মুমিন, সে মানুষের সাথে তেমন আচরণই করে, যা সে নিজের জন্য প্রত্যাশা করে || আবু বাকর আলহিনদী
সে মানুষের সাথে তেমন আচরণই করে, যা সে নিজের জন্য প্রত্যাশা করে এবং তাদের সাথে তেমন ব্যবহারই করে, যা সে তাদের নিকট থেকে পেতে চায়। সে তাদের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকে যেমনটি সে নিজের ক্ষেত্রে কামনা করে। সে তাদের জন্য তেমন কল্যাণ কামনা করে যা নিজের জন্য করে এবং তাদের ব্যাপারে তেমন ফয়সালা দেয় যা নিজের জন্য পছন্দ করে। সে তাদের দেওয়া কষ্ট সহ্য করে কিন্তু তাদের কষ্ট দেয় না। তাদের মান-সম্মান রক্ষা করে চলে এবং তারা তার মানহানি করলেও সে তার পাল্টা প্রতিশোধ নেয় না। সে তাদের কোনো ভালো গুণ দেখলে তা প্রচার করে আর দোষ দেখলে তা গোপন রাখে। যে পর্যন্ত শরীয়তের কোনো বিধান লঙ্খন না হয় কিংবা আল্লাহর আদেশ-নিষেধের পরিপন্থী না হয়, ততক্ষণ সে সাধ্যমতো তাদের ওজর-আপত্তি কবুল করার চেষ্টা করে।
তাঁর চরিত্রের মাঝেও রয়েছে সর্বোত্তম ও পবিত্রতম গুণাবলি; যেমন—সহনশীলতা, গাম্ভীর্য, প্রশান্তি, দয়া, ধৈর্য, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, কোমলতা, অমায়িক স্বভাব, সত্যবাদিতা এবং হিংসা, প্রতারণা, ঘৃণা ও বিদ্বেষ থেকে হৃদয়ের পরিচ্ছন্নতা। আরও রয়েছে মুমিনদের প্রতি বিনয় ও নম্রতা এবং আল্লাহর শত্রুদের প্রতি কঠোরতা ও আত্মমর্যাদাবোধ। তদুপরি, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও কাছে হীনতা প্রকাশ বা ধর্না দেওয়া থেকে স্বীয় সম্মানকে রক্ষা করা, চারিত্রিক পবিত্রতা, সাহসিকতা, দানশীলতা, বীরত্ব এবং এমন প্রতিটি স্বভাব—যার শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে সমস্ত শরিয়ত, মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি ও বুদ্ধি একমত হয়েছে।
তদ্রূপ তিনি আহার্যের মধ্য হতে সর্বোত্তমটিই নির্বাচন করেন; আর তা হলো সেই হালাল, তৃপ্তিদায়ক ও সহজপ্রাচ্য খাদ্য যা দেহ ও আত্মাকে সর্বোত্তম উপায়ে পুষ্ট করে এবং যার মন্দ পরিণাম বা দায় থেকে বান্দা নিরাপদ থাকে।
অনুরূপভাবে তিনি দাম্পত্যের ক্ষেত্রে কেবল পবিত্রতম ও শ্রেষ্ঠটিই পছন্দ করেন, সুগন্ধির ক্ষেত্রেও সর্বোত্তমটি বেছে নেন এবং সঙ্গী ও সহচরদের মধ্য হতে কেবল সজ্জনদেরই গ্রহণ করেন। ফলে তাঁর আত্মা পবিত্র, দেহ পবিত্র, চরিত্র পবিত্র, কর্ম পবিত্র, কথা পবিত্র, খাদ্য পবিত্র, পানীয় পবিত্র, পোশাক পবিত্র, দাম্পত্য পবিত্র, তাঁর প্রবেশস্থল পবিত্র, বহির্গমন পবিত্র, প্রত্যাবর্তনস্থল পবিত্র এবং তাঁর সামগ্রিক আবাসস্থলই পবিত্র। তিনিই সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
[আন-নাহল: ৩২]
সুতরাং সৌভাগ্যবান ও পবিত্র ব্যক্তির জন্য পবিত্র বিষয় ছাড়া অন্য কিছু শোভা পায় না, সে পবিত্র কাজ ছাড়া অন্য কিছু করে না, তার থেকে পবিত্রতা ছাড়া অন্য কিছু নির্গত হয় না এবং সে পবিত্রতা ছাড়া অন্য কিছুর সাথে সম্পৃক্ত হয় না। আর দুর্ভাগ্যবান ও অপবিত্র ব্যক্তির জন্য অপবিত্রতা ছাড়া অন্য কিছু শোভা পায় না, সে অপবিত্র কাজ ছাড়া অন্য কিছু করে না এবং তার থেকে অপবিত্রতা ছাড়া অন্য কিছু নির্গত হয় না। সুতরাং অপবিত্র ব্যক্তির অন্তর থেকে অপবিত্রতা তার জিহ্বা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিচ্ছুরিত হয়, আর পবিত্র ব্যক্তির অন্তর থেকে পবিত্রতা তার জিহ্বা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিচ্ছুরিত হয়। কখনো কখনো এক ব্যক্তির মধ্যে উভয় উপাদান থাকতে পারে, তখন যা তার ওপর প্রবল হবে সে তারই অন্তর্ভুক্ত হবে। যদি আল্লাহ তার কল্যাণ চান, তবে মৃত্যুর পূর্বেই তাকে অপবিত্র উপাদান থেকে পবিত্র করেন; ফলে কিয়ামতের দিন সে পবিত্র অবস্থায় আল্লাহর সম্মুখীন হয় এবং জাহান্নামের আগুনের মাধ্যমে তাকে পবিত্র করার প্রয়োজন পড়ে না।
সুতরাং সেই সত্তা কতই না পবিত্র, যাঁর সৃষ্টির প্রকৃতি ও বিচারবুদ্ধি সাক্ষ্য দেয় যে, তিনি শ্রেষ্ঠ বিচারক ও বিশ্বজগতের প্রতিপালক, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই।
সে মানুষের সাথে তেমন আচরণই করে, যা সে নিজের জন্য প্রত্যাশা করে এবং তাদের সাথে তেমন ব্যবহারই করে, যা সে তাদের নিকট থেকে পেতে চায়। সে তাদের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকে যেমনটি সে নিজের ক্ষেত্রে কামনা করে। সে তাদের জন্য তেমন কল্যাণ কামনা করে যা নিজের জন্য করে এবং তাদের ব্যাপারে তেমন ফয়সালা দেয় যা নিজের জন্য পছন্দ করে। সে তাদের দেওয়া কষ্ট সহ্য করে কিন্তু তাদের কষ্ট দেয় না। তাদের মান-সম্মান রক্ষা করে চলে এবং তারা তার মানহানি করলেও সে তার পাল্টা প্রতিশোধ নেয় না। সে তাদের কোনো ভালো গুণ দেখলে তা প্রচার করে আর দোষ দেখলে তা গোপন রাখে। যে পর্যন্ত শরীয়তের কোনো বিধান লঙ্খন না হয় কিংবা আল্লাহর আদেশ-নিষেধের পরিপন্থী না হয়, ততক্ষণ সে সাধ্যমতো তাদের ওজর-আপত্তি কবুল করার চেষ্টা করে।
তাঁর চরিত্রের মাঝেও রয়েছে সর্বোত্তম ও পবিত্রতম গুণাবলি; যেমন—সহনশীলতা, গাম্ভীর্য, প্রশান্তি, দয়া, ধৈর্য, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, কোমলতা, অমায়িক স্বভাব, সত্যবাদিতা এবং হিংসা, প্রতারণা, ঘৃণা ও বিদ্বেষ থেকে হৃদয়ের পরিচ্ছন্নতা। আরও রয়েছে মুমিনদের প্রতি বিনয় ও নম্রতা এবং আল্লাহর শত্রুদের প্রতি কঠোরতা ও আত্মমর্যাদাবোধ। তদুপরি, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও কাছে হীনতা প্রকাশ বা ধর্না দেওয়া থেকে স্বীয় সম্মানকে রক্ষা করা, চারিত্রিক পবিত্রতা, সাহসিকতা, দানশীলতা, বীরত্ব এবং এমন প্রতিটি স্বভাব—যার শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে সমস্ত শরিয়ত, মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি ও বুদ্ধি একমত হয়েছে।
