ইসলাম ও গণতন্ত্র
।।মাওলানা আসেম উমর রহিমাহুল্লাহ।।
এর থেকে–চতুর্বিংশ পর্ব
।।মাওলানা আসেম উমর রহিমাহুল্লাহ।।
এর থেকে–চতুর্বিংশ পর্ব
অনৈসলামিক জীবনব্যবস্থা পৃথিবীকে কী দিয়েছে
যুক্তির আলোকেও যদি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দেখা হয়, তো এটি যে একটি মানবতা বিরোধী জীবনব্যবস্থা, ইনসানিয়্যাতের দুশমন নিযাম, তাতে কোনো প্রকার অস্পষ্টতা থাকে না। এতে নির্দিষ্ট একটি শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা করা হয়ে থাকে। এই সংখ্যালঘু শ্রেণীই প্রতিটি দেশে শাসন করে। আর জনগণের অবস্থা সেই কলুর বলদের মত, যারা বছরকে বছর ধরে কলুর ঘাণি টানতে থাকে। তারা মনে করতে থাকে যে, অচিরেই গন্তব্যে পৌঁছব। কিন্তু চোখ খুলতেই দেখে, যেখান থেকে যাত্রা শুরু করে ছিল সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে।
এই ব্যবস্থার নাম যদিও জনগণের শাসন, কিন্তু বাস্তবতা হল পৃথিবীতে বিদ্যমান একটি সংখ্যালঘু শ্রেণী এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণকে ভেড়া-বকরির মত তাড়াতে থাকে। পশ্চিমাদের অবস্থা এই যে, তাদের প্রতিটি শিশু মাল্টিন্যাশনালের সুদখোরদের কাছে ঋণগ্রস্ত। ভূমি তাদের মালিকানা থেকে হাত ছাড়া হয়ে গিয়েছে। খাদ্য উপকরণ খ্রিস্টবাদের দুশমনদের দখলে। এমনকি পান করার পানির উপরও মাল্টিন্যাশনালের ইজারাদারি রয়েছে। খোদ আমেরিকান জনগণকে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে এই শক্তিগুলো সেই কুকুরের মত বানিয়ে রেখেছে, যাদের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য স্বীয় মালিকদের (মাল্টিন্যাশনাল) স্বার্থ রক্ষা করা। মালিকের দুশমনের বিরুদ্ধে ভেউ ভেউ করা এবং তাদের বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়া...। শুধু এই বিনিময়ে যে, তাদের মালিক তাদের সামনে দুইয়েক খানা হাড্ডি নিক্ষেপ করে থাকে।
আমেরিকান জনগণও মাল্টি ন্যাশনালের জন্য গৃহপালিত কুকুরের কাজ করে যাচ্ছে। তাদের মনিব যেখানে চায় সেখানেই তাদেরকে নিক্ষেপ করে। এটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবদান, যেখানে প্রকৃত শাসক শতকরা দুইজন যারা মূলত সংখ্যালঘু শ্রেণীর হয়ে থাকে। এই ব্যবস্থার আরেকটা বৈশিষ্ট্য হল, এরা শুধু শাসিত জাতির দেহের উপরই শাসন করে না বরং তাদের চিন্তা, দর্শন এবং জীবনের চাওয়া পাওয়াও গণতন্ত্রের দাসত্বের সাথে আবদ্ধ থাকে । শাসিত জাতিকে শুধু শ্লোগান, প্রতিশ্রুতি এবং কল্পনার জগতে বন্দি রাখার হয়।
গণতন্ত্র ব্যবস্থার এই আধুনিক ইতিহাস অধ্যায়ন করুন এবং বলুন যে ইউরোপ- আমেরিকাসহ এই ব্যবস্থা সাধারণ মানুষকে কি দিয়েছে? আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করে তো পরকালকে ধ্বংস করেছেই, পৃথিবীতেই বা কি পেয়েছে...? লাঞ্ছনা, অবমাননা, মানবতার দুশমন জাতির দাসত্ব, চার্চের উপর ইহুদীদের হস্তক্ষেপ, 'দুটি বিশ্বযুদ্ধ, কয়েক কোটি মানুষ হত্যা, আমেরিকায় কয়েক কোটি রেডইন্ডিয়ানের বংশবধ, অস্ট্রেলিয়ার আদি বাসিন্দাদের নির্মূল, ইহুদী দাতাদের মুখাপেক্ষীতা, মানুষের সামাজিক বিষয়ে ধর্মীয় শিক্ষার যবনিকা এবং স্বাধীনতার নামে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন ছিন্ন ।
এটি এমন এক জালেম ব্যবস্থা, ক্ষমতাধর শক্তি যার মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে কলুর বলদের মত তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে । কলুর বলদের চোখে পট্টি বেঁধে যেমন কলুতে জুড়ে দেয়া হয় । সে মনে করতে থাকে যে পথ মাড়িয়ে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছি। কিন্তু চোখ খুলতেই দেখতে পায় যেখান থেকে যাত্রা শুরু করেছিল সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে। আধুনিক যুগের মানুষদেরও একই অবস্থা । যারা ইহুদী দাতাদের তৈরিকৃত ব্যবস্থার কলুতে বছরকে বছর ধরে জুড়ে রয়েছে, কিন্তু বেফায়দা। এই ব্যবস্থা পরিচালনাকারীরা জনগণকে এই ধোঁকা-ই দিতে থাকে যে, গন্তব্য সন্নিকটে । কিন্তু চার পাঁচ বছর পর জনগণ চোখ খুললে দেখতে পায়, যেখান থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, এখনো সেখানেই রয়েছে । বরং আরও পিছিয়ে গিয়েছে। গণতন্ত্র থাকুক কিংবা স্বৈরতন্ত্র, ব্যবস্থা তো একটাই... জনগণকে বেকুফ বানিয়ে ক্ষমতাধর শক্তিগুলোকে আরও ক্ষমতাবান বানানো। যে কোনো মানুষ যদি পিছনের দিকে তাকায়, তো সে এই ব্যবস্থা থেকে কি পেয়েছে, তা দেখতে পাবে ।
খেলাফত হারানোর পর থেকে এই উম্মত আধুনিক এই ব্যবস্থায় এতিম অসহায়ের মত জীবন যাপন করছে । তাদের কুশল জিজ্ঞাসা করার মত কেউ নেই। যে-ই আসে, সান্তনা দেয় এবং ফিরে চলে যায় । গণতন্ত্রের সৌন্দর্য আবার নতুন রূপ নিয়ে বাজারে আবির্ভূত হয় । জনগণের পবিত্র আবেগকে স্পর্শ করে, উত্তেজিত করে । এরপর আবার দংশন করে পালিয়ে যায় ।
মুসলিম বিশ্বের উপর এমন এক কদর্য শ্রেণীকে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, যারা আমাদের ভাষার চেয়ে তাদের শ্বেত-প্রভুদের ভাষা, সভ্যতা এবং তাদের ঐতিহ্যের প্রতি বেশি অনুরাগী৷ যেই জাতির খেলাফতে ইসলামীয়ার ছাতার নিচে জীবন যাপন করা ফরয ছিল, সেই জাতি আজ জাতিসংঘের বিশ্ব কুফরি সরকারের অধীনে জীবন যাপন করতে বাধ্য ৷ আন্তর্জাতিক সুদি অর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর অধীনে তাদের কায়কারবার ও ব্যবসা বাণিজ্য চলছে... আল্লাহকে ছেড়ে গায়রুল্লাহকে জীবনব্যবস্থা তৈরির অধিকার দেয়া হয়েছে... আল্লাহর কুরআনকে এত তুচ্ছ প্রমাণিত করা হয়েছে যে, মানুষের তৈরিকৃত পার্লামেন্ট তা অনুমোদন না দেয়া পর্যন্ত আল্লাহর সত্য কিতাবের কানুন, আইনের অংশ হতে পারে না। আল্লাহর আইন ব্যতীত অন্য আইনে ফয়সালাকারী আদালত গুলোকে পুলিশ ও সেনাশক্তির মাধ্যমে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে ।
এই ব্যবস্থা আলমে ইসলামকে কি দিয়েছে? ইসলামী শান শওকতের স্থলে আমেরিকা ও ভারতের দাসত্ব। শিল্প-প্রযুক্তিতে উৎকর্ষতার স্থলে অর্থনৈতিক দুরাবস্থা। বিশ্ব শাসন করা তো দূরের কথা, নিজ দেশেও তাদের প্রভু ইংরেজরা তাদের উপর রাজত্ব করছে । ইংরেজের সৃষ্টি করা সেই শ্রেণী, যাদের অনেকের তো বংশক্রমও রক্ষিত নেই, তাদেরকেই মুসলিম বিশ্বের উপর এমনভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে যে, তারা জোঁকের মত রক্ত চুষেই যাচ্ছে। দেশ লুন্ঠন করে, জাতিকে বিক্রি করে । জাতীয় আত্মসম্মানকে বিশ্ববাজারে নিলাম করে। এরপর ‘সসম্মানে’ বিদেয় হয় ।
এই গণতন্ত্র ব্যবস্থাই- যা ওলামায়ে কেরামকে সমাজে তুচ্ছ ও অবজ্ঞেয় বানিয়ে রেখেছে। আর ফাসেক ফুজ্জার ও পাপিষ্ঠদেরকে সম্মানিত, সভ্য এবং বিশিষ্ট (এলিট) সাব্যস্ত করেছে। আল্লাহর আইনের ব্যাপারে যে মূর্খ-জাহেল, সেই হল জজ-বিচারপতি । আর আল্লাহর আইনের আলেমকে ফয়সালা করার অধিকারই দেয়া হয়নি । এই ব্যবস্থা ভদ্রজনদের থেকে ভদ্রতা ছিনিয়ে নিয়েছে... । স্বাধীনতার নামে সমাজকে নির্লজ্জ, অশ্লীলতা এবং নগ্নতার অন্ধকূপে নিক্ষেপ করেছে। চারিত্রিক সুকুমারবৃত্ত থেকে বঞ্চিত করেছে। কুলীন, বংশীয় এবং ভদ্র পরিবারগুলোর নারীদেরকে ঘরের বাইরে বের হতে বাধ্য করেছে। যেই নারীকে ইসলাম ঘরের রাণী এবং রাজকন্যার মর্যাদা দিয়েছিল, এই ব্যবস্থা তাদেরকে পুরুষের পশুপ্রবৃত্তির মনোরঞ্জনের উপকরণের ব্যবস্থাকারী একটি মেশিনে পরিণত করেছে । এটাই সেই মানবতার শক্র ব্যবস্থা, যা মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর সুখ-শান্তি ধ্বংস ও বরবাদ করে দিয়েছে।
মুসলমানদের থেকে দুই বেলার রুটি কে ছিনিয়ে নিয়েছে? পৃথিবীতে যখন খেলাফত প্রতিষ্ঠিত ছিল, উপমহাদেশের মুসলমানদের শিল্পকর্ম গোটা বিশ্বে বিস্তৃত ছিল । ওই সময় গোটা ইউরোপ খাদ্যের জন্যও আমাদের কৃষিকাজের মুখাপেক্ষী ছিল । কিন্তু গণতন্ত্র- শিল্প ও কৃষি, কিছুই ছাড়েনি । দেশের বড় বড় শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কৃষিক্ষেত্র ধ্বংস হয়ে গিয়েছে । আমরা কৃষি দেশ হওয়া সত্ত্বেও চাল, গম এবং চিনির জন্য আমাদেরকে কেঁদে মরতে হয় । অবস্থা এ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে, উপার্জনও বন্ধ হয়ে গিয়েছে । একজন সাধারণ দোকানির দোকানও ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষের নিকট পান করার পানি নেই। ক্ষুধায় ছটফট রত শিশুর খাদ্য নেই। রেশন থাকলেও রান্না করার গ্যাস নেই । অথচ ক্ষমতাসীনদের বাচ্চারা পীৎজা বার্গারের পিছনেই দৈনিক হাজার হাজার টাকা ওড়াচ্ছে। পানির পরিবর্তে জুস পান করছে। তবে কি এই দেশের জনগণ মানুষ নয়? এরা কি জাতির জননীদের গর্ভ থেকে জন্ম নেয়া পোকা মাকড়?
জনগণ তাদের অধিকারের দাবিতে পথে নামলে লাঠির বাড়ি খায় । ভারতীয় পুলিশদের মতই শুভ্র শশ্রুমণ্ডিত বয়বৃদ্ধদেরকে পিচঢালা পথে টেনে হিচড়ে লাঞ্ছিত করে । সেনাবাহিনী আমাদেরই সন্তানদেরকে রাজপথে দাঁড় করিয়ে বুলেটে ঝাঝড়া করে দেয়.. ৷ যেনো এটা পাকিস্তান নয়, অধিকৃত কাশ্মীর... ৷ তারা দেশ লুণ্ঠন করে, বোন মেয়েদেরকে বিক্রি করে... । তারা দেশের সাথে গাদ্দারী করে, আর জেল খাটি আমরা... । চোরেরা আমাদের ঘর খালি করে, ডাকাতরা আমাদের ঘর লুট করে, পুলিশ ও সেনাবাহিনী এরপরও তাদেরকেই নিরাপত্তা দেয়। আর আদালতে লাঞ্ছিত হই আমরা... ।
আমেরিকা এই জাতির সন্তানদের উপর ড্রোন ও মিজাইল বর্ষণ করে, ভরা বাজারে রক্তের বন্যা বইয়ে দেয় । আর পুলিশ ও সেনাবাহিনী ডলারের বিনিময়ে তাদেরকে নিরাপত্তা দেয়, নিরাপদে সসম্মানে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয় । লাশ পড়ে আমাদের আর ক্ষমতা লাভ করে তারা । আমাদের চুলা জ্বলে না আর তাদের এক একটি কিচেনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয় । জনগণের ঘর অন্ধকার আর তাদের প্রাসাদের আলোয় চোখ ধেঁধে যায় । জনগণের সামান্য ঝুপড়িও- ছিনিয়ে নিতে চায় আর তাদের সন্তানদের জন্য বড় বড় শহরে ডিফেন্স হাউজিং অথরিটির নামে প্রাসাদ । এরা সবাই একই রসূনের মূল । এরা সবাই একজন আরেকজনের মোহাফেজ। সেনাবাহিনী রাজনীতিকদের, রাজনীতিকরা সেনাবাহিনীর । গণতন্ত্র, বিচার বিভাগ, সবই এদের।
হে আল্লাহ! বাহ্যত এরা নিজেরা যুদ্ধ করে কিন্ত জনগণকে চোষার বেলায় এরা সবাই এক । থানায় সাধারণ জনগণ লুন্ঠিত হয় । আদালতে জনগণ লাঞ্ছিত হয়। ট্যাক্স আদায়কারীরা ডাকাতি করে । বিদ্যুৎ বিল রূপে যেন হাত বোমা নিক্ষেপ করে যায় । গ্যাস মালিকরা গ্যাস দেয় না। কিন্তু এসব শাসকদের বাসার বিল জনগণ থেকেই উসুল করে । ব্যাংকগুলো বাড়ি থেকে এবং মহিলাদেরকে গহনা পর্যন্ত বঞ্চিত করেছে। এরা তো সেই লোক যারা ভূমিকম্প ও ঘূর্ণিঝড়ে দুর্গতদের নামে আসা অনুদানও নিজেরা খেয়ে ফেলে ।
পুরনো মুখগুলো গিয়ে নতুন মুখগুলো এলে কি সাধারণ মানুষের দুঃখ ও সমস্যা দূর হবে? সামান্যও কি হ্রাস পাবে? ব্যুরোক্রেসি [bureaucracy] বা আমলাতন্ত্র, যাদের মুখে মুসলমানদের রক্ত লেগে গিয়েছে, তা কি মিটে যাবে? রাজনীতিবিদদের পরস্পরে যে একজন আরেকজনের আত্মীয়, জামাতা, শ্যালক, ভগ্নিপতি, এরা কি এমনি এমনি এই জনগণের জান ছেড়ে দিবে?
কখনোই না, কখনোই না । সব অনিষ্টের মূল হল এই ব্যবস্থা । এই ব্যবস্থা থাকা অবস্থায় শ্মশ্রুমণ্ডিত কোনো ব্যক্তিও যদি দেশের গদিতে বসে, তবুও আমাদের সমস্যার সমাধান হবে না । কারণ এই ব্যবস্থা বিশ্ব শয়তানী ব্যবস্থার সাথে জড়িত । এই ব্যবস্থা বাচিয়ে রাখার জন্য সেখান থেকে সাহায্যের প্রয়োজন হয় । যে ব্যক্তিই এখানে বসবে, সেই এই ব্যবস্থার দাস হয়ে থাকবে ৷ মদের পারমিট বন্টন করতে থাকবে... । ঘুষের বাজার রমরমা করবে... । গণতন্ত্রের গোলাম আল্লাহর সাথে যুদ্ধ অর্থাৎ সুদি কারবার জারি রাখবে... । এর নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় রাখবে... ।
আমাদের নতুন মুখের প্রয়োজন নেই... । এরা আমাদের সন্তানের মুখে খাবার দিবে না... । মনে রাখবেন, শৈশবে যারা এক বেলা অনাহারে থাকেনি, উপোষ থাকার যন্ত্রণা সহ্য করেনি, তারা তোমাদের অনাহার-অনিদ্রার কষ্ট কি করে বুঝবে...? অক্সফোর্ড আমেরিকায় পড়ুয়া শাসকদের এসব সন্তানেরা... এরা সেখান থেকে জগতকে রঙিন বানানোর বিদ্যা অর্জন করে আসে... । শৈশব থেকেই সেই পরিবেশে মদ ও যৌবন তাদের মানবিক ভদ্রতা, নৈতিক উৎকর্ষতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এমনকি আত্মীয়তার পবিত্রতাকেও খতম করে দিয়ে থাকে... ৷ এরা শুধুই প্রবৃত্তির দাস। এর জন্য তারা সব কিছুই করতে পারে... । হাটে বাজারে যে বস্তুর মূল্য আছে, এরা তারই সওদাগর হতে পারে ।
এজন্য প্রত্যেককেই এ বিষয়টি খুব ভালো করে বুঝে নিতে হবে যে, নতুন মুখ আর নতুন শ্লোগান এলেই দেশের ভাগ্য বদলাবে না। নতুন কোনো মুখ যদি এই ব্যবস্থারই কথা বলে, তো বুঝবেন, এ নতুন ডাকাত । আমেরিকা যাকে জনগণকে আরও বেশি লুট করার পারমিট দিয়েছে । কারণ উর্ধ্বমূল্য ও বেকারত্বর সম্পর্ক বৈশ্বিক ইবলিসি ব্যবস্থার হাতে । যে ব্যবস্থা পুরো মুসলিম উম্মাহকে অক্টোপাসের মত গ্রাস করে ফেলেছে । আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং তাদের চাপিয়ে দেয়া প্রচলিত এই ব্যবস্থা... আমেরিকা, জাতিসংঘ এবং তাদের বদমায়েশিতে চাপিয়ে দেয়া এই ব্যবস্থাই সব অনিষ্টের মূল। আমাদের জীবন উপকরণ তাদের নিয়ন্ত্রণে... । পরিশ্রম আমাদের, ফল তাদের... । ভূমি আমাদের, ফসল তাদের।
সব অনিষ্টের মূল হল এই ব্যবস্থা । এই ব্যবস্থাই আমাদের দুশমন।আমাদের দ্বীনের দুশমন।আমাদের সন্তানদের দুশমন । নতুন মুখ দেখে আর নতুন শ্লোগান শুনে প্রতারিত হবেন না।
এগুলো সেই গিফট যা এই ব্যবস্থা দিয়েছে। যাতে শতকরা দুই ভাগ সংখ্যালঘু শ্রেণীর মানুষই পাল্টাপাল্টি করে শাসন করে । এটাই সেই গণতন্ত্রের প্রতিশোধ, যা বিশ্ব দাতাসংস্থা (মাল্টিন্যাশনাল) তাদের দুই দুশমন (রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টান এবং মুসলমান) থেকে নিচ্ছে । মানবতা এই শয়তানি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে আল্লাহর রাষ্ট্র ব্যবস্থার (খেলাফত) ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করার আগ পর্যন্ত তাদের এই প্রতিশোধ গ্রহণ বন্ধ হবে না।
গণতন্ত্র এমন মরীচিকা, মানুষ যাকে পানি মনে করে তার পিছনে ছুটতে থাকে । কিন্তু পানি হলেই তো তা হাতে পাবে! এটা এমন অন্ধকার গোলক ধাঁধা, যাতে প্রবেশ করার পর মানুষ তার গন্তব্যের পথই হারিয়ে ফেলে ।
মানবতাও আজ তার পথ হারিয়ে ফেলেছে। আর খেলাফতের আলোয় পথ আলোকিত না হওয়া পর্যন্ত এরা কখনোই সঠিক পথে আসতে পারবে না। এ সময় বিশ্বমানবতাকে এই অন্ধকার অমানিশা ও গোলক ধাঁধা থেকে উদ্ধার করতে পারে এক মাত্র আল্লাহ প্রদত্ত ব্যবস্থা ৷ কুরআন সুন্নাহর ব্যবস্থা ৷ খেলাফত ব্যবস্থা । এক মাত্র আল্লাহ প্রদত্ত ব্যবস্থা, যা ফেরেশতাদের সরদার সকল নবীদের সরদারের নিকট এনেছেন। বাকি সবই মিথ্যা, ধোঁকা ও প্রতারণা।
আমাদের এমন একটা ব্যবস্থা প্রয়োজন যারা সম্পদের পাহাড় গড়াকে অবৈধ ঘোষণা করবে । এমন একটা ব্যবস্থা দরকার যাতে ধনী-গরিব, শাসক-শাসিত সবার সাথে ইনসাফ করা হয় । এমন ব্যবস্থা দরকার যাতে শাসক রাজা হয় না বরং জনগণের সেবক হয় । যার শরীরে লক্ষ টাকার কোর্ট নয় বরং তালি দেয়া কাপড় শোভা পাবে। যে তার জনগণের গ্রাস ছিনিয়ে নেয়ার পরিবর্তে নিজের পেটে পাথর বেঁধে জনগণকে খাওয়াবে। বিধবা অসহায়দের জন্য নিজ কাধে বোঝা বহন করে নিয়ে যাবে এবং তাদের খাবার তৈরি করে দিবে...। যে রাতে মদের নেশায় বুঁদ হয়ে জাতিকে বিক্রি করবে না। বরং নিজের ঘুম বিসর্জন দিয়ে রাতের বেলায় জাতির জন্য আহাজারি করবে । তার প্রজারা যেন ক্ষুধার্ত অবস্থায় না ঘুমায়, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা যেনো তাকে পাকড়াও না করেন, এ চিন্তায় সব সময় পেরেশান থাকেন।
সুতরাং ওঠো, জাগো । আমাদেরকেই এখন এই ব্যবস্থা উপড়িয়ে ফেলতে হবে। শুধু মিছিল করে কোনো লাভ হবে না। শুধু শ্লোগানে এই হিংস্রদেরকে গদি ছাড়া করা যাবে না। অবুঝ শিশুদের আত্মহত্যাও এদের অন্তরকে গলাবে না। ওঠো, জাগো এবং তোমাদের বুকের ভেতর যে বহ্নিশিখা জ্বলছে, তা তাদের প্রাসাদ পর্যন্ত পৌছিয়ে দাও ।
হে জাতির যুবক ভাইয়েরা আমার! কত দিন নিজের আগুনে নিজের যৌবনকে জ্বালাবে পোড়াবে? বাড়ি থেকে বের হও, স্কুল কলেজ ও মাদরাসা থেকে বেরিয়ে আসো এবং এই তাগুতি ব্যবস্থাকে ভস্ম করে দাও। আমেরিকান ও ভারতীয় এজেন্ট থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার এটাই উত্তম সুযোগ। খেলাফত পুনরুজ্জীবন... খেলাফত প্রতিষ্ঠা এই উম্মতের উপর মুসতাহাব বা সুন্নাত নয়, ফরয । খেলাফতহীন এই উম্মত এতিম ।