বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আসসালামু আলাইকুম। দাওয়াহ ইলাল্লাহ ফোরামে আপনাকে স্বাগতম।
আপনার আসল ইমেইল এড্রেস দিয়ে এখানে আইডি খুলবেন না। আগে আসল ইমেইল আইডী দিয়ে থাকলে সেটাও পরিবর্তন করুন।
পাসওয়ার্ড ও ইমেইল এড্রেস পরিবর্তনের জন্য Settings - Edit Email and Password এ ক্লিক করুন।
আমাদের বর্তমান আইপি এড্রেসঃ https://82.221.139.185
***
বাংলা না দেখা গেলে, এখানে ক্লিক করুন
*****
ফোরামে সদস্য হতে চাইলে এখানে রেজিষ্টার করুন
*****
ফোরামের অনিওন এড্রেসঃ dawah4m4pnoir4ah.onion
*****
Announcement
Collapse
No announcement yet.
ইরান যুদ্ধ ও ক্রুসেডীয় ওয়ার মেশিনের বর্তমান অবস্থা।
ইরান যুদ্ধ ও ক্রুসেডীয় ওয়ার মেশিনের বর্তমান অবস্থা।
খুব রিসেন্টলি পেন্টাগনের পক্ষ থেকে ট্রাম্প এডমিনিস্ট্রেশনের কয়েকজন অফিসিয়াল মোটরগাড়ি নির্মাতা কোম্পানি Ford ও GM(General Motors) এর কাছে রিচ করে। উদ্দেশ্য ছিলো তাদেরকে আমেরিকান মিলিটারির জন্য অস্ত্রশস্ত্র উৎপাদনের জন্য তাগাদা দেয়া। ইরান যুদ্ধের ফলে আমেরিকার অস্ত্রের ভাণ্ডারে বেশ ভালোই শর্টেজ দেখা দিয়েছে।
ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল জানিয়েছে ইরান যুদ্ধে যে পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে তার শর্টেজ পুরো করে আবার একে বৈশ্বিক হুমকিগুলোর মোকাবেলার পর্যায়ে নিয়ে যেতে অন্তত ১-২ বছর প্রয়োজন। এমনকি অনেকের মতে ৫ বছরও প্রয়োজন।
নিচের টেবিলটিতে আমেরিকার অস্ত্রসমূহের মজুতের বিপরীতে যুদ্ধের পর অবশিষ্ট অস্ত্র উল্লেখ করা হলোঃ
টেবিলটিতে যে ৭ টি অস্ত্র উল্লেখ করা হয়েছে এগুলোই এখন পর্যন্ত ইরানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। এবং আমেরিকার টোটাল War Machine পরিচালনার ক্ষেত্রে এই অস্ত্রগুলোই প্রধান ভূমিকা রাখে।
আজকে ট্রাম্প যেরকম গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিগুলোকে অস্ত্র প্রোডাকশনের নির্দেশনা দিচ্ছে ঠিক একই ঘটনা ঘটেছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে। ডিসেম্বর ৭, ১৯৪১ সালে হাওয়াই দ্বীপপূঞ্জের পার্ল হারবারে Imperial Japanese Navy আকস্মিক হামলা চালিয়ে US Navy এর Pacific Fleet কে প্রায় ধ্বংস করে দেয়।
Imperial Japanese Navy এর হামলায় বিধ্বস্ত US Navy'র Pacific Fleet
এর পরদিন US President Franklin D. Roosevelt, Japanese Empire এর বিরুদ্ধে অফিশিয়ালি যুদ্ধ ঘোষণা করে।
এই যুদ্ধ ঘোষণার পরে সমগ্র আমেরিকান জনগণ জার্মানি ও জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। যা ৯/১১ এর পরে দ্বিতীয়বার হয়েছিলো। দেশব্যাপী যুদ্ধের আমেজ শুরু হয়। আমেরিকা তার Economy কে War Economy তে রূপান্তর করে। অর্থাৎ এখন আর কফিশপের দরকার নাই। দরকার নেই বিলাসবহুল গাড়ি উৎপাদনের। এর পরিবর্তে উৎপাদন হবে Tank, Fighter Jet, Warship ইত্যাদি। রুজভেল্ট আমেরিকার যত ইন্ডাস্ট্রি আছে সবগুলোকে বিশ্বযুদ্ধে ফোকাস করার আদেশ দেয়। গাড়ি উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো ট্যাংক উৎপাদন শুরু করে। পুরুষ-নারী নির্বিশেষে মিলিয়ন মিলিয়ন আমেরিকান ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে যোগ দেয় যুদ্ধশ্রমিক হিসেবে।
