اَلْحَمْدُ للهِ الْبِرِّ الْجَوَّادِ الْكَرِيْمِ، اَلْقَابِضِ الْبَاسِطِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْمِ، أَحْمَدُهُ تَعَالَى عَلَى فَضْلِهِ الْعَظِيْمِ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، أَمَرَنَا بِصِلَةِ الْأَرْحَامِ، وَالصَّدَقَةِ عَلَى الْفُقَرَاءِ وَالْأَيْتَامِ، وَأَشْهَدُ أَنَّ نَبِيَّنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ صَلَى اللهُ وَسَلَّمَ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِيْنَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنِ *
=============================
✒️আল্লাহ তাআলার সর্বোত্তম আনুগত্য প্রকাশ ও তাঁর নৈকট্যলাভের বড় একটি মাধ্যম ইলম অর্জনে নিয়োজিত হওয়া। দ্বীনি ইলম অর্জন অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। যা মানুষের দৈনন্দিনের সকল কাজের মধ্যে অন্যতম গুরুত্ববহ কাজ। নিষ্কলুষ হৃদয়ের অধিকারী সালাফে সালিহিন ইলম অর্জনে মগ্ন থাকতেন। কল্যাণকর কাজে অগ্রগামী পুণ্যবান ব্যক্তিগণ সর্বদা ইলম অর্জনেরপ্রতিপ্রতি গুরুত্বারোপ করে থাকেন। শুধু তাই নয়, ইলম অর্জনের প্রতি গুরুত্বারোপ করে এর ফজিলত সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে অবতীর্ণ হয়েছে অনেক আয়াতে কারিমা। বর্ণিত হয়েছে বহু হাদিস শরিফ। ইলম সম্পর্কে সালাফের প্রদীপতুল্য বাণীসমগ্র তো রয়েছেই।
এক কথায়, ইলম সকল কল্যাণের চাবিকাঠি। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ জেনে সঠিকভাবে আদায় করার মাধ্যম এটি। তাই ইলম ব্যতীত ইমান ও আমলের কথা কল্পনাও করা যায় না। কেননা, ইলম অর্জনের মাধ্যমেই তো যথাযথভাবে আল্লাহর ইবাদত করা যায়। সঠিকভাবে আদায় করা যায় তাঁর বিধিবিধান, হুকুম-আহকাম। দ্বীনের প্রচার-প্রসারের জন্যও প্রয়োজন ইলম।
আমাদের বেঁচে থাকার জন্য পানাহার অপরিহার্য। কিন্তু দৈনন্দিনের এ পানাহারের চেয়েও আরও বহুগুণ বেশি প্রয়োজন ইলম অর্জন। কারণ, ইলমের ওপরই দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণের ভিত্তি। এটিই পার্থিব ও পরকালীন জীবনের তত্ত্বাবধায়ক। আরও সহজে বলা যায়, এটি উভয় জগতে আমাদের জীবনের পরিচালকস্বরূপ। ইমাম আহমাদ রহ. বলেন, 'মানুষ যতটা না পানাহারের প্রতি মুখাপেক্ষী, তার চেয়েও অধিক মুখাপেক্ষী জ্ঞান অর্জনের প্রতি।' কারণ, সে তো দিনে দুই থেকে তিনবার পানাহারের প্রয়োজন অনুভব করে। কিন্তু ইলমের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয় প্রতিটি মুহূর্তে। যদিমানুষকে ইলমের এ নিয়ামত দান করা না হতো, তবে তাদের ও চতুষ্পদ জন্তুর মাঝে কোনোই তফাৎ থাকত না।
সুতরাং বোঝা উচিত যে, কীসে মানুষকে এত শ্রেষ্ঠত্ব এনে দিয়েছে? উত্তর হলো ইলম। আল্লাহ তাআলা মানুষকে জ্ঞান ও বুদ্ধি দিয়েছেন। যার মাধ্যমে মানুষ মহান প্রতিপালকের দেওয়া দ্বীনের পূর্ণ অনুসরণ করতে পারে, আনুগত্য করতে পারে তাঁর প্রত্যাদেশের। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় হাবিব মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বেশি কিছু অন্বেষণ করতে আদেশ করেননি, তিনি আদেশ করেছেন কেবল ইলম অর্জন করার। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে আদেশ করে বলেন: আর বলো, "হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করো।"
'আর আপনি বলুন, "হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।"
ইলম এক মর্যাদামণ্ডিত বৃক্ষের ন্যায়। সকল গাছের সেরা এ গাছ। এ যেন সবুজ-শ্যামল ও ছায়াময়। পরিপক্ক ফলবিশিষ্ট। যার অন্বেষণ ইবাদত। যার আলোচনা পুণ্যময়। ইলমের অধিকারীগণই আল্লাহকে অধিক ভয়কারী। ইলমের উত্তরাধিকারগণই বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সাক্ষাতের প্রতি আশা পোষণকারী।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইলমের মর্যাদা, আহলে ইলমের সম্মান এবং তাদের প্রতি প্রদত্ত মর্যাদার বর্ণনা দিয়েছেন। অনেক স্পষ্ট বাস্তবতাই তাদের এ মর্যাদার সাক্ষ্য দিয়ে থাকে। যার অন্যতম হলো, আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের প্রতি তাদের সাক্ষ্য যে সাক্ষ্য ব্যতীত জাহান্নাম থেকে মুক্তি মিলবে না।
এমনিভাবে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ও তাঁর পবিত্র জবানে আহলে ইলমের মর্যাদার কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন: আলিমদের জন্য ফেরেশতা থেকে শুরু করে গর্তের পিপীলিকা পর্যন্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে। ক্ষমা প্রার্থনা করে পানির মাছসহ সকল সৃষ্টি। তাদের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে এমন আরও অনেক মর্যাদা-সম্মানের কথা। কুরআন-হাদিস খুলে দেখলে অনায়াসেই আমরা জানতে পারব ইলম ও আলিমের, দ্বীনি জ্ঞান ও জ্ঞানার্জনকারীর বহু ফজিলত সম্পর্কে। দরকার শুধু একটু কিতাব খুলে দেখার।
ওয়াল্লাহু তা'আলা আ'লামু!
তথ্য সূত্রঃ
"ব্যস্ততার এ যুগে ইলম অন্বেষণ"
লেখক: মুহাম্মদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ
পৃষ্ঠা নং:১১,১২,১৩,১৪ বাংলা অনুবাদ।
=============================
✒️আল্লাহ তাআলার সর্বোত্তম আনুগত্য প্রকাশ ও তাঁর নৈকট্যলাভের বড় একটি মাধ্যম ইলম অর্জনে নিয়োজিত হওয়া। দ্বীনি ইলম অর্জন অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। যা মানুষের দৈনন্দিনের সকল কাজের মধ্যে অন্যতম গুরুত্ববহ কাজ। নিষ্কলুষ হৃদয়ের অধিকারী সালাফে সালিহিন ইলম অর্জনে মগ্ন থাকতেন। কল্যাণকর কাজে অগ্রগামী পুণ্যবান ব্যক্তিগণ সর্বদা ইলম অর্জনেরপ্রতিপ্রতি গুরুত্বারোপ করে থাকেন। শুধু তাই নয়, ইলম অর্জনের প্রতি গুরুত্বারোপ করে এর ফজিলত সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে অবতীর্ণ হয়েছে অনেক আয়াতে কারিমা। বর্ণিত হয়েছে বহু হাদিস শরিফ। ইলম সম্পর্কে সালাফের প্রদীপতুল্য বাণীসমগ্র তো রয়েছেই।
এক কথায়, ইলম সকল কল্যাণের চাবিকাঠি। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ জেনে সঠিকভাবে আদায় করার মাধ্যম এটি। তাই ইলম ব্যতীত ইমান ও আমলের কথা কল্পনাও করা যায় না। কেননা, ইলম অর্জনের মাধ্যমেই তো যথাযথভাবে আল্লাহর ইবাদত করা যায়। সঠিকভাবে আদায় করা যায় তাঁর বিধিবিধান, হুকুম-আহকাম। দ্বীনের প্রচার-প্রসারের জন্যও প্রয়োজন ইলম।
