Announcement

Collapse
No announcement yet.

ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ২৯ ➤ বাগীদের বিধান (প্রথম অংশ):

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ২৯ ➤ বাগীদের বিধান (প্রথম অংশ):

    বাগীর পরিচয়:
    বাগী শব্দটি আরবী بغي থেকে এসেছে; যা দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: এক. তালাশ করা, অনুসন্ধান করা এবং দুই. অন্যায় ও জুলুম করা -মাকায়ীসুল লুগাহ: ১/২৭১ (দারুল ফিকর)
    আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারীমে এরশাদ করেন,
    قَالَ ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِ -سورة الكهف: 64

    “মূসা বললেন, এটাই তো আমরা চাচ্ছিলাম।” –সূরা কাহাফ: ৬৪
    ফিকহের পরিভাষায়— ন্যায়পরায়ন মুসলিম শাসককে উৎখাত করার লক্ষ্যে শরীয়তসম্মত কারণ ছাড়া ভুল ব্যাখ্যার ভিত্তিতে সশস্ত্র বিদ্রোহী দলকে বাগী বলা হয় -ফাতহুল কাদীর: ৬/৯৩ (ইলমিয়্যাহ); হাশিয়াতুশ শিলবী আলাত-তাবয়ীন: ৩/২৯৩ (আমীরিয়্যাহ-বূলাক); রদ্দুল মুহতার: ৪/২৬১ (দারুল ফিকর)

    বিদ্রোহীদের প্রকার:
    শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের কয়েক প্রকার রয়েছেপ্রত্যেক প্রকারের বিধান এক নয়। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো:
    এক. কোনো তাবীল ও ব্যাখ্যা ছাড়াই মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী দল। এ দল মূলত ডাকাত তাদের উপর ডাকাতের বিধান প্রয়োগ হবে।[1] এতে তাদের যুদ্ধ করার মত শক্তি থাকুক বা না থাকুক, কোনো পার্থক্য হবে না
    দুই. তাবীল ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী দল। যদি মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার মত শক্তি না থাকে, তাহলে তাদের ক্ষেত্রেও ডাকাতের বিধান প্রয়োগ করা হবে
    তিন. তাবীলের ভিত্তিতে মুসলিম ও ন্যায়পরায়ন শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী দল; যারা মুসলিম শাসককে ভুল ব্যাখ্যার ভিত্তিতে কাফের ও হত্যাযোগ্য মনে করে এবং মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার সামর্থ রাখে। এরা হচ্ছে মূলত খারেজি। তবে খারেজি ও বাগীদের হুকুম এক ও অভিন্ন। তাই তাদের উপর বাগীর হুকুম প্রয়োগ হবে।
    চার. তৃতীয় দলের মত তারাও মুসলিম শাসককে না-হক মনে করে, তবে তারা শাসককে কাফের কিংবা হত্যাযোগ্য মনে করে না। উক্ত দল হচ্ছে প্রকৃত অর্থে বাগী।
    পাঁচ. জালিম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী দল; যারা শাসকের অন্যায় ও জুলুমের প্রতিবাদে বিদ্রোহ করেছেশাসক জুলুম বন্ধ করে দিলে, তাদের বিদ্রোহও শেষ হয়ে যাবে। তারা প্রকৃত অর্থে বাগী না এবং তাদের উপর বাগীদের বিধানও প্রয়োগ হবে না।[2]
    ছয়. কাফের, মুরতাদ, সেক্যুলার শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী দল এরা মুজাহিদ ফি সাবীলিল্লাহ
    -ফাতহুল কাদীর: ৬/৯৩ (ইলমিয়্যাহ); রদ্দুল মুহতার: ৪/২৬১, ২৬২ (দারুল ফিকর); আল-জিহাদ ওয়াল কিতাল: ১/১৪০ (দারু ইবনে হাযাম); আল-কাফি; গাবিজি: ৩/১৪৪৩-১৪৪৫ (মুআসসাসাতুর রিসালা)

