জিহাদ ফি সাবীলিল্লাহ ও আল্লাহর
মদদের প্রেক্ষাপট
জিহাদের বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা যার আছে সে ব্যক্তি এ সম্পর্কেও সম্যক অবগত আছেন যে, জিহাদ এবং সাধারণ যুদ্ধের মাঝে মৌলিক পার্থক্য এই যে, সাধারণ যুদ্ধে জয়-পরাজয় মূলত যোদ্ধাদের সংখ্যা, যুদ্ধ কৌশলে বিশেষ পারদর্শীতা, অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র এবং যুদ্ধের প্লানের উপর নির্ভরশীল। নিঃসন্দেহে জিহাদেও উক্ত বিষয়গুলো অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু এখানে সফলতা পুরোপুরি আল্লাহর দয়া ও মদদের উপর নির্ভরশীল। কুরআনে মাজীদে ঐ বাস্তবতার ঘোষণা এভাবে এসেছে:
জিহাদের ইতিহাসে নজর দিলে আমরা এ প্রসঙ্গে অসংখ্য চির ভাস্বর ও অম্লান দৃষ্টান্ত খুঁজে পাই। বদরের যুদ্ধে তিনশত তের জনের মুষ্টিমেয় ইসলামী লস্কর স্রেফ আল্লাহ তায়ালার গায়েবী মদদে নিজেদের তুলনায় তিন গুণ বেশী সশস্ত্র কাফেরদের উপর সুস্পষ্ট বিজয় অর্জন করে। কুরআনে কারীমে বদরের যুদ্ধকে “ইয়াউমুল ফুরকান” তথা হক বাতিলের মাঝে পার্থক্যকারী যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে ঈমানী চেতনা ও আল্লাহ রব্বুল আলামীনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে নিরস্ত্র ও সম্বলহীন হওয়া সত্ত্বেও ইসলামের মুজাহিদগণ তৎকালীন বিশ্বের দুই মহাশক্তি রোম ও ইরানের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সাফল্য লাভ করেন। রোম-ইরানের মোকাবেলায় ইসলামী বাহিনী সংখ্যানুপাত, যুদ্ধাস্ত্র ও সমর কৌশল প্রভৃতি বিষয়ে আসমান যমীনের দূরত্বে পিছিয়ে ছিলো। কিন্তু যুদ্ধে হকের ঝাণ্ডাই বুলন্দ হোল আর পরাক্রমশালী দুই শক্তির নাম নিশানা ধূলিস্যাত হয়ে গেলো। নিঃসন্দেহে এই সফলতার একমাত্র কারণ হলো আল্লাহর বিশেষ গায়েবী মদদ যা মুসলিমরা লাভ করেছিলো। সাম্প্রতিককালের আফগান জিহাদ এই বাস্তবতার জ্বলন্ত প্রমাণ, যেখানে আফগান মুজাহিদগণ নিজেদের তুলনায় শত সহস্র গুণ শক্তিশালী প্রতিপক্ষের অহংকারকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছেন। বিগত বারো বছর যাবত আমরা কাশ্মিরের জিহাদেও আল্লাহর সাহায্যের অসংখ্য ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। কাশ্মিরের মুজাহিদগণ সীমাহীন বীরত্ব, দৃঢ়তা ও অবিচলতা প্রদর্শন করে হিন্দুস্তানী ফৌজকে বারবার কঠিন ক্ষতির সম্মুখীন করছেন। এ তো নুসরাতে ইলাহীর-ই বাস্তব নমুনা।
জিহাদের ময়দানে আল্লাহর মদদ হাসিল করা যেমনি জিহাদে কামিয়াবীর প্রধান উসীলা, তেমনি জিহাদের গ্রহণযোগ্যতারও আলামত। আল্লামা ইকবাল সেই বাস্তবতাকে এভাবে বর্ণনা করেছেন;
‘বদরের পরিস্থিতি’ কি? তা কিভাবে তৈরী হতে পারে? জিহাদের মাঝে আল্লাহর মদদ হাসিলের প্রেক্ষাপট কি এবং জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর কামিয়াবীর শর্তসমূহ কি? জিহাদের প্রতি আকৃষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তিকে অত্যাবশ্যকীয় এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা প্রয়োজন। এখানে সে প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্তাকারে আলোকপাত এবং সেই প্রেক্ষাপট ও শর্তসমূহ উল্লেখ করছি, জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর কামিয়াবী যার উপর নির্ভরশীল।
মদদের প্রেক্ষাপট
জিহাদের বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা যার আছে সে ব্যক্তি এ সম্পর্কেও সম্যক অবগত আছেন যে, জিহাদ এবং সাধারণ যুদ্ধের মাঝে মৌলিক পার্থক্য এই যে, সাধারণ যুদ্ধে জয়-পরাজয় মূলত যোদ্ধাদের সংখ্যা, যুদ্ধ কৌশলে বিশেষ পারদর্শীতা, অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র এবং যুদ্ধের প্লানের উপর নির্ভরশীল। নিঃসন্দেহে জিহাদেও উক্ত বিষয়গুলো অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু এখানে সফলতা পুরোপুরি আল্লাহর দয়া ও মদদের উপর নির্ভরশীল। কুরআনে মাজীদে ঐ বাস্তবতার ঘোষণা এভাবে এসেছে:
كَم مِّن فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةَۢ بِإِذْنِ ٱللَّهِۗ.
‘কত ছোট দল আল্লাহর হুকুমে বড় দলকে পরাজিত করেছে’। সুরা আল-বাকারাহ: আয়াতঃ ২৪৯
জিহাদের ইতিহাসে নজর দিলে আমরা এ প্রসঙ্গে অসংখ্য চির ভাস্বর ও অম্লান দৃষ্টান্ত খুঁজে পাই। বদরের যুদ্ধে তিনশত তের জনের মুষ্টিমেয় ইসলামী লস্কর স্রেফ আল্লাহ তায়ালার গায়েবী মদদে নিজেদের তুলনায় তিন গুণ বেশী সশস্ত্র কাফেরদের উপর সুস্পষ্ট বিজয় অর্জন করে। কুরআনে কারীমে বদরের যুদ্ধকে “ইয়াউমুল ফুরকান” তথা হক বাতিলের মাঝে পার্থক্যকারী যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে ঈমানী চেতনা ও আল্লাহ রব্বুল আলামীনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে নিরস্ত্র ও সম্বলহীন হওয়া সত্ত্বেও ইসলামের মুজাহিদগণ তৎকালীন বিশ্বের দুই মহাশক্তি রোম ও ইরানের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সাফল্য লাভ করেন। রোম-ইরানের মোকাবেলায় ইসলামী বাহিনী সংখ্যানুপাত, যুদ্ধাস্ত্র ও সমর কৌশল প্রভৃতি বিষয়ে আসমান যমীনের দূরত্বে পিছিয়ে ছিলো। কিন্তু যুদ্ধে হকের ঝাণ্ডাই বুলন্দ হোল আর পরাক্রমশালী দুই শক্তির নাম নিশানা ধূলিস্যাত হয়ে গেলো। নিঃসন্দেহে এই সফলতার একমাত্র কারণ হলো আল্লাহর বিশেষ গায়েবী মদদ যা মুসলিমরা লাভ করেছিলো। সাম্প্রতিককালের আফগান জিহাদ এই বাস্তবতার জ্বলন্ত প্রমাণ, যেখানে আফগান মুজাহিদগণ নিজেদের তুলনায় শত সহস্র গুণ শক্তিশালী প্রতিপক্ষের অহংকারকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছেন। বিগত বারো বছর যাবত আমরা কাশ্মিরের জিহাদেও আল্লাহর সাহায্যের অসংখ্য ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। কাশ্মিরের মুজাহিদগণ সীমাহীন বীরত্ব, দৃঢ়তা ও অবিচলতা প্রদর্শন করে হিন্দুস্তানী ফৌজকে বারবার কঠিন ক্ষতির সম্মুখীন করছেন। এ তো নুসরাতে ইলাহীর-ই বাস্তব নমুনা।
জিহাদের ময়দানে আল্লাহর মদদ হাসিল করা যেমনি জিহাদে কামিয়াবীর প্রধান উসীলা, তেমনি জিহাদের গ্রহণযোগ্যতারও আলামত। আল্লামা ইকবাল সেই বাস্তবতাকে এভাবে বর্ণনা করেছেন;
“বদরের পরিস্থিতি তৈরী করো, ফেরেশতা তোমার মদদে চতুর্দিক থেকে কাতার বন্দী হয়ে নেমে আসতে পারে এখনো।”