আমাদের বেঁচে থাকার জন্য পানাহার অপরিহার্য। কিন্তু দৈনন্দিনের এ পানাহারের চেয়েও আরও বহুগুণ বেশি প্রয়োজন ইলম অর্জন। কারণ, ইলমের ওপরই দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণের ভিত্তি। এটিই পার্থিব ও পরকালীন জীবনের তত্ত্বাবধায়ক। আরও সহজে বলা যায়, এটি উভয় জগতে আমাদের জীবনের পরিচালকস্বরূপ। ইমাম আহমাদ রহ. বলেন, 'মানুষ যতটা না পানাহারের প্রতি মুখাপেক্ষী, তার চেয়েও অধিক মুখাপেক্ষী জ্ঞান অর্জনের প্রতি।' কারণ, সে তো দিনে দুই থেকে তিনবার পানাহারের প্রয়োজন অনুভব করে। কিন্তু ইলমের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয় প্রতিটি মুহূর্তে। যদিমানুষকে ইলমের এ নিয়ামত দান করা না হতো, তবে তাদের ও চতুষ্পদ জন্তুর মাঝে কোনোই তফাৎ থাকত না।
সুতরাং বোঝা উচিত যে, কীসে মানুষকে এত শ্রেষ্ঠত্ব এনে দিয়েছে? উত্তর হলো ইলম। আল্লাহ তাআলা মানুষকে জ্ঞান ও বুদ্ধি দিয়েছেন। যার মাধ্যমে মানুষ মহান প্রতিপালকের দেওয়া দ্বীনের পূর্ণ অনুসরণ করতে পারে, আনুগত্য করতে পারে তাঁর প্রত্যাদেশের। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় হাবিব মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বেশি কিছু অন্বেষণ করতে আদেশ করেননি, তিনি আদেশ করেছেন কেবল ইলম অর্জন করার। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে আদেশ করে বলেন: আর বলো, "হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করো।"
'আর আপনি বলুন, "হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।"
ইলম এক মর্যাদামণ্ডিত বৃক্ষের ন্যায়। সকল গাছের সেরা এ গাছ। এ যেন সবুজ-শ্যামল ও ছায়াময়। পরিপক্ক ফলবিশিষ্ট। যার অন্বেষণ ইবাদত। যার আলোচনা পুণ্যময়। ইলমের অধিকারীগণই আল্লাহকে অধিক ভয়কারী। ইলমের উত্তরাধিকারগণই বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সাক্ষাতের প্রতি আশা পোষণকারী।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইলমের মর্যাদা, আহলে ইলমের সম্মান এবং তাদের প্রতি প্রদত্ত মর্যাদার বর্ণনা দিয়েছেন। অনেক স্পষ্ট বাস্তবতাই তাদের এ মর্যাদার সাক্ষ্য দিয়ে থাকে। যার অন্যতম হলো, আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের প্রতি তাদের সাক্ষ্য যে সাক্ষ্য ব্যতীত জাহান্নাম থেকে মুক্তি মিলবে না।
এমনিভাবে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ও তাঁর পবিত্র জবানে আহলে ইলমের মর্যাদার কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন: আলিমদের জন্য ফেরেশতা থেকে শুরু করে গর্তের পিপীলিকা পর্যন্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে। ক্ষমা প্রার্থনা করে পানির মাছসহ সকল সৃষ্টি। তাদের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে এমন আরও অনেক মর্যাদা-সম্মানের কথা। কুরআন-হাদিস খুলে দেখলে অনায়াসেই আমরা জানতে পারব ইলম ও আলিমের, দ্বীনি জ্ঞান ও জ্ঞানার্জনকারীর বহু ফজিলত সম্পর্কে। দরকার শুধু একটু কিতাব খুলে দেখার।
ওয়াল্লাহু তা'আলা আ'লামু!
তথ্য সূত্রঃ
"ব্যস্ততার এ যুগে ইলম অন্বেষণ"
লেখক: মুহাম্মদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ
পৃষ্ঠা নং:১১,১২,১৩,১৪ বাংলা অনুবাদ।