তদ্রূপ তিনি আহার্যের মধ্য হতে সর্বোত্তমটিই নির্বাচন করেন; আর তা হলো সেই হালাল, তৃপ্তিদায়ক ও সহজপ্রাচ্য খাদ্য যা দেহ ও আত্মাকে সর্বোত্তম উপায়ে পুষ্ট করে এবং যার মন্দ পরিণাম বা দায় থেকে বান্দা নিরাপদ থাকে।
অনুরূপভাবে তিনি দাম্পত্যের ক্ষেত্রে কেবল পবিত্রতম ও শ্রেষ্ঠটিই পছন্দ করেন, সুগন্ধির ক্ষেত্রেও সর্বোত্তমটি বেছে নেন এবং সঙ্গী ও সহচরদের মধ্য হতে কেবল সজ্জনদেরই গ্রহণ করেন। ফলে তাঁর আত্মা পবিত্র, দেহ পবিত্র, চরিত্র পবিত্র, কর্ম পবিত্র, কথা পবিত্র, খাদ্য পবিত্র, পানীয় পবিত্র, পোশাক পবিত্র, দাম্পত্য পবিত্র, তাঁর প্রবেশস্থল পবিত্র, বহির্গমন পবিত্র, প্রত্যাবর্তনস্থল পবিত্র এবং তাঁর সামগ্রিক আবাসস্থলই পবিত্র। তিনিই সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
{الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ طَيِّبِينَ يَقُولُونَ سَلَامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ}
“যাদের জান কবজ করেন ফেরেশতারা এমতাবস্থায় যে তারা পবিত্র; ফেরেশতারা বলেন, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমরা যা করতে তার বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ করো।”
وَمِنَ الَّذِينَ يَقُولُ لَهُمْ خَزَنَةُ الْجَنَّةِ: {سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ} [الزمر: 73]
এবং তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে জান্নাতের রক্ষীরা বলবে: “তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমরা পবিত্র হয়েছ, সুতরাং জান্নাতে প্রবেশ করো চিরকাল অবস্থানের জন্য।”
[আয-যুমার: ৭৩]
সুতরাং সৌভাগ্যবান ও পবিত্র ব্যক্তির জন্য পবিত্র বিষয় ছাড়া অন্য কিছু শোভা পায় না, সে পবিত্র কাজ ছাড়া অন্য কিছু করে না, তার থেকে পবিত্রতা ছাড়া অন্য কিছু নির্গত হয় না এবং সে পবিত্রতা ছাড়া অন্য কিছুর সাথে সম্পৃক্ত হয় না। আর দুর্ভাগ্যবান ও অপবিত্র ব্যক্তির জন্য অপবিত্রতা ছাড়া অন্য কিছু শোভা পায় না, সে অপবিত্র কাজ ছাড়া অন্য কিছু করে না এবং তার থেকে অপবিত্রতা ছাড়া অন্য কিছু নির্গত হয় না। সুতরাং অপবিত্র ব্যক্তির অন্তর থেকে অপবিত্রতা তার জিহ্বা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিচ্ছুরিত হয়, আর পবিত্র ব্যক্তির অন্তর থেকে পবিত্রতা তার জিহ্বা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিচ্ছুরিত হয়। কখনো কখনো এক ব্যক্তির মধ্যে উভয় উপাদান থাকতে পারে, তখন যা তার ওপর প্রবল হবে সে তারই অন্তর্ভুক্ত হবে। যদি আল্লাহ তার কল্যাণ চান, তবে মৃত্যুর পূর্বেই তাকে অপবিত্র উপাদান থেকে পবিত্র করেন; ফলে কিয়ামতের দিন সে পবিত্র অবস্থায় আল্লাহর সম্মুখীন হয় এবং জাহান্নামের আগুনের মাধ্যমে তাকে পবিত্র করার প্রয়োজন পড়ে না।
সুতরাং সেই সত্তা কতই না পবিত্র, যাঁর সৃষ্টির প্রকৃতি ও বিচারবুদ্ধি সাক্ষ্য দেয় যে, তিনি শ্রেষ্ঠ বিচারক ও বিশ্বজগতের প্রতিপালক, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই।