ভূমিকা
আধুনিক, গণতান্ত্রিক, উদারবাদী যুগে তথা ২০২৬ সালে এসেও পৃথিবীর ৩৬টি দেশ ৫৬টি সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত আছে। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরে আর কখনো এতগুলো দেশে একই সময়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে নি। অথচ এখন জাতিসংঘ বিদ্যমান রয়েছে, যা ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় ছিল না; এখন শাহবাগী, বামপন্থী, শান্তিপ্রিয় গোষ্ঠীর জনবলও নেহায়েত কম না। এতদসত্বেও নতুন করে যুক্ত হয়েছে ইরান যুদ্ধ, তাইওয়ান দখল ইত্যাদি। বিশ্ব ৩য় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়ে থাকলেও অবাক হবার কিছু নেই। যুদ্ধ বন্ধের কথিত জোরালো ও সর্বব্যাপী চেষ্টা ও ইচ্ছাকে পদদলিত করে আজ পৃথিবী ব্যাপী যুদ্ধ তার আসন পেতে বসেছে। কিন্তু কেন? কেন মানবজাতি যুদ্ধ বিলুপ্ত করতে ব্যর্থ? এখন আমাদের হাতে দুটি সরল উত্তর রয়েছে:
এই ইতিবাচক ব্যাপারটি শাহবাগীদেরকে তাদের কল্পনাপ্রসূত, বাস্তবতা বিবর্জিত ও narcissistic অন্ধবিশ্বাসকে দুর্বল করতে না পারলেও আমাদের অনেক ভাইকে হতাশ করে ঠিক-ই।
পরম শান্তিবাদের ভণ্ডামি
উদারবাদীরা বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠা করতে সর্বদা-ই যুদ্ধে লিপ্ত হয়, যেমনটা ফ্রেডরিক লিস্ট বলেছেন। উদারবাদের বৈদেশিক আদর্শিক হুমকির [যেমনঃ ভিন্ন দেশে অনুদারবাদ, ফ্যাসিবাদ, মৌলবাদ] বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন; অভ্যন্তরীণভাবে রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের কোমল সর্বগ্রাসী প্রাতিষ্ঠানিক সেন্সরশিপ দ্বারা আগ্রাসন; অন্য গোষ্ঠীকে অস্বীকার [group negation] করে গোষ্ঠীর ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের প্রক্রিয়ায় 'ক্ষমতার রাজনৈতিক ব্যবস্থা' সৃষ্টি করছে, যেমনটা স্মিট দাবি করেছিলেন।
এখন চাইনিজরা আমেরিকার সঙ্গে এটা করছে [০:০০ – ১:১৮]
- https://www.youtube.com/watch?v=ty8S2B1SuBo
দানিয়েল হাকিকাতজু ও আব্দুল্লাহ আল আন্দালুসি [হাফিঃ]-এর সঙ্গে বিবাদে লিপ্ত হওয়া লিবটার্ড ভশের স্বীকারোক্তি
- https://t.me/keith_woods/1441
এছাড়াও কোন উদারবাদীকে জিজ্ঞাসা করুন যে, কোন সরকার যদি নারীদের নির্যাতন করে, পায়ুকামীদের মেরে ফেলে; তাহলে সে কি করবে। স্যাম হ্যারিসের মত কথিত উদারবাদীরা ঠিকই বলবে যে, সে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঐ সরকারের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিবে।
Albert Weisbord রচিত Offshoots of Liberalism: Pacifism বইটি শান্তিবাদের অবাস্তবতা নিয়ে একটি ভাল সারাংশ উল্লেখ করেছে-
“When middle classes turned to pacifism, the working classes turned to anti-militarism. Proletarian Anarchism, Syndicalism, and revolutionary Socialism turned violently against capitalist war. After all, these groups furnished the chief regiments of cannon fodder and feared warfare more than any other.
Their anti-war activity was only part of the general struggle for emancipation of the working class.
None of these groups, however, could escape from theories of pacifism. They were not able to understand the laws of social dynamics. The Anarchists turned to Tolstoyan pacifism while they built dreams of mutual aid co-operatives, or they adopted the Liberal methods of individual objection. The Syndicalists proposed the general strike as a method of stopping war, as though the peaceful diluted economic action of their general strike could liquidate at the start the terrific concentrated political violence of war. The parliamentary Socialists adopted the theory that war can be stopped by the ballot-box and by theories of international cooperation and total disarmament. Later on, the degenerated Communists of the Stalinist variety would propose on the rostrum of the Disarmament Conferences the old pacifist utopia of universal disarmament as the “cure” for war.
Like Liberalism, all of these proletarian movements prove bankrupt in stopping the all-consuming development of militarism and war.”
তাই রাজনৈতিক বাস্তবতা ও বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ সংক্রান্ত আলোচনা বৃদ্ধির মাধ্যমে যুদ্ধভীতি অপসারণ ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে ব্যক্তিকে প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে এই নিবন্ধের অবতারণা । এই আলোচনা জুলিয়াস ইভোলা-র Metaphysics of War বই থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রচনা করা হয়েছে।
যুদ্ধের সংজ্ঞা
আরেকটি ব্যাপার মনে রাখা দরকার- সহিংসতার বাস্তবতা মেনে নেয়া এবং সকল প্রকার সহিংসতাকে যৌক্তিক কিংবা অযৌক্তিক মনে করা দুটি ভিন্ন ব্যাপার। এই আলোচনা সামনে এগিয়ে নিতে তাই একটি বিশেষ প্রকারের সহিংসতাকে সংজ্ঞায়িত করা জরুরি। এই নিবন্ধে আমরা যুদ্ধকে যেকোন তত্ত্বের মত তাই সহিংসতার একটি আদর্শ ও পবিত্রতম রূপ হিসাবে কল্পনা করব, এমনকি যদিও সেই রূপ বাস্তবে কখনোই অস্তিত্বশীল না হয়ে থাকে; বিষয়টি অনেকটা কার্নোর ইঞ্জিন বা আদর্শ গ্যাসের মত। সুতরাং নারীর প্রেমে মত্ত হয়ে যে রাজা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে কিংবা যমীনে শ্রেষ্ঠত্ব লাভের আশায় যে ভূখণ্ড সম্প্রসারণ করছে ইত্যাদি বস্তুবাদী যুদ্ধ এই নিবন্ধের আলোচ্য বিষয় নয়।
মানুষ কেন যুদ্ধকে বৈধতা দেয়?
নফস বিজয়ী না হলে, মানব ব্যক্তিত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করতে গেলে, মানুষ প্রকৃতিগতভাবে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকতে চায়; ইতিহাসের সঠিক পক্ষে অবস্থান নিতে চায়।
মানুষের এই ইচ্ছা তাকে দু:সাহসী পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী করে তোলে; তার ভেতরের বীরকে জাগিয়ে তোলে।
বীরপুরুষ হবার আকাঙ্ক্ষা আছে একদম ছেলেবেলা থেকে, সে ঈদের দিন খেলনা পিস্তল হাতে নেমে পড়ে তার কল্পনার ডাকাতদের থামাতে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বললে,
এই শিশু যখন বড় হয়, তখন সে শুধু মায়ের কথা ভাবে না। সে যখন বিশ্বে চলমান যুলুম-নিপীড়ন দেখে, তখন সে মায়ের কোলের স্নেহকে উপেক্ষা করে বিশ্বপানে নজর দেয়।
...
ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইরাক, বসনিয়া, চেচনিয়া, আরাকান, কাশ্মীর- তাই আমাদের অন্তরকে আন্দোলিত করে, চোখকে ঝাপসা করে দেয়, হাতকে করে মুষ্টিবদ্ধ। এভাবে যুদ্ধ মানুষের ভেতরের বীরকে জেগে উঠতে সাহায্য করে।
ভেতরের বীর আমাদের যুদ্ধের দিকে ধাবিত করলেও এই বীর এখনও অন্ধ। সে একজন স্বঘোষিত বিচারক, কাযী; তার চোখে এখন কালো কাপড় । এই অবস্থায় তার দ্বারা মজলুমের পক্ষে যেমন অবস্থান নেয়া সম্ভব, তেমনি যালিমের পক্ষেও অবস্থান নেয়া সম্ভব, যদি সে যথেষ্ট সতর্ক ও সজাগ না হয়। এই পরিস্থিতিতে নিজেকে সংযত রাখতে, চোখের আলো ফিরে পেতে আরেক ধাপ সামনে যেতে হবে।
এই ধারাবাহিকতায় আরেকটু সামনে অগ্রসর হতে থাকলে এবং জীবজগতে আরও ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করলে অনুভূত হয় যে, প্রাণী তার রব, মালিক, যে কিনা আল হাক্ক, তার জন্য নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে প্রস্তুত থাকে।
সুতরাং এটাও যুদ্ধকে ঠিক ও ন্যায়সঙ্গত মনে করার একটি কারণ, যা মানুষকে ইতিহাসের সঠিক পক্ষে স্থান করে দেয়। যে যোদ্ধা এই ধাপে উপনীত হতে পারে তার চোখ খুলে যায়। মানবজাতির হেয়ালি, মূর্খতা, বোকামি তাকে অবাক করে, কষ্ট দেয়, ভাবালু করে; সে দুনিয়ার বুকে রবের প্রতিনিধি, একজন ক্বাযী, একজন খলিফা।