WW2 চলাকালীন আমেরিকান ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে Heavy Bomber প্রোডাকশন এর চিত্র।
WW2 চলাকালীন আমেরিকান ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে Sherman Tank প্রোডাকশন এর চিত্র।
এর ফলে আমেরিকা কয়েকমাস পর থেকেই শত শত যুদ্ধবিমান, ট্যাংক, হেভি বোম্বার যুদ্ধে নামাতে থাকে। মাস কয়েকের মধ্যেই তৈরি হতে থাকে Battleship যেগুলো জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রশান্ত মহাসাগরে নামানো হচ্ছিলো।
যুদ্ধ শেষে তাদের একটা অস্ত্রশস্ত্রের পরিমাণের দিকে তাকালেই এটা বুঝতে পারবেনঃ
সামরিক বিমান: ৩,২৪,৭৫০টি (ফাইটার, হেভি বোম্বার এবং ট্রান্সপোর্ট বিমান ইত্যাদি)।
ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান: ৮৮,৪১০টি (বিখ্যাত 'শেরম্যান' ট্যাংক একাই ছিল প্রায় ৫০ হাজার)।
নৌযান ও যুদ্ধজাহাজ: ৭১,০৬২টি (এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এবং ব্যাটলশিপ থেকে শুরু করে ছোট ল্যান্ডিং ক্র্যাফট)
আর্টিলারি ও ভারী গান: ৩,৭২,৪৩১টি (অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট এবং ফিল্ড গানসহ)।
ছোট অস্ত্র (রাইফেল ও কারবাইন): ১,২৬,২৬,৪২৯টি
মেশিনগান: ২৬,৭৯,৮৪০টি।
গোলাবারুদ: প্রায় ৪,১০০ কোটি রাউন্ড।
সামরিক যান (ট্রাক/জিপ): ২৩,৮২,৩১১টি (যা মিত্রবাহিনীর লজিস্টিক সাপোর্টের মেরুদণ্ড ছিল)।
পারমাণবিক বোমা: ১৯৪৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত মোট ৩টি উৎপাদিত (১টি পরীক্ষা এবং ২টি জাপানে ব্যবহৃত)।
সেনাবাহিনী: ১২, ১০৫, ৪১৮ জন
এটা ছিলো পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বোচ্চ ওয়েপনসের রিজার্ভ যা বৃটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপানের ধ্বংসস্তুপ থেকে নতুন পরাশক্তি হিসেবে সোভিয়েত রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকাকে পৃথিবীর সম্মুখসারিতে এনে দেয়। আমাদের মনে এখন প্রশ্ন জাগতে পারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যেভাবে আমেরিকার ইন্ডাস্ট্রিগুলো যেভাবে ওয়েপনস প্রোডাকশন করছিলো এখন আর সেরকম পারছেনা কেনো?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকা আসলে যেভাবে স্রোতের মতো অস্ত্র প্রোডাকশন শুরু করেছিলো এরকম পর্যায়ে সে এখন আর নেই। কারণ, মডার্ন ওয়েপনসের তূলনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অস্ত্রসমূহ লোহা-লক্করের স্তূপ মাত্র। উদাহরণ স্বরূপ একটা মডার্ন F-35 যুদ্ধবিমানের কথাই ধরুন। এতে ছোটবড় সব মিলিয়ে প্রায় ৩ লক্ষের মতো পার্টস আছে। রয়েছে মডার্ন নেভিগেশন, রাডার, স্টেলথ সিস্টেম, সেন্সরস, সফটওয়ার, গাইডেন্স, ইলেক্ট্রনিক চিপসেট ইত্যাদি। এগুলো একটি পার্টসের ফেইলার পুরো যুদ্ধবিমানকে অকেজো করে দিতে পারে। আর এগুলো যে গণহারে শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে উৎপাদন করে ফেলা যাবে এমনটা আসলে নয়। এগুলোর জন্য প্রয়োজন সুপ্রশিক্ষিত লোকদের। চিন্তা করুন বাংলাদেশের হাজার হাজার শিক্ষিত যুবকের মধ্যে কয়জনকে ইলেক্ট্রনিক চিপ উৎপাদন কারখানায় নিয়োগ দেয়া যাবে?
