Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫২ || কেমন ছিলেন তারা?! ।। শাইখ খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল হুসাইনান রহিমাহুল্লাহ - চতুর্থ পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫২ || কেমন ছিলেন তারা?! ।। শাইখ খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল হুসাইনান রহিমাহুল্লাহ - চতুর্থ পর্ব

    আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
    কেমন ছিলেন তারা?!
    ।। শাইখ খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল হুসাইনান রহিমাহুল্লাহ– ।।
    –।।থেকে- চতুর্থ পর্ব


    কেমন ছিল তাদের জিহাদ?


    এক্ষেত্রেও তারা আমাদের জন্য সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। ছোট-বড়, প্রসিদ্ধ-অপ্রসিদ্ধ, ধনী-গরীব সকল সাহাবার একটি চিরায়ত বৈশিষ্ট্য ছিল - জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর শাওক। তাদের সকলের হৃদয়ে ছিল জিহাদের তামান্না, শাহাদাতের পিপাসা।

    সিরাতের কিতাবাদীতে আমরা পাই প্রতিটা গাযওয়ার শুরুতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের বাছাই করতেন। অল্প বয়সীদের রেখে যেতেন। যারা বালেগ হয়নি কিন্তু জিহাদে যাবার জন্য এসে গেছে তাদেরকে রেখে যেতেন। খেয়াল করুন! বালেগ হয়নি, এখনো ছোট, জিহাদের তামান্নায় ঘর থেকে বের হয়ে এসেছে। খুঁজে খুঁজে তাদের বের করতে হচ্ছে। যাতে তারা যুদ্ধে শরীক হতে না পারে। এই ছিল তাদের অবস্থা। আর আমরা?

    আল্লাহু আকবার! আমাদের মাঝে কত বড় বড় ব্যক্তি, বড় বড় ওলামা, মাশায়েখ, দায়ী, তালিবুল ইলম, উস্তাদ আজ তারা জিহাদে বের হবার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে জিহাদের শাওক তাদের হৃদয় থেকে মুছে গেছে। তারা ভুলে গেছে শাহাদাতের তামান্নার কথা। এটা বড়ই পরিতাপের বিষয়।

    তো যাদেরকে বয়স অল্প হবার কারণে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এদের মধ্যে ছিলেন- হযরত রাফে বিন খাদিজ, যায়েদ বিন ছাবেত, যায়েদ বিন আরকাম, আব্দুল্লাহ বিন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহুসহ আরও কয়েকজন। এবার এদের ঘটনা শুনুন, তাহলে বুঝতে পারবেন কেমন ছিলেন তারা। কেমন ছিল জিহাদের প্রতি তাদের আগ্রহ। কেমন ছিল তাদের শাহাদাতের স্পৃহা। তাহলেই বুঝা যাবে আসলেই কি আমরা তাদের কাতারে আছি না কি মুতাখাল্লিফীন, মুতাখাযিলীন ও মুতাকাইসীন (পিছনে রয়ে যাওয়া মুনাফিকদের) কাতারে শামিল হয়েছি?

    এক যুদ্ধের ঘটনা। বয়স স্বল্পতার কারণে সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ভাই ওমায়ের বিন আবি ওয়াক্কাসকে বাদ দেওয়ার আশংকা ছিল। এই ভয়ে সে বড় পুরুষদের মাঝে লুকিয়ে রইল ছোট হবার কারণে লুকিয়ে থাকা সহজ ছিল। কিন্তু তার রক্ষা হলো না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখে ফেললেন। বাদ দিয়ে দিলেন। এতে সে যারপরনাই কান্না করতে লাগল। প্রচুর কান্না।


    লক্ষ করুন ভাইয়েরা!

    একজন নাবালেগ ছেলে কান্না করছে অঝোর ধারায়, কি জন্য? চকোলেটের জন্য? সাইকেল কিনে দেবার জন্য? চিড়িয়াখানায় বাঘ ভল্লুক দেখতে যাবার জন্য? যাদুঘর ঘুরতে যাবার জন্য? না.. না... কান্না করছে, জিহাদে না যেতে পারার জন্য। আজকে কত মানুষ আছে পরিপূর্ণ উপযুক্ত। কিন্তু জিহাদে না গিয়ে বাঁচতে পেরে আনন্দিত। মুজাহিদ বাহিনীর পিছনে বসে আনন্দের হাসি হাসছে। লা হাওলা...... এটি একটি ভয়ংকর ব্যাপার, জিহাদে না গিয়ে আনন্দিত হওয়া মুনাফিকদের আলামত। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

    فَرِحَ الْمُخَلَّفُونَ بِمَقْعَدِهِمْ خِلَافَ رَسُولِ اللَّهِ وَكَرِهُوا أَنْ يُجَاهِدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَقَالُوا لَا تَنْفِرُوا فِي الْحَرِّ قُلْ نَارُ جَهَنَّمَ أَشَدُّ حَرًّا لَوْ كَانُوا يَفْقَهُونَ (81)

    অর্থঃ আল্লাহর রাসূলের পিছনে রয়ে যাওয়া মুনাফিকরা তাদের বসে থাকার উপর সন্তুষ্ট। আর তারা অপছন্দ করে তাদের জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে। আর তারা বলে, তোমরা গরমে বের হয়োনা আপনি বলে দিন, জাহান্নামের আগুন এরচেয়ে বেশি গরম। যদি তারা বুঝতো।” (সুরা তাওবা ৯:৮১)

    কিন্তু কখনোই তারা এ বিষয়টি বুঝবে না। তাদের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

    اَخْبَرَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ: أَنْبَأَنَا وُهَيْبٌ يَعْنِي ابْنَ الْوَرْدِ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ سُمَيٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ مَاتَ وَلَمْ يَغْزُ، وَلَمْ يُحَدِّثْ نَفْسَهُ بِغَزْوٍ، مَاتَ عَلَى شُعْبَةِ نِفَاقٍ»

    আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

    রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জিহাদ না করে মারা গেল বা তার মনে যুদ্ধের বাসনা জাগলো না, তার মৃত্যু হলো নিফাকের একটি অংশ (জিহাদ বিমুখ হওয়া)-এর উপর। (সুনানে আন-নাসায়ী - ৩০৯৭)

    খেয়াল করুন, আপনিও এই বিবরণে পড়ে যান কিনা? যে জিহাদ করলো না এবং মনে মনে জিহাদ করার তামান্না পোষণ করলো না - সে মারা গেল, কিসের উপর? সে কি ঈমানের কোন শাখার উপর মারা গেল? সে কি তাকওয়ার কোন শাখার উপর মারা গেল? না না। সে নিফাকের একটি শাখার উপর মারা গেল।

    সুতরাং হে আল্লাহর বান্দা!

    আমার অনেক ইলম, পুরো কোরআন আমার মুখস্থ, অনেক হাদিসের হাফেজ আমি, বড় বড় ভার্সিটি থেকে আমি ডিগ্রি নিয়েছি, ইন্টারনেটে আমি ভাইরাল, সবাই আমাকে স্যালুট দেয়, অনেক পদ পদবীর অধিকারী আমি কিংবা আমি অনেক বড় শাইখুল হাদিস, উঁচু মাপের বুযুর্গ, প্রসিদ্ধ দায়ী কিন্তু আমার অন্তরে যদি জিহাদের তামান্না না থাকে, তাহলে আমার মাঝে মুনাফিকদের একটি সিফত রয়ে গেছে। এটা পৃথিবীর কোন সাধারণ মানুষের কথা নয়, এটা আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা।

    তো এই ছোট্ট সাহাবী যখন কান্না জুড়ে দিলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর দয়াপরবশ হয়ে অনুমতি দিলেন। সে আনন্দ চিত্তে জিহাদে শরীক হয়ে গেল।

    সাহাবাগণ জিহাদে যেতে পারলে আনন্দিত হতেন জিহাদে অংশগ্রহণ করাকে তারা গর্বের বিষয় মনে করতেন। হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবী আউফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,

    وَعَن ابنِ أبي أوْفى قَالَ: غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبْعَ غَزَوَاتٍ كُنَّا نَأْكُلُ مَعَهُ الجرادَ

    তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে শরীক ছিলাম। তাঁর সাথে আমরা টিড্ডি খেয়েছি। (বুখারী ৫৪৯৫, মুসলিম (১৯৫২)-৫২, নাসায়ী ৪৩৫৭, তিরমিযী ১৮২২, আবূ দাঊদ ৩৮১২)

    এটা তিনি গর্ব করে বলতেন। ইমাম জাহাবী রহিমাহুল্লাহ যখন কোন সাহাবীর জীবনী লিখেন, তখন শুরু করেন এভাবে - তিনি সবগুলো জিহাদে শরীক হয়েছেন কিংবা উহুদে, হুনাইনে, বদরে শরীক হয়েছেন এভাবে বলেন, কারণ এটা তাদের জন্য বড় গর্বের। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কিতালে যাওয়া সর্বোচ্চ ফখরের বিষয়।

    আরেক অল্পবয়সী সাহাবী রাফে বিন খাদিজ রাদিয়াল্লাহু আনহু তিনি বলেন-

    আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে পনেরটি যুদ্ধ করেছি।

    কয়টি যুদ্ধ? পনেরটি যুদ্ধ। ভেবে দেখুন একবার। আজ আমাদের সামনে কত মানুষ আছে চল্লিশ বছর পার হয়ে গেছে। ইলম অন্বেষণে ত্রিশ বছর কাটিয়ে দিয়েছে। কিতাবাদী, দরস, তাদরীস, বয়ান, মুতালা, মুহাযারা ইত্যাদির মাঝে জীবনের কয়েক দশক পার হয়ে গিয়েছে, কিন্তু তার কোন গাযওয়ায় শরীক হবার তাওফিক হয়নি। না রাশিয়ার বিরুদ্ধে, না চীনের বিরুদ্ধে, না ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে। কোন মাহাযেই তাকে পাওয়া যায়নি!

    সাহাবাগণ জিহাদে অংশগ্রহণ নিয়ে গর্ব করতেন। আর আজ এটাকে দূষণীয় মনে করা হয়। অনেককে বলতে শুনা যায়, ‘সাবধান, সন্ত্রাসী হয়োনা। উগ্রবাদী হয়োনা। উগ্র চিন্তা বর্জন করো’আজ যারা জিহাদি চিন্তা লালন করে তাদেরকে, বিভিন্ন অপনামে কলুষিত করা হয়। তাদের বলা হয় উগ্রবাদী। বিকৃত চিন্তার অধিকারী। অথচ ইসলামী শরীয়তে যারা জিহাদের তামান্না রাখে না তাদেরকে গণ্য করা হয় মুনাফিক হিসেবে।

    তো সাহাবাদের একটি উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য ছিল জিহাদপ্রীতি। জিহাদের তামান্না তাদের রগ রক্তে মিশে গিয়েছিল। তাদের আত্মার খোরাক হয়ে গিয়েছিল। যদি আমরা দাবী করে থাকি যে আমরা সাহাবাদের ভালবাসি, আমরা তাদের পথে চলি, তাহলে মিলিয়ে দেখি এ পথে আমরা কতটুকু তাদের অনুসরণ করি?

    কেন জিহাদ ছেড়ে দিয়েছে? জিহাদ পরিত্যাগ করা অনেক বড় মুসিবত এই উম্মাহর উপর আজ যত মুসিবত আপতিত হয়েছে সব কিছুর কারণ হলো - জিহাদ পরিত্যাগ করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

    “বিভিন্ন জাতির লোকেরা তোমাদেরকে ধ্বংস করার জন্য একে অপরকে ডাকাডাকি করবে”

    এই হাদিসের শেষাংশে এর কারণ স্বরূপ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আর তা হলো, তোমাদের মাঝে দুনিয়ার ভালোবাসা আর মৃত্যুর ভয়। যার ফলে তোমরা জিহাদ পরিত্যাগ করে বসবে”[1]

    সুনানে আবু দাউদ এর বর্ণনায় এভাবে এসেছে:

    আমাদের আজকের বাস্তবতা হলো, আমরা সম্মিলিতভাবে জিহাদ পরিত্যাগ করে বসেছি। আলইয়াজু বিল্লাহ !

    عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ يُوشِكُ الأُمَمُ أَنْ تَدَاعَى عَلَيْكُمْ كَمَا تَدَاعَى الأَكَلَةُ إِلَى قَصْعَتِهَا ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ قَائِلٌ وَمِنْ قِلَّةٍ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ قَالَ ‏"‏ بَلْ أَنْتُمْ يَوْمَئِذٍ كَثِيرٌ وَلَكِنَّكُمْ غُثَاءٌ كَغُثَاءِ السَّيْلِ وَلَيَنْزِعَنَّ اللَّهُ مِنْ صُدُورِ عَدُوِّكُمُ الْمَهَابَةَ مِنْكُمْ وَلَيَقْذِفَنَّ اللَّهُ فِي قُلُوبِكُمُ الْوَهَنَ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْوَهَنُ قَالَ ‏"‏ حُبُّ الدُّنْيَا وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ ‏"‏ ‏.‏

    হযরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ খাদ্য গ্রহণকারীরা যেভাবে খাবারের পাত্রের চতুর্দিকে একত্র হয়, অচিরেই বিজাতিরা তোমাদের বিরুদ্ধে সেভাবেই একত্রিত হবে। এক ব্যক্তি বললো, সেদিন আমাদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণে কি এরূপ হবে? তিনি বললেনঃ তোমরা বরং সেদিন সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে; কিন্তু তোমরা হবে প্লাবনের স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মত। আর আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের অন্তর হতে তোমাদের পক্ষ হতে আতঙ্ক দূর করে দিবেন, তিনি তোমাদের অন্তরে ভীরুতা ভরে দিবেন। এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! ‘আল-ওয়াহ্‌ন’ কি? তিনি বললেনঃ দুনিয়ার মোহ এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা। (হাদিসের মান: সহীহ, সুনানে আবু দাউদ-৪২৯৭)





    আরও পড়ুন​
Working...
X