Announcement

Collapse
No announcement yet.

"শাযারাত মিন তারিখিল কায়েদাহ" থেকে অনূদিত || সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের সময় ঘুমন্ত উম্মাহকে জাগিয়ে তুলতে আমেরিকা না বুঝেই যেভাবে প্রভাব রেখেছিলো...

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • "শাযারাত মিন তারিখিল কায়েদাহ" থেকে অনূদিত || সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের সময় ঘুমন্ত উম্মাহকে জাগিয়ে তুলতে আমেরিকা না বুঝেই যেভাবে প্রভাব রেখেছিলো...


    রুশবিরোধী জিহাদ শুরু হওয়ায় আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক স্বার্থের লীলাভূমির রূপ ধারণ করল। তৈরি হলো ফায়দা লোটার সুবর্ণ সুযোগ। এমন সুযোগ কালেভদ্রে আসে। ফলে নিজ নিজ উদ্দেশ্য পূরণের আশায় সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হলো সবাই। আরব ও ইসলামী রাষ্ট্রগুলো এই সুযোগে সে-সব জিহাদী দলকে দমানোর চেষ্টা করল, যারা তাদের সরকারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ওয়ারশ চুক্তির মিত্র দেশগুলো বিভিন্ন স্থানে আমেরিকাকে নাজেহাল করে রেখেছিল। তাই আমেরিকার লক্ষ্য ছিল, এই যুদ্ধের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়নকে পরাজিত করে শীতল যুদ্ধে (কোল্ড ওয়ারে) বিজয় লাভ করা। এ উদ্দেশ্যে আরব ও মুসলিম দেশগুলোতে নিযুক্ত গোলাম শাসকদের কাছে আমেরিকা নির্দেশনা প্রেরণ করে, যাতে তারা আগ্রহী মুজাহিদ যুবকদের আফগানিস্তান যাওয়ার অনুমতি প্রদান করে। এভাবে আমেরিকা এ-সব দেশের মিডিয়াগুলোকে আফগান জিহাদের পক্ষে প্রচারণা চালানোর অনুমতিও প্রদান করে, ‘আফগানিস্তানে জিহাদ করা ফরযে আইন’ মর্মে ফতওয়া দেওয়ার জন্য দীনী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুমতি দেয় এবং আফগান জিহাদে অংশগ্রহণ করতে যুবকদের উৎসাহিত করার জন্য দাঈ, আলেম ও ইমামদের সুযোগ দেওয়ার অনুমতি প্রদান করে।

    এমনকি সৌদি বিমান সংস্থা সৌদি আরব থেকে পাকিস্তানগামী বিমানের টিকিটের মূল্য ৭৫% কমিয়ে দেয়। যাতে জিহাদে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক যুবকরা নিজ দেশে বিমানভ্রমণের চেয়েও কম খরচে পাকিস্তান যেতে পারে। এভাবে আমেরিকা পাকিস্তান সরকারকে আরব ও অন্যান্য দেশের মুসলিম যুবকদের জন্য পাকিস্তানের ভিসা উন্মুক্ত করে দিতে আদেশ করে। যাতে মুসলিম যুবকরা পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে প্রবেশ করতে পারে। একইসাথে পাকিস্তান সরকারকে আরব মুজাহিদদের চলাফেরার স্বাধীনতা প্রদান করতেও আদেশ করে। যার ফলে আরবরা আফগানিস্তানের নিকটবর্তী পাকিস্তান-সীমান্ত অঞ্চলে সামরিক ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। এ-সব ক্যাম্প থেকে মুজাহিদদের প্রশিক্ষণ প্রদান-সহ আফগান জিহাদের জন্য লজিস্টিক সাপোর্ট সরবরাহ করা হয়। পরিশেষে আমেরিকা কোল্ডওয়ারে (শীতল যুদ্ধে) বিজয় লাভ করে এবং ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের বিজয় সুদৃঢ় করে নেয়। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন তার প্রসিদ্ধ বইয়ে এই বিজয়কে ‘যুদ্ধ ছাড়া বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    কিন্তু প্রেসিডেন্ট নিক্সন যে বাস্তবতা অনুধাবন করতে পারেনি তা হলো, কবির ভাষায়

    ستبدي لك الأيام ما كنت جاهلا … ويأتيك بالأخبار من لم تزود
    “তুমি যা জানো না, সময় শীঘ্রই তা তোমার সামনে উন্মোচন করবে। এমন সংবাদ তোমার কাছে আনবে, যার প্রস্তুতি তুমি গ্রহণ করনি।”