যুদ্ধে জীবনের স্বাদ
যুদ্ধ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করে। যোদ্ধার খাওয়া-দাওয়া, গোসল, বিশ্রাম কিছুই ঠিক নেই। কখনো চব্বিশ ঘণ্টা সজাগ, কখনো ষোল ঘণ্টা না খাওয়া, কখনো বিনা গোসলে ছয়-সাত দিন। কিন্তু এই অনিয়ম তাকে জীবনের এক নিগূড় জ্ঞান দান করে যা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের সিরিয়ালে দাড়িয়ে, ঘামে ভেজা ট্রাফিক জ্যামে আটকে থেকে কিংবা নরম বিছানার আদরে বইয়ের পাতা উল্টে, aesthetic বা ভোগী জীবন যাপন করে অর্জন করা সম্ভব না। আবার বীর বা প্রকৃত মুজাহিদ হতে পারার এক মুহূর্তের অনুভূতি, অফিসের মিটিং, পাঠাগারের টেবিল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের ছলনা বা evasion/bad faith এর মিথ্যা অনুভূতিও এক নয়।
আফগান রণাঙ্গনে এক মুফতি বলেছিলেন, "আমি ২০ বছর টানা হজ্জ্ব করেছি, শত শত বার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেছি, অসংখ্যবার নবীজী-র রওজা যিয়ারত করেছি। কিন্তু এই কয়েক মিনিটে যে স্বাদ আত্মার যে স্বাদ ও তৃপ্তি অনুভব করলাম। তার কোন তুলনা হয় না।" (মুজাহিদের আযান, পৃ: ১৯) একারনেই সম্ভবত ফতেহ আলী টিপু সুলতান রাহ: বলেছিলেন, "শৃগালের ন্যায় শত বছর বেঁচে থাকার চেয়ে সিংহের নেয় একদিনের জীবন শ্রেয়। শহীদের রক্ত বৃথা যায় না। এ রক্ত থেকে জন্ম নেয়া জাতি আজাদীর পতাকাবাহীদের জন্ম দিয়ে থাকে।" (আকাবিরদের জিহাদী জীবন, পৃ: ৩৮)
বিষয়টি অস্তিত্ববাদী দর্শন দিয়েও ব্যাখ্যা করা সম্ভব। সোরেন কিয়ের্কেগার্ডের দর্শনে বললে, যুদ্ধ মানুষের ভেতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্বিগ্নতা তৈরি করে; গুজব, মিথ্যা সংবাদের ভিড়ে মানুষ থাকে বিভ্রান্ত । যখন সে বিশ্বাসের মজলুমের পক্ষ, রবের পক্ষ সঠিকভাবে গ্রহণ করতে সমর্থ হয়; যখন সে অনুধাবন করে যে, তার যুদ্ধে অংশ নেয়া বা না নেয়ায়, শহীদ হওয়া বা না হওয়ায়, আল্লাহর কোন যায় আসে না, দ্বীন নিজের গতিতে বিজয়ী হবে। এই অবস্থায় সে ভোগী জীবনে ফিরে যেতে পারে অথবা বিশ্বাসের লাফ/ leap of faith বেছে নিতে পারে। যদি সে leap of faith বেছে নেয়, তার অস্তিত্ব ও সম্পদের সবকিছুকে বিপদাপন্ন করে, তবে সে জীবনকে অন্যভাবে দেখার সুযোগ পায়।
মার্টিন হাইডেগার তো মিলিটারি শব্দ ব্যবহার করেছেন। কিয়ের্কেগার্ডের aesthetic sphere- কে হাইডেগার বলতেন Das man, যারা গেমিং করেন, তারা হয়তো বলবে NPC. হাইডেগারের মতে, প্রকৃত জীবন যাপন করতে হলে জীবনে উদ্বিগ্নতা-উতকণ্ঠা (angst) দরকার। এই উদ্বিগ্নতা আসে মৃত্যুর মুখোমুখি (Sein-zum-Tode) হবার মাধ্যমে। হাইডেগার তাই বেশি বেশি করে কবরস্থান পরিদর্শনের উপদেশ দিতেন। তাই যুদ্ধের ময়দানে স্থির প্রতিজ্ঞ (resoluteness) থাকতে পারলেই প্রকৃত জীবন লাভ করা যেতে পারে।
মোট কথা, যুদ্ধ জীবনের নিগূড় রহস্য আপনার সামনে উন্মোচন করতে সক্ষম, যা খায়েশাতের জীবনে নেই। ইমাম গাযযালী রাহ: বলেন, "কামনা-বাসনা রাজাকে দাস বানায়, আর সবর দাসকে রাজা বানায়।" বলাবাহুল্য, সবরের সেরা ময়দান হল যুদ্ধের ভূমি।
যুদ্ধের অতিপ্রাকৃত ধর্ম
ইভোলার বক্তব্যে ফিরে আসা যাক। তিনি বলছেন, যুদ্ধ যেমন জীবনের শিক্ষক, তেমনি জীবনকে যা কিছু অতিক্রম করে; মৃত্যু, ইন্তেকাল, বিনাশ, মহাপ্রয়াণের শিক্ষক।
যুদ্ধের ময়দান থেকে কমান্ডার শামিল বাসায়েভ লিখেছেন,
