মুরতাদকে তাওবার অবকাশ দেওয়ার বিধান:
মুরতাদকে হত্যা করার আগে তাওবা করে ইসলাম গ্রহণ করতে বলা কিংবা তাওবার জন্য তিন দিনের অবকাশ দেওয়া—কোনোটি ওয়াজিব নয়। -মাবসূতে সারাখসী: ১০/৯৮, ৯৯ (দারুল মা’রেফা); বাদায়েউস সানায়ে: ৯/৪৩৯ (দারুল হাদীস); রদ্দুল মুহতার: ৪/২২৫ (দারুল ফিকর)
আবু তুফাইল রহ. থেকে বর্ণিত,
উপরিউক্ত ঘটনায় আলী রাদি. মুরতাদ দলকে তাওবা করে ইসলাম গ্রহণ করতে বলা কিংবা এ ব্যাপারে চিন্তাফিকিরের জন্য তাদেরকে কোনো সময় দেওয়া—উপরিউক্ত দুটির কোনোটি করেননি।
তবে মুরতাদকে হত্যা করার আগে নতুন করে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া মুস্তাহাব। তদ্রূপ মুরতাদের ব্যাপারে ইসলাম গ্রহণের আশা থাকলে তিনদিন পর্যন্ত সময় দেওয়া মুস্তাহাব। -শরহে মাআনিল আসার: ৩/২১০; মাবসূতে সারাখসী: ১০/৯৮, ৯৯ (দারুল মা’রেফা); বাদায়েউস সানায়ে: ৯/৪৩৯ (দারুল হাদীস); রদ্দুল মুহতার: ৪/২২৫ (দারুল ফিকর)
উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ রহ. থেকে বর্ণিত,
যদি মুরতাদের কোনো সংশয় থাকে এবং তা দূর করার জন্য সময় চায়, তাহলে তিন দিন পর্যন্ত অবকাশ দেওয়া ওয়াজিব। এর বেশি সময় দেওয়া ওয়াজিব নয়। -মুওআত্তা মুহাম্মদ: ৮৬৯; শরহে মাআনিল আসার: ৩/২১০; মাবসূতে সারাখসী: ১০/৯৮, ৯৯ (দারুল মা’রেফা); ফাতহুল কাদীর: ৬/৬৪ (ইলমিয়্যাহ); রদ্দুল মুহতার: ৪/২২৫ (দারুল ফিকর)
মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ রহ. থেকে বর্ণিত,
শামসুল আইম্মাহ সারাখসী রহ. (৪৯০ হি.) বলেন,
উল্লেখ্য, মুরতাদকে তিন দিনের বেশি সময় দেওয়া যদিও ওয়াজিব নয়; তথাপি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মাসলাহাত মনে করলে তিন দিনের বেশি সময় দিতে পারবেন। -কিতাবুল খারাজ: পৃ: ১৯৭ (আল-মাকতাবাতুল আযহারিয়্যাহ); এ’লাউস সুনান: ১২/৬০৫ (এদারাতুল কুরআন)
মুরতাদের তাওবা করার পদ্ধতি:
মুরতাদ তাওবা করে নতুনভাবে ইসলাম গ্রহণ করতে চাইলে, শুধু মুখে শাহাদাতাইন পাঠ যথেষ্ট নয়; বরং তৎসঙ্গে যে কাজ, কথা বা বিশ্বাসের কারণে মুরতাদ হয়েছিল, তা থেকে সম্পর্কেচ্ছেদের ঘোষণা করতে হবে। -মাবসূতে সারাখসী: ১০/৯৯ (দারুল মা’রেফা); বাদায়েউস সানায়ে: ৯/৪৩৯ (দারুল হাদীস); ফাতহুল কাদীর: ৬/৬৫, ৬৬ (ইলমিয়্যাহ)
উসমান রাদি. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে,
উমর বিন খাত্তাব রাদি. বলেন,
আগের পর্ব:
ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ২১ ➤ মুরতাদের শাস্তি:
- https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...A6%A4%E0%A6%BF
মুরতাদকে হত্যা করার আগে তাওবা করে ইসলাম গ্রহণ করতে বলা কিংবা তাওবার জন্য তিন দিনের অবকাশ দেওয়া—কোনোটি ওয়াজিব নয়। -মাবসূতে সারাখসী: ১০/৯৮, ৯৯ (দারুল মা’রেফা); বাদায়েউস সানায়ে: ৯/৪৩৯ (দারুল হাদীস); রদ্দুল মুহতার: ৪/২২৫ (দারুল ফিকর)
আবু তুফাইল রহ. থেকে বর্ণিত,
عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، أَنَّ قَوْمًا ارْتَدُّوا، وَكَانُوا نَصَارَى، فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ مَعْقِلَ بْنَ قَيْسٍ التَّيْمِيَّ، فَقَالَ لَهُمْ: إِذَا حَكَكْتُ رَأْسِي، فَاقْتُلُوا الْمُقَاتِلَةَ، وَاسْبُوا الذُّرِّيَّةَ. فَأَتَى عَلَى طَائِفَةٍ مِنْهُمْ، فَقَالَ مَا أَنْتُمْ؟ فَقَالُوا: كُنَّا قَوْمًا نَصَارَى، فَخُيِّرْنَا بَيْنَ الْإِسْلَامِ وَبَيْنَ دِينِنَا، فَاخْتَرْنَا الْإِسْلَامَ، ثُمَّ رَأَيْنَا أَنْ لَا دِينَ أَفْضَلُ مِنْ دِينِنَا الَّذِي كُنَّا عَلَيْهِ، فَنَحْنُ نَصَارَى. فَحَكَّ رَأْسَهُ، فَقُتِلَتِ الْمُقَاتِلَةُ، وَسُبِيَتِ الذُّرِّيَّةُ. –رواه الطحاوي في شرح معاني الآثار (5114). وقال العيني في نخب الأفكار ط. وزارة الأوقاف (12/ 172): رجاله ثقات.اهــــ
“আবু তুফাইল রহ. থেকে বর্ণিত, একদল লোক মুরতাদ হয়ে যায়। তারা পূর্বে খ্রিস্টান ছিল। আলী বিন আবু তালিব রাদি. তাদের কাছে মা’কিল বিন কায়েস তাইমী রহ.কে (তাদেরকে নিয়ে আসতে) পাঠান এবং সাথিদেরকে বললেন, আমি যখন মাথা চুলকাব, তখন যোদ্ধাদের হত্যা করবে এবং সন্তান-সন্ততিদের বন্দি করবে। এরপর তিনি তাদের একদলের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কারা? তারা বলল, আমরা আগে খ্রিস্টান ছিলাম। আমাদেরকে ইসলাম ও আমাদের ধর্মের মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তখন আমরা ইসলাম গ্রহণ করি। কিন্তু পরে মনে হলো, আমাদের আগের ধর্মের চেয়ে উত্তম কোনো ধর্ম নেই, তাই আমরা আবার খ্রিস্টান হয়েছি। তখন আলী রাদি. মাথা চুলকালেন, ফলে যোদ্ধাদের হত্যা করা হলো এবং সন্তান-সন্ততিদের বন্দি করা হলো।” –শরহু মাআনিল আসার: ৫১১৪উপরিউক্ত ঘটনায় আলী রাদি. মুরতাদ দলকে তাওবা করে ইসলাম গ্রহণ করতে বলা কিংবা এ ব্যাপারে চিন্তাফিকিরের জন্য তাদেরকে কোনো সময় দেওয়া—উপরিউক্ত দুটির কোনোটি করেননি।
তবে মুরতাদকে হত্যা করার আগে নতুন করে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া মুস্তাহাব। তদ্রূপ মুরতাদের ব্যাপারে ইসলাম গ্রহণের আশা থাকলে তিনদিন পর্যন্ত সময় দেওয়া মুস্তাহাব। -শরহে মাআনিল আসার: ৩/২১০; মাবসূতে সারাখসী: ১০/৯৮, ৯৯ (দারুল মা’রেফা); বাদায়েউস সানায়ে: ৯/৪৩৯ (দারুল হাদীস); রদ্দুল মুহতার: ৪/২২৫ (দারুল ফিকর)
উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ রহ. থেকে বর্ণিত,
عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ، قَالَ: أن عبدَ اللَّهِ بنَ مَسعودٍ أَخَذَ بِالْكُوفَةِ رِجَالٌ يُفْشُونَ حَدِيثَ مُسَيْلِمَةَ الْكَذَّابِ، فَكَتَبَ فِيهِمْ إِلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، فَكَتَبَ عُثْمَانُ أَنِ اعْرِضْ عَلَيْهِمْ دِينَ الْحَقِّ وَشَهَادَةَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، فَمَنْ قَبِلَهَا وَتَبَرَّأَ مِنْ مُسَيْلِمَةَ فَلَا تَقْتُلْهُ، وَمَنْ لَزِمَ دِينَ مُسَيْلِمَةَ فَاقْتُلْهُ، فَقَبِلَهَا رِجَالٌ مِنْهُمْ فَتُرِكُوا، وَلَزِمَ دِينَ مُسَيْلِمَةَ رِجَالٌ فَقُتِلُوا. –رواه الطحاوي في شرح معاني الآثار (5106) والبيهقي في السنن (16936). وقال العيني نخب الأفكار ط. وزارة الأوقاف (12/ 164): إسناده صحيح، ورجاله رجال الصحيح.اهـــ
“উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন— আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রাদি. কূফায় কিছু লোককে আটক করেন, যারা মুসাইলিমা কাযযাবের মতাদর্শ প্রচার করত। তিনি এ বিষয়ে উসমান বিন আফফান রাদি. এর কাছে চিঠি মারফত জানতে চাইলে, উসমান রাদি. জবাবি চিঠিতে লিখেন— তাদেরকে সত্য দীন এবং আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল-এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দেওয়ার দাওয়াত দেও। যে তা গ্রহণ করবে এবং মুসাইলিমা থেকে সম্পর্কেচ্ছেধ করবে, তাকে হত্যা করো না। আর যে মুসাইলিমার ধর্মে অটল থাকবে, তাকে হত্যা করো। সুতরাং তাদের মধ্যে কিছু লোক এই দাওয়াত গ্রহণ করল, ফলে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর কিছু লোক মুসাইলিমার ধর্মে অটল ছিল, বিধায় তাদেরকে হত্যা করা হয়।” –শরহু মাআনিল আসার: ৫১০৬; সুনানে বায়হাকী: ১৬৯৩৬। আইনী রহ. উক্ত হাদীসের সনদ সহীহ বলেছেন।যদি মুরতাদের কোনো সংশয় থাকে এবং তা দূর করার জন্য সময় চায়, তাহলে তিন দিন পর্যন্ত অবকাশ দেওয়া ওয়াজিব। এর বেশি সময় দেওয়া ওয়াজিব নয়। -মুওআত্তা মুহাম্মদ: ৮৬৯; শরহে মাআনিল আসার: ৩/২১০; মাবসূতে সারাখসী: ১০/৯৮, ৯৯ (দারুল মা’রেফা); ফাতহুল কাদীর: ৬/৬৪ (ইলমিয়্যাহ); রদ্দুল মুহতার: ৪/২২৫ (দারুল ফিকর)
মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ রহ. থেকে বর্ণিত,
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِّيِّ أَنَّهُ قَالَ: قَدِمَ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَجُلٌ مِنْ قِبَلِ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ، فَسَأَلَهُ عَنِ النَّاسِ فَأَخْبَرَهُ. ثُمَّ قَالَ لَهُ عُمَرُ: هَلْ كَانَ فِيكُمْ مِنْ مُغَرِّبَةِ خَبَرٍ؟ فَقَالَ: نَعَمْ، رَجُلٌ كَفَرَ بَعْدَ إِسْلَامِهِ، قَالَ: فَمَا فَعَلْتُمْ بِهِ؟ قَالَ: قَرَّبْنَاهُ فَضَرَبْنَا عُنُقَهُ، فَقَالَ عُمَرُ: «أَفَلَا حَبَسْتُمُوهُ ثَلَاثًا، وَأَطْعَمْتُمُوهُ كُلَّ يَوْمٍ رَغِيفًا وَاسْتَتَبْتُمُوهُ؛ لَعَلَّهُ يَتُوبُ وَيُرَاجِعُ أَمْرَ اللَّهِ»؟ ثُمَّ قَالَ عُمَرُ: «اللَّهُمَّ إِنِّي لَمْ أَحْضُرْ وَلَمْ آمُرْ وَلَمْ أَرْضَ إِذْ بَلَغَنِي» -رواه مالك (2/ 737) وسعيد بن منصور (2586) والبيهقي في السنن (16970) والطحاوي في شرح معاني الآثار (5107) و(5108) عن محمد بن عبد الله بن عبد القاري. وقال العيني في نخب الأفكار ط. وزارة الأوقاف (12/ 166): إسناده صحيح.اهـــ. ورواه ابن أبي شيبة (29588) وأبو يوسف في الخراج ط. المكتبة الأزهرية (ص: 197) عن محمد بن عبد الرحمن عن أبيه. وقال ابن كثير في مسند الفاروق، ط. دار الوفاء (2/ 457): إسناده جيد.اهــــ
মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আব্দুল কারী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনে— আবু মূসা আশআরী রাদি. এর পক্ষ থেকে একজন লোক উমর বিন খাত্তাব রাদি. এর কাছে আসেন। উমর রাদি. তাকে মানুষের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি সব জানালেন। এরপর উমর রাদি. বললেন, তোমাদের কাছে নতুন কোনো খবর আছে? সে বলল, হ্যাঁ, একজন লোক ইসলাম গ্রহণের পর আবার কুফুর করেছে (মুরতাদ হয়েছে)। উমর রাদি. জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা তার সাথে কী করেছ? সে বলল, আমরা তাকে কাছে এনে তার গলা জবাই দিয়েছি। তখন উমর রাদি. বললেন, হায়! তোমরা কেন তাকে তিন দিন বন্দি করে প্রতিদিন রুটি খাইয়ে তাওবা করার কথা বললা না! হয়তো সে তাওবা করে আল্লাহর দীনের দিকে ফিরে আসত। এরপর উমর রাদি. বললেন, হে আল্লাহ! আমি (উক্ত ঘটনার সময়) উপস্থিত ছিলাম না; (এমন করতে) আদেশ দেইনি এবং যখন জানতে পারলাম, তখন এতে সন্তুষ্টও নই।” -মুওয়াত্তা মালিক: ২/৭৩৭; সুনানে সাঈদ বিন মানসূর: ২৫৮৬; সুনানে কুবরা: ১৬৯৭০; শরহে মাআনিল আসার: ৫১০৭, ৫১০৮। সনদ সহীহ।শামসুল আইম্মাহ সারাখসী রহ. (৪৯০ হি.) বলেন,
