হাদিস ও তারিখের আলোকে ২১শে রমাদান
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, শবে কদর বা লাইলাতুল কদরকে একটি নির্দিষ্ট রাতে আটকে না রেখে বরং রমযানের শেষ দশকে খোঁজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমের একাধিক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
"তোমরা রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)
এর মানে হলো ২১, ২৩, ২৫, ২৭ এবং ২৯ এই প্রতিটি রাতেই শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
শবে কদরকে সুনির্দিষ্ট না করার পেছনে বড় রহস্য হলো যেন বান্দা কেবল একটি রাতে ইবাদত করে বাকি রাতগুলো অবহেলায় না কাটায়। যদি ২১ তারিখ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হতো, তবে মানুষ অন্য রাতগুলোর ফজিলত থেকে বঞ্চিত হতো।
তবে কিছু নির্দিষ্ট হাদিসে ২১শে রমযানের কথা বিশেষভাবে এসেছে। যেমন:
হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রাযি) বর্ণিত এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার স্বপ্নে দেখেছিলেন যে তিনি কদরের রাতের পরদিন সকালে কাদা ও পানিতে সেজদা করছেন। কাকতালীয়ভাবে সেই বছর ২১শে রমজানের সকালে বৃষ্টি হয়েছিল এবং মসজিদের মেঝে ভেজা ছিল।
إِنِّي اعْتَكَفْتُ الْعَشْرَ الْأَوَّلَ، أَلْتَمِسُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ، ثُمَّ اعْتَكَفْتُ الْعَشْرَ الْأَوْسَطَ، ثُمَّ أُتِيتُ، فَقِيلَ لِي: إِنَّهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ، فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَعْتَكِفَ فَلْيَعْتَكِفْ " فَاعْتَكَفَ النَّاسُ مَعَهُ، قَالَ: وَإِنِّي أُرِيتُهَا لَيْلَةَ وِتْرٍ، وَإِنِّي أَسْجُدُ صَبِيحَتَهَا فِي طِينٍ وَمَاءٍ فَأَصْبَحَ مِنْ لَيْلَةِ إِحْدَى وَعِشْرِينَ، وَقَدْ قَامَ إِلَى الصُّبْحِ، فَمَطَرَتِ السَّمَاءُ، فَوَكَفَ الْمَسْجِدُ ، فَأَبْصَرْتُ الدِّينَ وَالْمَاءَ، فَخَرَجَ حِينَ فَرَغَ مِنْ صَلَاةِ الصُّبْحِ، وَجَبِينُهُ وَرَوْثَةُ أَنْفِهِ فِيهِمَا الدِّينُ وَالْمَاءُ، وَإِذَا هِيَ لَيْلَةُ إِحْدَى وَعِشْرِينَ مِنَ الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ
"আমি (লাইলাতুল কদরের) সন্ধানে রমযানের প্রথম দশ দিন ইতিকাফ করলাম, এরপর ইতিকাফ করলাম মধ্যবর্তী দশ দিন। তারপর আমার নিকট একজন (ফেরেশতা) আসলেন এবং আমাকে বলা হলো যে, সেটি (লাইলাতুল কদর) শেষ দশ দিনের মধ্যে রয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা ইতিকাফ করতে ইচ্ছুক, তারা যেন ইতিকাফ করে।"
ফলে সাহাবীগণ তাঁর সাথে ইতিকাফ করলেন। তিনি আরও বললেন: "আমাকে স্বপ্ন যোগে দেখানো হয়েছে যে সেটি একটি বেজোড় রাতে এবং আমি (পরদিন) সকালে কাদা ও পানির মধ্যে সিজদা করছি।"
এরপর একুশতম রাতে আকাশ থেকে বৃষ্টি হলো এবং মসজিদের ছাদ (খেজুর পাতার হওয়ায়) চুইয়ে পানি পড়ল। আমি কাদা ও পানি দেখতে পেলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ফজরের নামাজ শেষ করে বের হলেন, তখন তাঁর কপাল এবং নাকের ডগায় কাদা ও পানির চিহ্ন লেগে ছিল। আর সেটি ছিল শেষ দশকের একুশতম রাত।"
এ কারণে অনেক ওলামায়ে কেরাম মনে করেন, ২১শে রমযানের রাতে কদর হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা থাকে।
এছাড়া আল্লামা সফিউর রহমান মুবারকপুরী রহ. তাঁর বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ 'আর-রাহীকুল মাখতূম' এ বলেন:
[quote]["সকল দলিল-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়, কুরআন নাযিলের প্রথম দিনটি ছিল সোমবার। রমাদানের একবিংশ রাত।"/quote]
তারপর এই অংশের পাদটীকায় তিনি বলেন:
২১ তারিখ উক্ত হাদিস ও পর্যালোচনার আলোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শবে কদর হওয়ার জন্য অন্যতম সম্ভাব্য রাত। তবে হাদিস অনুযায়ী একে "একমাত্র" বা "নির্দিষ্ট" রাত হিসেবে ধরা হয় না, বরং শেষ ১০ দিনের সব বেজোড় রাতেই ইবাদত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আমার দুআ থেকে যেন মাযলূম উম্মাহ মাহরূম না হয়!
