"পর্দার জগৎ" যেভাবে বদলে দিচ্ছে প্রজন্মকে!
পর্দার আড়ালের সত্য-
প্রজন্মকে ধ্বংস করা; অপরাধ; গোপন এজেন্ডা ও ব্রইনওয়াশিং!
পর্দার আড়ালের সত্য-
প্রজন্মকে ধ্বংস করা; অপরাধ; গোপন এজেন্ডা ও ব্রইনওয়াশিং!
আজকের দিনে বেশিরভাগ মুভিতেই একটা বিষয় নিশ্চিত থাকবেই, আর সেটা হলো অশ্লীলতা। এর পেছনে দুটো কারণ আছে। প্রথমত, ভালগার কন্টেন্ট দিয়ে যুবসমাজকে সহজেই ধরে রাখা যায়, প্রলুব্ধ করা যায়। ফলে উপার্জন হয় বেশি। আর দ্বিতীয়ত, বুঝে-শুনেই সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যৌনতার ফিতনা ঢুকিয়ে দেওয়া, যেই কৌশলটা জায়োনিস্টরা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা শুরু করেছিল। আর এই দুটোতেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আজ সফল।
চলচ্চিত্রে এই উচ্ছৃঙ্খল যৌনতার প্রবেশ গত শতকেই শুরু হয়েছে। তবে এখন এমন এক রূপ নিয়েছে, যেন তা প্রায় পর্ণ ভিডিওর মতোই হয়ে গিয়েছে। নেটফ্লিক্সে এমন শ খানেক মুভি আছে, যেগুলো কোনো অংশে পর্নগ্রাফির চাইতে কম না। আর যে-সব মুভি মানুষ সিনেমা হলে গিয়ে দেখে কিংবা কোনো ওটিটি প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়, সেগুলোর মধ্যেও এই ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। আইটেম সং মানেই অশ্লীল পোশাক আর বেহায়াপনা। রোমান্টিক মুভি রিলিজ হবে, কিন্তু অবৈধ যৌনতার ছোঁয়া থাকবে না এমনটা খুবই কম হয়।
এর ফলে কী হয়েছে জানেন?
সমাজের মধ্যে অবৈধ যৌনাচারের মাত্রা বেড়েছে, সেই সাথে বেড়েছে ধর্ষণ। কিশোর-কিশোরীদের যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি, বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক এবং অজাচার (Incest) বেড়ে যাওয়ার পেছনে এই মুভিগুলো অনেকাংশেই দায়ী। সেক্সুয়াল কন্টেন্টগুলো প্রথমে মনস্তাত্ত্বিকভাবে একজনকে প্রভাবিত করে, এরপর তার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন আসে। এই দুই মিলিয়ে পরবর্তীতে সে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে এবং অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়ে যায়। এই ক্ষতি থেকে বাদ যাচ্ছে না শিশু-কিশোর এবং প্রবীণ ব্যক্তিগণও।
আর ভালগার কন্টেন্ট সহজেই একজন মানুষকে (সে হোক নারী কিংবা পুরুষ) আসক্তির মধ্যে বেঁধে ফেলতে পারে। এর ফলে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির উপার্জন বাড়তে থাকে, কিন্তু আসক্ত ব্যক্তিটি ডুবে যায় পাপের রাজ্যে, তার জীবনে তৈরি হয় বিষাক্ত ফ্যান্টাসি কিংবা অবৈধ জগৎ।
ও, আরও একটা কথা বলতে ভুলে গেছি। ‘লিটনের ফ্ল্যাট’ কথাটা নিশ্চয়ই শুনেছেন? এই টার্মটা উঠে এসেছে আমাদের দেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকেই। আর এই টার্মটা কিন্তু এনেছিলেন একজন উপদেষ্টা। আপনাদের জন্য কুইজ থাকলো, কে সেই উপদেষ্টা? যাহোক, এই লিটনের ফ্ল্যাট ধারণাটি যুবসমাজে রুম ডেটিং এর প্রসার ঘটাতে ভূমিকা রেখেছিল। ব্যাপারটিকে সাব-কনশাস মাইন্ডে ধরে রাখতে এই ধারণা বিশেষ ভূমিকা রাখে। ফলাফল আপনি জানেনই।
এছাড়াও ভারতীয় এবং বাংলাদেশী চলচ্চিত্র, সিরিয়াল ও ওয়েব সিরিজে দেবর-ভাবীর সম্পর্ককে অতিরিক্ত রসালো করার প্রচেষ্টা বহু যুগ ধরেই চলছে। পরিবার ধ্বংস করতে পারলে সামাজিক অবক্ষয়ের শুরুটা এমনি এমনিই হয়ে যায়। আর এক্ষেত্রে বহু হাতিয়ার রয়েছে। এর মধ্যেই অন্যতম হলো দেবর-ভাবীর মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক। এভাবেই বিনোদনের জগৎ এক মরণফাঁদ তৈরি করেছে, যার জালে আটকে আছে পুরো দুনিয়া!
সংগৃহীত: