Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫০ || গণতন্ত্র নয় পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব ।। মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম– ।। শেষ পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫০ || গণতন্ত্র নয় পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব ।। মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম– ।। শেষ পর্ব

    গণতন্ত্র নয় পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব
    ।। মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম– ।।
    –।।থেকে- শেষ পর্ব

    নবী-রাসূলগণের দাওয়াত ও কর্মনীতি

    আমরা ইতিহাসে দেখতে পাই যে, নবী-রাসূলগণ কখনও গণতন্ত্র কায়েমের দাওয়াত দেন নি। তারা প্রতিষ্ঠিত সকল প্রকারের সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার ও অগ্রাহ্য করে একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব কবুল করার-আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করার দাওয়াত দিয়েছেন এবং তা-ই হচ্ছে ইসলাম ও ইসলামী হুকুমাত কায়েমের একমাত্র পথ ও পন্থা। এ পথ ও পন্থা চিরন্তন। সর্বকালের সর্ব দেশের সকল অবস্থায় এই দাওয়াতই হচ্ছে আল্লাহর বান্দাহগণের একমাত্র দাওয়াত। একমাত্র সঠিক ও নির্ভুল পন্থা। কেননা আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও দ্বীন-ইসলাম সম্পর্কে সামান্য জ্ঞানের অধিকারীরাও এটা বোঝে যে, ইসলামের বিরুদ্ধতার দিক দিয়ে সামরিক শাসন ও গণতান্ত্রিক সরকার-এ দুয়ের মধ্যে কোন মৌলিক পার্থক্যই নেই। দুটিরই মুলকথা মানবীয় সার্বভৌমত্ব আর ইসলামের মূলকথা হচ্ছে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব।

    মানবীয় সার্বভৌমত্ব-তার বাহ্যিক রূপ যা-ই হোক-কোন দিনই আল্লাহর সার্বভৌমত্ব তথা ইসলাম কায়েমের পথ খুলে দেয়নি। কেননা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব কায়েম হলে মানবীয় সার্বভৌমত্বের সকল পথ বন্ধ হয়ে যাবে, তাতে তার অপমৃত্যু ঘটবে। আর কোন ব্যক্তি বা কোন শক্তিই সহজে মৃত্যুবরণ করতে প্রস্তুত হয় না। তাই যারা মনে করে, সামরিক শাসনে দ্বীন-ইসলাম কায়েমের আহ্বান দেয়া যায় না, গণতন্ত্র কায়েম হলে খুব সহজেই দেয়া যাবে কোন বাধা থাকবে না, তারা মুর্খের স্বর্গে বাস করে। তারা এ-ও বোঝে না যে, সামরিক শাসন এক ব্যক্তির শাসন, তার বিরুদ্ধে জনমনে থাকে ব্যাপক ঘৃণা, ক্ষোভ ও অসন্তুষ্টি। এ সময়ই জনগণের সম্মুখে মানবীয় সার্বভৌমত্বের দোষ-ত্রুটি, , অনিষ্টকারিতা স্পষ্ট করে দেখানো অতি সহজ। গণতান্ত্রিক সরকার যেহেতু জনগণের ভোট ও সমর্থনে প্রতিষ্ঠিত হয়, তার পিছনে জনগণের অন্ধ সমর্থন থাকা স্বাভাবিক। তদুপরি সরকারী দল থাকে সারাদেশে ছড়িয়ে । তারা তাদের ম্যানিফেস্টো' অনুযায়ী কাজ করে অতি সহজেই জনগণকে বোঝাতে ও শান্ত করতে পারে, তার বিরুদ্ধে কোন কথা শুনতে জনগণ সহজে রাযী না-ও হতে পারে। তা ছাড়া ইসলামের দাওয়াত দিলে সঙ্গে সঙ্গেই ইসলামী হুকুমাত কায়েম হয়ে যাবে, এমন কোন কথা নেই। এ এক দীর্ঘমেয়াদী সংগ্রাম। সরকার সামরিক না গণতান্ত্রিক, ইসলামী হুকুমত কায়েমের সংগ্রামের দৃষ্টিতে তা একেবারেই অবাস্তব। তাই আজকের ইস্যুই হচ্ছে মানুষ আল্লাহর গোলাম হবে, না মানুষের। দেশে ইসলামী হুকুমত কায়েম হবে, কি হবে কুফরী হুকুমাত; দেশে ইসলাম থাকবে কি থাকবে না। কেননা তথাকথিত ধর্মহীন গণতান্ত্রিক সরকার কায়েম হলে তা ইসলাম কায়েমের পথে তেমনি দুংখ্য বাধা হয়ে দাঁড়াবে, যেমন বর্তমানে[1] সামরিক শাসন দাঁড়িয়ে আছে। তা ছাড়া বর্তমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে যারা জয়ী হবে, যারা সরকার গঠন করবে, তারা আর যা-ই হোক ইসলামী সরকার গঠন করবে না, কৱৰে সেকিউলার বা ধর্মহীন সরকার। সে ধর্মহীন সরকার পূর্ণ শক্তি দিয়ে ইসলামী হুকুমত কায়েমের পথ বন্ধ করে দেবে, এটাই স্বাভাবিক। ৭২-এর সংবিধান গণতন্ত্রবাদীদের দ্বারাই রচিত হয়েছিল এবং তারাই সংবিধানের ৩৮ ধারায় লিখে দিয়েছিল, ধর্মের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গঠন করা যাবে না। ফলে ৭৬ সন পর্যন্ত এদেশে কোন ইসলামী দল গঠিত হতে পারেনি। তা ছিল সম্পূর্ণ বেআইনী। কাজেই যাদের লক্ষ্য ইসলামী হুকুমাত কায়েম করা, তাদের নিকট বর্তমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি একবিন্দু আকর্ষণ থাকতে পারে না



    খিলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনই সঠিক


    তাই দেশের মুমিন মুসলিমদেরকে গণতন্ত্র নয়, ইসলামী হুকুমাত তথা খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য অনতিবিলম্বে সংগ্রাম শুরু করতে হবে। এই সংগ্রামকারীদের বক্তব্যের সারকথা হচ্ছেঃ গণতন্ত্র বা কোন তন্ত্র-মন্ত্র নয়, একমাত্র ইসলামী হুকুমাত তথা খিলাফত কায়েমই হল মুক্তির পথ। এ ছাড়া বর্তমান সমস্যাবলীর কোন সমাধান হতে পারে না।

    খিলাফত কুরআন মজীদেরই একটি পরিভাষা। আল্লাহ তাআলা মানুষকে তার বান্দাহ হিসাবে খিলাফতের দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ মানুষকে যে সব মহৎ গুণের অধিকারী করে সৃষ্টি করেছেন, তাতে মানুষ কখনই কোন অবস্থায়ই আল্লাহ(সার্বভৌম বা রব্ব) হতে পারে না, পারে না আল্লাহর খলীফা (প্রতিনিধি) হতে, খিলাফতের দায়িত্ব পালন করতে। তাই মানবীয় সার্বভৌমত্ব-ভিত্তিক গণতন্ত্র' যেমন মানুষের জন্য একটি ধোঁকা-একটি বিরাট প্রতারণা, তেমনি তা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব অস্বীকৃতি ও মানবীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি ঈমান পোষণেরও মতবাদ। এই মতবাদের শ্লোগান দিয়ে দিয়ে এত দিন পর্যন্ত মানুষের প্রভু বা রব্ব-নিরংকুশ শাসক হতে ইচ্ছুক রাজনৈতিক নেতারা জনগণকে মারাত্মক ধোঁকার মধ্যে ফেলে রেখেছে। এই ধোঁকা থেকে মুক্তি লাভ না করা ও খিলাফত প্রতিষ্ঠার প্রত্যক্ষ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে না পড়া পর্যন্ত কোন মুমিন-মুসলিমই ঈমানী দায়িত্ব পালন করতে পারে না।

    খিলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলন প্রকৃতপক্ষে ইসলামী বিপ্লবেরই প্রচেষ্টা। 'এই বিপ্লবের পরিণতিতেই সম্ভব বর্তমান প্রশাসন কাঠামোকে-যা গোলামির প্রতীক, যা ইসলাম কায়েমের প্রধান প্রতিবন্ধক-উৎখাত করে খিলাফতে রাশেদার আদর্শ প্রশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা। শুধুমাত্র ক্ষমতার হাত-বদলই এর লক্ষ্য নয়। বস্তুত খিলাফত প্রতিষ্ঠা তথাকথিত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠাই সম্ভব। গণতান্ত্রিক সরকার এই ভূখণ্ডে একাধিকবার গঠিত হয়েছে; কিন্তু গণতন্ত্র মুদ্রার অপর পিঠে যেহেতু স্বৈরতন্ত্র মুদ্রিত, তাই গণতান্ত্রিক সরকারকে মাত্র তেরো মিনিটের মধ্যেই স্বৈরতন্ত্রে রূপান্তরিত হতে এবং তার হাতে জনগণের যাবতীয় মৌলিক অধিকার অপহৃত হতে দেখা গেছে প্রত্যক্ষভাবে।

    মুলতৰী সংবিধানকে[2] বহুদলীয় প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বলে বড় গলায় দাবী করা হয় এবং তাকে পুনর্বহাল করে তারই ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও দাবী জানানো হচ্ছে জোরেশোরে সামরিক সরকারপ্রধান (এরশাদ)ও সেই মুলতবী সংবিধান বহাল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি তো দেবেনই। কেননা, জনগণের রব্ব বা খোদা হয়ে বসার জন্য মুলতবী সংবিধান একটি মোক্ষম হাতিয়ার। তাতে প্রেসিডেন্টকে এত নিরংকুশ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, কুরআন অনুযায়ী যা একমাত্র আল্লাহরই রয়েছে।[3] ইসলামী দৃষ্টিকোণ দিয়ে সে সংবিধান পাঠ করলেই তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। তাই মুলতবী সংবিধান হচ্ছে প্রেসিডেন্টকে-একজন সাধারণ মানুষকে-রব্ব বা খোদার আসনে বসানোর সংবিধান। কোন ঈমানদার। ব্যক্তিই কি কোন মানুষকে খোদার আসনে বসাতে রাজি হতে পারে?