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শবে কদরের সৌভাগ্য নসীব করুন, আমীন!
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, শবে কদর বা লাইলাতুল কদরকে একটি নির্দিষ্ট রাতে আটকে না রেখে বরং রমযানের শেষ দশকে খোঁজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমের একাধিক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
"তোমরা রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)
এর মানে হলো ২১, ২৩, ২৫, ২৭ এবং ২৯ এই প্রতিটি রাতেই শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
শবে কদরকে সুনির্দিষ্ট না করার পেছনে বড় রহস্য হলো যেন বান্দা কেবল একটি রাতে ইবাদত করে বাকি রাতগুলো অবহেলায় না কাটায়। যদি ২১ তারিখ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হতো, তবে মানুষ অন্য রাতগুলোর ফজিলত থেকে বঞ্চিত হতো।
তবে কিছু নির্দিষ্ট হাদিসে ২১শে রমযানের কথা বিশেষভাবে এসেছে। যেমন:
হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রাযি) বর্ণিত এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার স্বপ্নে দেখেছিলেন যে তিনি কদরের রাতের পরদিন সকালে কাদা ও পানিতে সেজদা করছেন। কাকতালীয়ভাবে সেই বছর ২১শে রমজানের সকালে বৃষ্টি হয়েছিল এবং মসজিদের মেঝে ভেজা ছিল।
إِنِّي اعْتَكَفْتُ الْعَشْرَ الْأَوَّلَ، أَلْتَمِسُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ، ثُمَّ اعْتَكَفْتُ الْعَشْرَ الْأَوْسَطَ، ثُمَّ أُتِيتُ، فَقِيلَ لِي: إِنَّهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ، فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَعْتَكِفَ فَلْيَعْتَكِفْ " فَاعْتَكَفَ النَّاسُ مَعَهُ، قَالَ: وَإِنِّي أُرِيتُهَا لَيْلَةَ وِتْرٍ، وَإِنِّي أَسْجُدُ صَبِيحَتَهَا فِي طِينٍ وَمَاءٍ فَأَصْبَحَ مِنْ لَيْلَةِ إِحْدَى وَعِشْرِينَ، وَقَدْ قَامَ إِلَى الصُّبْحِ، فَمَطَرَتِ السَّمَاءُ، فَوَكَفَ الْمَسْجِدُ ، فَأَبْصَرْتُ الدِّينَ وَالْمَاءَ، فَخَرَجَ حِينَ فَرَغَ مِنْ صَلَاةِ الصُّبْحِ، وَجَبِينُهُ وَرَوْثَةُ أَنْفِهِ فِيهِمَا الدِّينُ وَالْمَاءُ، وَإِذَا هِيَ لَيْلَةُ إِحْدَى وَعِشْرِينَ مِنَ الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ
"আমি (লাইলাতুল কদরের) সন্ধানে রমযানের প্রথম দশ দিন ইতিকাফ করলাম, এরপর ইতিকাফ করলাম মধ্যবর্তী দশ দিন। তারপর আমার নিকট একজন (ফেরেশতা) আসলেন এবং আমাকে বলা হলো যে, সেটি (লাইলাতুল কদর) শেষ দশ দিনের মধ্যে রয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা ইতিকাফ করতে ইচ্ছুক, তারা যেন ইতিকাফ করে।"
ফলে সাহাবীগণ তাঁর সাথে ইতিকাফ করলেন। তিনি আরও বললেন: "আমাকে স্বপ্ন যোগে দেখানো হয়েছে যে সেটি একটি বেজোড় রাতে এবং আমি (পরদিন) সকালে কাদা ও পানির মধ্যে সিজদা করছি।"
এরপর একুশতম রাতে আকাশ থেকে বৃষ্টি হলো এবং মসজিদের ছাদ (খেজুর পাতার হওয়ায়) চুইয়ে পানি পড়ল। আমি কাদা ও পানি দেখতে পেলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ফজরের নামাজ শেষ করে বের হলেন, তখন তাঁর কপাল এবং নাকের ডগায় কাদা ও পানির চিহ্ন লেগে ছিল। আর সেটি ছিল শেষ দশকের একুশতম রাত।"
এ কারণে অনেক ওলামায়ে কেরাম মনে করেন, ২১শে রমযানের রাতে কদর হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা থাকে।
এছাড়া আল্লামা সফিউর রহমান মুবারকপুরী রহ. তাঁর বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ 'আর-রাহীকুল মাখতূম' এ বলেন:
[quote]["সকল দলিল-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়, কুরআন নাযিলের প্রথম দিনটি ছিল সোমবার। রমাদানের একবিংশ রাত।"/quote]
তারপর এই অংশের পাদটীকায় তিনি বলেন:
"আল্লাহ তাআলা প্রথম কোন মাসে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবুয়তের মর্যাদাপ্রদান এবং ওহি নাযিলের মাধ্যমে মর্যাদাবান করেছিলেন; তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মাঝে দ্বিমত দেখা যায়। তাদের এক দলের মতে, তা ছিল রবিউল আউয়াল মাসে। অন্য দলের মতে, রমাদান মাসে। রজব মাসের পক্ষেও মত দিয়েছেন কেউ কেউ। [দেখুন- মুখতাসারু সিরাতির রাসুল, আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আব্দিল ওয়াহহাব আন-নাজদি, পৃষ্ঠা : ৭৫]
আমরা দ্বিতীয় মত তথা রমাদান মাসকে প্রাধান্য দিয়েছি। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন- (شَہۡرُ رَمَضَانَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ فِیۡہِ الۡقُرۡاٰنُ) রমাদান ওই মাস, যে মাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। [সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন- ( اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰہُ فِیۡ لَیۡلَۃِ الۡقَدۡرِ ۚۖ ) নিশ্চয় আমি তা কদরের রাতে অবতীর্ণ করেছি। [সূরা কদর, আয়াত : ১]
আর এ কথা সকলেরই জানা, কদরের রাত রামাদান মাসের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলার বাণী (اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰہُ فِیۡ لَیۡلَۃٍ مُّبٰرَکَۃٍ اِنَّا کُنَّا مُنۡذِرِیۡنَ)
নিশ্চয় আমি তা এক বরকতপূর্ণ রাতে অবতীর্ণ করেছি। নিশ্চয় আমি সতর্ককারী [সূরা দুখান, আয়াত: ৩]
কথাগুলো দ্বারা এটাই বোঝানো হয়েছে। তাছাড়া নবীজি ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) রমাদান মাসেই হেরা গুহায় সময় কাটাতেন। আর জিবরীল আলাইহিস সালাম সেই মাসেই এসেছিলেন বলে প্রসিদ্ধ।
তারপর রমাদানের ঠিক কোন তারিখে ওহি অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়েছিল; তা নিয়েও দ্বিমত রয়েছে। কেউ বলেন, ৭ তারিখ। কেউ বলেন, ২৭ তারিখ। আবার কেউ বলেন, ২৮ তারিখ। [দেখুন:প্রাগুক্ত, রহমাতুল- লিল আলামিন, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৪৯)
তবে, খুদারি ২৭ তারিখের ব্যাপারে জোর দিয়েছেন। [মুহাদরাতু তারিখিল উমামিল ইসলামিয়া, খুদারি, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৬৯]
আমরা ২১ তারিখকে প্রাধান্য দিয়েছি; যদিও এ ব্যাপারে কারও মত দেখা যায় না। কারণ সিরাত- বিশেষজ্ঞদের সকলে কিংবা অধিকাংশ একমত যে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়তের সূচনা হয়েছিল সোমবার। একাধিক মুহাদ্দিস হযরত আবু কাতাদা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সোমবারে সিয়াম রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,
فيه ولدتُ، فيه أنزل عليَّ، وفي لفظ: ذاك يوم ولدتُ فيه ويوم بعثتُ أو أنزل علي فيه
এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি, এই দিনে ওহি অবতীর্ণ হয়েছে। অপর এক হাদিসে আছে, নবিজি বলেন, এটা এমন এক দিন যেদিন আমি দুনিয়ায় এসেছি এবং এমন এক দিন যেদিন আমি নবুয়ত পেয়েছি বা আমার ওপর ওহি নাযিল হয়েছে। [দেখুন, সহিহ মুসলিম : ১১৬২; মুসনাদু আহমাদ : ২২৫৩৭; আস-সুনানুল কুবরা, বাইহাকি : ৮৪৭৬; মুস্তাখরাজু আবি আওয়ানা : ৩১৬৮]
সেই বছর রমাদান মাসে সোমবারের তারিখগুলো ছিল ৭, ১৪, ২১ ও ২৮। একাধিক সহিহ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, কদরের রাত রমাদানের শেষ দশকের বেজোড় তারিখেই হয়েছিল।
এবার আমরা যদি সূরা কদরের প্রথম আয়াত, হযরত আবু কাতাদা রাযি. থেকে বর্ণিত হাদিস অনুসারে সোমবারের নবুয়তপ্রাপ্তির বিষয়টি এবং আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত হিসেব অনুসারে সেই বছর রমাদানে সোমবারের বিষয়টি সামনে রাখি, তাহলে নির্দিষ্ট হয়ে যায় যে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমাদানের একবিংশ রাতেই নবুয়ত লাভ করেছিলেন।"
আমরা দ্বিতীয় মত তথা রমাদান মাসকে প্রাধান্য দিয়েছি। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন- (شَہۡرُ رَمَضَانَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ فِیۡہِ الۡقُرۡاٰنُ) রমাদান ওই মাস, যে মাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। [সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন- ( اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰہُ فِیۡ لَیۡلَۃِ الۡقَدۡرِ ۚۖ ) নিশ্চয় আমি তা কদরের রাতে অবতীর্ণ করেছি। [সূরা কদর, আয়াত : ১]
আর এ কথা সকলেরই জানা, কদরের রাত রামাদান মাসের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলার বাণী (اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰہُ فِیۡ لَیۡلَۃٍ مُّبٰرَکَۃٍ اِنَّا کُنَّا مُنۡذِرِیۡنَ)
নিশ্চয় আমি তা এক বরকতপূর্ণ রাতে অবতীর্ণ করেছি। নিশ্চয় আমি সতর্ককারী [সূরা দুখান, আয়াত: ৩]
কথাগুলো দ্বারা এটাই বোঝানো হয়েছে। তাছাড়া নবীজি ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) রমাদান মাসেই হেরা গুহায় সময় কাটাতেন। আর জিবরীল আলাইহিস সালাম সেই মাসেই এসেছিলেন বলে প্রসিদ্ধ।
তারপর রমাদানের ঠিক কোন তারিখে ওহি অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়েছিল; তা নিয়েও দ্বিমত রয়েছে। কেউ বলেন, ৭ তারিখ। কেউ বলেন, ২৭ তারিখ। আবার কেউ বলেন, ২৮ তারিখ। [দেখুন:প্রাগুক্ত, রহমাতুল- লিল আলামিন, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৪৯)
তবে, খুদারি ২৭ তারিখের ব্যাপারে জোর দিয়েছেন। [মুহাদরাতু তারিখিল উমামিল ইসলামিয়া, খুদারি, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৬৯]
আমরা ২১ তারিখকে প্রাধান্য দিয়েছি; যদিও এ ব্যাপারে কারও মত দেখা যায় না। কারণ সিরাত- বিশেষজ্ঞদের সকলে কিংবা অধিকাংশ একমত যে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়তের সূচনা হয়েছিল সোমবার। একাধিক মুহাদ্দিস হযরত আবু কাতাদা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সোমবারে সিয়াম রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,
فيه ولدتُ، فيه أنزل عليَّ، وفي لفظ: ذاك يوم ولدتُ فيه ويوم بعثتُ أو أنزل علي فيه
এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি, এই দিনে ওহি অবতীর্ণ হয়েছে। অপর এক হাদিসে আছে, নবিজি বলেন, এটা এমন এক দিন যেদিন আমি দুনিয়ায় এসেছি এবং এমন এক দিন যেদিন আমি নবুয়ত পেয়েছি বা আমার ওপর ওহি নাযিল হয়েছে। [দেখুন, সহিহ মুসলিম : ১১৬২; মুসনাদু আহমাদ : ২২৫৩৭; আস-সুনানুল কুবরা, বাইহাকি : ৮৪৭৬; মুস্তাখরাজু আবি আওয়ানা : ৩১৬৮]
সেই বছর রমাদান মাসে সোমবারের তারিখগুলো ছিল ৭, ১৪, ২১ ও ২৮। একাধিক সহিহ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, কদরের রাত রমাদানের শেষ দশকের বেজোড় তারিখেই হয়েছিল।
এবার আমরা যদি সূরা কদরের প্রথম আয়াত, হযরত আবু কাতাদা রাযি. থেকে বর্ণিত হাদিস অনুসারে সোমবারের নবুয়তপ্রাপ্তির বিষয়টি এবং আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত হিসেব অনুসারে সেই বছর রমাদানে সোমবারের বিষয়টি সামনে রাখি, তাহলে নির্দিষ্ট হয়ে যায় যে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমাদানের একবিংশ রাতেই নবুয়ত লাভ করেছিলেন।"
আমার দুআ থেকে যেন মাযলূম উম্মাহ মাহরূম না হয়!
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শবে কদরের সৌভাগ্য নসীব করুন, আমীন!