Announcement

Collapse
No announcement yet.

"শাযারাত মিন তারিখিল কায়েদাহ" থেকে অনূদিত || অভিজ্ঞতা ও বয়সের পরিপক্বতা কতটা জরুরী?

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • "শাযারাত মিন তারিখিল কায়েদাহ" থেকে অনূদিত || অভিজ্ঞতা ও বয়সের পরিপক্বতা কতটা জরুরী?

    শায়খ আব্দুল্লাহ আযযাম ও শায়খ উসামা বিন লাদেন রহ.-এর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। শায়খাইনের এই দৃষ্টিভঙ্গিতে আমাদের জন্য অনেক উপদেশ রয়েছে। যেহেতু শায়খ আবু উসামা মিসরী রহ. আফগানিস্তানের মুজাহিদ নেতৃবৃন্দের কঠোর সমালোচনা করতেন। তিনি মনে করতেন, আফগান নেতারা স্বার্থান্বেষী, হত্যাকারী, মিথ্যাবাদী এবং ইসলামী আদর্শের সাথে তাদের দূরতম সম্পর্কও নেই। এ কারণেই শায়খ আব্দুল্লাহ আযযাম ও শায়খ উসামা রহ. তাঁকে শর্ত দিয়েছিলেন, তিনি যেন আফগান মুজাহিদদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কথা না বলেন।

    কেউ বলতে পারেন, শায়খ আবু উসামা মিসরীর কথা তো ঠিক ছিল, তারপরও কেন তাকে এ সব বলতে বাধা দেওয়া হলো?
    হ্যাঁ, শায়খ আবু উসামা মিসরীর কথা সত্য ছিল। কিন্তু সব সত্য সব জায়গায় সবাইকে বলা যায় না। কেন? কারণ এতে অনেক সময় লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়। শায়খদ্বয় এ মূলনীতির আলোকেই তাঁদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। শায়খ আবু উসামা মিসরীর কাছে প্রশিক্ষণ নিতে আসা অধিকাংশ যুবকই শুধু জিহাদের পথেই নতুন ছিল না, দীনচর্চার ক্ষেত্রেও তারা ছিল একেবারে নতুন। এমন অপরিপক্ব যুবকদের সামনে আফগান নেতৃবৃন্দের দুর্নীতি নিয়ে আলাপ করলে শরয়ী দিক থেকেও বিশেষ কোনো লাভ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না।

    তা ছাড়া আফগান নেতৃবৃন্দের দুর্নীতি নিয়ে শুধু আলাপ করলেই পরিস্থিতি পালটে যাবে—এমন কোনো সম্ভাবনা আদৌ কি ছিল?
    অবশ্যই না। কোনো লাভ না হলেও এর দ্বারা নিশ্চিত ও অনিবার্য কিছু সমস্যা তৈরির আশঙ্কা ছিল। [আফগান নেতৃবৃন্দের সমালোচনার ক্ষেত্রে] শায়খ আবু উসামার অবস্থান ছিল শায়খ আব্দুল্লাহ আযযাম ও শায়খ উসামা বিন লাদেন রহ.-এর সম্পূর্ণ বিপরীত।

    শায়খ আবু উসামা মিসরীর মতো সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি থেকে এমন কথা শুনে যুবকদের প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এর দ্বারা অনিচ্ছাকৃতভাবেই যুবকদের মধ্যে অস্থিরতা ও হতাশা সৃষ্টি হতো। ফলে এমনও হতে পারত যে, তারা জিহাদের ময়দান ছেড়ে নিজ দেশে চলে যেত এবং তাগুত শাসকদের অধীনে ভোগ-বিলাসের জীবন কাটানো শুরু করত। অথচ সে সব দেশের তাগুত শাসকদের কুফর, রিদ্দাহ ও ফাসাদ ছিল আফগান মুজাহিদ নেতৃবৃন্দের দুর্নীতি থেকেও শত-সহস্র গুণ মারাত্মক।

    জিহাদী নেতৃবৃন্দের দুর্নীতির দোহাই দিয়ে যুবকরা যদি দীন-দুনিয়া ধ্বংসকারী আগ্রাসি শত্রুর মোকাবেলা ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে যেত, তাহলে কী লাভ হতো? অথচ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকীদা হলো—নেককার ও ফাসেক উভয়ের অধীনেই জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ অব্যাহত থাকবে।

    ২০০৭ সালে ‘السبيل لإحباط المؤامرات (ষড়যন্ত্র ধ্বংস করার উপায়)’ শিরোনামে শায়খ উসামা রহ. একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। তাতে শায়খ আবু উসামার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন—

    ‘একজন মুজাহিদ শায়খ ছিলেন। বয়স ও মর্যাদা, উভয় দিক থেকেই আমাদের চেয়ে বড় ছিলেন তিনি। মানুষের সাথে দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে মানুষ চেনার ব্যাপারে খুবই অভিজ্ঞ ছিলেন। এ ধরনের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃবৃন্দের ব্যাপারে তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল যথার্থ। যদিও সে সময় আমরা তার কঠোর মতামতকে এড়িয়ে গিয়েছিলাম। তিনি বলতেন, “এই নেতারা হলো ব্যবসায়ী। নিজেদের কর্তৃত্ব কীভাবে টিকিয়ে রাখবে—এ নিয়েই তাদের সব চিন্তা। জাতির চাইতেও ব্যক্তিস্বার্থই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বেশি।” এই হলো তাঁর চিন্তার সারাংশ। তখন আমরা তাঁর কথা বিশ্বাস করিনি, যার কারণে মানুষ চিনতে আমাদের সময় লেগেছে। তবে তাঁর কথা গ্রহণ করলে, তখন বিশাল ক্ষতির আশঙ্কা ছিল—এটা তো সবার কাছেই স্পষ্ট।

    এরপর সময় যত গড়িয়েছে, একের পর এক নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, আমাদের সামনে সবকিছু পরিষ্কার হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে অনেক নেতার ব্যাপারেই তাঁর কথার যথার্থতা বুঝতে পেরেছি। অভিজ্ঞতার স্বল্পতা ও বয়সের অপরিপক্বতার কারণে আমরা যে বিষয়গুলো তখন বুঝতে পারিনি; বরং অসম্ভব মনে করেছি, সময়ের সাথে সাথে এমন অনেক বিষয় আমাদের সামনে ধরা দিয়েছে। এখন তো আপনারা সকলেই জানেন, রব্বানী ও সাইয়াফের নেতৃত্বাধীন নর্দার্ন অ্যালায়েন্স পশ্চিমাদের সাথে মিলে আফগান মুজাহিদদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ইরাকেও একই অবস্থা তৈরি হয়েছে। হিযবে ইসলামী ও কিছু মুজাহিদ দল মুসলিমদের বিরুদ্ধে আমেরিকাকে সহযোগিতা করছে। অথচ এই কাজটি সুস্পষ্ট কুফর ও প্রকাশ্য রিদ্দাহ। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’

    Last edited by আবু আব্দুল্লাহ; 1 hour ago.
Working...
X