Announcement

Collapse
No announcement yet.

বিস্ময়কর ও অভাবনীয় দৃশ্য | সম্পাদনা পর্ব : ১১ | বই : আফগান রণাঙ্গনে

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • বিস্ময়কর ও অভাবনীয় দৃশ্য | সম্পাদনা পর্ব : ১১ | বই : আফগান রণাঙ্গনে

    বিস্ময়কর ও অভাবনীয় দৃশ্য

    কমান্ডর যুবায়েরের নেতৃত্বাধীন বাহিনী শত্রু অবস্থানের কাছে পৌঁছেই জোরদার হামলা শুরু করলো। সন্ধ্যা পর্যন্ত মুখোমুখি সংঘর্ষ অব্যাহত রইলো। রাতের আঁধার নেমে আসার সাথে সাথে দুশমন কিছু লাশ পেছনে ফেলে পলায়নের রাস্তা ধরলো। পরের দিন দুপুরের দিকে শাহাদত বরণকারী একমাত্র মুজাহিদের লাশ পাকিস্তান পৌঁছানোর বাহন হিসেবে একটি খচ্চর নিয়ে আসা হলো। খচ্চরের পিঠে উঠানোর পূর্বে সাথীগণ শেষবারের মতো তাকে দেখার জন্য তার মুখের সামনে থেকে পর্দা সরিয়ে দিলো। কমান্ডর খালিদ যুবায়ের বলেন, তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম দেখে মনে করলাম হয়তো কোন সাথী সুগন্ধী আতর ছিটিয়ে দিয়েছে। আমি আঙ্গুল লাগিয়ে দেখলাম সত্যিই সেগুলো দেহের ঘাম, উপস্থিত সকলেই তা প্রত্যক্ষ করে।

    আফগান যুদ্ধে শহীদদের মাধ্যমে এধরণের অসংখ্য অবিশ্বাস্য ঘটনা তাদের সঙ্গীগণ নিজের চোখে দেখেছেন। যে কোন মুজাহিদের নিকট জিজ্ঞেস করলে সে এ ধরণের অগণিত ঘটনা এমনভাবে বর্ণনা করে যেন তা তাদের দৈনন্দিন আর দশটা কাজের ন্যায় একটি সাধারণ বিষয়। কতো শহীদদের দেহের খুন খুশবুদার আতর হয়ে চতুর্দিক সুগন্ধে ভরে দিয়েছে, কারো কবর থেকে মাসের পর মাস দুর্লভ সুগন্ধ ছড়িয়েছে। যেখানে একদিনেই রাশিয়ান ও আফগান সৈন্যদের লাশ দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে, একইস্থানে দিনের পর দিন মুজাহিদের লাশ অবিকৃত অবস্থায় থেকেছে।

    কমান্ডর যুবায়েরও এরকম অনেক ঘটনা আমাকে শুনিয়েছেন। তথ্য সংগ্রহ অভিযানে এসে আমি গেরিলা যুদ্ধ, মুখোমুখি সংঘাত প্রভৃতি বিষয়ে আলাপ করছিলাম, বৈরী আবহাওয়ার দরুন কামরার বাহিরে পা রাখার সুযোগ মিলছিলো না। প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টির শো শো শব্দ ভেতর থেকে স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম। আচানক আপাদমস্তক কাদা পানিতে একাকার হয়ে কতিপয় ব্যক্তি কামরায় প্রবেশ করলেন। আগন্তুকগণ সীমান্ত সংলগ্ন মাদ্রাসায়ে ইসলামিয়া আরাবিয়ার নওজোয়ান মুহতামিম মাওলানা আব্দুর রহমান আব্বাসী এবং তার সাথী সহচর, তারা এইমাত্র রণাঙ্গন থেকে ফিরলেন। সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় জানতে পারলাম তারা এই প্রথমবার জিহাদে অংশ নিচ্ছেন এবং প্রায় দশদিন যুদ্ধ ক্ষেত্রে ব্যস্ত থাকার পর আজ ঘাঁটিতে ফিরে এসেছেন, রাতটুকু এখানে কাটিয়ে ভোরেই দেশের পথ ধরবেন। মাওলানা আব্বাসীর চারজন ভাতিজা দীর্ঘদিন যাবত যুদ্ধ ক্ষেত্রে অবস্থান করছেন। তিনি জানালেন তারা আজ দুশমনদের এক চৌকির উপর তোপের সাহায্যে হামলা চালিয়েছিলেন, হামলায় দুশমনদের ক্ষয় ক্ষতির সঠিক কোন হিসাব না জানলেও কিছু সময়ের ভেতরে সেখানে আগুনের শিখা দেখা গিয়েছে, তাছাড়া এ্যাম্বুলেন্সের ব্যস্ত ছোটাছুটি এবং ফায়ার বিগ্রেডের গাড়ীর সেখানে তড়িঘড়ি প্রবেশও চোখে পড়েছে। মুজাহিদদের ক্ষতি স্রেফ এটুকুই হয়েছে যে এক সাথীর চশমা পড়ে ভেঙে গিয়েছে।

    তোপ আক্রমণের কারণে ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিক জানা যায় না, বরং দু চার দিন পরে যে সকল আফগান সৈন্য মওকা বুঝে মুজাহিদদের নিকটে আসে তারা অথবা মুজাহিদদের গুপ্তচরগণ বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে। মুজাহিদগণ পুরোপুরি অনুসন্ধান না করে দুশমনদের ক্ষতির হিসাব করেননা। দুশমনদের ফৌজে এমন অসংখ্য মুসলমান রয়েছে, যাদেরকে জোরপূর্বক এই যুদ্ধে লিপ্ত করা হয়েছে, তারা বিভিন্নভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে মুজাহিদদের সাহায্য করতো।

    সম্পাদনা পর্ব : ১০ পড়ুন -


Working...
X