ট্রিলিয়ন ডলার বিজনেস, যাতে আছে মানুষের আবেগ, মাদকদ্রব্য, প্রচুর পরিমাণ ভালগার কন্টেন্ট আর পর্দার আড়ালে থাকা মোড়লদের এজেন্ডা। হ্যাঁ, বলছিলাম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কথা, যাকে জায়োনিস্ট ইহুদি সম্প্রদায় থেকে শুরু করে বড় বড় শিল্পপতি-সকল স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী যাচ্ছেতাইভাবে ব্যবহার করছে। ফলে ধ্বংস হচ্ছে প্রজন্ম, বদলে যাচ্ছে সমাজের নীতি-নৈতিকতার ধর্মভিত্তিক ধারণা। চলুন, একে একে আলোচনা করি এই পাপের রাজ্যের আবর্জনা নিয়ে।
√বিষাক্ত মধু
আজকের দিনে বেশিরভাগ মুভিতেই একটা বিষয় নিশ্চিত থাকবেই, আর সেটা হলো অশ্লীলতা। এর পেছনে দুটো কারণ আছে। প্রথমত, ভালগার কন্টেন্ট দিয়ে যুবসমাজকে সহজেই ধরে রাখা যায়, প্রলুব্ধ করা যায়। ফলে উপার্জন হয় বেশি। আর দ্বিতীয়ত, বুঝে-শুনেই সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যৌনতার ফিতনা ঢুকিয়ে দেওয়া, যেই কৌশলটা জায়োনিস্টরা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা শুরু করেছিল। আর এই দুটোতেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আজ সফল।
চলচ্চিত্রে এই উচ্ছৃঙ্খল যৌনতার প্রবেশ গত শতকেই শুরু হয়েছে। তবে এখন এমন এক রূপ নিয়েছে, যেন তা প্রায় পর্ণ ভিডিওর মতোই হয়ে গিয়েছে। নেটফ্লিক্সে এমন শ খানেক মুভি আছে, যেগুলো কোনো অংশে পর্নগ্রাফির চাইতে কম না। আর যে-সব মুভি মানুষ সিনেমা হলে গিয়ে দেখে কিংবা কোনো ওটিটি প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়, সেগুলোর মধ্যেও এই ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। আইটেম সং মানেই অশ্লীল পোশাক আর বেহায়াপনা। রোমান্টিক মুভি রিলিজ হবে, কিন্তু অবৈধ যৌনতার ছোঁয়া থাকবে না এমনটা খুবই কম হয়।
√ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি হলো অবৈধ যৌনতার আঁতুড়ঘর।
এর ফলে কী হয়েছে জানেন? সমাজের মধ্যে অবৈধ যৌনাচারের মাত্রা বেড়েছে, সেই সাথে বেড়েছে ধর্ষণ। কিশোর-কিশোরীদের যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি, বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক এবং অজাচার (Incest) বেড়ে যাওয়ার পেছনে এই মুভিগুলো অনেকাংশেই দায়ী। সেক্সুয়াল কন্টেন্টগুলো প্রথমে মনস্তাত্ত্বিকভাবে একজনকে প্রভাবিত করে, এরপর তার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন আসে। এই দুই মিলিয়ে পরবর্তীতে সে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে এবং অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়ে যায়। এই ক্ষতি থেকে বাদ যাচ্ছে না শিশু-কিশোর এবং প্রবীণ ব্যক্তিগণও।
আর ভালগার কন্টেন্ট সহজেই একজন মানুষকে (সে হোক নারী কিংবা পুরুষ) আসক্তির মধ্যে বেঁধে ফেলতে পারে। এর ফলে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির উপার্জন বাড়তে থাকে, কিন্তু আসক্ত ব্যক্তিটি ডুবে যায় পাপের রাজ্যে, তার জীবনে তৈরি হয় বিষাক্ত ফ্যান্টাসি কিংবা অবৈধ জগৎ।