    কারো উপর বাগীর বিধান প্রয়োগ করার জন্য শর্ত:
    উপরের সংজ্ঞা ও বিদ্রোহীদের প্রকার থেকে স্পষ্ট যে, যেকোনো শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারীকে বাগী বলা যাবে না এবং তাদের উপর বাগীর হুকুম প্রয়োগ করা যাবে না। বরং কারো উপর বাগীর বিধান আরোপ করার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। শর্তগুলি হচ্ছে—
    এক. মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা সুতরাং কাফের, মুরতাদ কিংবা সেক্যুলার শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারীকে বাগী বলা যাবে না
    দুই. গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ ছাড়া বিদ্রোহ করা। পক্ষান্তরে শাসক জুলুম করলে কিংবা বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত করলে, জুলুম প্রতিহত করা এবং অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বিদ্রোহকারীকে বাগী বলা যাবে না।
    তিন. শাসকের সাথে যুদ্ধ করার মত সামর্থ থাকা পক্ষান্তরে গুটিকয়েক লোক দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বিদ্রোহ করলে, তাদেরকে বাগী বলা হবে না; বরং তাদের উপর ডাকাতের বিধান প্রযোজ্য হবে
    চার. কোনো তাবীল ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে বিদ্রোহ করা; হোক তা নিতান্ত দুর্বল কিংবা একেবারে ভুল ব্যাখ্যা সুতরাং তাবীল ছাড়া বিদ্রোহী দলকে বাগী বলা হবে না; বরং তাদের উপরও ডাকাতের বিধান প্রযোজ্য হবে
    -ফাতহুল কাদীর: ৬/৯৩ (ইলমিয়্যাহ); হাশিয়াতুশ শিলবী আলাত-তাবয়ীন: ৩/২৯৩ (আমীরিয়্যাহ-বূলাক); রদ্দুল মুহতার: ৪/২৬১, ২৬২ (দারুল ফিকর)

    বিদ্রোহীদের ব্যাপারে শাসকের কার্যনীতি:
    কোনো বিদ্রোহী দল যদি জুলুম, অত্যাচার কিংবা বৈধ অধিকার লুণ্টিত হওয়ার প্রতিবাদে মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, তাহলে শাসকের দায়িত্ব হচ্ছে, তাদেরকে জুলুম করা থেকে বিরত থাকা এবং তাদের প্রাপ্য তাদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া এমতাবস্থায় শাসক জুলুম থেকে বিরত না হয়ে বাগাওয়াত ও বিদ্রোহের অজুহাতে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বৈধতা নেই -হাশিয়াতুশ শিলবী আলাত-তাবয়ীন: ৩/২৯৩ (আমীরিয়্যাহ-বূলাক); রদ্দুল মুহতার: ৪/২৬১ (দারুল ফিকর)
    আর যদি গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ ছাড়া শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে কিংবা বিদ্রোহের প্রস্তুতি নেয়, তাহলে শাসক প্রথমে তাদেরকে বুঝানোর এবং তাদের কোনো সংশয় থাকলে তা দূর করার চেষ্টা করবে যদি এতে তারা নিবৃত না হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিবে -ফাতহুল কাদীর: ৬/৯৪ (ইলমিয়্যাহ); রদ্দুল মুহতার: ৪/২৬৪ (দারুল ফিকর)
    আলী রাদি. খারেজিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আগে ইবনে আব্বাস রাদি. তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন হাদীসে এসেছে,
    عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: لَمَّا اعْتَزَلْتُ الْحَرُورِيَّةَ فَكَانُوا فِي دَارٍ عَلَى حِدِّتِهِمْ فَقُلْتُ لِعَلِيٍّ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ , أَبْرِدْ عَنِ الصَّلَاةِ لَعَلِّي آتِي هَؤُلَاءِ الْقَوْمَ فَأُكَلِّمَهُمْ , قَالَ: إِنِّي أَتَخَوَّفُهُمْ عَلَيْكَ قُلْتُ: كَلَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى , قَالَ: فَلَبِسْتُ أَحْسَنَ مَا أَقْدِرُ عَلَيْهِ مِنْ هَذِهِ الْيَمَانِيَّةِ , قَالَ: ثُمَّ دَخَلْتُ عَلَيْهِمْ وَهُمْ قَائِلُونَ فِي نَحْرِ الظَّهِيرَةِ ... قَالَ: فَدَخَلْتُ فَقَالُوا: مَرْحَبًا بِكَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ مَا جَاءَ بِكَ؟ قُلْتُ: جِئْتُ أُحَدِّثُكُمْ عَنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ نَزَلَ الْوَحْيُ , وَهُمْ أَعْلَمُ بِتَأْوِيلِهِ –ثم كشف عن شبهتهم واحدة بعد واحدة- فَرَجَعَ مِنْهُمْ عِشْرُونَ أَلْفًا وَبَقِيَ مِنْهُمْ أَرْبَعَةُ آلَافٍ فَقُتِلُوا. –رواه عبد الرزاق (18678) والحاكم (2656) والنسائي في الكبرى (8522) والبيهقي في السنن (16819). وقال الحاكم: هذا حديث صحيح على شرط مسلم.اهـــ ووافقه الذهبي. وصححه ابن دقيق العيد في الاقتراح ط. العلمية (ص: 115) على شرط مسلم. وقال الحافظ ابن حجر في الدراية ط. دار المعرفة (2/ 138): إسناده صحيح.اهـــ وينظر: مجمع الزوائد ط. مكتبة القدسي (6/ 241)

    “আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদি. বলেন, যখন (খারেজিদের একটা গ্রুপ) হারূরিয়্যা সম্প্রদায় (আলী রাদি. এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার লক্ষ্যে তাঁর দল থেকে) পৃথক হয়ে গেল এবং তারা পৃথক একটি বাড়িতে অবস্থান নিল, তখন আমি আলী রাদি. কে বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি নামায কিছুটা দেরি করুন। আমি তাদের কাছে গিয়ে এ বিষয়ে কথা বলে দেখি। আলী রাদি. বললেন, আমার ভয় হচ্ছে, তারা তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারে। আমি বললাম, না, ইনশাআল্লাহ তারা তা পারবে না। সুতরাং আমার সামর্থের সর্বোচ্চ সুন্দর কাপর ইয়েমেনি পোশাক পরিধান করলাম। পরে তাদের অবস্থানে ঢুকে দেখি, তারা কাইলুলায় (দুপুরের ঘুম) রয়েছে। ... ইবনে আব্বাস রাদি. বলেন, আমি তাদের কাছে গেলাম। তারা বলল, স্বাগতম, হে ইবনে আব্বাস! আপনি কী জন্য এসেছেন? আমি বললাম, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ব্যাপারে কিছু বলতে এসেছি; যাদের উপর কুরআন অবতির্ণ হয়েছে এবং কুরআনের তাফসীরের ব্যাপারে তারাই বেশি অবগত (অতপর ইবনে আব্বাস তাদের একেএকে তাদের সব সংশয় দূর করলেন) ফলশ্রুতিতে তাদের মধ্য হতে ২০ হাজার লোক (আপন অবস্থান) ফিরে আসল এবং চার হাজার আপন অবস্থানে অটল থাকল এবং তারা (আলী রাদি. এর সাথে যুদ্ধে) নিহত হলো” -মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ১৮৬৭৮; মুস্তাদরাকে হাকিম: ২৬৫৬; সুনানে কুবরা লিন-নাসায়ী: ৮৫২২; সুনানে বায়হাকী: ১৬৮১৯ ইমাম হাকিম, ইবনে দাকীকিল ঈদ ও হাফেজ ইবনে হাজার রহ. হাদীসটি সহীহ বলেছেন

    বিদ্রোহীদের ব্যাপারে সাধারণ জনগনের কার্যনীতি:
    বিদ্রোহী দল যদি শাসকের জুলুমের প্রতিবাদে বিদ্রোহ করে, তাহলে জনগনের জন্য শাসকের পক্ষালম্বন করা তো জায়েয নয়। বরং তাদের উপর আবশ্যক হচ্ছে, জুলুম থেকে নিবৃত হওয়ার জন্য শাসককে চাপ দেওয়া; প্রয়োজনে বিদ্রোহীদের পক্ষ নিয়ে শাসকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। -ফাতহুল কাদীর: ৬/৯৬ (ইলমিয়্যাহ); রদ্দুল মুহতার: ৪/২৬৫ (দারুল ফিকর)
    ইবনুল হুমাম রহ. (৮৬১ হি.) বলেন,
    يجب على كل من أطاق الدفع أن يقاتل مع الإمام، إلا إن أبدوا ما يجوز لهم القتال كأن ظلمهم أو ظلم غيرهم ظلما لا شبهة فيه، بل يجب أن يعينوهم حتى ينصفهم ويرجع عن جوره.اهــــ -فتح القدير (6/ 96)، ط. العلمية

    “যুদ্ধ করতে সক্ষম—এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব হচ্ছে, ইমামের পক্ষে (বাগীদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধ করাতবে যদি তারা বিদ্রোহ করার বৈধ কোনো কারণ পেশ করে, —যেমন শাসক তাদের উপর কিংবা অন্যদের উপর এমন স্পষ্ট জুলুম করে, যার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই— তাহলে (শাসকের পক্ষালম্বন করা তো জায়েয নয়) বরং তাদের উপর ওয়াজিব হচ্ছে, বিদ্রোহীদের সাহায্য করা; যতক্ষণ না শাসক তাদের ব্যাপারে ইনসাফ করে এবং জুলুম থেকে নিবৃত হয়।” –ফাতহুল কাদীর: ৬/৯৬ (ইলমিয়্যাহ)
    আর যদি গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ ছাড়া ন্যায়পরায়ন মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, তাহলে সামর্থবানদের জন্য শাসকের সাহায্য করা ওয়াজিব -ফাতহুল কাদীর: ৬/৯৬ (ইলমিয়্যাহ); হাশিয়াতুশ শিলবী আলাত-তাবয়ীন: ৩/২৯৩ (আমীরিয়্যাহ-বূলাক); রদ্দুল মুহতার: ৪/২৬৫ (দারুল ফিকর)

    [1] ডাকাতের বিবরণ সামনে আসছে ইনশাআল্লাহ
    [2] উক্ত প্রকার বিদ্রোহীদের বিধান সামনে আসছে ইনশাআল্লাহ

    ​আগের পর্ব:

    ফিকহুল জিহাদ; পর্ব ২৮ ➤ যিন্দীকের বিধান:
    - https://dawahilallah.com/forum/%E0%A...A6%BE%E0%A6%A8
Working...
X