Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৪৮ || ইসলামের দৃষ্টিতে – গণতন্ত্রের সংশয় সমূহ ।। শাইখ আবু মুহাম্মাদ আসিম আল মাকদিসি হাফিজাহুল্লাহ – ।। শেষ পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৪৮ || ইসলামের দৃষ্টিতে – গণতন্ত্রের সংশয় সমূহ ।। শাইখ আবু মুহাম্মাদ আসিম আল মাকদিসি হাফিজাহুল্লাহ – ।। শেষ পর্ব

    আত-তিবইয়ান পাবলিকেশন্স পরিবেশিত
    ইসলামের দৃষ্টিতে – গণতন্ত্রের সংশয় সমূহ
    ।। শাইখ আবু মুহাম্মাদ আসিম আল মাকদিসি হাফিজাহুল্লাহ–।।
    থেকে- প্রথম পর্ব


    الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللَّهُ وَأُولَئِكَ هُمْ أُولُو الْأَلْبَابِ


    আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন: যারা মনোযোগ সহকারে কথা (ভাল উপদেশ সমূহ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ–আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, ইসলামের একত্ববাদ, ইত্যাদি) শুনে এবং উহার মধ্যে যাহা উত্তম (আল্লাহর একক ইবাদত করা, তাঁর নিকট তাওবা করা এবং তাগুতের সাথে কুফরি করা, ইত্যাদি) তা গ্রহণ করে, তাঁরাই হল আল্লাহর পক্ষ হতে হেদায়াত প্রাপ্ত এবং মানুষের মধ্যে তাঁরাই হল বোধশক্তি সম্পন্ন।” [1]


    ভূমিকা

    নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার জন্য। অতঃপর শান্তি বর্ষিত হোক নবী , তাঁর পরিবার বর্গের ও তাঁর সাহাবীদের (রাঃ) এর উপর শেষ দিন পর্যন্ত।

    সাম্প্রতিক ইন্টারনেটে পাশ্চাত্যের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমোদন যোগ্যতা সংক্রান্ত ব্যাপারে বিতর্ক দেখা গেছে আমাদের দ্বীনি ভাইদের মধ্যে। “ভোটের পক্ষ এবং বিপক্ষ” এবং “ভোট কেন?” এবং “কাকে ভোট দিব?” শীর্ষক দুটি প্রবন্ধ–যার প্রত্যেকটির মধ্যেই তুলে ধরা হয়েছে অনেকগুলো উল্লেখযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা এই প্রবন্ধগুলি ছাড়াও, গণতন্ত্র সম্পর্কিত এবং সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়সমূহের সাথে আপনাদের পরিচয়ের প্রয়োজন অনুভব করছি।

    উত্থাপিত বিষয়গুলোর সমাধানের মানসে আমরা সংক্ষিপ্তাকারে কিছু ভুল দাবীর শুদ্ধতা আশা করছি। এছাড়াও উল্লেখিত দুটি প্রবন্ধে লেখকদ্বয়ের কিছু ভুলের এবং এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত কিছু সাধারণ বিষয়ের পরিশুদ্ধতার চেষ্টা করব। মুসলিমদের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরতে কিছু ভূমিকা সম্বলিত পয়েন্ট অবশ্যই তৈরি করা দরকার। প্রবন্ধের ধারাবাহিকতায় আমরা গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমোদনের বিরুদ্ধে কিছু দলিল ভিত্তিক বিতর্কের অবতারণা করব।


    গণতন্ত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত কুফর এবং সুস্পষ্ট শিরকের একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

    গণতন্ত্রের ইংরেজী শব্দ হল DemocracyDemocracy শব্দটি দুটি গ্রীক শব্দ Demos Cratus থেকে উদ্ভূত। Demos শব্দের অর্থ হল ‘মানুষ/জনগণ’ এবং Cratus অর্থপরিচালনা’। Democracy এমন একটা পদ্ধতি যেখানে জনগণ তাদের নিজেদের জন্য আইন তৈরি করে তাদের নিয়োগকৃত স্থানীয় প্রতিনিধিদের দ্বারা। এই কাজটি হয় কোন সভা অথবা সংসদে। এবং এই পদ্ধতি স্থাপন করা হয়েছে ঐ সকল আইন ও নীতিমালাসমূহ বাস্তবায়ন করার জন্য যেখানে সংখ্যা গরিষ্ঠের ইচ্ছার পূর্ণ প্রতিফল ঘটে।

    আব্দুল ওয়াহ্হাব আল-কিলালি বলেছেনঃ “সকল প্রকার গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মূলে রয়েছে একটি কাল্পনিক মতবাদ যার কর্তৃত্ব জনগণের উপর আরোপ করে এবং এই কর্তৃত্ব থাকে জনগণের উপরে তার নেতৃত্বে। সংক্ষেপে জনগণের দ্বারা গঠিত সর্বোচ্চ নেতৃত্বের মাধ্যমে তৈরী সমষ্টিই হল গণতন্ত্র”। [2]

    অতএব গণতন্ত্র এমন একটা পদ্ধতি যার দ্বারা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আল্লাহর সংরক্ষিত অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হয় এবং যা আল্লাহর ঐ অধিকারের বিপক্ষে আচরণ করতে শেখায়। এবং এটা মানুষকে আল্লাহর পরিশুদ্ধ একটি ইবাদত হতে ফিরিয়ে শিরকের রাজ্যে অনুপ্রবেশ করায়। অনেক ক্ষেত্রে এটি মানুষকে আইন প্রণয়নকারীর স্তরে পৌঁছে দেয়। অথচ একমাত্র আইন প্রণয়নকারী হলেন আল্লাহ্ তা’আলা।

    আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ

    أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا نَأْتِي الْأَرْضَ نَنْقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَا وَاللَّهُ يَحْكُمُ لا مُعَقِّبَ لِحُكْمِهِ وَهُوَ سَرِيعُ الْحِسَابِ


    এবং আল্লাহ্ হুকুম দেন, তাঁর হুকুমকে পশ্চাতে নিক্ষেপকারী কেউ নেই এবং তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণ করেন।” [3]

    তিনি আরও বলেনঃ

    أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ وَلَوْلا كَلِمَةُ الْفَصْلِ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

    ওদের কি এমন কতগুলি দেবতা আছে যারা ওদের জন্য বিধান দিয়েছে এমন দ্বীনের, যার অনুমতি আল্লাহ্ দেন নি?” [4]

    এই সকল আইন প্রণয়নকারী জনপ্রতিনিধিরা যখন জনগণের জন্য আইন নির্ধারণ করে তা দ্বিধাযুক্ত অবস্থায় অথবা নির্দিধায়ে তারা সেটা মানতে বাধ্য থাকে। এভাবেই সংখ্যা গরিষ্ঠের ইচ্ছাসমূহ প্রতিনিধিত্ব পায় আল্লহ্ প্রদত্ত আদেশগুলোর উপর।

    আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ


    أَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنْتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا
    أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ إِنْ هُمْ إِلا كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ سَبِيلًا


    তুমি কি দেখ না তাকে যে তার কামনা-বাসনাকে ইলাহ রূপে গ্রহণ করে? তবুও কি তুমি তারকর্মবিধায়ক হবে? তুমি কি মনে কর যে ওরা অধিকাংশ শোনে ও বোঝে? তারা তো পশুরই মত; বরং তারা অধিক পথভ্রষ্ট ” [5]

    অতএব মানবাধিকারের নামে বিভিন্ন বিষয় সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করে এবং বিচারের ভার সে মিথ্যা উপাস্যের কাছে অর্পণ করে, আর তারাই হল ‘তাওয়াগীত’ এই অন্যায় অধিকার বাস্তবায়নের অপর নামই হল আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা। যে সব মানুষ অথবা পদ্ধতিগুলো আল্লাহর নাযিলকৃত আইনের বিরুদ্ধে শাসন করে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকেই ‘তাগুত’ বলে সাব্যস্ত করেছেন।

    আল্লাহ্ তা’আলা বলেন:

    أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آَمَنُوا بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَنْ يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَنْ يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُضِلَّهُمْ ضَلالًا بَعِيدًا

    আপনিকি তাদেরকে দেখেছেন যারা দাবী করে যে তারা বিশ্বাস করে আপনার উপর এবংআপনার পূর্ববর্তীদের উপর যা নাযিল করা হয়েছে। অতঃপর তারা তাগুতের কাছেতাদের বিবাদপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে যেতে চায়, যদিও তাদেরকে এর (তাগুতের সাথে) কুফরি করার আদেশ দেয়া হয়েছিল… [6]

    শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহঃ) বলেন: “আল্লাহর ইবাদত বাদ দিয়ে অথবা সত্য পথনির্দেশনা বাদ দিয়ে যে ব্যক্তির উপাসনা বা ইবাদত করা হয়; অথবা ঐ ব্যক্তি যদি আল্লাহর বিরুদ্ধে কোন আদেশ দেয় তাহলে সেই হল ‘তাগুত’। এই কারণে যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা ব্যতীত শাসন করে তারাই হল ‘তাগুত’।” [7]

    ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) বলেন: “আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের শাসন পদ্ধতি ব্যতীত যারা অন্য কোন পদ্ধতিতে শাসন করে তারাই তাগুত। মানুষ আল্লাহর পাশাপাশি যাদের ইবাদত করে অথবা মানুষ যে ব্যক্তির ইবাদত করে আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যম মনে করে এদেরকেও তাগুত বলে বিবেচনা করা যায়। যদিও এক্ষেত্রে তারা নিশ্চিত নয় যে তারা আল্লাহর একক ইবাদত করছে না দ্বৈত ইবাদত করছে। সুতরাং এরাই হল তাওয়াগীত (তাগুতের বহু বচন) এবং যদি আপনি এই সকল তাগুতের প্রতি এবং এদের সাথে জনগণের শর্তাবলীর দিকে লক্ষ্য করেন তাহলে এটা দিবালোকের মত সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, জনগণ আল্লাহর ইবাদত হতে তাগুতের ইবাদতের দিকে, আল্লাহর শাসন হতে তাগুতের শাসনের দিকে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য হতে তাগুতের আনুগত্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে”। [8]

    মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানক্বিতি (রহঃ) বলেন: ‘এবং কুরআনের এই আয়াতগুলো যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে তা দ্বারা সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তা’আলা প্রণীত এবং রাসূল ()-এর মুখ নিঃসৃত আইনের পরিবর্তে শয়তান ও তার সাহায্যকারীদের মুখ নিঃসৃত স্বরচিত আইনের আনুগত্য স্পষ্ট কুফর এবং শিরক। এতে কোন সন্দেহ নেই।’[9]

    এখন সত্যিকার অর্থে মুসলমানরা জেনে গেছে গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্য কি? এর মূল লক্ষ্য হল অধিকাংশের ইচ্ছার ভিত্তিতে জনসাধারণকে শাসন করা যা আল্লাহর প্রত্যাদেশের বৈপরীত্যে ঘোষণা করে। এই গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মধ্যে লুক্কায়িত শিরকের ব্যাখ্যা দানের প্রয়োজন অনুভব এই মুহূর্তে আমরা করছি না। [10]

    যদি পাঠকগণ শুরু হতে এ পর্যন্ত যে আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে পরিতৃপ্ত না হন তাহলে আমি আপনাদেরকে অনুরোধ করছি গণতন্ত্রের ব্যাপারে ইসলামের রায় সংক্রান্ত মৌলিক বিষয়াদি সমৃদ্ধ কোন প্রবন্ধ অথবা বই পড়ুন। কেননা এই প্রবন্ধে আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক নির্বাচনে যোগদান সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা। আমরা এই প্রবন্ধটিকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ব্যাখ্যার সাথে সংমিশ্রণ করে জটিলতর করতে চাচ্ছি না।


    নির্বাচন পদ্ধতি এবং ভোটারদের উপর এর প্রয়োগ

    নিশ্চয়ই গণতান্ত্রিক পদ্ধতি জনগণের নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ততার উপর নির্ভরশীল যার ফলে এটা পরিষ্কার করা যায় কারা কাউন্সিলে অথবা সংসদে এই জনগণের প্রতিনিধিত্ব দান করে। এই নির্বাচন পদ্ধতি আরও প্রয়োজনীয় ক্ষমতাশীল দল, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী কে হবে তা নির্ধারণ করার জন্য। এই নির্বাচন পদ্ধতিটি জনগণের নেতা পছন্দের উপর গঠিত যারা তাদের পক্ষে আইন প্রণয়ন এবং এর প্রয়োগ করবে। সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতির কোন অস্তিত্বই থাকবে না নির্বাচন ব্যতীত। জনগণ যদি নির্বাচন পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ না করে তাহলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না। যেহেতু কেউ কোন প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিবে না তাই নির্বাচিত কোন সাংসদ পাওয়া যাবে না যারা জনগণের পক্ষে আইন প্রণয়ন করবে অথবা সরকারের নীতিমালার বাস্তবায়ন করবে।

    আব্দুল ওয়াহহাব আল-কিলালী বলেন: “তাই বুঝা যাচ্ছে যে, জনগণ যাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তারা তাদের জন্য আইন প্রণয়নের ক্ষমতা রাখে। বরং তারা এমন সব সাংসদের হাতে কর্তৃত্ব দান করে যাদেরকে তারা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করে।“ [11]

    শেইখ আবু বাসির মুস্তফা হালিমাহ বলেন: ‘প্রথমত: যে নীতির উপর গণতন্ত্র স্থাপিত তা হলো জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এই ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা, সাধারণ জনগণের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন, যে প্রতিনিধিরা আইন তৈরি ও প্রণয়নের কাজ করবে। অন্য কথায় গণতন্ত্রে যে আইন প্রণয়নকারী এবং যার আনুগত্য করা হয় আসলে সে আল্লাহ নয় বরং একজন সাধারণ মানুষ। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যে, আইন প্রণয়ন ও বৈধ-অবৈধ নির্ধারণের ক্ষেত্রে যার ইবাদত অথবা আনুগত্য করা হয় সেও একজন জনগণ, একজন মানুষ, একজন সৃষ্টি, সে মহান আল্লাহ নয়। এটাই হল কুফর, শিরক এবং পথভ্রষ্টটার মূল অস্তিত্ব এবং দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহ ও তাওহীদের সাথে সাংঘর্ষিক। এভাবেই দুর্বল এবং অজ্ঞ লোকেরা শাসন-কর্তৃত্ব ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আল্লাহর একক ইলাহিয়্যাতে (একনিষ্ঠ ইবাদতে) শরীক করে।’ [12]

    সুতরাং সত্য হল এটাই যে, সকল সংসদ সদস্য যারা সবাই অধিকাংশ জনগণের ইচ্ছায় নির্বাচিত এবং যারা আইন প্রণয়নের জায়গায় বসে আছে তারা তাদের এই আল্লাহদ্রোহী কাজগুলো তখনি করতে পারে যখন জনগণ তাদেরকে ঐ অবস্থানে বসতে সাহায্য করে। এখন যদি আমরা বলি যে, আল্লাহর পাশাপাশি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ঐ সাংসদরা কুফর এবং শিরক করছে তাহলে যারা তাদেরকে এই কাজের জন্য নির্বাচিত করছে তাদেরকে আমরা কি বলব? এমনকি তারা এটাও জানছে যে, এই প্রার্থীরাই মানব-রচিত আইনের পুনর্গঠন করবে তাদের নির্বাচনের মাধ্যমে।

