Announcement

Collapse
No announcement yet.

"শাযারাত মিন তারিখিল কায়েদাহ" থেকে অনূদিত || মা’সাদাতুল আনসার: মহিরুহের অঙ্কুরোদগম

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • "শাযারাত মিন তারিখিল কায়েদাহ" থেকে অনূদিত || মা’সাদাতুল আনসার: মহিরুহের অঙ্কুরোদগম


    আফগানিস্তান ও জেদ্দায় সাংবাদিক ইসাম দারাযকে শায়খ উসামা রহ. দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। তাতে তানজীম আল-কায়েদার সূতিকাগার মা’সাদাতুল আনসারের সূচনার স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন—
    الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد
    ‘আল্লাহ তাআলার নেয়ামত বর্ণনা (তাহদীস বিন নি’মাহ) এবং মুমিনদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য বলছি, আমার ওপর আল্লাহ তাআলার বড় একটি অনুগ্রহ হলো, ১৩৯৯ হিজরীতে যখন শুনতে পেলাম, মুসলমানদের ভূমি আফগানে সোভিয়েত রাশিয়া আগ্রাসন চালিয়েছে। আফগানে থাকা আমার মুসলিম ভাইদের সাহায্য করার জন্য তখনই পাকিস্তানে গেলাম। এরপর পাকিস্তানে নিয়মিত যাতায়াত করতে থাকলাম, এক পর্যায়ে আল্লাহ তাআলা আমাকে আফগানিস্তানে প্রবেশ করার সৌভাগ্য দান করলেন। তখন মুজাহিদদের অবস্থা ছিল খুবই দুর্বল। সৈন্যসংখ্যা ও সাজসরঞ্জাম—উভয় দিক দিয়েই তারা ছিলেন বিপর্যস্ত। বিশেষত যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর স্বল্পতা ছিল অনেক বেশি। আমি অনুভব করলাম, আফগান ভাইদের হক আদায়ের ব্যাপারে আমরা অনেক অবহেলা করেছি। তাঁদের প্রতি আমাদের কর্তব্য যথাযথভাবে আদায় করলেই কেবল এর ক্ষতিপূরণ সম্ভব। আর এর সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো, তাদের সাথে সরাসরি কিতালে অংশগ্রহণ করে আল্লাহর পথে জিহাদ করতে করতে শাহাদাতবরণ করা।’

    মা’সাদাতুল আনসার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে শায়খ উসামা রহ. বলেন—

    ‘আমি লক্ষ করলাম, আরব মুজাহিদদের উপস্থিতিতে আফগানরা অনেক আনন্দিত হয়। আরবদের উপস্থিতিতে আফগানদের ঈমানী শক্তি বেড়ে যায়, তাদের মনোবল মজবুত হয়। আরবদের প্রতি আফগানদের অধিক ভালোবাসার কারণে তারা আরবদের সাথে অতিথির মতো আচরণ করে। তাই যুদ্ধ ও সামরিক কোনো দায়িত্ব তারা আরবদের দেয় না। এ দিকে আরব যুবকরা অন্যান্য মুজাহিদের মতো কাজ করতে চাইত আর সুযোগ না পাওয়ায় তাদের মন খারাপ হতো। এই বিষয়টি বিবেচনা করে আরব মুজাহিদদের জন্য একটি মারকায শুরু করার চিন্তা করি, যেখানে এই যুবকদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ১৪০৪ হিজরীতে (১৯৮৪ খ্রি.) আফগান মুজাহিদদের সংগঠন আল-ইত্তিহাদুল ইসলামীর আমীরের সাথে কথা বলে অনুমতি নিই এবং আরব ভাইদের প্রশিক্ষণের জন্য ‘صدى - সদা’ নামে একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করি। ক্যাম্পটি সীমান্তের কাছাকাছি জায়গায় খোলা হয়, যেন ভাইদের জন্য এখানে আসা সহজ হয়। তখন প্রায় ১০০ জন ভাই প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য ক্যাম্পে একত্র হন। এই সংখ্যা ছিল খুবই কম। কেননা তখন আরব যুবকরা প্রকৃত সম্মান, দীনের প্রতিরক্ষা আর জিহাদ থেকে বহু দূরে ছিল। অধিকাংশ যুবকই সে সময় জিহাদকে নফল ও মুবাহ ইবাদত মনে করত।

