Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫২ || কেমন ছিলেন তারা?! ।। শাইখ খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল হুসাইনান রহিমাহুল্লাহ - প্রথম পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫২ || কেমন ছিলেন তারা?! ।। শাইখ খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল হুসাইনান রহিমাহুল্লাহ - প্রথম পর্ব

    আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
    কেমন ছিলেন তারা?!
    ।। শাইখ খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল হুসাইনান রহিমাহুল্লাহ– ।।
    –।।থেকে- প্রথম পর্ব


    প্রিয় সম্মানিত ভাইয়েরা আমার!

    আমরা একটু ভাবি, চিন্তা করি, খানিক হিসাব মিলাই, সেই আল্লাহপ্রেমী প্রজন্মের ব্যাপারে। সে এক অনন্য জাতি। বিস্ময়কর জামাত। ইতিহাস এমন আরেকটি জামাতের জানান দিতে অক্ষম। তাদের প্রকৃত প্রশংসার বিবরণ একমাত্র ঐশী গ্রন্থ কোরআনই দিতে পেরেছে কোরআনে তাদের রব তাদের ব্যাপারে বলেন-

    لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا

    “অর্থঃ আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, যখন তারা বৃক্ষের নীচে আপনার কাছে শপথ করল। আল্লাহ অবগত ছিলেন যা তাদের অন্তরে ছিল। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদেরকে আসন্ন বিজয় পুরস্কার দিলেন। (সুরা ফাতাহ ৪৮:১৮)

    তিনি জানেন তাদের অন্তরে কি আছে। অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের অন্তরের ইখলাস, আত্মার পবিত্রতা, নিয়তের বিশুদ্ধতা আর ঈমানের পূর্ণতা ব্যাপারে সম্যক অবগত ছিলেন।

    তিনি জানেন তাদের অন্তরে কি আছে ফলে তিনি তাদের উপর নাযিল করলেন- সাকিনা, আর তাদেরকে দান করলেন নিকটতম বিজয়।

    রবের প্রশংসার পাশাপাশি রবের মনোনীত রাসূলও তাদের প্রশংসা করেছেন মন খুলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

    وَعَن عِمْرَانَ بنِ الحُصَيْنِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أنّه قَالَ خَيْرُكُمْ قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ

    ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
    তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম যুগ হল আমার (সাহাবীদের) যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী (তাবেয়ীদের) যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী (তাবে-তাবেয়ীনদের) যুগ।” (বুখারী ২৬৫১, মুসলিম ৬৬৩৮)

    উত্তম যুগ (তথা জাতি) হলো আমার যুগ। অর্থাৎ এই মানব সভ্যতার মধ্যে সবচে উত্তম প্রজন্ম হলো, আমার সাহাবীদের প্রজন্ম। অন্তরের পবিত্রতা আর আঁকলের স্বচ্ছতায় তারা অনন্য। আমাদের আজকের আলোচনা হচ্ছে সেই পবিত্র প্রজন্মের পবিত্র মানুষগুলো নিয়ে। কেমন ছিলেন তারা? কেমন ছিল তাদের জীবন?



    কোরআনের সাথে তারা কেমন ছিলেন?

    কোরআনই হলো এই উম্মাহর সংবিধান। এই উম্মাহর উন্নতির সোপান। আল্লাহ তায়ালা এই কোরআনের মাধ্যমেই এই উম্মাহকে সমূহ অন্ধকার থেকে আলোর পথে এনেছেন। তাই এই কোরআনের প্রতি সেই পবিত্র মানুষগুলোর গুরুত্ব ও আগ্রহ ছিল ঈর্ষা করার মত।

    কোরআন মুখস্থ করা, তিলাওয়াত করা, আয়াত নিয়ে ফিকির করা, কোরআনের উপর আমল করা, সমাজে কোরআন বাস্তবায়ন করা - এ-ই ছিল তাদের জীবনের ব্রত। প্রসিদ্ধ সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সাহাবাদের কোরআনপ্রীতির বিবরণ দিয়ে বলেন-

    ‘আমাদের সাহাবাদের কেউ যদি কোরআনের দশটি আয়াত মুখস্থ করতো, তাহলে যতক্ষণ না এই দশ আয়াতের ব্যাখ্যা ও মর্ম না বুঝেছে এবং জীবনে শতভাগ তা বাস্তবায়ন করেছে - ততক্ষণ সামনে যেতো না’

    সুবহানাল্লাহ! একটু চিন্তা করুন। মাত্র দশ আয়াত! তাও আমলে বাস্তবায়ন না করে সামনে যাবেনা। এই হাদিসের[1] নিরিখে আমরা আমাদের বাস্তবতা পরখ করি।


    আজ আমরা কোরআন মুখস্থ করছি পুরো কোরআন মধুর সুরে তিলাওয়াত করছি (যদিও মধুর সুরে তিলাওয়াত করা শরীয়তে প্রশংসনীয় বিষয়) কিন্তু কোরআন তিলাওয়াত করার দ্বারা আমাদের টার্গেট কি?