    অদৃশ্যের পর্দা সরিয়ে আমেরিকা যদি ভবিষ্যত দেখতে পেত, যদি সে জানতে পারত এই আফগান জিহাদের গর্ভ থেকেই একদিন এমন কিছু ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে, যারা তাকে লাঞ্ছিত করবে, তার গর্ব-অহংকার মাটির সাথে মিশিয়ে দেবে, যাদের কিছু কাজই আমেরিকাকে ‘সাম্রাজ্যবাদের গোরস্থানে’ টেনে আনবে; তাহলে সে কখনোই আরব ও মুসলিম বিশ্বের শাসকদের নির্দেশনা প্রেরণ করে মুজাহিদ যুবকদের আফগান যাওয়ার পথ সহজ করার ঝুঁকি নিত না। কিন্তু কাফেররা ষড়যন্ত্র করেছে আর আল্লাহ তাআলাও কৌশল অবলম্বন করেছেন। যে গর্ত তারা অন্যের জন্য খোদাই করেছিল, তাতে নিজেরাই পড়েছে। কাফেররা মুসলিমদের যে রূপটিকে সবচেয়ে বেশি ভয় করত, অবশেষে তারা নিজেরাই সেটিকে জাগিয়ে তুলেছে।

    শায়খ আব্দুল্লাহ আযযাম রহ. তাঁর الأسئلة والأجوبة الجهادية (জিহাদ-সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর) বইয়ে লেখেন—

    ‘শেচটারম্যান (Schechterman) নামের জনৈক আমেরিকান আফগান জিহাদ সম্পর্কে মার্কিন সরকারের কাছে একটি রাজনৈতিক গবেষণা উপস্থাপন করেছে। তাতে সে বলেছে, “What We Have Done? We Have Awakened The Giant” “আমরা কী করেছি? আমরা তো প্রকাণ্ড এক দৈত্যকে জাগিয়ে তুলেছি”। আমেরিকার বাজারে এমন অনেক বই পাওয়া যায়, যাতে বলা হয়েছে, আফগান জিহাদ আমু দরিয়ার সীমানায় ক্ষান্ত থাকবে না৷ অচিরেই তা পুরো ইসলামী বিশ্বকে জাগিয়ে তুলবে। এই জিহাদ সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেতর থেকে তার ভিত্তিকে গুড়িয়ে দেবে। অচিরেই এই জিহাদের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়বে পিরিনীয় পর্বতমালার পাদদেশে, ধীরে ধীরে তা ফ্রান্সে প্রবেশ করবে, অস্ট্রিয়া দখল করে নেবে। হে ইউরোপ, পুনরায় তোমরা মুসলিমদের জিযয়া দেবে, যেমন বিগত পাঁচ শতাব্দী উসমানী খিলাফতকে দিয়েছ।

    তখন আমেরিকা নিরুপায় হয়ে যাবে—এভাবেই এই আমেরিকান লেখক কথাটি লিখেছেন—ইসলামের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতে বাধ্য হবে। এই যুদ্ধ আফগানিস্তান বা ইসলামী দেশগুলোতে নয়; বরং খোদ ইউরোপের অভ্যন্তরে সংঘটিত হবে। তখন আমেরিকা আফসোস করবে, কিন্তু সে আফসোস কোনো কাজে আসবে না। প্রেসিডেন্ট নিক্সন আমেরিকান টেলিভিশনে বলেছে, “সকল মতপার্থক্য ভুলে ইসলামের জোয়ার ঠেকাতে রাশিয়ার সাথে মিলে কাজ করার সময় এখন।”’

    [নোট] ফুরসানুন তাহতা রায়াতিন নাবী বইয়ে ড. আইমান আয-যাওয়াহিরী বলেন, “টিকিটের মূল্য কমানোর এই অফার আমেরিকার পক্ষ থেকে ছিল না; বরং আফগান জনগণের জন্য দেওয়া সাধারণ মানুষের অনুদানের টাকার বিনিময়ে তা কমানো হয়েছিল৷ যা সে সময় বিভিন্ন ইসলামী ত্রাণ সংস্থা, সৌদি রেড ক্রিসেন্ট ও সালমান বিন আব্দুল আজিজের অনুগত দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে সৌদি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল৷​
Working...
X