    তাই মুলতবী সংবিধান বহাল করা হলে ইসলামী হুকুমাত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে নিজেদের হাতেই চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হবে। এ কারণেই খিলাফত কায়েমের লক্ষ্যে গঠিত ইসলামী দলসমূহের সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদ[4] মুলতবী সংবিধান বহাল করার সুস্পষ্ট বিরোধী তার পরিবর্তে ইসলামী জনতার ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফলে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত বিপ্লবী সরকারের নেতৃত্বে ঈমানদার বুদ্ধিজীবী ও হক্কানী আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটির দ্বারা নতুন করে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক ইসলামী সংবিধান রচনার কাৰ্যসূচী গ্রহণ করেছে।

    বস্তুতঃ পুরাতনকে মেরামত করে, জোড়াতালি দিয়ে দুর্নীতি ও কুসংস্কারের জঞ্জালে নিমজ্জিত বর্তমান মুসলিম সমাজকে ইসলামী বানানো সম্ভব নয়। পূর্ণাঙ্গ ইসলামের বাস্তবায়ন সম্ভব একটি ইসলামী বিপ্লবের দ্বারা; সেই বিপ্লবই হওয়া উচিত মুসলমানদের একমাত্র লক্ষ্য।

    এই দাওয়াত কবুল করে সম্মিলিতভবে খিলাফত কায়েমের জিহাদে জান-মাল দিয়ে শরীক হওয়ার আহ্বান জানাই।


    (১৯৮৫ সালের প্রথম ভাগে ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের এক কর্মী সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণের লিখিত রূপ)।


    বাণী চিরন্তন

    এদেশের মুসলিম জনতা শুধু মানচিত্র বদলই নয়, ইংরেজআমলের যাবতীয় অভিশাপ থেকে মুক্তি চায়।
    …………………………………………………………………………………………..
    আজকের বাস্তব অবস্থা দেখে মনে হয় এদেশটি স্বাধীন হলেও স্বাধীন নয়-নিতান্তই গোলাম দেশ,পরাধীন জীবন।
    ……………………………………………………………
    পাশ্চাত্যের এ গণতন্ত্রের সার কথা হল জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং তাদের উপর নির্বাচিত লোকদের নিরংকুশ কর্তৃত্ব।
    …………………………………………………………..
    মানুষ কখনও মানুষের গোলাম হতে পারে না। কোন মানুষ পারে না মানুষের রব হতে। মানুষ কেবল মাত্র আল্লাহর বান্দা হতে পারে ।
    -গণতন্ত্র নয় পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব

    ……………………………………………………………
    এদেশের বিপুল সংখ্যক আলিম রূপে পরিচিত ব্যক্তি বার বার, জালিম তাগুতী শাসকের হাতে বিক্রি হয়ে ঈমানী তাকীদের কথা ভুলে গেছেন, ভুলে গেছেন তাদের মহান মর্যাদার কথাও। হারিয়ে ফেলেছেন তাদের সম্মানটুকু

    --ইসলামী সমাজ গঠনে মসজিদের ভূমিকা
    …………………………………………………………………………………………
    ইসলাম সম্পর্কে একথা চূড়ান্ত যে, তা সামগ্রিক জীবনের জন্য এক পূর্ণাঙ্গ বিপ্লবী আদর্শ, এক বিশ্বজনীন পুনর্গঠন প্রচেষ্টা, এক সর্বাত্মক সংগ্রামের নাম, তা একটি চিরন্তন ও শাশ্বত জীবন বিধান- একটি আপোষহীন সংগ্রাম।

    -শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি








    [1] মনে রাখতে হবে কথাটি বলা হয়েছিল আশি দশকের প্রথম ভাগে দেশে সামরিক শাসন চলাকালে। কথাটির প্রেক্ষাপট পাল্টে গেলেও এর মূল আবেদন এখনো অপরিবর্তিত হয়েছে। সম্পাদক
    [2] এই কথাটিরও প্রেক্ষাপট আশির দশকের সামরিক শাসন চলাকালীন পরিস্থিষ্টি। ১৯৯১ সালের নির্বাচিত পার্লামেন্ট সংবিধান সংশোধন করে প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতিকে পার্লামেষ্টাৰী পদ্ধতিতে রূপান্তরিত করেছে মাত্র। সম্পাদক
    [3] সংবিধান সংশোধনের পর বর্তমানে এই নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ভোগ করছেন। সম্পাদক
    [4] এই পরিষদ গঠিত হয়েছিল। আশির দশকের গোঁড়ার দিকে হাফেজ্জী হুজুরের নেতৃত্বে। পরে হাফেজ্জীর নিজস্ব দলটি ’৮৬- এর নির্বাচনে অংশ নেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পরিষদটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। অবধি ইসলামী ঐক্য আন্দোলন ঐ একই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সম্পাদক






    আরও পড়ুন
    দ্বিতীয় পর্ব

Working...
X