ফরাসি যোদ্ধাদের একটি দল সম্প্রতি ‘حان وقت الحقيقة’ (সত্য উন্মোচনের সময় এসেছে) শিরোনামে নতুন একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছে। এতে দলটির আমির ওমর ওমসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য স্থান পেয়েছে। গত ২২ অক্টোবর ইদলিব প্রদেশের হারেম শহরে ফরাসিদের পরিচালিত ‘গুরাবা’ (ভিনদেশি) ক্যাম্পে ওয়াশিংটনের মিত্র ‘সিরিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’ একটি হামলা চালায়। সেই হামলার বিষয়েই ওমসন এই ভিডিওতে নিজেদের অবস্থান ও ভাষ্য তুলে ধরেছেন।
ওমর ওমসনের মতে, সেদিন তাদের ক্যাম্পে এক ‘উল্লেখযোগ্য ঘটনা’ ঘটেছিল। একটি চুক্তির শর্তে আবদ্ধ থাকায় এতদিন তাঁরা বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি; নিজেদের ওপর বয়ে যাওয়া সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা কাউকে জানাতে পারেননি। প্রকাশিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, সিরিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামরিক বহরগুলো ক্রমশ ক্যাম্পের দিকে ধেয়ে আসছে। ভেতরে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি এবং চারপাশের আতঙ্কগ্রস্ত পরিবেশের তোয়াক্কা না করে ভারী অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে ক্যাম্পের ওপর নির্বিচারে হামলা চালানোর দৃশ্যও সেখানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
ওই হামলার সময় সিরিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাহিনীকে প্রতিহত করতে ফরাসি যোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উজবেক যোদ্ধারাও প্রস্তুত ছিলেন, যার প্রমাণ এই ভিডিওতে সংরক্ষিত রয়েছে।
ওমসন স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে ছিল মূলত ফরাসি যোদ্ধাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। সেই বিরোধের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু সদস্য ক্যাম্প ছেড়ে চলে যায়। পরবর্তীকালে এই দলত্যাগী সদস্যরাই মূল দলের বিরুদ্ধে নানাবিধ মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ ছড়িয়ে দেয় এবং সিরিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কান ভারী করে। সরকারও কোনো রকম সত্যতা যাচাইয়ের তোয়াক্কা না করে অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে সেসব অভিযোগ বিশ্বাস করে বসে।
তিনি জানান, এসব ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে দলের বেশ কয়েকজন সদস্যকে বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার করে কারাবন্দী করা হয়। টানা দুই বছর ধরে তাঁদের সব ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়। ওমসন আরও যোগ করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মিথ্যাচারের ডালপালা আরও বিস্তৃত হয় এবং তা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে দলটির সুনাম ও সদস্যদের পারিবারিক সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়।
তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে উল্লেখ করেন, এই জঘন্য মিথ্যাচার কেবল দলের পুরুষ সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং সিরিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রচ্ছন্ন সমর্থন ও নীরবতার সুযোগে তা তাঁদের নারী ও শিশুদের জীবনেও চরম আঘাত হেনেছে। ওমসনের ভাষায়, ইসলামে মিথ্যা অপবাদ ও রটনা সম্পূর্ণ হারাম। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সিরিয়ান সরকারের উচিত ছিল এতে হস্তক্ষেপ করে এর সুষ্ঠু অবসান ঘটানো। কিন্তু সেই পথে না হেঁটে, উল্টো ‘দলের ভেতর আরেকটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা হচ্ছে’ এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তারা ফরাসি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে দমনপীড়নের পথই বেছে নেয়।
এই প্রেক্ষাপটেই ওমসন তার দলের প্রতি সিরিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈরী আচরণ এবং অন্য গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তাদের নমনীয়তার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি ইঙ্গিত করেন, দেশের অভ্যন্তরে এমন কিছু গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে যারা কার্যত নিজেদের স্বাধীন শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছে; অথচ তাদের কখনও জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি। ভিডিওটিতে দ্রুজ সম্প্রদায়ের একটি বিক্ষোভের দৃশ্যও দেখানো হয়, যেখানে ইসরায়েলের পতাকা ও দ্রুজদের স্লোগান উড়তে দেখা যায়। এর পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলে বসবাসরত দ্রুজ সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক নেতা মোয়াফাক তারিফের মধ্যকার একটি বৈঠকের ছবিও জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে, ওমসন ফরাসি শিশু মাইমুনার প্রসঙ্গটিও গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন। তিনি জানান, শিশুটি তার পুরনো ক্যাম্পে ফিরে এলে দল তাকে সস্নেহে আশ্রয় দেয়। শিশুটির মা দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় আগে ক্যাম্প ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তিনি গুরুতর মানসিক অস্থিরতা ও আচরণগত সমস্যায় ভুগছিলেন। এমনকি একটি সুস্থ ও স্থিতিশীল পরিবেশে নিজের সন্তানদের লালন-পালন করার মতো মানসিক সক্ষমতা যে তার নেই, সে কথাও তিনি নিজ মুখেই স্বীকার করেছিলেন।