শুধু দক্ষ জনশক্তি দিয়ে হবে না, এই অস্ত্রগুলোর Testing and Quality Assurance প্রয়োজন। অস্ত্রগুলোর প্রোডাকশনের জন্য যা ম্যাটেরিয়ালস লাগে তা আবার সবগুলো আমেরিকাতে পাওয়া যাবে না। অনেকগুলো বাইরের দেশ থেকে আমদানি করে আনতে হবে। এর মধ্যে ঐসমস্ত দেশগুলোর সদিচ্ছা, রাজনৈতিক হালত, অর্থনৈতিক কন্ডিশন, সম্পর্ক, নিরবিচ্ছিন্ন প্রাপ্তি ও প্রবাহ ইত্যাদির উপরও নির্ভর করছে। যেমন, সেমিকন্ডাক্টর, প্রাকৃতিক চুম্বক, Rare Earth Materials(Neodymium, Samarium, Dysprosium ইত্যাদি) ও অস্ত্রের জন্য জরুরী সব মেটাল - প্রভৃতির জন্য চীন, রাশিয়া, তাইওয়ান, সাউথ কোরিয়া প্রভৃতি দেশের উপর নির্ভরশীল। এই জিনিসগুলো যুদ্ধবিমান, মিসাইল, টর্পেডো, ড্রোন প্রভৃতির জন্য প্রয়োজন বিশেষ করে High Precision ও Accuracy এর জন্য। সবকিছু এগ্রিগেইট করে একটা পূর্ণ অস্ত্র তৈরী করতে প্রয়োজন প্রচুর সময়। একটা মিসাইল এটা শুধু লোহার পাইপ নয়। এতে রয়েছে অসংখ্য উপাদান। জ্বালানি, নেভিগেশন, মোটর, থার্মাল ব্যাটারি, ওয়ারহেড, ডেটোনেটর, সেন্সর ইত্যাদি। এমনিতেই তা প্রোডাকশনে লক্ষ লক্ষ ডলার যায় না।
এর মধ্যে অস্ত্রের মজুদের বড় একটা অংশ ইরান যুদ্ধে শেষ হয়েছে কিন্তু কার্যকর কোনো ফলাফল আসেনি। হয়তো তা দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো যাবে। কিন্তু সামনে তো তার সামনে আরেকটা শক্তি বিদ্যমান যাকে তার রুখতে হবে। সেটা হচ্ছে চীন। তার ক্ষেত্রে কি হবে? এরই মধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন ভূখন্ডে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে জিহাদী শক্তিসমূহ। যাদেরকে মোকাবেলার জন্য প্রয়োজন আরো বিপুল অস্ত্রের। এমনকি তা দিয়েও সম্ভব নয়।
এই সবকিছু চিন্তা করেই ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি এক Historic ডিফেন্স বাজেট প্রস্তাব করেছে যার পরিমাণ ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। যা মূলতঃ এর চলমান ও আসন্ন যুদ্ধসমূহের জন্য তাদের প্রস্তুতিকেই ইন্ডিকেট করে। আগেলগেই তাদের বিভিন্ন জাতিরাষ্ট্রের ইমপোর্ট ও এক্সপোর্ট পণ্যের ওপর ট্যাক্স আরোপ করে খরচ পোষানোর চিন্তা করছে। একই সঙ্গে আগের গভর্নমেন্টগুলোর "Wasteful Spending" কাট করে দিয়ে ধীরে ধীরে ওয়ার-ইকোনমির সূচনা করতে চাচ্ছে। এই "Wasteful Spending" কমাতে যেসমস্ত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এগুলোর লিস্টঃ
Foreign aid, USAID restructuring, and international development cuts
Global health, HIV/AIDS, and humanitarian assistance reductions
State Department budget reductions and overseas mission downsizing
Cuts to international organizations and multilateral contributions (e.g., UN)
Restrictions and elimination of foreign aid tied to DEI, gender, and LGBTQ programs
Federal DEI program elimination and civil rights–related funding cuts
LGBTQ-related program reductions, including health, housing, and research funding
Domestic federal workforce reduction and agency downsizing (DOGE-led restructuring)
Cuts to non-defense domestic spending (social welfare, education, housing, research)
