কাফেরদের সাথে জিহাদের মূল কারণ:
ইসলাম কাফেরদের সাথে শুধুমাত্র তাদের কুফুরের কারণে যুদ্ধের আদেশ করেনি। অন্যথায় কাফেরদেরকে যিম্মি বানানোর সুযোগ দেওয়া হত না। তদ্রূপ মহিলা, শিশু, বয়োবৃদ্ধ, পক্ষাঘাতগ্রস্থ সহ যুদ্ধ করতে অক্ষম এবং বিশ্বাসগত যুদ্ধ বিমুখতার কারণে মানব সহচার্য থেকে দূরে অবস্থানকারী ব্যক্তিকে হত্যা করতে নিষেধ করা হত না। যদিও তাদের সবার মাঝে কুফুর বিদ্যমান।
বরং ইসলাম কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মূল কারণ হিসেবে দেখেছে তাদের ‘হিরাবা’কে। হিরাবা অর্থ হচ্ছে, শারিরিকভাবে যুদ্ধের সক্ষমতা রাখা এবং বিশ্বাসগত কারণে যুদ্ধঃমনস্ক হওয়া। ফিকহের পরিভাষায় এমন ব্যক্তিকে ‘মুহারিব বিল-কুওয়্যাহ’ তথা ‘শক্তিবলে যোদ্ধা’ বলা হয়। এর বিপরিতে হচ্ছে, ‘মুহারিব বিল ফে’ল’ তথা ‘কর্মগতভাবে আগ্রাসী’। ইসলামে জিহাদের বিধান হিরাবা বিল-কুওয়্যাহর সাথে সম্পৃক্ত; হিরাবা বিল-ফে’লের সাথে নয়। -শরহুস সিয়ারিল কাবীর: ৪/১৮৬ (ইলমিয়্যাহ); আত-তাকরীর ওয়াত তাহবীর: ৩/১৪৪ (ইলমিয়্যাহ); তাইসীরুত তাহরীর: ৩/৩০৬ (মুস্তাফা বাবী); মাজমূউল ফাতাওয়া: ২০/১০১ (মাজমাউল মালিক ফাহাদ)
এজন্য শারিরিকভাবে যুদ্ধ করতে সক্ষম মানব সহচার্যে অবস্থানকারী কাফেরদের বিরুদ্ধে ইসলাম জিহাদ করার আদেশ করে; যদিও বাস্তবিকভাবে তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আগ্রাসন পাওয়া যায়নি।
শামসুল আইম্মাহ সারাখসী রহ. (৪৯০ হি.) বলেন,
“মুকাতিলা (যোদ্ধা) হচ্ছে, প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। … যদি জানা যায় যে, সে এখনো বালেগ হয়নি, অর্থাৎ তার বয়স পনেরো বছরের কম, তাহলে সে ‘মুকাতিলা’ নয়, বরং সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত; সে যুদ্ধ করুক বা না করুক। তদ্রূপ নারীরাও ‘মুকাতিলা’র অন্তর্ভুক্ত নয় (যুদ্ধ করুক বা না করুক)। কেননা, ‘মুকাতিলা’ হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যারমধ্যে যুদ্ধ করার মত শারীরিক সক্ষমতা বিদ্যমান;যখনযুদ্ধকরতেচায় (সে এর সক্ষমতা রাখে)। আর নারী ও শিশুদের মধ্যে শারীরিক সেই সক্ষমতা থাকে না, তাই তারা ‘মুকাতিলা’ হিসেবে গণ্য হবে না; যদিও তারা স্বাভাবিকের বিপরিতে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। তুমি কি দেখো না— প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের যে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি, তার যুদ্ধ করার মত শারীরিক সক্ষমতা থাকার কারণে সে ‘মুকাতিলা’-এর অন্তর্ভুক্ত;যদিও বিশেষ কোনো কারণে সে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না।” -শরহুস সিয়ারিল কাবীর: ৫/৮০ (ইলমিয়্যাহ)
মালিকুল উলামা কাসানী রহ. (৫৮৭ হি.) বলেন,
“(কাদেরকে হত্যা করা যাবে আর কাদেরকে হত্যা করা যাবে না) এ ব্যাপারে মূলনীতি হচ্ছে— যে ব্যক্তি যুদ্ধ করার সামর্থ রাখে, এমন প্রত্যেককে হত্যা করা বৈধ; সে বাস্তবে যুদ্ধ করুক বা না করুক। আর যে ব্যক্তি যুদ্ধ করার সামর্থ রাখে না, তাকে হত্যা করা বৈধ নয়। তবে সে যদি সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে যুদ্ধে অংশ নেয়, যেমন মতামত দেওয়া, সহযোগিতা করা, উসকানি দেওয়া কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে, তাহলে তাদেরকে হত্যা করা যাবে; যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।” -বাদায়েউস সানায়ে: ৯/৩৪৯ (দারুল হাদীস)। আরও দেখুন: শরহে মুখতাসারিল কারখী: ৯/১২৮ (আসফার)