যুদ্ধ আমাদের আত্মবিসর্জন, মহত্ব ও আধ্যাত্মিকতা শেখায়; এগুলো এমন শিক্ষা যা বস্তুবাদ ব্যাখ্যা করতে পারে না। প্রাণের তুচ্ছতা, প্রাণের মূল্য, প্রাণের অতিরিক্তের জ্ঞান যুদ্ধ থেকেই পাওয়া যায়; যুদ্ধ তাই প্রকৃতিগতভাবেই বস্তুবাদী নয়; এবং এর পরলৌকিক মান রয়েছে। যেমনঃ বদরের যুদ্ধের পরলৌকিক মূল্য এবং গ্রানাডায় মারিনিদদের অভিযানগুলোর মূল্য সমান নয়।
আধুনিক, গণতান্ত্রিক, উদারবাদী যুগে তথা ২০২৬ সালে এসেও পৃথিবীর ৩৬টি দেশ ৫৬টি সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত আছে। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরে আর কখনো এতগুলো দেশে একই সময়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে নি। অথচ এখন জাতিসংঘ বিদ্যমান রয়েছে, যা ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় ছিল না; এখন শাহবাগী, বামপন্থী, শান্তিপ্রিয় গোষ্ঠীর জনবলও নেহায়েত কম না। এতদসত্বেও নতুন করে যুক্ত হয়েছে ইরান যুদ্ধ, তাইওয়ান দখল ইত্যাদি। বিশ্ব ৩য় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়ে থাকলেও অবাক হবার কিছু নেই। যুদ্ধ বন্ধের কথিত জোরালো ও সর্বব্যাপী চেষ্টা ও ইচ্ছাকে পদদলিত করে আজ পৃথিবী ব্যাপী যুদ্ধ তার আসন পেতে বসেছে। কিন্তু কেন? কেন মানবজাতি যুদ্ধ বিলুপ্ত করতে ব্যর্থ? এখন আমাদের হাতে দুটি সরল উত্তর রয়েছে:
- যুদ্ধ বিরোধী বিশ্ব ব্যবস্থা স্বয়ং যুদ্ধবাজ
- সশস্ত্র সহিংসতা মানব ইতিহাস ও রাজনীতির অনিবার্য বাস্তবতা।
এই ইতিবাচক ব্যাপারটি শাহবাগীদেরকে তাদের কল্পনাপ্রসূত, বাস্তবতা বিবর্জিত ও narcissistic অন্ধবিশ্বাসকে দুর্বল করতে না পারলেও আমাদের অনেক ভাইকে হতাশ করে ঠিক-ই।
আল্লাহ বলেন, কাজেই তারা যা বলে, সে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধারণ করুন। (আল কুরআন ২০:১৩০)
পরম শান্তিবাদের ভণ্ডামি
উদারবাদীরা বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠা করতে সর্বদা-ই যুদ্ধে লিপ্ত হয়, যেমনটা ফ্রেডরিক লিস্ট বলেছেন। উদারবাদের বৈদেশিক আদর্শিক হুমকির [যেমনঃ ভিন্ন দেশে অনুদারবাদ, ফ্যাসিবাদ, মৌলবাদ] বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন; অভ্যন্তরীণভাবে রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের কোমল সর্বগ্রাসী প্রাতিষ্ঠানিক সেন্সরশিপ দ্বারা আগ্রাসন; অন্য গোষ্ঠীকে অস্বীকার [group negation] করে গোষ্ঠীর ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের প্রক্রিয়ায় 'ক্ষমতার রাজনৈতিক ব্যবস্থা' সৃষ্টি করছে, যেমনটা স্মিট দাবি করেছিলেন।
এখন চাইনিজরা আমেরিকার সঙ্গে এটা করছে [০:০০ – ১:১৮]
- https://www.youtube.com/watch?v=ty8S2B1SuBo
দানিয়েল হাকিকাতজু ও আব্দুল্লাহ আল আন্দালুসি [হাফিঃ]-এর সঙ্গে বিবাদে লিপ্ত হওয়া লিবটার্ড ভশের স্বীকারোক্তি
- https://t.me/keith_woods/1441
এছাড়াও কোন উদারবাদীকে জিজ্ঞাসা করুন যে, কোন সরকার যদি নারীদের নির্যাতন করে, পায়ুকামীদের মেরে ফেলে; তাহলে সে কি করবে। স্যাম হ্যারিসের মত কথিত উদারবাদীরা ঠিকই বলবে যে, সে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঐ সরকারের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিবে।
Albert Weisbord রচিত Offshoots of Liberalism: Pacifism বইটি শান্তিবাদের অবাস্তবতা নিয়ে একটি ভাল সারাংশ উল্লেখ করেছে-
“When middle classes turned to pacifism, the working classes turned to anti-militarism. Proletarian Anarchism, Syndicalism, and revolutionary Socialism turned violently against capitalist war. After all, these groups furnished the chief regiments of cannon fodder and feared warfare more than any other.
Their anti-war activity was only part of the general struggle for emancipation of the working class.
None of these groups, however, could escape from theories of pacifism. They were not able to understand the laws of social dynamics. The Anarchists turned to Tolstoyan pacifism while they built dreams of mutual aid co-operatives, or they adopted the Liberal methods of individual objection. The Syndicalists proposed the general strike as a method of stopping war, as though the peaceful diluted economic action of their general strike could liquidate at the start the terrific concentrated political violence of war. The parliamentary Socialists adopted the theory that war can be stopped by the ballot-box and by theories of international cooperation and total disarmament. Later on, the degenerated Communists of the Stalinist variety would propose on the rostrum of the Disarmament Conferences the old pacifist utopia of universal disarmament as the “cure” for war.
Like Liberalism, all of these proletarian movements prove bankrupt in stopping the all-consuming development of militarism and war.”
“যখন মধ্যবিত্তরা শান্তিবাদের দিকে ঝুঁকেছে, তখন শ্রমিক শ্রেণী সমর-বিরোধীতার দিকে ঝুঁকছে। সর্বহারা নৈরাজ্যবাদ, সিন্ডিকালিজম এবং বিপ্লবী সমাজতন্ত্র পুঁজিবাদী যুদ্ধের বিরুদ্ধে হিংস্র হয়ে উঠেছিল। সর্বোপরি, এই দলগুলি নিজেদের কামানের প্রধান খাদ্যে পরিণত করেছিল এবং অন্য সবকিছুর তুলনায় যুদ্ধকে বেশি ভয় করেছিল।
তাদের যুদ্ধবিরোধী কার্যকলাপ ছিল শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তির সাধারণ সংগ্রামের অংশ মাত্র।
যাইহোক, এই গোষ্ঠীগুলির কোনটিই শান্তিবাদের তত্ত্ব প্রচারণা থেকে পালাতে পারেনি। তারা সামাজিক গতিবিদ্যার নিয়ম বুঝতে সক্ষম ছিল না। নৈরাজ্যবাদীরা টলস্টোয়ান শান্তিবাদের দিকে তখনই ঝুঁকে পড়েছিল, যখন তারা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার স্বপ্ন বুনছিল, অথবা উদারবাদীদের মত ব্যক্তির আপত্তি জানানোর পদ্ধতি গ্রহণ করেছিল। সিন্ডিকালিস্টরা [সমাজতন্ত্রী শ্রমিক আন্দোলন] সাধারণ ধর্মঘটকে যুদ্ধ থামানোর একটি পদ্ধতি হিসাবে প্রস্তাব করেছিল; এমন যেন তাদের সাধারণ ধর্মঘটের শান্তিপূর্ণ ক্ষীণ অর্থনৈতিক পদক্ষেপ, যুদ্ধের ভয়ঙ্কর ঘনীভূত রাজনৈতিক সহিংসতাকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করতে পারে! সংসদীয় সমাজতন্ত্রীরা এই তত্ত্ব গ্রহণ করেছিলেন যে, ব্যালট-বাক্সের মাধ্যমে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের তত্ত্ব দ্বারা যুদ্ধ বন্ধ করা যেতে পারে। পরবর্তীতে, স্টালিনবাদ জাতের কমিউনিস্টরা নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনের বেদিতে সর্বজনীন নিরস্ত্রীকরণের পুরানো শান্তিবাদী ইউটোপিয়াকে যুদ্ধের "নিরাময়" হিসাবে প্রস্তাব করবে।