Environmental, climate, and science funding reductions (EPA, NOAA, NASA-related programs)
Federal grant freezes, cancellations, and consolidation of programs
Public broadcasting and selected federal cultural funding cuts
Targeted elimination of “wasteful” or politically defined programs across agencies
Federal contract, procurement, and administrative cost reductions
এখানের যে ফান্ডিং কাটসমূহ উল্ল্যেখ করা হয়েছে সবগুলোই আমেরিকার সফট পাওয়ারের উৎস ছিলো এবং "Global Problem Solver" ও "Working for the Welfare for the Nations" এরকম একটা চেহারা তৈরী করেছিলো যেটাকে ইউটিলাইজ করে স্থানীয় ত্বাগুতদের সংগে নিজেদের ভিত্তি মজবুত করে গেছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে এই খাতগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ছিলো বহির্বিশ্বে নিজেদের দালালগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে শক্তিশালী রাখার মাধ্যমে নিজেদের স্ট্র্যাটেজিক কলোনিয়ালিজম টিকিয়ে রাখার উপায়। ডেমোক্রেটরা এই জিনিসগুলোতে স্ট্রংলি নজর দিয়েছে। কিন্তু মাথামোটা ট্রাম্প এই স্পেন্ডিংসগুলোকে "ওয়েস্টফুল" চিহ্নিত করে কাট করে দিয়েছে। তার নেতৃত্বে আমেরিকা এখন কোনো শান্তির বয়ান প্রতিষ্ঠাকারী হওয়ার চেয়ে বরং একটা Notorious Colonial Power হিসেবে উত্থিত হচ্ছে। কিন্তু একটা জাতির তো আর সামরিক দিকটাই একমাত্র না। বিশেষ করে একটা গ্লোবাল পাওয়ার হিসেবে তার আরো অনেক দিক রয়েছে যেগুলোতে ভারসাম্য রক্ষা প্রয়োজন। এবং বিশ্বে নিজেদের দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে এই প্রবলেমগুলো ইতোমধ্যে আমেরিকানরা ফেস করা শুরু করছে
ক্রমবর্ধমান ঋণ ও সুদের বোঝা: ফেডারেল ঋণ এবং সুদের ক্রমবর্ধমান বোঝা দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ফ্লেক্সিবিলিটিকে সীমিত করছে এবং মার্কিন সরকারের বাধ্যতামূলক ব্যয়ের চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে বাধা: উচ্চতর যুদ্ধব্যয় এবং ঋণের খরচের কারণে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামো এবং আবাসন খাতের প্রয়োজনীয় তহবিলে টান পড়ছে।
আবাসন ও অস্থিতিশীলতা সংকট: উচ্চ সুদের হার, সরবরাহের ঘাটতি এবং সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে আবাসন সংকট তীব্র হচ্ছে, যা রেকর্ড পরিমাণ গৃহহীনতা ও ভাড়ার বোঝা তৈরি করছে।
রেকর্ড গৃহহীনতা: HUD-এর হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ৭ লক্ষ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ গৃহহীন, যা দেশটির আবাসন নিরাপত্তাহীনতার চরম অবনতিকে নির্দেশ করে।
উচ্ছেদ এবং ভাড়ার অস্থিতিশীলতা: বার্ষিক ১০ লক্ষেরও বেশি উচ্ছেদ মামলা এবং সাধারণ ভাড়াটেদের ওপর ভাড়ার অসহনীয় বোঝা আবাসন ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে চাপ: সরকারি অগ্রাধিকারগুলো জনকল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং আয় সহায়তা কর্মসূচি থেকে সরে যাওয়ায় সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়ছে।
দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদনশীলতা হ্রাসের ঝুঁকি: প্রতিরক্ষা খাতের তুলনায় অবকাঠামো, শিক্ষা এবং উদ্ভাবনের মতো বেসামরিক খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হচ্ছে।
বেসামরিক উদ্ভাবন ও অবকাঠামোয় ঘাটতি: গবেষণার তহবিলগুলো এখন প্রতিরক্ষা এবং মিলিটারি সরঞ্জাম প্রোডাকশনের দিকে স্থানান্তরিত হওয়ায় বেসামরিক খাতের আধুনিকায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক বৈষম্য: মিলিটারি ব্যয় নির্দিষ্ট কিছু ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ছে। একদিকে কিছু প্রদেশ লাভবান হচ্ছে। অন্যদিকে অনেক প্রদেশ আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে পিষ্ট হচ্ছে। ফলে প্রাদেশিক মেরুকরণ তৈরী হচ্ছে।
সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ: বিশাল সরকারি ব্যয়ের ফলে ঋণের খরচ বাড়ছে এবং কঠোর মুদ্রানীতি তৈরি হচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
বাজেটের অনমনীয়তা: প্রতিরক্ষা খাতের দীর্ঘমেয়াদী বিশাল প্রতিশ্রুতিগুলোর কারণে ভবিষ্যৎ অভ্যন্তরীণ নীতি বা নতুন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণের সুযোগ বা নমনীয়তা কমে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক মেরুকরণ: রাজনৈতিকভাবে তাদের সমাজে ইতোমধ্যে মধ্যে চরম মতপার্থক্য ও মেরুকরণ তৈরি হচ্ছে। রিপাবলিক্যান ও ডেমোক্রেটদের কামড়াকামড়ি, ম্যাস শুটিং, বর্ণবাদভিত্তিক দ্বন্ধ এখন নৈমিত্তিক ব্যাপার।
জাতীয় মনোবল ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব: দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের সৃষ্ট যুদ্ধের সংবাদ, বহির্বিশ্বের প্রতিরোধ সংঘাত(বিশেষ করে মুসলিমদের) এবং তাদের সঙ্গে অন্যান্যদের ভূ-রাজনৈতিক কনফ্লিক্টের ঘটনাবলি ক্রমাগত প্রত্যক্ষ করার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে জাতীয় মনোবলের অবনতি এবং মানসিক ক্লান্তি দেখা দিচ্ছে। এটি জনসাধারণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ, আত্মপরিচয় নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করে তুলছে।
মিত্রশক্তির সঙ্গে সম্পর্কের পতনঃ রিসেন্ট ইরান যুদ্ধে আমরা দেখেছি যে আমেরিকার পাশে তার কোনো মিত্রই সামরিক সহায়তা নিয়ে দাড়ায়নি। এমনি অনেক মিত্র এখন নিজেদের আমেরিকার হাত থেকে বাঁচানোর কথা চিন্তা করছে।
এই সমস্যাগুলোকে রেখে এখন দানবীয় ডিফেন্স বাজেট তৈরী করে বিশ্বের বিরুদ্ধে নামা নিজের দেশ ও জাতির লং টার্ম অস্তিত্বের জন্য আত্মঘাতী। কিন্তু এখানে যে সমস্যাগুলোর কথা বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা MAGA ক্রিমিনালরা এগুলো থোরাই কেয়ার করে। কারণ তাদের মাইন্ডসেট হচ্ছে হিটলারের মতো। জাতির ভিতরকে ফাঁপা করে দিয়ে হলেও তারা নিজেদের সভ্যতা বিবর্জিত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ক্রুসেডীয় শক্তি টিকিয়ে রাখতে বহির্বিশ্বে সব শক্তি প্রয়োগ করবো। তবে তাদের স্বপ্ন শুধু নিজেদের জন্যই না, বিশ্বের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর জন্যও ধ্বংসাত্বক। তারা নিজেরা তো ধ্বংস হবেই, সংগে বাইরের প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্য পর্যন্ত রেখে যাবে ধ্বংসের স্তুপ। গ্যালারীঃ
