Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৪৪ || ইসলাম ও গণতন্ত্র ।। মাওলানা আসেম ওমর রহিমাহুল্লাহ।। পঞ্চম পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৪৪ || ইসলাম ও গণতন্ত্র ।। মাওলানা আসেম ওমর রহিমাহুল্লাহ।। পঞ্চম পর্ব

    আবাবিল প্রকাশন মিডিয়া পরিবেশিত
    ইসলাম ও গণতন্ত্র
    ।।
    মাওলানা আসেম ওমররহিমাহুল্লাহ।।
    এর থেকে– পঞ্চম পর্ব


    গণতন্ত্র (Democracy) কি


    এটা যেহেতু একটা পরিভাষা (Terminology), যাকে বিশেষ অর্থে ব্যবহার করা হয়, এজন্য পরিভাষার মূলনীতি হল, এর সেই সংজ্ঞাই ধর্তব্য হবে যা এর প্রণয়নকারীরা বর্ণনা করেছেন। Democracy এর অর্থ


    শব্দটি মূলত গ্রীক । Demos এবং Kratos দু'টি শব্দের সমন্বয়ে এই শব্দটি গঠিত হয়েছে।
    Demos এর অর্থ : People বা জনগণ।
    আর Kratos এর অর্থ Rule বা শাসন।
    অর্থাৎ Rule of the people জনগণের শাসন।
    গণতন্ত্রের সংজ্ঞা


    Democracy: Free and equal representation of people.

    A government in which the superme power is vested in the people and exercised by them directly or indirectly through a system of representation usually involving periodly held free elections.

    Democratic System of Government: A system of government based on the principle of majority decision-making. [Encarta 2009; Encylopaedia Britiannica 2012] গণতন্ত্র : মানুষের স্বাধীন ও যথাযোগ্য প্রতিনিধিত্ব


    এটি এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থা, যাতে মূল ক্ষমতা সাধারণ জনগণের নিকট থাকে। সাধারণ জনগণই পরোক্ষভাবে কিংবা প্রত্যক্ষভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে থাকে। এই রাষ্ট্র ব্যবস্থায় জনগণের প্রতিনিধি থাকে। যারা সাধারণত নির্দিষ্ট একটা সময়ের পর স্বাধীন ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়।

    গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা : এটি এমন এক রাষ্ট্র ব্যবস্থা যা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নীতিমালার উপর প্রতিষ্ঠিত।
    এটি এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা যাতে সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব মহান আল্লাহর পরিবর্তে সাধারণ জনগণের হাতে ন্যস্ত হয় (নাউযুবিল্লাহ) এবং সর্বসাধারণের রায়ের ভিত্তিতে সরকার নির্বাচন করা হয়। রায়ের ক্ষেত্রে ইলম ও তাকওয়ার দিক থেকে মানুষে মানুষে পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও গণতন্ত্রে তা উপেক্ষিত থাকে। এখানে সবাই সমান অর্থাৎ একজন আলেম ও একজন জাহেল, একজন পাপিষ্ঠ ও একজন নেককার সমান গুরুত্ব বহন করে)। এটি এমন একটি সরকারব্যবস্থা যাতে মানবজ্ঞানই জীবনব্যবস্থা তৈরিকারী এবং মানুষের জন্য জীবনবিধান প্রণয়নকারী, ওহীর এখানে কোনোই দখল নেই। মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি ও প্রবৃত্তি যাকে উপকারী সাব্যস্ত করে, তা উপকারী। আর যাকে ক্ষতিকর বলে, তা ক্ষতিকর। যাকে হারাম (বেআইনী) সাব্যস্ত করে তা হারাম, আর যাকে হালাল (আইনসম্মত) সাব্যস্ত করে, তা হালাল। (ওহী কুরআন ও হাদিস) কখনো এই জ্ঞান-বুদ্ধি ও প্রবৃত্তির চাওয়ার সাথে মিলে যেতে পারে। কিন্তু কুরআন ও হাদীস এই জীবনব্যবস্থায় (নাউযুবিল্লাহ) আল্লাহ ও তার রাসূলের ফরমান হিসেবে আমলযোগ্য সাব্যস্ত করা হয়নি। বরং মানুষ এটাকে আমলযোগ্য মনে করেছে বলে এটাকে আইনে পরিণত করা হয়েছে। এমনকি গণতন্ত্রের সংজ্ঞা এ কথা প্রমাণ করে যে, এই জীবনব্যবস্থায় মানবিক জ্ঞান-বুদ্ধি এবং জনমানুষের প্রত্যাশাকে কুরআন সুন্নাতেরও (ওহী) উর্ধ্বের মনে করা হয় এবং এর চেয়ে অনেক বেশি মূল্যায়ন করা হয়। গণতন্ত্র ও ইসলাম কি এক জিনিস

    গণতন্ত্রকে যারা ইসলামী বলেন অথবা ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যম বানানোর পক্ষে, তাদের দলিলসমূহ
    1. গণতন্ত্রকে অনেকে হুবাহু ইসলাম বলেন। তাদের দলিল হল, ইসলামও ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রবক্তা। আর গণতন্ত্রও এই কথাই বলে। সুতরাং গণতন্ত্রই ইসলাম এবং ইসলামই গণতন্ত্র।
    2. তারা বলেন, শরীয়তও শূরা ব্যবস্থার অধীনে খলিফা নির্বাচন করে। আর গণতন্ত্রও এই কথাই বলে। সুতরাং উভয়টি একই জিনিস। ইসলাম ও গণতন্ত্রের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
    3. গণতন্ত্র ব্যবস্থায় জড়িত, যাদেরকে ধার্মিক মনে করা হয়, তাদের আকিদা হল- তারা গণতন্ত্রের মাধ্যমে শরীয়ত প্রবর্তন করবেন। অর্থাৎ এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আল্লাহর কালেমাকে বুলন্দ করবেন। তাদের আকিদা অনুযায়ী গণতন্ত্র ছাড়া এমন আর কোনো পথ-পন্থা নেই, যার মাধ্যমে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর কালেমাকে বুলন্দ করা যেতে পারে। সব পথ- পন্থাই পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। সুতরাং গণতন্ত্রই একমাত্র পথ, যে পথে সারা বিশ্বে শরীয়ত প্রবর্তন হতে পারে। যাহোক, এই শ্রেণীও গণতন্ত্রকে কুফর মনে করেন না। তাদের বক্তব্য হল, গণতন্ত্রের যে বিষয়গুলো কুফরি, আমরা সেগুলো মানি না। আমরা কুরআন ও সুন্নাহ সম্মত গণতন্ত্র মানি।
    4. গণতন্ত্রের সাথে জড়িত কোনো কোনো ধার্মিক ব্যক্তিত্ব এই ব্যবস্থাকে এ পর্যায়ের কুফরি তো মনে করেন কিন্তু তাদের বক্তব্য হল, তারা অপারগ হয়ে এই ব্যবস্থায় জড়িত হয়েছেন। যাতে এর মাধ্যমে মুসলমানদের হক ও অধিকারসমূহ রক্ষা করা যেতে পারে। হিন্দুস্তানের ধর্মীয় রাজনৈতিক লিডারদেরও দাবি এই যে, তারা এই ব্যবস্থাকে অবলম্বন করে পার্লামেন্টে না গেলে মুসলমানদের অধিকারের পক্ষে আওয়াজ তুলবে কে? মুখ খুলবে কে?
    5. এই ব্যবস্থায় জড়িত একটি শ্রেণী এ কথা বলে যে, দেশের আইন ইসলামী হলে গণতন্ত্র ব্যবস্থায় শরিক হওয়া পাপের কোনো বিষয় নয়। মানে এরাও গণতন্ত্রকে কুফর মনে করেন না।



    গণতন্ত্রকে যারা কুফর বলেন তাদের দলিলসমূহ

    পূর্বেই বলেছি যে, গণতন্ত্র বিশেষ একটি পরিভাষা। সুতরাং এর সে সংজ্ঞাই বিশ্বাসযোগ্য হবে, যা পরিভাষা রূপদানকারীরা করেছেন। কেউ ইচ্ছামাফিক সংজ্ঞা দিলে তা বিশ্বাসযোগ্য হবে না। কারণ পরিভাষার সেই অর্থই বিশ্বাসযোগ্য হয়, যার জন্য সেটাকে তৈরি করা হয়েছে।

    সুতরাং যখনই গণতন্ত্র শব্দটি বলা হবে, এর সেই অর্থ-মর্মই উদ্দেশ্য হবে, যা এর প্রণয়নকারীরা বর্ণনা করেছেন। আর তা আমরা উপরে উল্লেখ করেছি। সেই সাথে এ কথাও স্পষ্টভাবে জেনে রাখা উচিত যে, এখানে আমরা ‘ইসলামী গণতন্ত্র’ নামক কোনো কাল্পনিক দর্শনের কথা বলছি না, যা গণতন্ত্রের সাথে জড়িত কোনো কোনো ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের বক্তব্য অনুযায়ী তারা ক্ষমতায় এসে বাস্তবায়ন করবেন। কারণ ৭৫ বছর ধরে এই কাল্পনিক রূপ বইয়ের ভেতর মলাটবদ্ধ রয়েছে। আজ পর্যন্ত পৃথিবীর কোথাও তার রূপ দাঁড়াতে পারেনি। তাই এটা আমাদের আলোচনার বিষয় নয়। (যদিও আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস এবং পরিপূর্ণ ঈমান হল গণতন্ত্রকে ইসলামী বানানো তেমনই অসম্ভব, যেমন অসম্ভব মূর্তিঘরকে ইসলামী মূর্তিঘর এবং মদ্যশালাকে ইসলামী মদ্যশালা বানানো।) আমরা এখানে প্রচলিত সেই গণতন্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছি, যা ৭৫ বছর ধরে কার্যত বাস্তবায়ন হয়ে আসছে। যাতে এসব ধর্মীয় দলগুলোও শরিক রয়েছে। নিঃসন্দেহে দেশে আক্ষরিক অর্থে প্রতিষ্ঠিত ও প্রচলিত এই গণতন্ত্র সেই অর্থেরই ধারক গণতন্ত্র, যা আমরা উপরে উল্লেখ করেছি।


    গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার পরিভাষাসমূহ ও তার মর্ম


    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রণয়নকারীরা সাধারণ মুসলমানদেরকে বেশি ধোঁকা দিয়েছে তাদের প্রণয়নকৃত পরিভাষার মাধ্যমে৷ এরা এগুলোকে অত্যন্ত চতুরতার সাথে ব্যবহার করে থাকে। কোনো মুসলমান এই পরিভাষাগুলোর অর্থ ও মর্ম বুঝলে গণতন্ত্রের তাৎপর্য তার নিকট দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে যাবে।
    শরীয়ত অর্থে আইন


    ইসলামে ‘শরীয়ত' শব্দটি যেই অর্থে ব্যবহৃত হয়, গণতন্ত্রে একই অর্থে “আইন" শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যেমন আমরা বলে থাকি, এ কাজটি শরীয়ত সম্মত, এ কাজটি শরীয়ত পরিপন্থি। গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় বলা হয়, এ কাজটি আইন সম্মত এবং এ কাজটি আইন বিরোধী। শরীয়তে মুহাম্মাদী অস্বীকারকারী যেমন শরীয়ত থেকে খারেজ হয়ে যায়, তাওবা না করলে তার শাস্তি মৃত্যু৷ তেমনিভাবে গণতন্ত্রের শরীয়ত (আইন) অস্বীকারকারীকেও এই শরীয়তের বিদ্রোহী বলা হয়। তাওবা না করলে ভারতে তার শাস্তি সেটাই যা কাশ্মিরের মুসলমানদেরকে দেয়া হচ্ছে। পাকিস্তানে তার শাস্তি সেটাই যা সোয়াতবাসী এবং জামেয়া হাফসার ছাত্রীদেরকে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ এই শরীয়তের রক্ষী সেনাবাহিনীর হাতে জনগণের সম্পদকে গণিমতের মাল সাব্যস্ত করে লুট করা আর বিদ্রোহীদেরকে হত্যা করা।



    আকিদা অর্থে চিন্তাধারা ( নযরিয়া)


    ‘আকিদা' শব্দটি শরীয়তে যেই অর্থে ব্যবহৃত হয়, গণতন্ত্রে একই অর্থে ‘চিন্তাধারা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এজন্য গণতন্ত্রী কোনো ব্যক্তি যখন এ কথা বলে যে, আমার চিন্তাধারা এই, তার অর্থ সে বলছে, আমার আকিদা এই।


    হালাল অর্থে ‘আইন সম্মত’


    মুহাম্মাদী শরীয়তে যেভাবে ‘হালাল’ শব্দ ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তেমনিভাবে গণতন্ত্রের শরীয়তে ‘আইন সম্মত’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সুতরাং গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় যদি বলা হয় “মদ বিক্রি করা এবং মদ পান করা আইন সম্মত', এর অর্থ হল গণতন্ত্রের সমাজে মদ পান করা এবং মদ বিক্রি করা হালাল। এমনিভাবে সুদী লেনদেন করাও হালাল।


    হারাম অর্থে 'বেআইনি'


    মদ্যপায়ীর সাক্ষী থাকা সত্ত্বেও আশি বেত্রাঘাত করা 'বেআইনি'। এ কথার অর্থ হল, সাক্ষী থাকার পরও মদ্যপায়ীকে আশি বেত্রাঘাত করা হারাম। শরীয়ত সম্মত সাক্ষী বিদ্যমান থাকার পরও বিবাহিত যেনাকারি নারী-পুরুষকে প্রস্তারাঘাত করা বেআইনি। এ কথার অর্থ হল, গণতন্ত্রের শরীয়তে এমন করা হারাম। এমনিভাবে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর কালেমা বুলন্দ করার জন্য জিহাদ করা বেআইনি, অর্থাৎ জিহাদ করা হারাম।


    ফরয অর্থে ডিউটি (Duty)

    গণতন্ত্রের শরীয়তে যখন ডিউটি শব্দটি বলা হয়, এর অর্থ হল এই কাজ করা তার উপর ফরয। এমনকি এই ফরয আদায় করাকে ইবাদতও বলা হয়। এই দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার ক্রটি হলে অথবা একেবারে বাদ দিলে, পুলিশ ও সেনাবাহিনী এটাকে শাস্তিযোগ্য মনে করে। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীয়তে এই অর্থের জন্য 'ফরয' শব্দ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অর্থাৎ কোনো বিষয়কে নিজের উপর এমন আবশ্যক জ্ঞান করা যে, তা করার দ্বারা ‘লাভ ও প্রতিদান’ প্রাপ্তির ইয়াকিন করা, আর না করার কারণে ‘ক্ষতি, গুনাহ ও শাস্তি' পাওয়ার আকিদা রাখা। ভোট কি শরীয়ত সম্মত পরামর্শ


    বর্তমানে কোনো কোনো ব্যক্তি এই কুফরি ব্যবস্থাকে ইসলাম প্রমাণের জন্য গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে ইসলাম প্রদত্ত শূরাদর্শনের সমার্থক প্রমাণ করতে চান এবং সাধারণ মুসলমানদেরকে পবিত্র কুরআনের এই আয়াত শোনান-

    إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا

    আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে তোমরা আমনতকে তার প্রাপকের নিকট পৌঁছিয়ে দাও । [সূরা নিসা : ৫৮]

    আর ভোটও একটা আমানত। এজন্য এই আমানতও তার প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও।

    আসুন, নির্বাচন ও শরীয়ত প্রদত্ত পরামর্শের দর্শনের মাঝে কতিপয় মৌলিক পার্থক্য জেনে নিই। এতে আমরা জানতে পারব যে, ভোট সত্যিই কোনো আমানত অথবা পরামর্শ কি না। নাকি এটি একেবারেই ভিন্ন একটা দর্শন।
    1. ইসলামে পরামর্শ নিছকই একটি রায়। এই রায় গ্রহণও করা যেতে পারে প্রত্যাখ্যানও করা যেতে পারে। পক্ষান্তরে গণতন্ত্রে যে ভোট গ্রহণ করা হয়, এতে সংখ্যা গরিষ্ঠের ভোটকে প্রত্যাখ্যান করা যায় না।
    1. ইসলামে যাদের সাথে পরামর্শ করতে বলা হয়েছে, তারা এমন ব্যক্তি হবেন, আল্লাহ তায়ালা যাদেরকে পরামর্শ ও রায় প্রদানের যোগ্যতা দান করেছেন। পক্ষান্তরে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় ভোট সবার অধিকার। জ্ঞানী-মূর্খ, ব্যাভিচারী-আল্লাহর ওলী, কাফের-মুসলমান সবাই সমান। গণতন্ত্রে এদের সবার মান এক বরাবর।
    1. শরীয়তের আলোকে মুসলমানদের বিষয়ে কাফের, মুরতাদ ও জিন্দিক পরামর্শ দিতে পারে না। কিন্তু গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় এরা সবাই সমান অধিকার রাখে। মুসলমানদের বিষয়েও এরা পরামর্শ দিতে পারে।
    1. কোন কোন বিষয়ে পরামর্শ করা হবে, ইসলামে তা নির্দিষ্ট রয়েছে। যেমন দ্বীনের মৌলিক নীতিমালাগুলোর উপর পরামর্শ করা যায় না। বরং এগুলোর উপর হুবাহু আমল করতে হবে। পক্ষান্তরে নির্বাচনে তো একদিকে ইসলাম বাস্তবায়নের দাবিদার, অন্যদিকে খাঁটি সেকুলারিজমের ধ্বজাধারী দাঁড়ায়। আর জনগণ যদি সেকুলারকে গ্রহণ করে এবং সেকুলারদলকে বেশি ভোট দেয়, তবে “জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান জানানো আবশ্যক হয়ে যায়। (নাউজুবিল্লাহ-আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমীন)

    গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দৃষ্টান্ত


    কতিপয় বখাটে হারাম ও অবৈধ কোনো কাজ করার জন্য একত্রিত হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, এবার এই হারাম কাজ কে করবে? এর ফয়সালা জনগণ করবে। যাহোক, জনগণকে বলা হল, আপনারা যাকে এই হারাম কাজের জন্য ভোট দিবেন, এবার সেই করবে। এখন যদি কোনো ব্যক্তি এখানে দাঁড়িয়ে এ কথা বলে যে, ভাই এটা পরামর্শ। আর পরামর্শ আমানত। আপনিই বলুন, হারাম কাজে পরামর্শ দেয়া কি জায়েয আছে? এটাকে কি আপনি আমানত বলবেন?





    আরও পড়ুন​
Working...
X