লিবারেলিজমের মতো, এসকল সর্বহারা আন্দোলন সামরিকবাদ এবং যুদ্ধের সর্বগ্রাসী বিকাশকে থামাতে দেউলিয়া প্রমাণিত হয়।"
তাদের যুদ্ধবিরোধী কার্যকলাপ ছিল শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তির সাধারণ সংগ্রামের অংশ মাত্র।
যাইহোক, এই গোষ্ঠীগুলির কোনটিই শান্তিবাদের তত্ত্ব প্রচারণা থেকে পালাতে পারেনি। তারা সামাজিক গতিবিদ্যার নিয়ম বুঝতে সক্ষম ছিল না। নৈরাজ্যবাদীরা টলস্টোয়ান শান্তিবাদের দিকে তখনই ঝুঁকে পড়েছিল, যখন তারা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার স্বপ্ন বুনছিল, অথবা উদারবাদীদের মত ব্যক্তির আপত্তি জানানোর পদ্ধতি গ্রহণ করেছিল। সিন্ডিকালিস্টরা [সমাজতন্ত্রী শ্রমিক আন্দোলন] সাধারণ ধর্মঘটকে যুদ্ধ থামানোর একটি পদ্ধতি হিসাবে প্রস্তাব করেছিল; এমন যেন তাদের সাধারণ ধর্মঘটের শান্তিপূর্ণ ক্ষীণ অর্থনৈতিক পদক্ষেপ, যুদ্ধের ভয়ঙ্কর ঘনীভূত রাজনৈতিক সহিংসতাকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করতে পারে! সংসদীয় সমাজতন্ত্রীরা এই তত্ত্ব গ্রহণ করেছিলেন যে, ব্যালট-বাক্সের মাধ্যমে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের তত্ত্ব দ্বারা যুদ্ধ বন্ধ করা যেতে পারে। পরবর্তীতে, স্টালিনবাদ জাতের কমিউনিস্টরা নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনের বেদিতে সর্বজনীন নিরস্ত্রীকরণের পুরানো শান্তিবাদী ইউটোপিয়াকে যুদ্ধের "নিরাময়" হিসাবে প্রস্তাব করবে।
লিবারেলিজমের মতো, এসকল সর্বহারা আন্দোলন সামরিকবাদ এবং যুদ্ধের সর্বগ্রাসী বিকাশকে থামাতে দেউলিয়া প্রমাণিত হয়।"
কার্ল্টন হেইসের মতে, মানবতাবাদ, জাকবীয়, ঐতিহ্যবাদ, উদারবাদ ও অবিচ্ছেদবাদ; কোনকিছুই তাত্ত্বিকভাবে সাম্রাজ্যবাদের বিরোধী না।
যুদ্ধের সংজ্ঞা
আরেকটি ব্যাপার মনে রাখা দরকার- সহিংসতার বাস্তবতা মেনে নেয়া এবং সকল প্রকার সহিংসতাকে যৌক্তিক কিংবা অযৌক্তিক মনে করা দুটি ভিন্ন ব্যাপার। এই আলোচনা সামনে এগিয়ে নিতে তাই একটি বিশেষ প্রকারের সহিংসতাকে সংজ্ঞায়িত করা জরুরি। এই নিবন্ধে আমরা যুদ্ধকে যেকোন তত্ত্বের মত তাই সহিংসতার একটি আদর্শ ও পবিত্রতম রূপ হিসাবে কল্পনা করব, এমনকি যদিও সেই রূপ বাস্তবে কখনোই অস্তিত্বশীল না হয়ে থাকে; বিষয়টি অনেকটা কার্নোর ইঞ্জিন বা আদর্শ গ্যাসের মত। সুতরাং নারীর প্রেমে মত্ত হয়ে যে রাজা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে কিংবা যমীনে শ্রেষ্ঠত্ব লাভের আশায় যে ভূখণ্ড সম্প্রসারণ করছে ইত্যাদি বস্তুবাদী যুদ্ধ এই নিবন্ধের আলোচ্য বিষয় নয়।
মানুষ কেন যুদ্ধকে বৈধতা দেয়?