    শাইখ আব্দুল কাদির ইবনে আব্দুল আজিজ বলেনঃ ‘তাদের নিজেদের জন্য জনসাধারণের মধ্যে যারা ভোট দেয় তাদেরকে (সাংসদ), তারা অনুসরণ করছে কেননা ভোটাররা বস্তুতঃ তাদের পক্ষে শিরকের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করছে। কারণ এই প্রতিনিধিরাই আল্লাহর পাশাপাশি আইন-প্রণয়নের কাজ হাত দেয় এবং এভাবেই ভোটাররা সংসদ সদস্যদেরকে শিরকের বাস্তবায়নের অধিকার দেয় এবং তাদেরকে আল্লাহর পাশাপাশি আইন প্রণয়নকারী প্রভু হিসাবে গ্রহণ করে। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    وَلا يَأْمُرَكُمْ أَنْ تَتَّخِذُوا الْمَلائِكَةَ وَالنَّبِيِّينَ أَرْبَابًا أَيَأْمُرُكُمْ بِالْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ

    ফিরিশতাগণকেও নবীগণকে রব হিসাবে গ্রহণ করতে সে তোমাদের নির্দেশ দিতে পারে না। তোমাদেরমুসলিম হওয়ার পর কি সে তোমাদেরকে কুফরীর নির্দেশ দিবে?” [13]

    এই আয়াত দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, যদি কেউ ফিরিশতা ও নবীগণকে ‘রব’ হিসেবে গ্রহণ করে তবে সে কাফির। তাহলে যারা সংসদ সদস্যদেরকে ‘রব’ হিসাবে গ্রহণ করেছে তাদের অবস্থা কি? এই ভাবে আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন:

    قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلا نَعْبُدَ إِلا اللَّهَ وَلا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ

    তুমি বল, হে কিতাবিগণ এসো সে কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই, যেন আমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত না করি, কোন কিছুকেই তাঁর শরীক না করি, এবং আমাদের কেউ কাউকেও আল্লাহ ব্যতীত ‘রব’ হিসাবে গ্রহণ না করি।” [14]

    অতএব, মানুষকে আল্লাহর পাশাপাশি রব সরূপে গ্রহণ করা হল কুফরি এবং বেঈমানী এবং এই কুফরীই হল সংসদ সদস্যদেরকে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে জনগণ এই কুফরী ও শিরকে লিপ্ত হচ্ছে। [15]

    আবার কেউ যদি নিজে সরাসরি কুফরীর সাথে জড়িত না থাকে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কুফরীর পক্ষপাতিত্ব করে তাহলে নিম্নোক্ত নীতিমালার মধ্যে পরিগণিত হবে যে, ‘কুফরির সমর্থন দেওয়াও কুফরি’। কেননা যে ব্যক্তি জেনে শুনে মানুষকে কুফর অথবা শিরক করতে সাহায্য অথবা সক্ষম করে ঐ একই রায় তার ক্ষেত্রেও যে রায় প্রযোজ্য ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে যে নিজে শিরক অথবা কুফর করলো। রায়টা আসলে আমার নিজের নয় আমরা যদি নিচের আয়াতটি দেখি তাহলে পরিষ্কার হবে যে আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং এই রায় দিয়েছেন।

    وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آَيَاتِ اللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذًا مِثْلُهُمْ إِنَّ اللَّهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِينَ وَالْكَافِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا

    কিতাবে তোমাদের প্রতি তিনি তো অবতীর্ণ করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে, আল্লাহর আয়াত প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে এবং একে বিদ্রূপ করা হচ্ছে, তখন যে পর্যন্ত তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত না হয় তোমরা তাদের সাথে বসবে না, অন্যথায় তোমরাও তাদের মত হয়ে যাবে। মুনাফিক ও কাফির সকলকেই আল্লাহ জাহান্নামে একত্রিত করবেন।”[16]

    এবং আশ-শাওকানী (রহঃ) বলেন, ‘তাঁর ভাষ্য – নিশ্চয়ই এক্ষেত্রে ‘আপনি তাদের মতই হবেন’ – অন্য কথায় –আপনি যদি কাজটি করেন অথবা প্রতিরোধ না করেন তাহলে কুফরির ক্ষেত্রে আপনি তাদের সমপর্যায়ের।’ [17]

    শেইখ সুলাইমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রহঃ) বলেন:উক্ত আয়াতটির অর্থ একেবারে যেভাবে বলা হয়েছে ঠিক তাই। আয়াতটি দ্বারা বুঝানো হচ্ছে যে, যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর আয়াতগুলো শুনে বিশ্বাস না করে অথবা আয়াতগুলো নিয়ে মজা করে/ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে এবং কেউ যদি জোর-জবরদস্তি ছাড়াই এ সকল লোকদের সাথে বসে যারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করেছে অথবা তা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছে এবং তাদেরকে প্রতিরোধ না করে অথবা তাদেরকে ত্যাগ না করে যতক্ষণ পর্যন্ত না — তারা তাদের আলোচ্য বিষয় পরিবর্তন করছে তাহলে সেও তাদের মত একজন কাফির। এমন কি সে যদি তাদের কাজে অংশ গ্রহণ নাও করে কেননা তার নীরব সম্মতি প্রমাণ করে কুফরির প্রতি তার সমর্থন। কুফরির প্রতি মৌন সমর্থন থাকাও কুফরি।

    এই আয়াত এবং এই ধরনের যে আয়াতগুলো আছে তার পরিপ্রেক্ষিতে আলেমগণ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, কেউ যদি কোন পাপ কর্মে সন্তুষ্ট থাকে তাহলে যে পাপ কাজটি করেছে সে তার মতই বিবেচিত হবে যদিও একথা বলে যে সে মনে মনে পাপ কাজটিকে ঘৃণা করে। তবুও এটা গ্রহণযোগ্য না। কেননা বিচার সাধারণত করা হয় বাহ্যিক প্রকাশভঙ্গির উপর ভিত্তি করে। কেননা অন্তরের আভ্যন্তরীণ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা কেবল মাত্র আল্লাহর কাজ। তাই বাহ্যত যার মধ্যে কুফরি প্রতীয়মান হবে সেই কাফির বলে বিবেচিত হবে।” [18]

    অতএব, যে সুস্পষ্টভাবে উপস্থিত থাকে কুফরি সংগঠিত হওয়ার স্থানে এবং ঐ স্থান ত্যাগ করে না অথবা ঐ স্থানে কোন প্রতিরোধের ব্যবস্থাও গ্রহণ করে না তার ক্ষেত্রে ঐ একই রায় যে রায় কুফরিকর্তার ক্ষেত্রে। যারা শিরক ও কুফরকে সাহায্য করে অর্থাৎ সক্রিয় থেকে কাউকে নির্বাচিত করে যাতে তারা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আইন প্রণয়ন করতে পারে, তাদের ক্ষেত্রে কি বা বলা যায়। মনে রাখতে হবে যে, এই ভোট দান পদ্ধতি হচ্ছে প্রত্যেকটি সংসদ সদস্যকে শিরক এবং কুফরি করতে দেয়ার একমাত্র উপায় কারণ ভোটার কর্তৃক নির্বাচনীয় সমর্থন ব্যতীত তারা ঐ বিশেষ স্থানে সমাসীন হতে পারে না।

    আমরা যদি একবারের জন্যেও ভোটারদের কার্যকলাপ এবং যখন কোন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় তার কার্যকলাপকে একত্রিত করি তাহলে তাদের উভয়ের দ্বারা কৃত কুফর বা শিরকের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে না। যারা আল্লাহর পাশাপাশি অন্য কাউকে ‘রব’ বানায় বৈধ ও অবৈধ করার ব্যাপারে, বিধান দাতা হিসেবে এবং যারা সূর্য ও চন্দ্রকে আল্লাহর পাশাপাশি জীবনী শক্তি ও খাদ্য/রিজিক দানকারী হিসেবে রব বানায় তাদের মধ্যে পার্থক্য কতটুকু? আল্লাহর কসম! তাদের উভয়ের ক্ষেত্রে একই রায় প্রযোজ্য।





Working...
X