    আমার মধুর তিলাওয়াত বিভিন্ন চ্যানেলে যাবে, মানুষ শুনবে, বাহবা দিবে। সুনাম হবে। লাইক কমেন্ট হবে। ফলোয়ার বাড়বে। কিন্তু আমরা কি সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছি যে, এই কোরআন শতভাগ আমার জীবনে বাস্তবায়ন হবে? কোন আয়াত শতভাগ বাস্তবায়ন না করে আমি সামনে যাবো না - আমরা ক’জন এভাবে ভেবেছি? প্রত্যেকেই নিজের অবস্থা যাচাই করে দেখি!!!

    যখনই কোরআনের কোন আয়াত তিলাওয়াত করেন, তখনই ভাবুন। আপনি কি আপনার বাস্তব জীবনে এই আয়াতটি প্রয়োগ করেছেন?

    কোরআনের একটি মাত্র আয়াত - সিয়ামের আয়াত। শুধু সুরা বাকারায় এসেছে-

    يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

    “অর্থঃ হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেজগারি অর্জন করতে পার। (সুরা বাকারা ২:১৮৩)

    সুরা বাকারার সিয়াম সংক্রান্ত এই একটি আয়াতের উপর পুরো মুসলিম উম্মাহ আমল করে। এই আয়াতটি সামনে রেখে তারা সিয়াম পালন করে। সিয়াম পালন করা ইসলামের একটি অতীব জরুরী বিধান বলে বিশ্বাস করে। সিয়াম পরিত্যাগকারীকে গুনাহগার মনে করে। সবকিছু মাত্র একটি আয়াতের কারণে। আলহামদুলিল্লাহ

    কিন্তু জিহাদ সংক্রান্ত কয়টি আয়াত এসেছে? কতগুলো সুরায় এসেছে?

    সুরা বাকারা, সুরা আলে ইমরান, সুরা নিসা, সুরা মায়েদা, সুরা আনফাল, সুরা তাওবা, সুরা সাফ, সুরা কিতাল যার অপর নাম সুরা মুহাম্মদ, সুরা আহযাব কত অগণিত আয়াতে জিহাদের আলোচনা হলো, জিহাদের তারগীব দেওয়া হলোজিহাদকে ফরজ ঘোষণা দেওয়া হলো, মুজাহিদদের ফযিলত বলা হলো, জিহাদ পরিত্যাগকারীদের নিন্দা করা হলোজিহাদ থেকে পিছনে অবস্থানকারীদের মুনাফিক আখ্যা দেওয়া হলোজিহাদে শাহাদাত বরণকারীদের মর্যাদা শুনানো হলোআরও কত আলোচনা। কিন্তু আজ উম্মাহর কতজন মানুষ আছে যারা এই আয়াতগুলো জানে এবং নিজের জীবনে বাস্তবায়নের ইচ্ছা রাখে?

    হে আল্লাহর প্রিয় বান্দা! এভাবেই আপনি কোরআনের সাথে আপনার সম্পর্কের অবস্থান যাচাই করুনআসলেই কি আপনার বাস্তব জীবনে কোরআন আছে? কোরআন কি আপনার উপর প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে, নাকি আপনি অবস্থান করছেন, কোরআন থেকে দূরে, বহু দূরে?

    আপনার চরিত্র, আপনার চালচলন এবং লেনদেনে কি কোরআন আছে?

    কত মানুষ এমন আছে সে কোরআন তিলাওয়াত করছে, কিন্তু কোরআন তাকে লা’নত করছে। নাউযুবিল্লাহ!

    সে সুদের আয়াত তিলাওয়াত করছে, কিন্তু এখনো সুদের সাথে জড়িত। মুখে তিলাওয়াত করলেও কার্যত সে এই আয়াত অস্বীকার করেছে।

    হে আমার প্রিয় দ্বীনি ভাই!