নফস বিজয়ী না হলে, মানব ব্যক্তিত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করতে গেলে, মানুষ প্রকৃতিগতভাবে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকতে চায়; ইতিহাসের সঠিক পক্ষে অবস্থান নিতে চায়।
আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ! তোমরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী হয়ে যাও আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতারূপে, যদিও তা তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে কিংবা পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে হয়। সে ব্যক্তি (যার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার আদেশ করা হচ্ছে) যদি ধনী বা গরীব হয়, তবে আল্লাহ উভয় প্রকার লোকের ব্যাপারে (তোমাদের চেয়ে) বেশি কল্যাণকামী। সুতরাং তোমরা ইনসাফ করার ব্যাপারে ইচ্ছা-অভিরুচির অনুসরণ করো না। ( সূরা নিসা ১৩৫)
আল্লাহ বলেন, যারা নিজেদের উপর জুলুম হওয়ার পর (সমপরিমাণে) বদলা নেয়, তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। (সূরা শূরা ৪১)
ছুটিয়ে ঘোড়া গেলেম তাদের মাঝে,
ঢাল তলোয়ার ঝন্ঝনিয়ে বাজে
কী ভয়ানক লড়াই হল মা যে,
শুনে তোমার গায়ে দেবে কাঁটা।
কত লোক যে পালিয়ে গেল ভয়ে,
কত লোকের মাথা পড়ল কাটা।
এত লোকের সঙ্গে লড়াই করে
ভাবছ খোকা গেলই বুঝি মরে।
আমি তখন রক্ত মেখে ঘেমে
বলছি এসে, ‘লড়াই গেছে থেমে’
ঢাল তলোয়ার ঝন্ঝনিয়ে বাজে
কী ভয়ানক লড়াই হল মা যে,
শুনে তোমার গায়ে দেবে কাঁটা।
কত লোক যে পালিয়ে গেল ভয়ে,
কত লোকের মাথা পড়ল কাটা।
এত লোকের সঙ্গে লড়াই করে
ভাবছ খোকা গেলই বুঝি মরে।
আমি তখন রক্ত মেখে ঘেমে
বলছি এসে, ‘লড়াই গেছে থেমে’
আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা হুতাশ আমি হুতাশীর।
আমি বন্চিত ব্যথা পথবাসী চির গৃহহারা যত পথিকের,
আমি অবমানিতের মরম বেদনা, বিষ – জ্বালা, প্রিয় লান্চিত বুকে গতি ফের
আমি বন্চিত ব্যথা পথবাসী চির গৃহহারা যত পথিকের,
আমি অবমানিতের মরম বেদনা, বিষ – জ্বালা, প্রিয় লান্চিত বুকে গতি ফের
যবে উত্পীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না -
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না -
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত।
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না -
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত।
ভেতরের বীর আমাদের যুদ্ধের দিকে ধাবিত করলেও এই বীর এখনও অন্ধ। সে একজন স্বঘোষিত বিচারক, কাযী; তার চোখে এখন কালো কাপড় । এই অবস্থায় তার দ্বারা মজলুমের পক্ষে যেমন অবস্থান নেয়া সম্ভব, তেমনি যালিমের পক্ষেও অবস্থান নেয়া সম্ভব, যদি সে যথেষ্ট সতর্ক ও সজাগ না হয়। এই পরিস্থিতিতে নিজেকে সংযত রাখতে, চোখের আলো ফিরে পেতে আরেক ধাপ সামনে যেতে হবে।
এই ধারাবাহিকতায় আরেকটু সামনে অগ্রসর হতে থাকলে এবং জীবজগতে আরও ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করলে অনুভূত হয় যে, প্রাণী তার রব, মালিক, যে কিনা আল হাক্ক, তার জন্য নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে প্রস্তুত থাকে।
আল্লাহ বলেন, অতঃপর প্রভাতকালে আক্রমণকারী অশ্বসমূহের, ও যারা সে সময়ে ধুলি উৎক্ষিপ্ত করে,অতঃপর যারা শক্রদলের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। (সূরা আদিয়াত)
যুদ্ধে জীবনের স্বাদ