    তখন ছিল গ্রীষ্মকাল। [কলেজ-ভার্সিটিতে গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলছিল।] গ্রীষ্মের শেষে যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস শুরু হলো, তখন আমাদের সাথে থাকা অধিকাংশ ভাই লেখাপড়ার জন্য নিজ নিজ দেশে চলে গেলেন; অথচ তারা সবাই ছিলেন তুলনামূলক ভালো ও নির্বাচিত সাথি। মাত্র জনাদশেক সাথি আমাদের সাথে রয়ে গেলেন। আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে এরপর আমরা [সীমান্ত এলাকা থেকে] আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে জাজি নামক স্থানে ট্রেইনিং ক্যাম্প স্থাপন করি। আমরা যা পারি, তা-ই অন্য ভাইদের শেখাতে থাকি। এভাবে বেশ কিছুদিন কেটে যায়। ততদিনে আমাদের সংখ্যা প্রায় ৫০ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আবারও একই ঘটনা ঘটল। শীত শেষ হতেই অধিকাংশ ভাই আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। [অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল,] দীনের সাহায্য করা এবং আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দীন পরিপূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করার গুরুত্ব সম্পর্কে পরিপক্ক বুঝ ভাইদের মধ্যে তখনও তৈরি হয়নি।

    ১৪০৬ হিজরীর শেষে, ১৪০৭ হিজরীর শুরুর দিকে (সেপ্টেম্বর ১৯৮৬ খ্রি.
    ) দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করলাম, আমরা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে এই জাজিতেই থাকব। সংখ্যা যতই কম হোক না কেন এই জায়গা আমরা ছাড়ব না। তখন আমরা ছিলাম মাত্র ১১ জন। অধিকাংশই ছিল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শহর মদীনা মুনাওয়ারার। তাদের নামও আমার মনে আছে—শফীক বিন ইবরাহীম মাদানী, তালেব আব্দুল আযীয নাজ্জার (আবু কুতাইবা) সূরী আল-হামাবী মাদানী, ভাই উসামা বিন মোল্লা হায়দার মাদানী ওরফে উসামা আজমিরাই, ফিলিস্তিনী বংশোদ্ভূত মদীনার বাসিন্দা ভাই আবু মুয়ায সাদী, ভাই আবু রজা হাসসান আনসারী, তিনিও মদীনার বাসিন্দা; ভাই আহমাদ হামুদ উসমান মিখলাফী, ভাই আলী সুদানী, ভাই মুহাম্মাদ বিন আব্দুস সালাম ওরফে আবু আনীস এবং ভাই আহমাদ হুসাইন বখশী, তিনিও মদীনা মুনাওয়ারার বাসিন্দা ছিলেন।

    আমরা ছিলাম মাত্র ১১ জন। আফগান মুজাহিদদের জন্য রাস্তা তৈরি করা, পাহাড়ের মধ্যে সুরঙ্গ ও বাঙ্কার তৈরি করাই ছিল আমাদের কাজ। সে এলাকার সামরিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য শফীক রহ. ও উসামা হায়দার রহ.-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ভাইদের সবার বয়স ছিল বিশের কোঠায়। তারা পড়ালেখা ছেড়ে জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহর জন্য এসেছিলেন।

    এভাবেই আমরা কাজ করছিলাম। এর মধ্যে একদিন শফীক ও উসামা হায়দার ভাই অনুসন্ধান করে আমাদের জানান, শত্রুবাহিনীর ছাউনির খুব কাছেই উঁচু একটি পাহাড় আছে। সেখান থেকে চাওনি দুর্গও দেখা যায়। কমিউনিস্টরা এই দুর্গ থেকেই পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে এবং পাকিস্তান সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এই উপত্যকা শাসন করে। এত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এই পাহাড়ে কোনো মুজাহিদ নেই। পরে আমি নিজে সে জায়গাটি পরিদর্শন করে দেখি, বাস্তবেই পাহাড়টি খুব ভয়ানক ও গুরুত্বপূর্ণ। এত স্পর্শকাতর স্থানে হওয়া সত্ত্বেও সেখানে কোনো মুজাহিদ নেই কেন—তা জানার জন্য খোঁজ নিই। জানতে পারি, প্রচণ্ড ঠান্ডা ও তুষারপাতে শীতকালে এখানকার রাস্তা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। তা ছাড়া এলাকাটিতে ব্যাপক বোমাবর্ষণের ফলে যুদ্ধের সময় প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর উপায় থাকে না। এ কারণে এখানে মুজাহিদরা কখনো অবস্থান করেন না।

    আমাদের ইচ্ছা ছিল, যে মারকাযগুলো আমরা তৈরি করব, এর মধ্যে কেবল আরবদের জন্য বিশেষায়িত একটি মারকায থাকবে। অবশেষে এই দুর্গম পাহাড়েই সেই মারকাযটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিই। এর নাম দেওয়া হয় “মা’সাদাতুল আনসার” [আনসার সিংহদের অভয়ারণ্য]।

