সাংবাদিকদের কলমে লাল মসজিদের ঘটনার মূল্যায়ন
মাসিক আল কাউসার এ প্রকাশিত পাকিস্তানের কিছু সাংবাদিকদের কিছু মূল্যবান মতামত উল্লেখ করেছেন। সেগুলো এখানে উল্লেখ করা হলো।
বর্ষ: ০৩, সংখ্যা: ০৮,শাবান-রমযান ১৪২৮ || সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০০৭ , ফিলহাল,লাল মসজিদ ট্রাজেডী
পাকিস্তানের সাংবাদিকদের কলমে
- [পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত লাল মসজিদ ও লাল মসজিদ সংলগ্ন জামিয়া হাফসায় নিরাপত্তারক্ষীদের আক্রমণ ও রক্ত ঝরানোর ঘটনায় খোদ পাকিস্তানসহ দেশ-বিদেশের মুসলমান ও চিন্তাশীল নাগরিকরা তীব্র ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করে চলেছেন। মিডিয়ার বিভ্রান্তিকর প্রচারনায় লাল মসজিদ ট্রাজেডীর সংবাদ এদেশে যথাযথভাবে প্রচারিত হয়নি। ঐ ঘটনার ওপর ভিত্তি করে পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা, মিডিয়া ও শক্তিমান সাংবাদিকরা পাক সরকারের বিরুদ্ধে তাদের অগ্নিবাক্য বর্ষণ অব্যাহত রেখেছেন। স্থানের সংকটের কারণে সেসব কলাম ও নিবন্ধ থেকে কিছু চুম্বক অংশ এখানে পত্রস্থ হলো।]
হামিদ মীর
রক্ত বর্ষণ নামের একটি নিবন্ধে লিখেছেন—
- ইসলামাবাদে এবারে বর্ষণ বেশ ভারী হয়েছে। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে ইসলামাবাদকে অন্য মৌসুমের তুলনায় বেশি সজিব ও সতেজ দেখা যায়। কিন্তু এবার বর্ষায় ইসলামাবাদে রক্তের বৃষ্টি হয়েছে। এই বর্ষায় লাল মসজিদ ও জামিয়া হাফসার অঙিনা রক্তের স্রোতে ডুবে ছিল। যখন এখানকার খুনের দাগ পরিচ্ছন্ন হয়েছে তখনই ইসলামাবাদ ডিস্ট্রিক কোর্টের কাছে এক আত্মঘাতী আক্রমণকারী অসংখ্য লাশ ফেলে পাকিস্তানের রাজধানীর জমিকে আরেকবার মানুষের খুনে রঞ্জিত করে দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আফতাব শেরপাওয়ের বক্তব্য হলো, এই আক্রমণ লাল মসজিদের ঘটনাবলীরই ধারাবাহিকতা হয়ে থাকতে পারে।...
- ...শেষ দিন আব্দুর রশীদ গাজী বিকাল সাড়ে তিনটায় আমাদের সাংবাদিক বন্ধু আব্দুস সব্বুহ সাইয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেছেন, তিনি রোযা রেখেছেন এবং শাহাদত দ্বারা তিনি ইফতার করবেন। অন্য এক সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আখেরী পরামর্শ স্বরূপ তিনি তাকে বলেছেন, সে যেন শরাব পান করা ছেড়ে দেয়। শেষ মুহূর্তে তিনি কারো কাছে জীবন বাঁচানোর আবেদন জানাননি।...
- মালিক আলতাফ হোসাইন
চিন্তার বিষয় শিরোনামে একটি নিবন্ধের সূচনায় প্রশ্ন সৃষ্টি করে লিখেছেন—
- লাল মসজিদের সহকারী ইমাম মাওলানা আব্দুর রশীদ গাজী এবং জামিয়া হাফসার ছাত্রীরা যেভাবে ইসলামী শরীয়ত প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডার একটি তুফান দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইন ও সংবিধানের উদ্ধৃতি দেওয়া হচ্ছে। ১৫ কোটি মানুষের ওপর এক হাজার মানুষের মর্জি চাপিয়ে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। আইন হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করা হচ্ছে। শক্তি ব্যবহারের কথাও বলা হচ্ছে। আসুন! লাল মসজিদের উলামায়ে কেরাম এবং জামিয়া হাফসার বোনদের অবস্থান ও দাবির একটি সহজ নিরীক্ষা আমরা চালিয়ে এটা বুঝতে চেষ্টা করি যে, তারা কিভাবে সঠিক পথে রয়েছেন এবং কি করে ভুল পথে গিয়েছেন? এটা কি বাস্তব নয় যে, পাকিস্তান হাসিল করাই হয়েছিল ইসলামের নামে? লাখো মানুষের হিজরত এবং হাজারো মানুষের শাহাদাত যদি এক ইসলামের জন্য না হয়ে থাকে তাহলে কিসের জন্য হয়েছিল? ১৯৭৩ সনে জাতীয় এসেম্বলিতে সর্ব সম্মতিতে পাশকৃত আইনে এটা কি অন্তর্ভুক্ত ছিল না যে, সব অনৈসলামিক আইনকে ১০ বছরের মধ্যে ইসলামী আইনে পরিবর্তন করে দেওয়া হবে, সেটি কি করা হয়েছে? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো- আইন, সংবিধান, এসেম্বলি এবং শাসকবৃন্দের সবাই মিলেও যদি অনৈসলামিক আইনের পক্ষ গ্রহণ করে এবং ইসলামী আইনের বিরোধিতা করে তবে সেরকম করার এজাযত কি আছে? কোনো ইসলামী রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণও যদি এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায় যে, আমরা ইসলামী বিধিবিধানের প্রতিষ্ঠা মেনে নেব না- তবে কি মাখলুকের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আল্লাহ ও রাসূলের হুকুমের বিপরীতে কোনো অবস্থান ও গুরুত্ব রাখে? এক হাজারের বিপরীতে ১৫ কোটির মর্জি চাপিয়ে দেওয়ার যে কথা বলা হচ্ছে প্রথমত শুরু থেকেই সে কথাটি ছিল গলদ।
- ইরফান সিদ্দিকী
- এখন তো খুনের তরঙ্গ মাথা থেকে নেমে গেছে। একজন নয়, হাজার হাজার মাতমকারী সঙ্গে থাকলেও এই সীমাহীন দুঃখ ও বেদনার প্রকাশ সম্ভব নয়। এ বেদনা বহন করছে এখন গোটা জাতি। লাল মসজিদ ও জামিয়া হাফসার বেদনাবহ ঘটনা ঘটে গিয়েছে দুসপ্তাহের বেশি আগে, কিন্তু আত্মার হুতাশন কমছে না। রাতের কোনো না কোনো সময় চোখ খুলে যায়। হৃদয় সশব্দে এমনভাবে ধ্বক ধ্বক করতে থাকে, যেন এখনই সিনার খাঁচা ভেঙ্গে বের হয়ে যাবে। ঘামে মাথা ভিজে যায়। চোখগুলো আগুনের অঙ্গারের মতো জ্বলতে থাকে। আপনা থেকেই চোখের অশ্রু প্রবাহিত হয়। ঘুম উড়ে চলে যায় অন্য কোনো বসতিতে। নানা ধরনের উদ্বেগ ও চিন্তা মাথাটাকে ঘিরে রাখে।
: কতজন পুরুষ, কতজন তরুণ, কতজন নারী, কতজন শিশু?
: ফোর্সের নিক্ষিপ্ত বোমা ফাটার পর তাদের কী অবস্থা হয়েছিল?
: কত দিন ধরে তারা ক্ষুধার্ত ছিল?
: তাদের অন্তরে কোন্ ধরনের আবেগ ভীড় করেছিল?
: তাদের মস্তিষ্কে কি কি চিন্তা পাকিয়ে উঠছিল?
: তাদের কি বিশ্বাস ছিল যে, এত নিষ্ঠুরভাবে তাদের হত্যা করা হবে?
: তাদের মন ও মস্তিষ্কের কোথাও কি এই ভীতি ভর করেছিল যে, তাদেরই সেনাবাহিনী, তাদেরই পুলিশ এমনসব কাণ্ড তাদের সঙ্গে করতে পারবে?
: তাদের কি একীন ছিল যে, তারা সেখান থেকে কখনো জীবিত রেব হতে পারবে না?...
- ড. শাহেদ মাসউদ
- অন্যায় তো শুধু এটুকুই ছিল যে, তারা সমাজ থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করে ছিল। এ লক্ষ্যে বাইরে বের হয়ে অশ্লীল কর্মকাণ্ড চালানোর একটি কেন্দ্র থেকে পরিচালিকাকে সবক শেখাতে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে এসেছিল, দু তিন দিন পর বোরকা পরিয়ে, তওবা করিয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছিল। এরপর একটি ম্যাসাজ সেন্টারে গিয়ে সেখানকার দেহব্যবসায়ী কয়েকটি মেয়েকে নিজেদের সঙ্গে এনে কিছু শাস্তি দিয়ে-নসীহত করে ছেড়ে দিয়েছিল। লাঠি নিয়ে ঘুরছিল কিন্তু কারো মাথায় আঘাত করেনি। এই প্রিয় মাতৃভূমিতে যেখানে শাসক ও শক্তিমানদের প্রতি দুজনের একজন ভূমি মাফিয়া সেজে বসে আছে, লাল মসজিদ শহীদ হওয়ার পর পাশের একটি লাইব্রেরীতে গিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে এসেছে। এরা হচ্ছে প্রগতিশীল, স্বচ্ছল, সুশোভিত পোশাকে আচ্ছাদিত, শাসনকেন্দ্রের জাঁকজমকপূর্ণ রুমের বাসিন্দা। এদের অধিকাংশই রাতের বেলায় শরাব ও যৌবনের আসরে নিজেদের উন্নতি দেখেন। অপরদিকে এই নিষ্পাপ, শুভ্র হৃদয়, হিজাবে আবৃত, পবিত্র আত্মাগণ..কুরআন তেলাওয়াতে মগ্ন-বিভোর। তারা কারা ছিলেন? কোথায় চলে গেলেন? ...
আমেরিকা,ভারত ও ইসরাইলের সম্পূক্ততা
লাল মসজিদ সম্পর্কে অতি সংক্ষিপ্ত একটি আরবি প্রবন্ধ খুঁজে পাই। কয়েক মাস পর খুঁজতে খুঁজতে জনাব নুরুল হুদা সাহেবের একটি প্রবন্ধ পেয়ে যাই। জানিনা এই প্রবন্ধকার জনাব নুরুল হুদা সাহেব উনি কে? তবে উনার প্রবন্ধে উল্লেখিত শিরোনাম "আমেরিকা, ইসরাইল ও ভারতের এক অশুভ আঁতাত" এর পূর্বে উল্লেখ করা লেখাগুলো সেই আরবি প্রবন্ধের মোটামুটি অনুবাদ।
লাল মসজিদ— নিপীড়ন ও দমন-পীড়নের অন্ধকার ইতিহাস এবং অবিরাম প্রতিরোধের সংগ্রাম
✍🏻 নূরুল হুদা খলিল
১০/৩/২৫
আমার কলম যেন এই শব্দমালার ভার বহনে অপারগ, তবু আমি লিখছি— কারণ ইতিহাস কখনো চাপা পড়ে থাকে না।
ঈমানের দুর্গ ভাঙার নেপথ্য কাহিনি – ইসলামাবাদের চেতনায় এক অপমানের দাগ
- ২০০৭ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ইসলামাবাদের কেন্দ্রে অবস্থিত লাল মসজিদের নিরপরাধ ছাত্র-ছাত্রী, হাফেয-হাফেযা ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর নির্মম হামলা চালায়। এই আগ্রাসন কেবল পাকিস্তানি কোনো সেনাপতির একক সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং এটি ছিল আমেরিকা, ইসরাইল ও ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থার এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যার লক্ষ্য ছিল ইসলামী চেতনার উচ্ছেদ।
লাল মসজিদ কোনো সাধারণ ইসলামী উপাসনালয় ছিল না; বরং এটি ছিল ইসলামী জাগরণের এক জীবন্ত প্রতীক। সেখানে এমন সাহসী-সজ্জন পুরুষ ও সতী-সাধ্বী পর্দানশীন নারীরা অধ্যয়ন করতেন, যারা ইসলামের সুমহান আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন এবং তখনকার স্বৈরশাসনের ইসলামবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু সত্যের সেই বজ্রধ্বনি তাদের কাছে অসহনীয় হয়ে ওঠে, যারা ইসলামী আদর্শের চিরন্তন শত্রু।
জুলুম ও নৃশংসতার এক কালো অধ্যায় এবং নিষ্পাপদের রক্তের অক্ষয় সাক্ষ্য
- ২০০৭ সালের জুলাই মাসে মার্কিন নির্দেশনায় এবং তৎকালীন শাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফের আদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী লাল মসজিদের নিরীহ ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কুরআনের হাফেয-হাফেযাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। এই অভিযানের জন্য মোতায়েন করা হয় দশ হাজারেরও বেশি সেনা, ব্যবহৃত হয় ভারী অস্ত্রশস্ত্র, ট্যাংক, হেলিকপ্টার এবং এমনকি বিষাক্ত গ্যাস ও রাসায়নিক বোমা— যা মূলত সামরিক যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ীএক হাজারের বেশি নারী-শিক্ষার্থী, ছাত্র, আলেম ও হাফেয শহীদ হন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে এই সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে যায়। শহীদদের লাশ পর্যন্ত সম্মান পায়নি; সেনারা তাদের দেহ পুড়িয়ে ফেলে যেন জুলুমের সাক্ষ্যপ্রমাণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
- তবে সবচেয়ে মর্মন্তুদ অধ্যায় হলো প্রায় দুই শতাধিক সংব্রত, পর্দানশীল মুমিনা ছাত্রীকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী এসকল ছাত্রীদের মার্কিন বাহিনীর হাতে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের বাগরাম, গুয়ান্তানামো ও অন্যান্য গোপন মার্কিন কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
আমেরিকা, ইসরাইল ও ভারতের এক অশুভ আঁতাত
- আমেরিকার গুপ্ত হাত
অভিযানের সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত অ্যান প্যাটারসন পাকিস্তানি শাসকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছিল। এমনকি এই অভিযানের সময় মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিল। সিআইএ এই হামলার জন্য পাঁচশ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করেছিল, যার বিনিময়ে অভিযানের নেতৃত্বদানকারী সামরিক কর্মকর্তারা পরবর্তী সময়ে আমেরিকায় স্থায়ী ভিসা ও বিলাসবহুল সম্পত্তি অর্জন করেন।
- ইসরাইলি সহযোগিতা
অভিযানের সময় পাকিস্তান ব্যবহার করে ইসরাইলের সরবরাহকৃত উন্নত অস্ত্রশস্ত্র, যেমন লেজার বোমা ও বিষাক্ত গ্যাস, যা এমনভাবে কাজ করে যেন শহীদদের দেহ অবশিষ্ট না থাকে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কিছু দেশপ্রেমিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এই হামলাকে মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ বলে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু তাদের হয় হত্যা করা হয়, নয়তো চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর অগ্নি-উস্কানি
- ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (raw) পাকিস্তানের শাসকদের কাছে ভুয়া গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছিল, যাতে লাল মসজিদকে ‘আল কায়েদার ঘাঁটি’ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। পাকিস্তানি সামরিক ও গোয়েন্দা মহলে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ভারতীয় এজেন্টরা এই অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও কৌশলগত সহায়তা জুগিয়েছিল।
- অভিযানের পর, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা পাকিস্তানের কিছু গণমাধ্যমকে ১৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেয়, যাতে তারা এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এক সাফল্য’ হিসেবে প্রচার করতে পারে।—
সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে প্রতিরোধ ও তা নৃশংসভাবে দমন
অভিযানের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কিছু বিবেকবান কর্মকর্তা লাল মসজিদের ওপর হামলার ঘোর বিরোধিতা করেছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই এই হামলাকে ‘অনৈতিক ও ইসলামবিরোধী’ বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু এদের মধ্যে কেউ সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কৃত হন, কেউ আবার রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
- কর্নেল আব্বাস:
- মেজর আমির:
- ব্রিগেডিয়ার আলী খান:
পাকিস্তানের দ্বিমুখী নীতি – ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপানো
- যদি লাল মসজিদ ‘সন্ত্রাসবাদের ঘাঁটি’ হতো, তবে সেখানে কেন শুধুমাত্র কুরআন, হাদিস ও ইসলামী জ্ঞানচর্চা চলত? যদি এই অভিযানের উদ্দেশ্য সত্যিই ‘সন্ত্রাসবাদের নির্মূল’ হতো, তবে নিষ্পাপ ছাত্রীদের কেন মার্কিন বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হলো?
পাকিস্তানের বরং তার ব্যর্থ, অনৈতিক ও ইসলামবিরোধী নীতিগুলো সংশোধন করা উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে সে তার ব্যর্থতা ঢাকতে, জনগণের দৃষ্টি সরাতে বারবার অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে যাচ্ছে।—
লাল মসজিদের ইতিহাস – মুছে ফেলা অসম্ভব
- লাল মসজিদে প্রবাহিত রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি, অথচ ইতিহাসের এই কালো অধ্যায় পুনরায় রচিত হচ্ছে। জামিয়া হাফসার মহীয়সী নেত্রী উম্মে হাসানকে গ্রেফতার করা হলো, নিষ্পাপ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর আবারো নিপীড়নের হাত বাড়ানো হলো।
চলবে ইনশাআল্লাহ.....