তিনি নিশ্চিত করেন যে, শিশুটি মূলত তার মায়ের বিপথগামিতা ও অস্থিতিশীল জীবনাচরণ থেকে বাঁচতেই স্বেচ্ছায় ক্যাম্পে ফিরে এসেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে দলটির বিরুদ্ধে—এবং বিশেষভাবে ওমসনের বিরুদ্ধে—শিশুটিকে অপহরণের মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়। ভিডিওতে মাইমুনার মা সারার একটি আবেদনও প্রচার করা হয়, যেখানে তিনি সিরিয়ান সরকারের কাছে নিজের মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার আরজি জানান।
ওমসন বলেন, এই ভিত্তিহীন অভিযোগগুলোর ওপর ভর করেই প্রায় হাজারখানেক সৈন্যের এক বিশাল বাহিনীকে ক্যাম্পের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হয়। মাঝরাতে যখন ক্যাম্পের বেশিরভাগ মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই তারা চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এই নারকীয় তাণ্ডব চালায়। তারা ক্যাম্পের সমস্ত প্রবেশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়, যেন বাইরের কেউ এসে কোনোভাবেই এই হামলায় বাধা দিতে না পারে।
ওমসন জানান, তার এই বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত সত্যকে জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং ফরাসি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ছড়ানো জঘন্য মিথ্যাচারগুলো খণ্ডন করা। তিনি উল্লেখ করেন, শুরুতেই তাঁরা সিরিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন, যেন সরকার তাদের দাপ্তরিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে এই ভ্রান্তিগুলো দূর করে। কারণ, নিরপরাধ মানুষের ওপর অবিচার হলে সভ্য রাষ্ট্রগুলো এভাবেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে থাকে। কিন্তু সেখান থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই তাঁরা এই ভিডিও প্রকাশের পথ বেছে নেন।
তিনি দাবি করেন, সিরিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের ভুল স্বীকার করে নেওয়া। যাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাঁদের নির্দোষ ঘোষণা করা এবং যে বিপুল ক্ষতিসাধন করা হয়েছে, তার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা। কিন্তু গভীর আক্ষেপের সঙ্গে তিনি জানান, ইদলিব শহরের প্রধান দায়িত্বশীল কর্মকর্তা উল্টো সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এক বিবৃতি দিয়ে বসেন। তিনি দাবি করেন, দলটি একটি কন্যাশিশুকে অপহরণ করেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্যদের ওপর আগে গুলি ছুড়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। জঘন্য এই অপপ্রচারের মাত্রা এত দূর গড়ায় যে, তিনি দলটিকে চরমপন্থী ‘খাওয়ারিজ’ বলেও আখ্যায়িত করেন।
এই মিথ্যাচারের রেশ ধরে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ন্যূনতম সত্যতা যাচাইয়ের তোয়াক্কা না করে এবং সম্পূর্ণ একপেশেভাবে এসব দাবি লুফে নিয়ে প্রচার করতে শুরু করে। এর ফলে দলটির ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যিনি এই মিথ্যা অভিযোগগুলো প্রথম ছড়িয়েছিলেন, তিনি আজও সসম্মানে নিজ সরকারি পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই ঘটনার সংবাদ প্রচারের প্রমাণস্বরূপ ভিডিওটিতে আল জাজিরা ও ফ্রান্স ২৪-এর মতো সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনও তুলে ধরা হয়।
ওমসন অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে জানান, এই ঘটনাগুলোর পরিণতি ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। দলের নিষ্পাপ শিশুগুলো চরম মানসিক ট্রমার শিকার হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, ফ্রান্সে অবস্থানরত তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ডেকে নিয়ে গিয়ে দিনের পর দিন জিজ্ঞাসাবাদ ও চরমভাবে অপদস্থ করা হয়েছে।