    শীতকাল ছিল একদম দোরগোড়ায়। এখানে শীতকাল মানে হাড়হিম ঠান্ডা আর ভয়ংকর তুষারপাত। তখন চলাফেরা করাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। আমি স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বয় করার উদ্দেশ্যে তাঁদের খোঁজ শুরু করি। অবশেষে আব্দুস সামী নামক প্রসিদ্ধ এক নেতার সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হই। সে অঞ্চলের মধ্যভাগে শত্রু ছাউনির কাছেই তাঁর মজবুত অবস্থান ছিল। আমি এই আফগান নেতার কাছে আবেদন করি, তিনি যেন শীতে এই এলাকা ছেড়ে না যান; বরং এখানেই অবস্থান করেন। ঠান্ডা থেকে বাঁচার জন্য তাদের বাঙ্কার তৈরি করে দেওয়ারও প্রস্তাব দিই, কিন্তু তিনি এ বলে আমার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন যে, অতিরিক্ত তুষারপাতের কারণে এখানে জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য-পানীয় পৌঁছানো সম্ভব হয় না। অবশেষে এই স্থান ত্যাগ না করার শর্তে তাঁকে পানি ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করার প্রস্তাব দিই।

    নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে অবশেষে মা’সাদাতুল আনসারের জন্য আমরা প্রথম তাঁবু স্থাপন করি। দিনটি ছিল ১৯৮৬ সালের ২৪শে অক্টোবর (১৪০৭ হিজরীর ২০শে সফর)। একই দিনে পাকিস্তান থেকে একটি গোরিয়নভ মেশিনগান ক্রয় করার মাধ্যমে সর্বপ্রথম অস্ত্র কেনা হয়, যা ভাই আজমিরাই নিয়ে আসেন। এই দিনটিকেই মা’সাদাতুল আনসার প্রতিষ্ঠার প্রথম দিন হিসেবে ধরা যায়।

    যখন মা’সাদাতুল আনসারের মারকায বানানোর কাজ শুরু করি, তখন আমরা মাত্র তিনজন ছিলাম। ভাই শফীক, উসামা মোল্লা হায়দার (আজমিরাই) ফা.আ. আর আমি। বাকিরা কেউ ছুটিতে ছিলেন আর কেউ অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সে সময় লোকবলের প্রয়োজন এতই বেশি ছিল যে, একজন ভাইও যদি আমাদের সাথে এসে যোগ দিতেন, তবে সেটাই অনেক সহায়ক হতো। একে তো অপরিচিত জায়গা, তার ওপর আফগান মুজাহিদদের থেকে দূরে এবং শত্রুদের খুব কাছে। তিনজন মিলে সব কাজ করা, আবার পাহারা দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।

    এক ভাই সাক্ষাৎ করতে এসে পরিস্থিতি দেখে কাজটি মুলতবি রাখতে বলেন। যখন সবাই আসবেন, তখন করার পরামর্শ দেন। তিনি শফীক ও উসামা ভাইকেও আলাদাভাবে বোঝান। ইতোমধ্যে আল্লাহ তাআলা রহমত হিসেবে দুইজন ভাইকে পাঠিয়ে দেন। তারা আফগানের অন্য এক ময়দানে যাচ্ছিলেন। পথে আমাদের সাথে দেখা হয়ে গিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজনের নাম ছিল আবু যাহাব; মিশরীয় বংশোদ্ভূত সুদানের নাগরিক ছিলেন তিনি। বিশ্রাম শেষে রওনা হওয়ার আগ মুহূর্তে আমার কাছে এসে বললেন, তারা আমাদের সাথেই থাকতে চান। তার কথা শুনে আমি যারপরনাই খুশি হই এবং তাদেরকে আমাদের সাথে রেখে দিই। মারকায বানানোর জন্য যে স্থানটি নির্ধারণ করেছিলাম, সেখানে যাওয়ার রাস্তাটি ছিল একেবারে খোলামেলা। শত্রুরা খুব সহজেই আমাদের দেখতে পেত এবং গোলাবর্ষণ করত। আমরাও দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে চারপাশে ছড়িয়ে পড়তাম। কিছুক্ষণ পর আবার নতুনভাবে যাত্রা শুরু করতাম।