تأويله عندنا أنه كان استمهلهم فأبوا، فلهذا أنكره عمر رضي الله عنه.اهــــ -شرح السير الكبير (2/ 82)، ط. العلمية
“আমাদের কাছে উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা হলো— সে তাদের কাছে সময় চেয়েছিলেন, কিন্তু তারা সময় দেননি। এ কারণেই উমর রাদি. তাদের কর্মকে নাকচ করেছেন।” –শরহুস সিয়ারিল কাবীর: ২/৮২ (ইলমিয়্যাহ)উল্লেখ্য, মুরতাদকে তিন দিনের বেশি সময় দেওয়া যদিও ওয়াজিব নয়; তথাপি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মাসলাহাত মনে করলে তিন দিনের বেশি সময় দিতে পারবেন। -কিতাবুল খারাজ: পৃ: ১৯৭ (আল-মাকতাবাতুল আযহারিয়্যাহ); এ’লাউস সুনান: ১২/৬০৫ (এদারাতুল কুরআন)
عَنْ أَبِي بُرْدَةَ قَالَ: «قَدِمَ عَلَى أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ بِالْيَمَنِ، فَإِذَا بِرَجُلٍ عِنْدَهُ، قَالَ: مَا هَذَا؟ قَالَ: رَجُلٌ كَانَ يَهُودِيًّا فَأَسْلَمَ، ثُمَّ تَهَوَّدَ، وَنَحْنُ نُرِيدُهُ عَلَى الْإِسْلَامِ مُنْذُ -أَحْسَبُهُ قَالَ:- شَهْرَيْنِ، فَقَالَ مُعَاذٌ: وَاللَّهِ لَا أَقْعُدُ حَتَّى تَضْرِبُوا عُنُقَهُ، فَضُرِبَتْ عُنُقُهُ، ثُمَّ قَالَ مُعَاذٌ: «قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَنَّ مَنْ رَجَعَ عَنْ دِينِهِ، فَاقْتُلُوهُ، أَوْ قَالَ: مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ» -رواه عبد الرزاق (18705) وأحمد (22015) وغيرهما. وهذا إسناد صحيح على شرط الشيخين. وأصله في الصحيحين [خ: 6923، م: 1733 (3/ 1456)] بدون ذكر الاستتابة. وقال ابن حجر في فتح الباري، ط. دار الفكر (12/ 275): وهي [أي الروايات التي ذُكرت فيها الاستتابة] أقوى من هذه [التي لم تذكر فيها]، والروايات الساكتة عنها لا تعارضها.اهــــ
“আবু বুরদা রহ. থেকে বলেন— ইয়ামানে মুআয বিন জাবাল রাদি. আবু মূসা আশআরী রাদি. এর কাছে এসেছেন। আবু মূসা রাদি. এর নিকট এক ব্যক্তি (শিকলবন্দি) ছিল। মুআয রাদি জিজ্ঞাসা করলেন, সে কে? আবু মুসা বললেন, সে ইহুদি থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছিল; পরে আবার ইহুদি ধর্মে ফিরে যায়। আমরা প্রায় দুই মাস থেকে তাকে ইসলামে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। তখন মুআয রাদি. বললেন, আল্লাহর কসম! তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি বসব না। সুতরাং তাকে হত্যা করা হয়। তারপর মুআয রাদি. বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ফয়সালা হচ্ছে— যে ব্যক্তি তার দীন (ইসলাম) থেকে ফিরে যাবে, তাকে হত্যা করো। অথবা বললেন, যে তার দীন (ইসলাম) পরিবর্তন করবে, তাকে হত্যা করো।” –মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ১৮৭০৫; মুসনাদে আহমাদ: ২২০১৫। সনদ সহীহ।মুরতাদের তাওবা করার পদ্ধতি:
মুরতাদ তাওবা করে নতুনভাবে ইসলাম গ্রহণ করতে চাইলে, শুধু মুখে শাহাদাতাইন পাঠ যথেষ্ট নয়; বরং তৎসঙ্গে যে কাজ, কথা বা বিশ্বাসের কারণে মুরতাদ হয়েছিল, তা থেকে সম্পর্কেচ্ছেদের ঘোষণা করতে হবে। -মাবসূতে সারাখসী: ১০/৯৯ (দারুল মা’রেফা); বাদায়েউস সানায়ে: ৯/৪৩৯ (দারুল হাদীস); ফাতহুল কাদীর: ৬/৬৫, ৬৬ (ইলমিয়্যাহ)
উসমান রাদি. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে,
عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ، قَالَ: أن عبدَ اللَّهِ بنَ مَسعودٍ أَخَذَ بِالْكُوفَةِ رِجَالٌ يُفْشُونَ حَدِيثَ مُسَيْلِمَةَ الْكَذَّابِ، فَكَتَبَ فِيهِمْ إِلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، فَكَتَبَ عُثْمَانُ أَنِ اعْرِضْ عَلَيْهِمْ دِينَ الْحَقِّ وَشَهَادَةَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، فَمَنْ قَبِلَهَا وَتَبَرَّأَ مِنْ مُسَيْلِمَةَ فَلَا تَقْتُلْهُ، وَمَنْ لَزِمَ دِينَ مُسَيْلِمَةَ فَاقْتُلْهُ، فَقَبِلَهَا رِجَالٌ مِنْهُمْ فَتُرِكُوا، وَلَزِمَ دِينَ مُسَيْلِمَةَ رِجَالٌ فَقُتِلُوا. –رواه الطحاوي في شرح معاني الآثار (5106) والبيهقي في السنن (16936). وقال العيني في نخب الأفكار ط. وزارة الأوقاف (12/ 164): إسناده صحيح، ورجاله رجال الصحيح.اهـــ
“উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন— আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রাদি. কূফায় কিছু লোককে আটক করেন, যারা মুসাইলিমা কাযযাবের মতাদর্শ প্রচার করত। তিনি এ বিষয়ে উসমান বিন আফফান রাদি. এর কাছে চিঠি মারফত জানতে চাইলে, উসমান রাদি. জবাবি চিঠিতে লিখেন— তাদেরকে সত্য দীন এবং আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল-এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দেওয়ার দাওয়াত দেও। যে তা গ্রহণ করবে এবং মুসাইলিমা থেকে সম্পর্কেচ্ছেধ করবে, তাকে হত্যা করো না। আর যে মুসাইলিমার ধর্মে অটল থাকবে, তাকে হত্যা করো। সুতরাং তাদের মধ্যে কিছু লোক এই দাওয়াত গ্রহণ করল, ফলে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর কিছু লোক মুসাইলিমার ধর্মে অটল ছিল, বিধায় তাদেরকে হত্যা করা হয়।” –শরহু মাআনিল আসার: ৫১০৬; সুনানে বায়হাকী: ১৬৯৩৬। আইনী রহ. উক্ত হাদীসের সনদ সহীহ বলেছেন।উমর বিন খাত্তাব রাদি. বলেন,
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: كُنْتُ أَعْرِضُ أَنْ يَدْخُلُوا فِي الْبَابِ الَّذِي خَرَجُوا مِنْهُ. –رواه ابن أبي شيبة (33406) وعبد الرزاق (18696) وسعيد بن منصور (2587) والطحاوي في شرح معاني الآثار (5105). وقال العيني في نخب الأفكار ط. وزارة الأوقاف (12/ 163): إسناده صحيح.اهـــ
““আনাস রাদি. থেকে বর্ণিত, উমর রাদি. বলেন— আমি (মুরতাদদেরকে) প্রস্তাব করতাম, যেন তারা যে দরজা দিয়ে বেরিয়েছিল, সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করে।” –মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ: ৩৩৪০৬; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ১৮৬৯৬; শরহে মাআনিল আসার: ৫১০৫। আইনী রহ. সনদ সহীহ বলেছেন।
আগের পর্ব:
ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ২১ ➤ মুরতাদের শাস্তি:
- https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...A6%A4%E0%A6%BF