THAAD। Low to High Altitude এর এই সিস্টেমটি আমেরিকার শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগুলোর একটি। বায়ুমন্ডলের ভেতরে ও বাইরে থাকা প্রায় সব থ্রেটকেই মোকাবেলা করতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়। মিসাইল, যুদ্ধবিমান, ড্রোন ইত্যাদি। ইরান যুদ্ধে গালফে মোতায়েন থাকা থাড সিস্টেম যথেষ্ট না হওয়ায় সাউথ কোরিয়া থেকে এর কয়েকটি ব্যাটারি মিডল ইস্টে স্থানান্তর করা হয়।
প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। Low Altitude এ অপারেশনাল এই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমটি বিভিন্ন ধরণের থ্রেট মোকাবেলায় সক্ষম। তবে কমদামী ড্রোনের মোকাবেলায় লক্ষ ডলারের প্যাট্রিয়ট ব্যবহারের বিষয়টা আমেরিকা ও তার মিত্রদের ভালোই চিন্তিত করে তুলছে। ইতোমধ্যে ইরান যুদ্ধে মোট মজুদের প্রায় অর্ধেকই শেষ হয়ে গেছে।
SM-6। US Navy এর Aircraft Career Strike Group সহ মূল্যবান সামুদ্রিক ক্রুসেডীয় এসেটগুলো রক্ষার জন্য SM-3 ও SM-6 দুটি প্রচুর ব্যবহৃত হয়। যা যুদ্ধবিমান, মিসাইল প্রভৃতির আক্রমণ থেকে যুদ্ধজাহাজগুলোকে রক্ষা করে। আমেরিকার এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ও ন্যাভাল এসেটগুলো ইরানের দ্বারা ব্যপকভাকে টার্গেট হওয়ার ফলে তারা এই দুইটি মিসাইলের ব্যপক ব্যবহার করে। ফলে এগুলোর মজুদ ভালোই কমে গেছে। আক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে USS Abraham Lincon ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ইরানের মেইনল্যান্ড থেকে ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসে। তখন ইরানিদের ব্যপক ড্রোন ও মিসাইল টার্গেটের মুখো এটি প্রায় সহস্র কিলোমিটার দূরে ইন্ডিয়ান মহাসাগরে সরিয়ে নেয়া হয়।
Precision Strike Missile(PrSM) যা আমেরিকার Ground To Ground রোল এর ATACMS এর উন্নততর ভার্সন। শত্রুরাষ্ট্রের গভীরে গুরুত্বপূর্ণ টার্গেটে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। এর আগের ATACMS বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনকে দেয় এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরে ব্যবহার করতে দেয়া অনুমতি দেয়ার ফলে ইউক্রেন রাশিয়ার গভীরের অনেক অ্যামিউনিশন স্টোরেজ ও লজিস্টিক হাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। ইরানের অনেক গভীরে আঘাত হানার জন্য এই মিসাইলটি দায়ী।
Tomahawk Cruise Missile। মার্কিনীদের কাছে এই মিসাইলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। Low Flying হওয়ায় এটি সহজে রাডারে ধরাও দেয়না। এটি ২০০০ কিলোমিটার রেঞ্জের মধ্যে প্রতিপক্ষের টার্গেটে আঘাত হানতে সক্ষম। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে First-Stage আঘাত এই মিসাইল দিয়েই করা হয়। প্রাথমিক আঘাতের মাধ্যমে ইরানের কমান্ড সেন্টার, এয়ার ডিফেন্স, রাডার ইত্যাদি এই মিসাইল দিয়ে ধ্বংসের ফলে পরবর্তী স্ট্রইকের জন্য ইরানে যুদ্ধবিমান প্রবেশ সহজ হয়ে যায়।
JASSM। ফাইটার জেট থেকে নিক্ষেপণযোগ্য মিসাইল যা High Accuracy, Stealth Feature এবং complex infrastructure destruction এর জন্য পরিচিত। ইরান যুদ্ধে প্রচুর পরিমাণে এটি ব্যবহৃত হয়েছে।