    এই সময়টি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে চমৎকার সময়। একদিকে শত্রুর খুব কাছে থেকে রিবাতের দায়িত্ব পালন করতাম। অন্যদিকে রাস্তা নির্মাণ, বাঙ্কার তৈরির কাজও করতাম। সবাই আমরা এক তাঁবুতেই থাকতাম। এর মধ্যে যবীহ মুহাম্মাদ বিন মুবারক নামে তায়েফের এক ভাই আমাদের সাথে এসে যোগ দেন। নামায, খাওয়া-দাওয়া-সহ সবকিছু একসাথেই করতাম, পালাক্রমে পাহারাও দিতাম। জায়গাটি একেবারে জনমানবশূন্য হওয়ায় সবাই আতঙ্কে থাকতাম। কেউই তাবু থেকে বেশি দূরে যেতে সাহস পেতাম না। একে তো আশপাশে ছিল নির্জন গভীর বন, তার ওপর শত্রুশিবির ছিল একেবারে কাছে। এভাবেই সময় কাটছিল। কিন্তু লাগাতার পাহারা দেওয়া ধীরে ধীরে আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। অবশেষে আমাদের এক ভাইকে আসতে বলি। ভাই সালেহ গামেদী ওরফে হামযা গামেদী (সালেহ সাইদ আলে বাতিহ) আমাদের সাথে যোগ দেন। এভাবে আমাদের সংখ্যা বেড়ে ৭ জন পর্যন্ত পৌঁছায়। সাথে সাথে আমাদের আশা আরও বেড়ে যায় যে, আমাদের সংখ্যা আরও বাড়বে। দুই মাসের মধ্যে আমাদের সংখ্যা চল্লিশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

    এরপর ভাই আবু হানীফা হুসাইন উজাইব আসেন। তার কিছুদিন পর আসেন মুহাম্মাদ সাখরি। তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা একজন মানুষ। তাঁর অভিধানে দ্বিধা বলে কোনো শব্দ ছিল না। সৌদি থাকাকালে যখন আফগান সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তখন একদিন মসজিদে নববীতে ফজরের নামাযের পর তার সাথে দেখা হয়েছিল। আগেই ভাই আবু হানীফা আমাকে জানিয়েছিলেন, একজন ভাই (মুহাম্মাদ সাখরি) আফগানিস্তানে যেতে চান। তবে তিনি এ বছরের লেখাপড়া শেষ করে গ্রীষ্মের ছুটিতে যেতে চাচ্ছেন। আমি সাখরির সাথে দেখা করে কয়েক মিনিট কথা বলেছিলাম। এতেই তার সব দ্বিধা দূর হয়ে গিয়েছিল এবং পরদিনই আমাদের সাথে আফগান যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন। নিজের কর্তব্য বোঝার সাথে সাথে লেখাপড়া, সার্টিফিকেট আর দুনিয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। আমাদের সাথে তিনি চার বছরের মতো ছিলেন। এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁকে নিজের কাছে ডেকে নেন, তিনি জালালাবাদে শাহাদাতবরণ করেন।’

    শায়খ উসামা রহ.-কে মা’সাদাতুল আনসারের নামকরণের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন—

    ‘জায়গাটির কী নাম রাখা যায়—তা নিয়ে ভাইদের সাথে পরামর্শ করি। ভাইয়েরা কয়েকটি নাম বাছাই করেন। তার মধ্য থেকে মা’সাদাহ (مأسدة - সিংহের অভয়ারণ্য) নামটি সকলের পছন্দ হয়। এই নামটি আমরা এক সাহাবীর একটি কবিতার চরণ থেকে গ্রহণ করেছি, যা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় রচনা করেছিলেন। কবিতার চরণটি হলো,

    من سره ضرب يمعمع بعضـــــــــه بعضا ... كمعمعــــــــــــــــــة الإبــــــــاء المحـــــــــرق
    আগুনে পুড়তে থাকা বাঁশের ন্যায় কলরোল সৃষ্টি করে উদ্ধত তরবারির সংঘাত দেখতে যে পছন্দ করে,

    فليأتِ مأسدة تســـــــــــــن سيوفها ... بـــــــــين المـــــــــذاد وبين جزع الخنــــــــــــــدق
    সে যেন এই মা’সাদায় [সিংহের অভয়ারণ্যে] আসে, যেখানে তরবারি শান দেওয়া হয় মাযাদ ও খন্দকের মধ্যবর্তী স্থানে।


    কিছুদিন পর ভাই আবু হানীফা জিহাদের প্রতি যুবকদের উদ্বুদ্ধ করতে ফিরে যান। ২৩ দিন পর ২৩ জন যুবককে সাথে নিয়ে ফিরে আসেন। এভাবে আমাদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে এবং আমরাও আমাদের এই একতাবদ্ধতার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে শুরু করি।

    ভাইয়েরা আমাকে প্রশ্ন করেন, কেন আমরা আফগান মুজাহিদদের থেকে আলাদা হয়ে এখানে জমায়েত হয়েছি? অবশ্যই এই আলাদা হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। একজন ভাই যখন জিহাদ করার জন্য নিজ দেশ থেকে হিজরত করে এখানে আসেন, তখন তার সামনে একসাথে অনেকগুলো সমস্যা দেখা দেয়। সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে অচেনা জায়গায় ভাষা না জেনে জিহাদ কীভাবে করবেন—তা নিয়ে বিপাকে পড়ে যান। তখন স্বদেশি ভাইদের পাশে পেলে তারা সাহস পান।’​
Working...
X