ও, আরও একটা কথা বলতে ভুলে গেছি। ‘লিটনের ফ্ল্যাট’ কথাটা নিশ্চয়ই শুনেছেন? এই টার্মটা উঠে এসেছে আমাদের দেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকেই। আর এই টার্মটা কিন্তু এনেছিলেন একজন উপদেষ্টা। আপনাদের জন্য কুইজ থাকলো, কে সেই উপদেষ্টা? যাহোক, এই লিটনের ফ্ল্যাট ধারণাটি যুবসমাজে রুম ডেটিং এর প্রসার ঘটাতে ভূমিকা রেখেছিল। ব্যাপারটিকে সাব-কনশাস মাইন্ডে ধরে রাখতে এই ধারণা বিশেষ ভূমিকা রাখে। ফলাফল আপনি জানেনই।
এছাড়াও ভারতীয় এবং বাংলাদেশী চলচ্চিত্র, সিরিয়াল ও ওয়েব সিরিজে দেবর-ভাবীর সম্পর্ককে অতিরিক্ত রসালো করার প্রচেষ্টা বহু যুগ ধরেই চলছে। পরিবার ধ্বংস করতে পারলে সামাজিক অবক্ষয়ের শুরুটা এমনি এমনিই হয়ে যায়। আর এক্ষেত্রে বহু হাতিয়ার রয়েছে। এর মধ্যেই অন্যতম হলো দেবর-ভাবীর মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক। এভাবেই বিনোদনের জগৎ এক মরণফাঁদ তৈরি করেছে, যার জালে আটকে আছে পুরো দুনিয়া।
√মাদকদ্রব্য
২০১১ সালে আমেরিকান অভিনেতা ডেনিস কোয়েড বলেছিলেন যে সিনেমার সেটে অবাধে মাদক বিতরণ করা হতো। তার মতে, এটি স্বাভাবিক ছিল এবং সবাই তা করতো। এখানে একটি অতিরিক্ত তথ্য দিয়ে রাখতে চাই আর সেটা হলো, তিনি পরবর্তীতে বলেন যে ধর্মীয় বিশ্বাস তাকে কোকেইনের প্রতি আসক্তি থেকে রক্ষা করেছিল। তা না হলে তিনি হয় মারা যেতেন না হয় জেলে যেতেন।
যাহোক, এই ঘটনা তুলে ধরলাম এটা বুঝাতে যে সিনেমার শ্যুটিং স্পট বা সেটেই মাদক পর্যাপ্ত পরিমাণে উপস্থিত থাকে। আর দিনে দিনে মুভিগুলোতে মাদকের ব্যবহার বাড়ছে। যদিও স্ক্রিনে লেখা থাকে যে মদ্যপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তবুও তরুণ প্রজন্ম চোখ দিয়ে যে মাদক সংবলিত দৃশ্যগুলো দেখে, সেগুলো তাদের মস্তিষ্কে উত্তেজনা বা কৌতুহলের সৃষ্টি করে। ফলে একজনের মনে সিগারেট থেকে শুরু করে মদের প্রতি আকর্ষণ জন্মায়।
নির্দিষ্ট কোনো চলচ্চিত্রের কথা বলতে চাচ্ছি না। কারণ যে মুভিগুলোতে অবাধে মাদক সেবন দেখানো হয়, সেখানে প্রায়শই যৌনতাপূর্ণ দৃশ্যেরও উপস্থিতি থাকে। তবে প্রযোজক-পরিচালকদের ব্যাপারে একটা তথ্য দিতে চাই। তারা বলেন যে বিভিন্ন মুভিতে দেখানো হয়, কীভাবে একজন যুবক বাজে পরিস্থিতিতে মাদকদ্রব্য সেবন করে জীবনকে নষ্ট করেছে আর মাদকের বিরুদ্ধে পরে লড়াই করেছে। যুক্তিটা কেন ধোপে টেকে না, সেটা আগেই বলেছি। এ ধরণের দৃশ্য স্বাভাবিকভাবেই মনকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। আর মুভিগুলো বানানোও হয় উত্তেজনাদায়কভাবে এবং অতিরঞ্জিত করে।
√চলচ্চিত্র মাদকসেবনকে উসকে দেয়।
হলিউড-বলিউডের ধারাবাহিকতায় এখন ঢালিউড-টালিউডেও মাদকদ্রব্যকে সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। যেহেতু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বদৌলতে সমাজে ধূমপান অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে এবং বাকিগুলোর প্রতিও তারুণ্যের একটা অংশ আকর্ষিত হচ্ছে সেহেতু সিগারেট ও অন্যান্য মাদক দ্রব্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক হারে লাভবান হচ্ছে। একদিকে স্লোগান হচ্ছে, “খেলাধুলায় বাড়ে বল, মাদক ছেড়ে খেলতে চল”, অন্যদিকে বিনোদনের নামে এসব চলচ্চিত্র উপভোগ করতে গিয়েই যুবসমাজ আবার মোহাচ্ছন্ন জালে আটকা পড়ছে।
√বাস্তবতাকে ঢেকে রাখা ।
পর্দার কথিত সুপারস্টারদেরকে দিয়ে জনগণের ব্রেইনওয়াশ করানো কোনো নতুন ঘটনা নয়। হলিউড থেকে বলিউড-কোথায় ধর্মপ্রাণ মুসলিমদেরকে জঙ্গি, নারীলোভী বা উগ্রবাদী বানানো হয়নি? এভাবেই জঙ্গিবাদ এবং ওয়ার অন টেররের বয়ান তৈরিতে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল।
ভারতের যুদ্ধ বিষয়ক ফিল্মের কথা কী আর বলব! মিম পেইজগুলোও এখন মজা নেয় এই বলে যে ভারত খালি মুভিতেই যুদ্ধ করতে পারে। এই ধারণার জন্ম হয়েছে কারণ বলিউড, টালিউডসহ অন্যান্য ভারতীয় মুভিতে ভারতবিরোধী শক্তিকে সন্ত্রাসী, আতঙ্কবাদী ইত্যাদি নাম দিয়ে ইচ্ছে মতো ছোট করার চেষ্টা করা হয়।
বাংলাদেশের কথায় আসি। ‘৭১ সম্পর্কিত আওয়ামী ন্যারেটিভকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছে ঢালিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। দামাল (২০২২) সিনেমায় দেখানো হয় যে রাজাকাররা নারায়ে তাকবির স্লোগান দেয় এবং তাদের দেহ-পোশাকে দাঁড়ি-টুপি রয়েছে। এছাড়াও মুজিব: একটি জাতির রূপকার (২০২৩), টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই (২০২২) সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের একপেশে বয়ান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা দেখে বহু মানুষ শেখ মুজিবকে জাতির পিতা আর ভারতকে জানের বন্ধু মনে করে।
√কালচারাল ফ্যাসিস্টরা যেভাবে ব্রেইনওয়াশের চেষ্টা করেছে।
বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের নোংরামি এখানেই শেষ নয়। নির্বাচনী প্রচারণায় এই ইন্ডাস্ট্রির বড় বড় মাথাগুলো নির্লজ্জের মতো আওয়ামী লীগের পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছে। চঞ্চল চৌধুরি, মেহের আফরোজ শাওনসহ বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীকে আমরা দেখেছি কালচারারল ফ্যাসিটের ভূমিকায়। এমনকি ২০২৫ সালের ১৫ই আগষ্টে এই ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখগুলো (যেমনঃ শাকিব খান, ইরফান সাজ্জাদ, জয়া আহসান, আরশ খান প্রমুখ) স্বৈরাচার মুজিবের বন্দনায় মেতে উঠেছিল।
এভাবেই বহু উপায়ে বহু দেশে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি জড়িত থাকে জনগণকে বোকা বানানোর কাজে কিংবা জুলুমকে প্রতিষ্ঠিত করতে। আর সারা দুনিয়াতে যখন অস্ত্রের মহড়া আর শাহাদাতের মিছিল চলছে, তখন যুবসমাজ ফিল্ম দেখে তাদের মূল্যবান সময় এবং সৃজনশীল শক্তি নষ্ট করছে।
√পরিবেশ বিপর্যয়
এই পয়েন্টটা দেখে আপনি হয়ত কিছুটা অবাক হচ্ছেন, তাই না? একটি ছোট চলচ্চিত্র তৈরিতে গড়ে ৩৯১ মেট্রিক টন এবং ওপেনহেইমারের মতো বৃহৎ টেন্টপোল প্রযোজনার জন্য ৩৩৭০ মেট্রিক টন পর্যন্ত কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হতে পারে, যা এক বছরের ৬৫৬টি বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহের সমতুল্য। যদিও হলিউড চলচ্চিত্রগুলোতে পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহারের প্রচেষ্টা চলছে, কিন্তু তা কখনোই এতো বিপুল পরিমাণ পরিবেশ দূষণকে থামাতে পারবে না। এছাড়া ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য সমস্যা তো আছেই।