    আহলে কোরআনরাই দুনিয়া আখিরাতে অগ্রে থাকবে। দুনিয়ার ব্যাপারে তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেই দিয়েছেন, ‘নামাজের ইমামতি সে-ই করবে, যার কোরআন বেশি জানা আছে’

    তো দুনিয়াতে সে সবার আগে থাকলো। আর আখিরাতেও সে আগে থাকবে। যেমন হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-

    حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَجْمَعُ بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ مِنْ قَتْلَى أُحُدٍ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ ثُمَّ يَقُولُ ‏"‏ أَيُّهُمْ أَكْثَرُ أَخْذًا لِلْقُرْآنِ ‏"‏‏.‏ فَإِذَا أُشِيرَ لَهُ إِلَى أَحَدِهِمَا قَدَّمَهُ فِي اللَّحْدِ وَقَالَ ‏"‏ أَنَا شَهِيدٌ عَلَى هَؤُلاَءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏‏.‏ وَأَمَرَ بِدَفْنِهِمْ فِي دِمَائِهِمْ، وَلَمْ يُغَسَّلُوا وَلَمْ يُصَلَّ عَلَيْهِمْ‏.‏

    জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

    তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উহুদের শহীদগণের দু’ দু’ জনকে একই কাপড়ে (কবরে) একত্র করতেন। অতঃপর জিজ্ঞেস করতেন, তাঁদের উভয়ের মধ্যে কে কুরআন সম্পর্কে অধিক জানত? দু’ জনের মধ্যে এক জনের দিকে ইঙ্গিত করা হলে তাঁকে কবরে পূর্বে রাখতেন এবং বলতেন, আমি কিয়ামতের দিন এদের ব্যাপারে সাক্ষী হব। তিনি রক্ত-মাখা অবস্থায় তাঁদের দাফন করার নির্দেশ দিলেন, তাঁদের গোসল দেয়া হয়নি এবং তাঁদের (জানাযার) সালাতও আদায় করা হয়নি” (বুখারী ১৩৪৩, তিরমিযী ১০২৬, নাসায়ী ১৯৫৫, ২০২১, আবূ দাউদ ৩১২৮, ইবনু মাজাহ ১৫১৪, আহমাদ ১৩৭৭৭)

    হে আল্লাহর বান্দা! কবরেও আহলে কোরআন অগ্রে থাকলো। এরপর যখন আখিরাতে জান্নাতে যাবে, তখনও কোরআনওয়ালা আগে আগেই থাকবে। যেমনটা এসেছে জামে তিরমিযীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- কোরআনের ক্বারীকে আল্লাহ তায়ালা বলবেন,

    حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي عَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ اقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا ‏"‏

    আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (কিয়ামতে) কুরআন অধ্যয়নকারীকে বলা হবে, কুরআন পাঠ করতে করতে উপরে উঠতে থাকো। তুমি দুনিয়াতে যেভাবে ধীরে সুস্থে পাঠ করতে সেভাবে পাঠ করো। কেননা তোমার তিলাওয়াতের শেষ আয়াতেই (জান্নাতে) তোমার বাসস্থান হবে। (তিরমিযী ২৯১৪, আহমাদ ৬৭৯৯)

    আল্লাহু আকবার! কত বড় মর্যাদা।

    সুতরাং হে আমার প্রিয় ভাইয়েরা!

    আমাদের উচিত, আমরা যখনই কোরআনের কোন আয়াত পড়ি, তা নিয়ে যেন ভাবি এবং ফিকির করি। নিজের জীবনে প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেই। যাতে আমরাও সেই পবিত্র প্রজন্মের সাথে মিলতে পারি। কিয়ামতের ময়দানে তাদের সাথে দলবদ্ধ হতে পারি।



    [1] عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ حَدَّثَنَا مَنْ كَانَ يُقْرِئُنَا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَنَّهُمْ كَانُوا يَقْتَرِئُونَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم عَشْرَ آيَاتٍ فَلَا يَأْخُذُونَ فِي الْعَشْرِ الْأُخْرَى حَتَّى يَعْلَمُوا مَا فِي هَذِهِ مِنْ الْعِلْمِ وَالْعَمَلِ قَالُوا فَعَلِمْنَا الْعِلْمَ وَالْعَمَلَ

    আবু আব্দুর রহমান সুলামী রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিতঃ
    ‘আমাদেরকে আমাদের ওস্তাদগণ বর্ণনা করেছেন যে, যাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছাত্র ছিলেন তাঁরা দশটি আয়াত শিখলে ততক্ষণ পর্যন্ত আর আগে বাড়তেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ দশ আয়াতের বর্ণিত ইলম ও আমল শিক্ষা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, আমরা ইলম ও আমল উভয়ই (একই সময়ে) শিক্ষা করেছি।’ (আহমাদ ২৩৪৮২)





Working...
X