Announcement

Collapse
No announcement yet.

আত-তাদাব্বুর ফীল কুরআন, উন্নতির সোপান

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • আত-তাদাব্বুর ফীল কুরআন, উন্নতির সোপান

    পবিত্র কুরআন মাজিদে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন:


    وَاللّٰہُ اَخۡرَجَکُمۡ مِّنۡۢ بُطُوۡنِ اُمَّہٰتِکُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ شَیۡئًا ۙ وَّجَعَلَ لَکُمُ السَّمۡعَ وَالۡاَبۡصَارَ وَالۡاَفۡـِٕدَۃَ ۙ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ

    আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মাতৃগর্ভ থেকে এমন অবস্থায় বের করেছেন যে, তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদেরকে কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর দিয়েছেন, যাতে তোমরা শোকর আদায় কর।
    -সূরা: আন নাহ্‌ল, আয়াত: ৭৮


    এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা আমাদের বলছেন যে, আমরা যখন মাতৃগর্ভ থেকে এই দুনিয়াতে আসলাম, তখন আমরা কিছুই জানতাম না, এরপরে আল্লাহ আমাদেরকে শ্রবণশক্তি ,দৃষ্টিশক্তি ও বুঝশক্তি দিয়ে আমাদেরকে নানান বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন । তাই, কোন কিছু পেয়ে আমাদের অহংকার করা সাজে না বরং সবকিছুর কৃতিত্ব আল্লাহর দিকেই ন্যস্ত করা উচিত । ছোট, বড় প্রতিটি নিয়ামতের জন্য , প্রতিটি কল্যাণ লাভের পরে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা জরূরী, আর শুকরিয়া আদায় করলে আল্লাহ নিআমতকে আরও বৃদ্ধি করে দেন।

    এখানে আরও একটি প্রশ্ন আসে যে, অত্র আয়াতে বাকশক্তির কথা কেন বলা হল না? এ বিষয়টি মুফতী শফী রহমতুল্লাহি আলাইহি স্বীয় তাফসির গ্রন্থ মাআরিফুল কুরআনে উল্লেখ করে বলেন:
    "এ স্থলে আল্লাহ্ তা’আলা শ্রবণশক্তি, দর্শনশক্তি ও বোধশক্তির উল্লেখ করেছেন; বাকশক্তি ও জিহ্বার কথা উল্লেখ করেননি। কেননা, জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে বাকশক্তির প্রভাব নেই; বাকশক্তি বরং জ্ঞান প্রকাশের উপায়।
    এছাড়া ইমাম কুরতুবী বলেনঃ শ্রবণশক্তির সাথে বাকশক্তির উল্লেখও প্রসঙ্গত হয়ে গেছে। কেননা, অভিজ্ঞতা সাক্ষ্য দেয়, যে ব্যক্তি কানে শোনে, সে মুখে কথাও বলে। বোবা কথা বলতে অক্ষম, সে কানের দিক থেকেও বধির। সম্ভবত তার কথা না বলার কারণই হচ্ছে কানে কোন শব্দ না শোনা। শব্দ শুনলে হয়তো সে তা অনুসরণ করে বলাও শিখত।"


    যাইহোক, এতটুকু তো বুঝলাম যে, আমরা শিশুকালে কিছুই জানতাম না, আল্লাহ আমাদের চোখ, কান ও অন্তর দিয়েছেন, যেন এগুলো দিয়ে আমরা আল্লাহর শোকর আদায় করতে পারি, এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করতে পারি।
    কমপক্ষে এটা তো বুঝতে পারি যে, এই চোখ হারাম বস্তু দেখার জন্য দেয়া হয়নি, এই কান হারাম কিছু শোনার জন্য দেয়া হয়নি। আর অন্তর অন্যায় ফিকিরের জন্যও দেয়া হয়নি।

    অন্তরের প্রসঙ্গে আরও কিছু ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়;
    •কারও হাত না থাকলে তারও শরীয়ত মানতে হবে, কারও চোখ না থাকলে তারও শরীয়ত মানতে হবে, কিন্তু কারও যদি বোধশক্তি না থাকে অর্থাৎ কেউ যদি পাগল হয় তাহলে তার উপর শরীয়তের বিধানগুলো রহিত হয়ে যায় । সুতরাং , একটা সুস্থ অন্তরের দাম চোখ, কান ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চেয়ে অনেক অনেক বেশী।

    • কেউ যদি চোখ দ্বারা অন্যায় করে তাহলে তার ঈমান চলে যায় না, কেউ যদি কানে কুফরী বাক্য শোনে তারও ঈমান যায় না, পক্ষান্তরে কেউ যদি অন্তরে কুফরি আকিদা ধারণ করে, কুফরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে তাহলে সে আর মুসলমানই থাকে না। তার হাত পায়ের আমল তাকে উপকার পৌঁছাতে পারে না।


    •আমরা আরও খেয়াল করতে পারি যে, কারও অন্তরে যদি যথাযথ তাক্বওয়া থাকে , আল্লাহ ভীতি থাকে , তাহলে এই অন্তরই তার চোখ ও কানকে হারাম থেকে বিরত রাখে , আবার যখন কোন বান্দা মনের বিরুদ্ধে গিয়ে চোখ-কান কন্ট্রোল করে চলে এতেও তার অন্তর পরিশুদ্ধ হতে থাকে।
    একটা আরেকটার সাথে সংযুক্ত ।
    প্রমাণ সরূপ বহুল প্রমাণিত একটা অভিজ্ঞতার করা শেয়ার করি; নামাজের সময় আমাদের অনেকের মন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি না, বিভিন্ন খেয়াল এসে হাজির হয় , আমাদেরকে নামাজ থেকে গাফেল করে রাখে!
    বিষয়টির সমাধানে প্রথমত আমরা জানি যে, "নামাজের মধ্যে চোখের একটা সুন্নাহ আছে, দাঁড়ানো অবস্থায় সেজদার জায়গায়, রূকুর হালতে পায়ের দিকে বৈঠকে কোলের দিকে তাকিয়ে থাকা। তো কেউ যদি এই আমলটি ঠিকমত করতে পারে, নিজের চোখ নিয়ন্ত্রণে রাখে তাহলে অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে তার অন্তর অটোমেটিক নিয়ন্ত্রণে এসে যায়। নিজেও খেয়াল করে দেখেছি, নামাজে মন অন্যমনস্ক হওয়ার পর যতবারই খেয়াল করিছি, ততবারই দেখেছি আমার চোখ সঠিক দিকে নেই।
    কাজেই, নামাজে চোখ ঠিক জায়গায় রাখলে অন্তরও স্বয়ংক্রিয় মনোযোগী হয়ে থাকে।


    অতএব, আমাদের অন্তরের পরিশুদ্ধির পিছনেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে , চোখ-কানের নাফরমানীর ব্যাপারে যেমন সতর্ক থাকি, অন্তরের রোগের ব্যাপারে আরও অধিক সতর্ক থাকতে হবে।
    আল্লাহ হেফাজত করুন আমীন!


Working...
X