রথম সমান্তরাল ছায়া রাষ্ট্র।

    ১৯৫০ সালে মার্কিন মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের ধারণার সাথে ডিপ স্টেট তত্বকে প্রায়ই তুলনা করা হয়। অনেকেই মনে করেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই, সিআইএ ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করে।

    কিন্ত কীভাবে কাজ করে ডিপ স্টেট?

    ডিপ স্টেট প্রভাবশালী কর্পোরেশন, গোয়েন্দা সংস্থা ও ব্যাংকিং সেক্টরের মাধ্যমে রাষ্ট্রের নীতিকে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। গোপন নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপর প্রভাব বিস্তার করে৷ যেন তারা ডিপ স্টেট ব্যক্তিদের ইচ্ছা মত কাজ করে৷ জনগণের মনোভাব এবং ধারণা প্রভাবিত করতে গণমাধ্যম, প্রোপাগাণ্ডা ও ইনফ্লুয়েন্সার এবং সাংস্কৃতিক বিভিন্ন মাধ্যমকেও ব্যবহার করা হয়।

    অনেকেই ডিপ স্টেটকে একটি কন্সপিরেসি থিওরি বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে নাকচ করে দেন। তারা মনে করেন এমন কোন সংগঠিত ডিপ স্টেট নেই।

    চলুন এবার জেনে নেই ডিপ স্টেট ধারণার বাস্তবতা কি?
    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে (আমেরিকা) ঘিরে "ডিপ স্টেট" ধারণা আরও আলোচিত হয় কারণ ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে গোপন অভিযানের মাধ্যমে বিদেশি সরকারকে সরিয়ে নিজের পক্ষে কথা বলবে এমন সরকারকে সেখানে বসিয়েছে।

    উদাহরণস্বরূপ ১৯৫৩ সালে ইরানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেককে উৎখাত করে ক্ষমতায় ফেরত আনা হয় শাহ্‌ রেজা পাহলবিকে, যা পরিচালনা করেছিল CIA এবং ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা MI6।

    আবার ১৯৭৩ সালে চিলির প্রেসিডেন্ট সালভাদর আলেন্দেকে সরিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতায় বসানো হয় জেনারেল অগাস্তো পিনোশেকে, যেটিও মার্কিন সহায়তায় সংঘটিত হয়।

    একইভাবে ইরাক (২০০৩), আফগানিস্তান (২০০১), লিবিয়া (২০১১) কিংবা লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশে অভিযোগ আছে যে যুক্তরাষ্ট্র গোপনে অর্থ, প্রশিক্ষণ বা প্রচারণার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করেছে।

    অন্য দেশেও এই ধরণের শক্তির প্রমাণ মেলে। পাকিস্তানে সেনাবাহিনী ও আইএসআই দীর্ঘদিন ধরে "ডিপ স্টেট" হিসেবে পরিচিত, কারণ তারা বারবার নির্বাচিত সরকার সরিয়ে সামরিক শাসন কায়েম করেছে—যেমন ১৯৭৭ সালে জেনারেল জিয়াউল হক নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টোকে উৎখাত করেন এবং ১৯৯৯ সালে পারভেজ মোশাররফ নওয়াজ শরিফের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সরাসরি সেনাশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

    মিসরে ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে উৎখাত করে সেনা আবারও সরাসরি ক্ষমতায় আসে, যা সেখানকার ডিপ স্টেটের আধিপত্যকে আরো বিস্তার করে।

    অন্যদিকে তুরস্কে ১৯৯৬ সালের সুসুরলুক কেলেঙ্কারির পর প্রকাশ্যে আসে যে সেনা, পুলিশ, গোয়েন্দা ও অপরাধ জগতের নেটওয়ার্ক রাষ্ট্রের আড়ালে বহুদিন ধরে কার্যকর ছিল।

    মায়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানও প্রমাণ করে যে নির্বাচিত গণতন্ত্রের আড়ালে সেনাবাহিনীই আসল শক্তি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছিল। এখন সেই দেশে কী অবস্থা আমরা প্রায় প্রত্যেকেই জানি।

    বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী ক্ষমতার রদবদল ডিপ স্টেট ধারণার দিকে ইংগিত করে। গণতান্ত্রিক পন্থায় ডিপ স্টেট কার্যক্রম সুচারুভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে এই অদৃশ্য ক্ষমতার মসনদ।

    আল্লাহ তায়ালা আমাদের জিহাদ ও কিতালের পথে অবিচল রাখুন। (আমিন)​
Working...
X