Announcement

Collapse
No announcement yet.

জিহাদের জন্যে জিম

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • জিহাদের জন্যে জিম

    আসসালামুআলাইকুম প্রিয় ভাইয়েরা

    একটি ফতোয়া জানতে চাচ্ছিলাম। জিহাদের প্রস্তুতি হিসেবে জিমে ভর্তি হওয়া যাবে কি?

    জাযাকাল্লাহ খায়রান

  • #2
    ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। ওয়া আনতুম ফাজাঝাকুমুল্লহা খাইরান।
    হে ই'দাদ প্রিয় ভাই আমার, আল্লাহ আপনাকে আসাদুল্লাহ আলী ইবনে আবি তালিব রাঃ, সাইফুল্লাহ খালিদ বিন ওয়ালিদ রাঃ এর মতো ইসলামের বীরসেনানি হিসেবে গড়ে তুলুন।
    হে প্রিয় ভাই, জিহাদ একটি ফরজ ইবাদত। আবার বর্তমানে মুসলিমদের জন্য জিহাদ এখন ফরজে আইন হয়ে আছে। এমতাবস্থায় আল্লাহ আপনাকে এ পথের দিশা দান করে সৌভাগ্যবান করেছেন। আল্লাহ যেন আপনাকে ইসতিক্বমাতের নিআমত দিয়ে এ পথে অটল অবিচল রাখুন এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য কঠিন পরীক্ষা সমূহে সবর করার মতো যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলুন।
    প্রিয় ভাই আমার, ফিকহের একটি মূলনীতি হচ্ছে,
    "একটি ফরজ কাজ করতে যা যা করা প্রয়োজন, তাও ফরজ"
    নামাযের পূর্বের প্রস্তুতি উযু যেমন ফরজ, ঠিক তেমনি জিহাদের পূর্বেও ই'দাদ ফরজ। ই'দাদ তথা প্রস্তুতি গ্রহণ বিভিন্নভাবে সম্পন্ন করা যেতে পারে।
    মানসিক, শারীরিক, ইলমী; তন্মধ্যে জিম, কারাতে, কুংফু, মার্শাল আর্টস ইত্যাদি শারীরিক ই'দাদ সম্পন্ন করার একটি উপায়।
    জিমের পাশাপাশি এগুলো করার চেষ্টা করবেন, আপনার জন্য ফলপ্রসূ হবে ইনশাআল্লাহঃ
    যে ব্যক্তি জিহাদে অংশগ্রহণ করার নিয়ত বা ইচ্ছা রাখে, তার অন্য কোন সুযোগ নেই শারীরিক যোগ্যতা অর্জন করা ছাড়া। যা তাকে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য বের হওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে কারণ এটা মুজাহিদীনদের জন্য অত্যাবশ্যক। সুতরাং তাকে অবশ্যই হাঁটা, জগিং করা এবং অনেক দূরের দূরত্বে দৌড়ানোর অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে শারীরিক অবস্থা এমন এক অবস্থায় উপনীত করতে হবে যা তাকে জিহাদের ডাক পাওয়া মাত্রই বেরিয়ে যেতে সাহায্য করবে। যেন সে তাঁর ভাইদের উপর বোঝা না হয়ে পড়ে যা তাদেরকে বয়ে বেড়াতে হবে... ইত্যাদি এবং প্রকৃতপক্ষে এটা বসনিয়ায় (এবং অন্যান্য স্থানের) ক্ষেত্রে ঘটেছিল যেখানে কিছু ভাইকে শারীরিক সক্ষমতা না থাকার কারণে শত্রুদের হাতে বন্দি এবং কারা বরণ করতে হয়েছিল।
    শাইখ ইউসুফ আল-উয়াইরি রহঃ বলেছেন, "নিশ্চয়ই, মুজাহিদীনদের শারীরিক সক্ষমতা, তাঁর দীর্ঘপথ দৌড়ানোর ক্ষমতা, অনেক ভারী ভার বহন করার ক্ষমতা এবং অনেক লম্বা সময়ের জন্য প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম করার ক্ষমতা হল প্রধান উপাদান যা যুদ্ধ ক্ষেত্রে তাঁর প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করে। একজন মুজাহিদ হতে পারে অস্ত্র চালনায় পারদর্শী, কিন্তু শারীরিক যোগ্যতা না থাকার কারণে বন্দুক চালনা করার জন্য সে উপযুক্ত। স্থান নির্ধারণ করতে পারে না বা দেয়াল বেয়ে উঠতে পারে না। এ সব কিছুই ঘটে শারীরিকভাবে অযোগ্য হওয়ার কারণে এবং যেই মুজাহিদের খুব ভালো শারীরিক যোগ্যতা থাকে সে প্রয়োজনীয় সব রকম কাজ। সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতিতে সম্পাদন করতে পারে যদিও সে অস্ত্র চালনায় তেমন পারদর্শী নয়। কারণ সে গুলি চালানোর জন্য সবচেয়ে উত্তম স্থানে। নিজেকে নিয়ে যেতে পারে এবং সে এ সকল কিছুই করতে পারবে দ্রুততার সাথে ও সবচেয়ে সহজ পদ্ধতিতে কারণ ক্লান্তি ও অবসাদ তাকে আচ্ছাদিত করতে পারেনা, তার মনোযোগ কেড়ে নিতে পারে না এবং তার গতিকে প্রভাবিত করতে পারে না। এ জন্য আমরা পরিশেষে বলতে পারি যে, মুজাহিদদের জন্য শারীরিক যোগ্যতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে শহর কেন্দ্রীক যুদ্ধের ক্ষেত্রে।"
    বর্তমানে আমরা যে যুগে বাস করছি দেখতে পাই যে, পৃথিবীতে বর্তমানে সবগুলো জিহাদই সংঘটিত হচ্ছে গেরিলা যুদ্ধ এবং শহর কেন্দ্রীক যুদ্ধের রূপে এবং এজন্য প্রয়োজন উঁচু মানের শারীরিক যোগ্যতা। সুতরাং, হে আমার ভাইয়েরা! তুমি যেন অন্যদের জন্য বোঝা হয়ে না যাও, তাই এখন থেকেই প্রয়োজনীয় শারীরিক যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা শুরু করে দাও।
    শাইখ ও মুজাহিদ ইউসূফ আল-উয়াইরি রহঃ
    বলেছেন,
    "একজন মুজাহিদের মাঝে যে সকল শারীরিক যোগ্যতার দরকার তার মধ্যে নিম্ন লিখিত কাজগুলো করার ক্ষমতা অর্ন্তভুক্ত:

    * কোন রকম বিরতি ছাড়া ১০ কিঃমিঃ (প্রায় ৬.২ মাইল) জগিং (ব্যায়ামের উদ্দ্যেশে দৌড়) করা এবং খুব খারাপ অবস্থার ক্ষেত্রেও তা যেন ৭০ মিনিটের চেয়ে বেশী সময় না নেয়।
    * ১৩.৫ মিনিটের মধ্যে ৩ কিঃ মিঃ (প্রায় ২ মাইল) দৌড়ানো।
    * শুধু ১২-১৫ সেকেন্ডের বিরতীতে ১০০ মিটার দৌড়ানো।
    * কোন বিশ্রাম না নিয়ে ২০ কিলোগ্রাম (প্রায় ৪৪ পাউন্ড) ওজনের জিনিস কমপক্ষে ৪ ঘন্টা বহন করা।
    * না থেমে একটানা কমপক্ষে ৭০ বার বুক-ডাউন দেয়া (একজন হয়ত একবারে ১০ বার পুশ আপ দিতে পারবে, অতঃপর প্রতিদিন ৩টি করে বৃদ্ধি করা যতদিন তা ৭০ পর্যন্ত পৌঁছে।)
    * বাহু দিয়ে হামাগুড়ি করে ৫০ মিটার দূরত্ব পার হওয়া সর্বোচ্চ ৭০ সেকেন্ডে।
    * ফার্টলিক অনুশীলন করা (এটা হচ্ছে প্রথমে স্বাভাবিকভাবে হাটুন, অতঃপর দ্রুত বেগে ২ মিনিট হাটুন, অতঃপর ২ মিনিট জগিং করুন,এরপর ২ মিনিট দৌড়ান এবং ১০০ মিটার দূরত্ব আরো দ্রুত বেগে দৌড়ান, অতঃপর আবার হাঁটতে থাকেন এবং এভাবেই চলতে থাকুন অবিরত, এটা করবেন অবিরাম ১০ বার পর্যন্ত।
    সাধারণ হাঁটা হল দ্রুত হাটা। জগিং দ্রুত হাঁটা থেকে আর একটু দ্রুত তবে দৌড়ানো নয়। দৌড়ানো জগিং থেকে আলাদা। সাধারণ হাঁটার সঙ্গে সবাই পরিচিত। দ্রুত হাঁটা হল, যে একজন ব্যক্তি দ্রুতবেগে হাঁটবে এভাবে যে তার পা মাটি থেকে ততটুকুর খুব বেশী উপরে উঠবেনা যতটুকু হাঁটার সময় ওঠে। জগিং এর ক্ষেত্রে, তা ১ কিঃ মিঃ (প্রায় ০.৬ মাইল) দূরত্ব অতিক্রম করা ৫.৫ মিনিটের কম সময়ের মধ্যে। দৌঁড়ানোর ক্ষেত্রে, ১ কিঃ মিঃ দূরত্ব অতিক্রম করা ৪.৫ মিনিটের চেয়ে কম সময়ের মধ্যে।
    মুজাহিদীনরা এ পর্যায়ের শারীরিক যোগ্যতা এক মাসের মধ্যে অর্জন করতে পারে যদি সে কঠোর সাধনা করে। তবে শর্ত হলো যে, সে পর্যায়েক্রমে উন্নতি সাধন করবে এবং তার মাংসপেশী ক্ষতিগ্রস্থ না হয় বা ছিঁড়ে না যায়। উদাহরণ স্বরূপ, যদি কোন ব্যক্তি মাসের শুরুতে ১৫ মিনিট জগিং করে এবং প্রতিদিন ২ মিনিট করে সে সময় বৃদ্ধি করতে থাকে, তাহলে এক মাসের মধ্যে ঐ ব্যক্তি কোন রকম বিরতি ছাড়াই পুরো এক ঘন্টা জগিং করতে সক্ষম হবে (এক মাসে ২০ দিন হিসেব করে, যদি সে সপ্তাহে পাঁচ দিন এই শারীরিক ব্যায়ামের কাজটি করে)। অনুরূপভাবে, যদি সে মাসের শুরুতে ১০টি বুক-ডন (push up) দিয়ে আরম্ভ করে এবং প্রতিদিন ৩টি করে বৃদ্ধি করতে থাকে, তবে সে এক মাসের মধ্যে বিরতিহীনভাবে ৭০টি পুশ আপ দিতে সক্ষম হবে। সুতরাং, পর্যায়ক্রমে এবং অবিরাম অগ্রসর হওয়া কোন ব্যক্তির শারীরিক যোগ্যতা অর্জনের উপর অনেক বড় প্রভাব ফেলে। শুধু তাই নয়, কোন ব্যক্তির শারীরিক অনুশীলনের মধ্যে অব্যশই কিছু শক্তিমত্তা অর্জন ও মাংসপেশীর স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কিছু কৌশল থাকা উচিত এবং মুজাহিদীনদেরকে অবশ্যই সেসব ওয়েট ট্রেইনিং-এর উপর জোর দিতে হবে যা খুব বেশী ব্যায়ামের সরঞ্জাম ছাড়াই করা যায়, যেন সে তার শরীর চর্চা যে কোন স্থানে চালিয়ে যেতে পারে। ব্যায়ামের সরঞ্জাম একজনের শরীরকে অক্ষম করে দিতে পারে যদি অনেক দিন ধরে সেগুলো থেকে দূরে থাকে। সবচেয়ে উত্তম প্রকৃতির ব্যায়াম হল সেটি যা সহজে এবং শরীরের নিজস্ব শক্তির উপর নির্ভর করে করা যায়।

    প্রিয় ভাই ই'দাদ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার জন্য এই বইটি পড়তে পারেন ইনশাআল্লাহ।
    ই'দাদ একটি ভুলে যাওয়া ফরজ - মুফতি আব্দুল ওয়াহহাব হাফিজাহুল্লাহঃ » [PDF]
    https://archive.org/14/items/idad-a-...tten-fardh.pdf
    আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি তাআলা ওয়া বারাকাতুহু
    Last edited by Mujahid Arsalan; 1 week ago.

    Comment

    Working...
    X