ইবনুল হুমাম রহ. (৮৬১ হি.) বলেন,
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিহত নারীর ব্যাপারে ‘সে তো যুদ্ধ করত না’—এ বাক্যে হত্যার জন্য ‘মুকাতালা’কে কারণ হিসেবে দর্শিয়েছেন। এ থেকে প্রমাণীত হয় যে, কাদেরকে হত্যা করা যাবে আর কাদেরকে হত্যা করা যাবে না—উক্ত বিষয়টি হিরাবার সাথে সম্পৃক্ত। যার পক্ষ থেকে হিরাবার আশঙ্কা থাকবে, তাকে হত্যা করা হবে। আর যার ব্যাপারে এ আশঙ্কা থাকবে না, তাকে হত্যা করা হবে না।” -ফাতহুল কাদীর: ৫/৪৩৭ (ইলমিয়্যাহ)
মুফতী কেফায়াতুল্লাহ দেহলভী রহ. এক জবাবি পত্রে উক্ত বিষয়টি আরো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। শাইখ বলেন— “এ কথা সত্য যে, শরীয়তে সত্বাগতভাবে কুফুরকে মুবাহুদ দম (হত্যা করা বৈধ)-এর কারণ দর্শানো হয়নি। অন্যথায় যুদ্ধে নারী, বৃদ্ধ ও পাদ্রীদেরকে হত্যা করা নিষিদ্ধ হত না; যদিও তাদের কাফের হওয়ার বিষয়টি সুনিশ্চিত। তবে শরীয়ত এটাও মনে করে যে, কুফুর সত্বাগতভাবে যুদ্ধের জন্য আবশ্যক। অর্থাৎ [কাফেররা যদি বিশেষ পরিস্থিতির স্বীকার না হয়, তাহলে তারা মুসলিমদের উপর আগ্রাসী হবে—এটাই স্বাভাবিক। তাই] কাফেররা যতক্ষণ না এমন অবস্থায় পৌঁছিবে যে, তাদের পক্ষ থেকে যুদ্ধের সম্ভাবনা একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে কিংবা দুর্বল হয়ে পড়েছে, ততক্ষণ তাদেরকে হরবী হিসেবেই গণ্য করা হবে।
যে আয়াতসমূহ ব্যাপকভাবে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং তাদেরকে হত্যা করা বৈধতার উপর প্রমান বহন করে, উক্ত আয়াতসমূহের উদ্দেশ্য এটাই যে, সমস্ত কাফের-মুশরিক স্বভাবগতভাবে ইসলাম ও মুসলিমদের শত্রু ও প্রতিপক্ষ। এ জন্য মুসলিমদের জন্য প্রত্যেক কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা বৈধ; যতক্ষণ তাদের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি না থাকবে।
এতক্ষণের আলোচনা থেকে প্রমাণীত হলো যে, ইসলামে জিহাদ বৈধ হওয়ার জন্য এটা শর্ত করা হয়নি যে, যখন কাফেরদের পক্ষ থেকে আগ্রাসন পাওয়া যাবে, তখনই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বৈধ হবে; অন্যথায় বৈধ হবে না। বরং মুসলিমরা ইকদামি ও দিফায়ি—উভয় প্রকার যুদ্ধ করতে পারবে; তবে শুধু এমন কাফেরদের সঙ্গে, যাদের হিরাবা বিলুপ্ত কিংবা দুর্বল হয়ে পড়েনি। -কেফায়াতুল মুফতী: ২/২০০-২০১ (দারুল এশাআত)
আগের পর্ব:
ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ১৯ ➤ কাফেরের প্রকারভেদ এবং হারবি কাফেরের বিরুদ্ধে জিহাদ:
- https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...A6%BE%E0%A6%A6
ইসলাম কাফেরদের সাথে শুধুমাত্র তাদের কুফুরের কারণে যুদ্ধের আদেশ করেনি। অন্যথায় কাফেরদেরকে যিম্মি বানানোর সুযোগ দেওয়া হত না। তদ্রূপ মহিলা, শিশু, বয়োবৃদ্ধ, পক্ষাঘাতগ্রস্থ সহ যুদ্ধ করতে অক্ষম এবং বিশ্বাসগত যুদ্ধ বিমুখতার কারণে মানব সহচার্য থেকে দূরে অবস্থানকারী ব্যক্তিকে হত্যা করতে নিষেধ করা হত না। যদিও তাদের সবার মাঝে কুফুর বিদ্যমান।
বরং ইসলাম কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মূল কারণ হিসেবে দেখেছে তাদের ‘হিরাবা’কে। হিরাবা অর্থ হচ্ছে, শারিরিকভাবে যুদ্ধের সক্ষমতা রাখা এবং বিশ্বাসগত কারণে যুদ্ধঃমনস্ক হওয়া। ফিকহের পরিভাষায় এমন ব্যক্তিকে ‘মুহারিব বিল-কুওয়্যাহ’ তথা ‘শক্তিবলে যোদ্ধা’ বলা হয়। এর বিপরিতে হচ্ছে, ‘মুহারিব বিল ফে’ল’ তথা ‘কর্মগতভাবে আগ্রাসী’। ইসলামে জিহাদের বিধান হিরাবা বিল-কুওয়্যাহর সাথে সম্পৃক্ত; হিরাবা বিল-ফে’লের সাথে নয়। -শরহুস সিয়ারিল কাবীর: ৪/১৮৬ (ইলমিয়্যাহ); আত-তাকরীর ওয়াত তাহবীর: ৩/১৪৪ (ইলমিয়্যাহ); তাইসীরুত তাহরীর: ৩/৩০৬ (মুস্তাফা বাবী); মাজমূউল ফাতাওয়া: ২০/১০১ (মাজমাউল মালিক ফাহাদ)
এজন্য শারিরিকভাবে যুদ্ধ করতে সক্ষম মানব সহচার্যে অবস্থানকারী কাফেরদের বিরুদ্ধে ইসলাম জিহাদ করার আদেশ করে; যদিও বাস্তবিকভাবে তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আগ্রাসন পাওয়া যায়নি।
শামসুল আইম্মাহ সারাখসী রহ. (৪৯০ হি.) বলেন,
ثم المقاتلة كل من بلغ مبلغ الرجال، ... فإذا علم أنه لم يحتلم، وهو ابن أقل من خمس عشرة سنة، فهو من الذرية دون المقاتلة، قاتل أو لم يقاتل، وكذلك النساء؛ لأن المقاتلة من له بنية صالحة للقتال إذا أراد القتال، وليس للنساء والصغار بنية صالحة للقتال، فلا يكونون من المقاتلة وإن باشروا قتالا بخلاف العادة. ألا ترى أن من لا يقاتل من الرجال البالغين فهو من جملة المقاتلة باعتبار أن له بنية صالحة للقتال وإن كان لا يباشر القتال لمعنى. -شرح السير الكبير (5/ 80)، ط. العلمية
“মুকাতিলা (যোদ্ধা) হচ্ছে, প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। … যদি জানা যায় যে, সে এখনো বালেগ হয়নি, অর্থাৎ তার বয়স পনেরো বছরের কম, তাহলে সে ‘মুকাতিলা’ নয়, বরং সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত; সে যুদ্ধ করুক বা না করুক। তদ্রূপ নারীরাও ‘মুকাতিলা’র অন্তর্ভুক্ত নয় (যুদ্ধ করুক বা না করুক)। কেননা, ‘মুকাতিলা’ হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যারমধ্যে যুদ্ধ করার মত শারীরিক সক্ষমতা বিদ্যমান;যখনযুদ্ধকরতেচায় (সে এর সক্ষমতা রাখে)। আর নারী ও শিশুদের মধ্যে শারীরিক সেই সক্ষমতা থাকে না, তাই তারা ‘মুকাতিলা’ হিসেবে গণ্য হবে না; যদিও তারা স্বাভাবিকের বিপরিতে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। তুমি কি দেখো না— প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের যে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি, তার যুদ্ধ করার মত শারীরিক সক্ষমতা থাকার কারণে সে ‘মুকাতিলা’-এর অন্তর্ভুক্ত;যদিও বিশেষ কোনো কারণে সে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না।” -শরহুস সিয়ারিল কাবীর: ৫/৮০ (ইলমিয়্যাহ)
মালিকুল উলামা কাসানী রহ. (৫৮৭ হি.) বলেন,
والأصل فيه أن كل من كان من أهل القتال يحل قتله، سواء قاتل أو لم يقاتل، وكل من لم يكن من أهل القتال لا يحل قتله إلا إذا قاتل حقيقة أو معنى بالرأي والطاعة والتحريض، وأشباه ذلك على ما ذكرنا.
“(কাদেরকে হত্যা করা যাবে আর কাদেরকে হত্যা করা যাবে না) এ ব্যাপারে মূলনীতি হচ্ছে— যে ব্যক্তি যুদ্ধ করার সামর্থ রাখে, এমন প্রত্যেককে হত্যা করা বৈধ; সে বাস্তবে যুদ্ধ করুক বা না করুক। আর যে ব্যক্তি যুদ্ধ করার সামর্থ রাখে না, তাকে হত্যা করা বৈধ নয়। তবে সে যদি সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে যুদ্ধে অংশ নেয়, যেমন মতামত দেওয়া, সহযোগিতা করা, উসকানি দেওয়া কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে, তাহলে তাদেরকে হত্যা করা যাবে; যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।” -বাদায়েউস সানায়ে: ৯/৩৪৯ (দারুল হাদীস)। আরও দেখুন: শরহে মুখতাসারিল কারখী: ৯/১২৮ (আসফার)
ইবনুল হুমাম রহ. (৮৬১ হি.) বলেন,
قد علل القتل بالمقاتلة في قوله «ما كانت هذه تقاتل» فثبت ما قلنا من أنه معلول بالحرابة فلزم قتل ما كان مظنة له، بخلاف ما ليس إياه.
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিহত নারীর ব্যাপারে ‘সে তো যুদ্ধ করত না’—এ বাক্যে হত্যার জন্য ‘মুকাতালা’কে কারণ হিসেবে দর্শিয়েছেন। এ থেকে প্রমাণীত হয় যে, কাদেরকে হত্যা করা যাবে আর কাদেরকে হত্যা করা যাবে না—উক্ত বিষয়টি হিরাবার সাথে সম্পৃক্ত। যার পক্ষ থেকে হিরাবার আশঙ্কা থাকবে, তাকে হত্যা করা হবে। আর যার ব্যাপারে এ আশঙ্কা থাকবে না, তাকে হত্যা করা হবে না।” -ফাতহুল কাদীর: ৫/৪৩৭ (ইলমিয়্যাহ)
মুফতী কেফায়াতুল্লাহ দেহলভী রহ. এক জবাবি পত্রে উক্ত বিষয়টি আরো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। শাইখ বলেন— “এ কথা সত্য যে, শরীয়তে সত্বাগতভাবে কুফুরকে মুবাহুদ দম (হত্যা করা বৈধ)-এর কারণ দর্শানো হয়নি। অন্যথায় যুদ্ধে নারী, বৃদ্ধ ও পাদ্রীদেরকে হত্যা করা নিষিদ্ধ হত না; যদিও তাদের কাফের হওয়ার বিষয়টি সুনিশ্চিত। তবে শরীয়ত এটাও মনে করে যে, কুফুর সত্বাগতভাবে যুদ্ধের জন্য আবশ্যক। অর্থাৎ [কাফেররা যদি বিশেষ পরিস্থিতির স্বীকার না হয়, তাহলে তারা মুসলিমদের উপর আগ্রাসী হবে—এটাই স্বাভাবিক। তাই] কাফেররা যতক্ষণ না এমন অবস্থায় পৌঁছিবে যে, তাদের পক্ষ থেকে যুদ্ধের সম্ভাবনা একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে কিংবা দুর্বল হয়ে পড়েছে, ততক্ষণ তাদেরকে হরবী হিসেবেই গণ্য করা হবে।
যে আয়াতসমূহ ব্যাপকভাবে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং তাদেরকে হত্যা করা বৈধতার উপর প্রমান বহন করে, উক্ত আয়াতসমূহের উদ্দেশ্য এটাই যে, সমস্ত কাফের-মুশরিক স্বভাবগতভাবে ইসলাম ও মুসলিমদের শত্রু ও প্রতিপক্ষ। এ জন্য মুসলিমদের জন্য প্রত্যেক কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা বৈধ; যতক্ষণ তাদের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি না থাকবে।
এতক্ষণের আলোচনা থেকে প্রমাণীত হলো যে, ইসলামে জিহাদ বৈধ হওয়ার জন্য এটা শর্ত করা হয়নি যে, যখন কাফেরদের পক্ষ থেকে আগ্রাসন পাওয়া যাবে, তখনই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বৈধ হবে; অন্যথায় বৈধ হবে না। বরং মুসলিমরা ইকদামি ও দিফায়ি—উভয় প্রকার যুদ্ধ করতে পারবে; তবে শুধু এমন কাফেরদের সঙ্গে, যাদের হিরাবা বিলুপ্ত কিংবা দুর্বল হয়ে পড়েনি। -কেফায়াতুল মুফতী: ২/২০০-২০১ (দারুল এশাআত)
আগের পর্ব:
ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ১৯ ➤ কাফেরের প্রকারভেদ এবং হারবি কাফেরের বিরুদ্ধে জিহাদ:
- https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...A6%BE%E0%A6%A6