যুদ্ধ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করে। যোদ্ধার খাওয়া-দাওয়া, গোসল, বিশ্রাম কিছুই ঠিক নেই। কখনো চব্বিশ ঘণ্টা সজাগ, কখনো ষোল ঘণ্টা না খাওয়া, কখনো বিনা গোসলে ছয়-সাত দিন। কিন্তু এই অনিয়ম তাকে জীবনের এক নিগূড় জ্ঞান দান করে যা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের সিরিয়ালে দাড়িয়ে, ঘামে ভেজা ট্রাফিক জ্যামে আটকে থেকে কিংবা নরম বিছানার আদরে বইয়ের পাতা উল্টে, aesthetic বা ভোগী জীবন যাপন করে অর্জন করা সম্ভব না। আবার বীর বা প্রকৃত মুজাহিদ হতে পারার এক মুহূর্তের অনুভূতি, অফিসের মিটিং, পাঠাগারের টেবিল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের ছলনা বা evasion/bad faith এর মিথ্যা অনুভূতিও এক নয়।
আফগান রণাঙ্গনে এক মুফতি বলেছিলেন, "আমি ২০ বছর টানা হজ্জ্ব করেছি, শত শত বার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেছি, অসংখ্যবার নবীজী-র রওজা যিয়ারত করেছি। কিন্তু এই কয়েক মিনিটে যে স্বাদ আত্মার যে স্বাদ ও তৃপ্তি অনুভব করলাম। তার কোন তুলনা হয় না।" (মুজাহিদের আযান, পৃ: ১৯) একারনেই সম্ভবত ফতেহ আলী টিপু সুলতান রাহ: বলেছিলেন, "শৃগালের ন্যায় শত বছর বেঁচে থাকার চেয়ে সিংহের নেয় একদিনের জীবন শ্রেয়। শহীদের রক্ত বৃথা যায় না। এ রক্ত থেকে জন্ম নেয়া জাতি আজাদীর পতাকাবাহীদের জন্ম দিয়ে থাকে।" (আকাবিরদের জিহাদী জীবন, পৃ: ৩৮)
বিষয়টি অস্তিত্ববাদী দর্শন দিয়েও ব্যাখ্যা করা সম্ভব। সোরেন কিয়ের্কেগার্ডের দর্শনে বললে, যুদ্ধ মানুষের ভেতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্বিগ্নতা তৈরি করে; গুজব, মিথ্যা সংবাদের ভিড়ে মানুষ থাকে বিভ্রান্ত । যখন সে বিশ্বাসের মজলুমের পক্ষ, রবের পক্ষ সঠিকভাবে গ্রহণ করতে সমর্থ হয়; যখন সে অনুধাবন করে যে, তার যুদ্ধে অংশ নেয়া বা না নেয়ায়, শহীদ হওয়া বা না হওয়ায়, আল্লাহর কোন যায় আসে না, দ্বীন নিজের গতিতে বিজয়ী হবে। এই অবস্থায় সে ভোগী জীবনে ফিরে যেতে পারে অথবা বিশ্বাসের লাফ/ leap of faith বেছে নিতে পারে। যদি সে leap of faith বেছে নেয়, তার অস্তিত্ব ও সম্পদের সবকিছুকে বিপদাপন্ন করে, তবে সে জীবনকে অন্যভাবে দেখার সুযোগ পায়।
মার্টিন হাইডেগার তো মিলিটারি শব্দ ব্যবহার করেছেন। কিয়ের্কেগার্ডের aesthetic sphere- কে হাইডেগার বলতেন Das man, যারা গেমিং করেন, তারা হয়তো বলবে NPC. হাইডেগারের মতে, প্রকৃত জীবন যাপন করতে হলে জীবনে উদ্বিগ্নতা-উতকণ্ঠা (angst) দরকার। এই উদ্বিগ্নতা আসে মৃত্যুর মুখোমুখি (Sein-zum-Tode) হবার মাধ্যমে। হাইডেগার তাই বেশি বেশি করে কবরস্থান পরিদর্শনের উপদেশ দিতেন। তাই যুদ্ধের ময়দানে স্থির প্রতিজ্ঞ (resoluteness) থাকতে পারলেই প্রকৃত জীবন লাভ করা যেতে পারে।
মোট কথা, যুদ্ধ জীবনের নিগূড় রহস্য আপনার সামনে উন্মোচন করতে সক্ষম, যা খায়েশাতের জীবনে নেই। ইমাম গাযযালী রাহ: বলেন, "কামনা-বাসনা রাজাকে দাস বানায়, আর সবর দাসকে রাজা বানায়।" বলাবাহুল্য, সবরের সেরা ময়দান হল যুদ্ধের ভূমি।
যুদ্ধের অতিপ্রাকৃত ধর্ম
ইভোলার বক্তব্যে ফিরে আসা যাক। তিনি বলছেন, যুদ্ধ যেমন জীবনের শিক্ষক, তেমনি জীবনকে যা কিছু অতিক্রম করে; মৃত্যু, ইন্তেকাল, বিনাশ, মহাপ্রয়াণের শিক্ষক।
যুদ্ধের ময়দান থেকে কমান্ডার শামিল বাসায়েভ লিখেছেন,
"মৃত্যু আমাদের শেখায় জীবন কতটা গুরুত্বপূর্ণ।" (একজন মুজাহিদের বই, পৃ: ৫০)