এছাড়াও শ্যুটিং স্পটে অসংখ্য সরঞ্জাম, ট্রেলার এবং আরভি রয়েছে, যা প্রচুর পরিমাণে শক্তির অপচয় করে। ট্রেলারগুলিতে প্রায়শই ডিজেল চালিত জেনারেটর ব্যবহৃত হয়, যা একটি অনবায়নযোগ্য জীবাশ্ম জ্বালানি। এই জেনারেটরগুলো ব্যবহারের ফলে নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) এর মতো দূষক নির্গত হয়। যদি শীতকালে শ্যুটিং করা হয়, তাহলে জেনারেটরগুলি মানুষকে উষ্ণ রাখার জন্য আরও বেশি শক্তি ব্যয় করে। প্রায় ৩০% জ্বালানি কেবল বিশাল জেনারেটরগুলিকে চালিত করতে এবং বাকি শক্তির বেশিরভাগই পরিবহনে ব্যয় হয়।
√সিনেমা বানাতে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
এখানেই শেষ নয়। “No animals were harmed in the making of this film”- এই কথাটি সিনেমার ডিসক্লেইমারে ব্যবহৃত একটি সাধারণ দাবি। দুঃখের বিষয় হলো, এই কথাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। পর্দার আড়ালে এবং কখনও কখনও পর্দায়ও প্রাণীদের সাথে দুর্ব্যবহার এবং তাদের উপর নির্যাতন চালানো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। Stagecoach (1939) এবং Ben-Hur (1925) এর মতো প্রযোজনাগুলোতে নিখুঁত শটের জন্য প্রাণীদেরকে কষ্ট করতে হয়েছে, এমনকি মারা যেতেও দেখা গেছে। Life of Pi (2012) চলচ্চিত্রটি পশুদেরকে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফেলার প্রমাণ ফাঁস হওয়ার কারণে প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল।
√গ্লোবাল এজেন্ডা ।
ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি একটি বড় এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী অংশ। কীসের এজেন্ডা? সোজা কথায়, পশ্চিমা এজেন্ডা। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ফেমিনিজম এবং এলজিবিটিকিউ। চলচ্চিত্র শিল্প বৈচিত্র্য প্রদর্শনকারী জটিল ও বাস্তববাদী নারী চরিত্র তৈরি করে নারীবাদের বয়ানকে বিলি করে। এছাড়াও নির্মাতারা বিভিন্ন নারী চরিত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে নারীর ভূমিকা অন্বেষণ করে এবং নারীর জীবনের কথিত বাস্তবসম্মত বিষয়ের চিত্রায়নের প্রচার করে এমন গল্প বলে, যা ঐতিহ্যবাহী স্টেরিওটাইপগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে।
হলিউড ও বলিউডের প্রগতিবাদী মুভিগুলোতে নারীদেরকে তথাকথিত সাহসী চরিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়, যা আসলে সভ্যতার নামে অসভ্যতা। এরপর সিনেমার পোস্টারগুলোতে ছোট পোশাকে নারীকে উপস্থাপন করে সেই ছবিগুলো পুরো শহরব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেগুলো অবচেতন মনেই সমাজের মানুষের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। নারীসমাজ যাতে পর্দার সুস্থ বন্ধন ছিঁড়ে ফেলে এবং এটাকেই যেন স্বাভাবিকভাবে দেখা হয়, সেটা নিশ্চিত করতেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ভূমিকা রেখেছিল। নারীর ক্ষমতায়নের নামে Hidden Figures (2016) এর মতো মুভিগুলো নারীকে কর্পোরেট দাসী বানাতেও রেখেছে বিশেষ ভূমিকা।
এলজিবিটিকিউ এর কথা শুনবেন? সে এক জঘন্য পরিস্থিতি। নেটফ্লিক্সে ভুড়ি ভুড়ি সমকামিতার চলচ্চিত্র ভরা। আমি কোনো মুভির নাম বলতে চাচ্ছি না। তবে কিছু বাস্তবতা তুলে ধরা যাক। গত দশকে মিডিয়া এবং চলচ্চিত্রে LGBT (লেসবিয়ান, গে, উভকামী ও ট্রান্সজেন্ডার) সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব ব্যাপক হারে বেড়েছে। সেই সাথে দেখানো হয় কীভাবে এসব চরিত্র সমাজের বিপরীতে গিয়ে নিজেদের বিকৃত অধিকারের জন্য লড়াই করছে। এসবের উদ্দেশ্য একটাই-সমাজের মধ্যে এদেরকে নিপীড়ত ও বঞ্চিত হিসেবে দেখানো এবং তাদের প্রতি মানুষের মমতা তৈরি। এটা করতে পারলেই সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার সূত্রপাত ঘটবে।আর পশ্চিমা সভ্যতার পাশাপাশি ভারতীয় সমাজেও এই পাপাচার বৈধতা পাচ্ছে, হচ্ছে স্বাভাবিক।
এমনকি বাংলাদেশী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও এটি চলে এসেছে। Kaiser (2022) ওয়েব সিরিজটির একটি দৃশ্যে কোনো এক মহিলা বলেন যে তিনি ‘জেন্ডার স্টাডিজ’ এর শিক্ষক। এই জেন্ডার স্টাডিজ এমন একটি বিষয়, যেখানে লিঙ্গ, লিঙ্গ পরিচয় এবং লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়াও এই বিষয়ের অধ্যাপক এবং গবেষকগণ ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে সমকামিতা কীভাবে দেখা হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন সমাজে সমকামী মানুষদের অভিজ্ঞতা ও অধিকার নিয়ে আলোচনা করে থাকেন।[9]দেশের ওয়েব সিরিজে জেন্ডার স্টাডিজ ।. এভাবে ধীরে ধীরে এলজিবিটিকিউ এর উপস্থাপনা বাড়ছে।
এখন মনোযোগ দিন। একটা ইন্টারেস্টিং তথ্য দিই। GLAAD (Gay & Lesbian Alliance Against Defamation) নামের একটা সংস্থা আছে, যারা মুভি বা কার্টুনে কতটুকু সমকামী চরিত্র দেখানো হয়েছে সেটাকে মূল্যায়ন করে থাকে। এর জন্য তারা বিভিন্ন স্কোরকার্ড এবং ইনডেক্স ব্যবহার করে 20th Century Fox, Paramount Pictures, Sony Columbia এবং The walt Disney Studios এর মতো প্রযোজনা সংস্থাকে রেটিং দেওয়া হয়। আর কোনো ইন্ডাস্ট্রি যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে এলজিবিকিউ প্রমোট না করতে পারে, তবে সেটি কম রেটিং পায় এবং আন্তর্জাতিক পুরষ্কার ও অন্যান্য অর্জন থেকে বাদ পড়ে যায়।
তাই নির্মাতারা ভালো কিছু পেতে গল্পগুলোতে এলজিবিটিকিউ অন্তর্ভুক্ত করেন। আর অভিনেতা-অভিনেত্রীরা নিজের পচ্ছন্দে হোক কিংবা লোভে পড়ে হোক, এসব চরিত্রে অভিনয়ও করে। আর একারণেই বাংলাদেশী অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ঘনিষ্ঠ সমকামী চরিত্রে অভিনয় করে খুশি হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন।
বিশ্বজুড়ে খেলাধুলা আর চলচ্চিত্র জনগণকে বড় ধোঁকার মধ্যে রেখেছে। মানুষ বিনোদনের নামে নিজের সময় আর যৌবনকে নষ্ট করছে। আজকের দিনে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি এতটাই ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে যে নির্মাতারা দর্শকদের মূল্যবোধকে বিনষ্ট করতে একবারও ভাবছেন না। সেই সাথে আছে পশ্চিমা লিবারেলিজম বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা। সব মিলিয়ে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আজ বিপর্যস্ত। তাই মুসলিম তো পরের কথা, একজন সাধারণ মানুষেরও উচিত না এই ফাঁদে পড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলা। বিনোদন, বাস্তবতার জ্ঞানার্জন ইত্যাদির আরও অনেক উপায় তো আছে, তাই না?
#সংগৃহীত।