সিরিয়ায় তাদের সম্পর্কে এমন এক নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা হয়েছে যে, স্থানীয় অনেক পরিবার এখন দলটির সদস্যদের কাছে নিজেদের মেয়েদের বিয়ে দিতেও অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। অথচ ইসলামি শরিয়ত একজন মুসলিমের রক্ত, সম্মান ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পরবর্তী সময়ে সিরিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিষয়টি সমাধানের জন্য কিছু উদ্যোগ নিলেও তা মোটেও সন্তোষজনক ছিল না। কারণ, ততদিনে দলটিকে ভয়াবহ রক্তপাতের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নারী ও শিশুরা চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং তাঁদের সম্মান ধুলোয় মিশে গেছে।
ওমসন জানান, সিরিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চলতি বছরের ১লা এপ্রিলে তাঁদের দলের সঙ্গে একটি বৈঠকে বসে। সত্যতা যাচাইয়ের পর শেষ পর্যন্ত তারা স্বীকার করে নেয় যে, দলটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মূলত তাদেরই সাবেক কিছু দলত্যাগী সদস্যের মস্তিষ্কপ্রসূত। এসব অভিযোগের বিন্দুমাত্র কোনো ভিত্তি নেই; বরং এগুলো ছিল সম্পূর্ণ বানোয়াট ও চরম অতিরঞ্জিত।
ওই বৈঠকে সরকার এই মর্মে নিশ্চিত করে যে, ওমসনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে বা দলের অন্য কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে আর কোনো অভিযোগ বহাল নেই। সিরিয়ান সরকারের কারাগারে বন্দি ফরাসি নাগরিকদের মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতাটুকু সম্পন্ন করাই এখন একমাত্র কাজ।
তিনি জানান, এই বন্দিদের মধ্যে আবু ওমর আল-ফারান্সিও রয়েছেন। শিশু মাইমুনাকে অপহরণের অভিযোগে ক্যাম্পে হামলা চালানোর প্রায় ৪ মাস পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অথচ অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, তিনি শিশুটির মা সারার সঙ্গে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন।
ওমসন বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, গত ২০ এপ্রিল ইদলিবে একজন বিচারকের উপস্থিতিতে মা ও মেয়ের মুখোমুখি একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই শুনানিতে মাকে দেখামাত্রই শিশুটি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, যা বিচারক থেকে শুরু করে উপস্থিত সকলেরই নজরে আসে। তিনি আরও জানান, সিরিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ও উপস্থিত কয়েকজনের প্রবল চাপ প্রয়োগ সত্ত্বেও শিশুটি কোনোভাবেই তার মায়ের কাছে ফিরে যেতে রাজি হয়নি।
নিজের অস্থিতিশীল ও রুক্ষ আচরণের কারণেই যে মেয়ে তার কাছে ফিরতে চাইছে না, তা বুঝতে পেরে মা শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হন। ওমসন আরও জানান, শিশুটি বিচারকের সামনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, সে স্বেচ্ছায় চলে এসেছিল এবং তাকে কেউ অপহরণ করেনি। শুধু তাই নয়, তার মা যে সিরিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও গণমাধ্যমের কাছে সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করেছিলেন, সে কথাও শিশুটি আদালতে নিশ্চিত করে।
শেষ পর্যন্ত আবু ওমর আল-ফারান্সিকে মুক্তি দেওয়া হলেও তার জন্য ১,০০০ ডলার মুক্তিপণ গুনতে হয়। এই বিপুল অর্থ জোগাড় করার সামর্থ্য না থাকায় বাধ্য হয়ে তাঁদের তা ধারদেনা করে মেটাতে হয়েছিল।
ক্ষুব্ধ ওমসন প্রশ্ন রাখেন, "যাঁর নির্দোষিতা প্রমাণিত হয়ে গেছে, তাঁকে কেন নিজের স্বাধীনতার জন্য মূল্য চোকাতে হবে?" তিনি এই ঘটনাকে স্পষ্ট ও চরম অবিচার আখ্যা দিয়ে বলেন, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগের ওপর ভর করে তাঁদের দলের ওপর ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছিল। সেই মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতেই আবার সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়, আর এখন তাঁদের মুক্তির জন্য উল্টো মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হচ্ছে!
তিনি যোগ করেন, মিথ্যা অভিযোগগুলো খুব দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই আজও দলটিকে অপরাধীদের একটি চক্র হিসেবেই বিবেচনা করে। দুঃখজনকভাবে, সত্য কখনও সেই একই গতিতে ছড়ায়নি। এমনকি যারা এই জঘন্য মিথ্যাচারগুলো ছড়িয়েছিল, গণমাধ্যমের সামনে এনে তাদের দিয়ে এই ভুল সংশোধনে বাধ্যও করা হয়নি।
বক্তব্যের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাঁদের দল কারও কাছ থেকে কোনো ধরনের বাড়তি সুবিধা বা ছাড় প্রত্যাশা করে না। তাঁরা কেবল সত্যের ন্যায়বিচার চান, অপপ্রচারের চিরতরে অবসান চান এবং অন্যায়ভাবে ক্ষুণ্ন হওয়া নিজেদের হৃত সম্মানটুকু ফিরে পেতে চান। তাঁর মতে, একটি মিথ্যা অপবাদ মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু ধ্বংস করে দিতে পারে; কিন্তু সত্য যদি তার ন্যায্য অধিকার পায়, তবে তা আবারও সবকিছু নতুন করে গড়ে তোলার অসীম ক্ষমতা রাখে।
তিনি উল্লেখ করেন, সময়ের পরিক্রমায় এরই মধ্যে সত্য প্রকাশ পেতে শুরু করেছে এবং মূল ঘটনাপ্রবাহের ওপর থেকে কুয়াশা সরে যাচ্ছে। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা ও ইনসাফের পথে অবিচল থাকার নৈতিক দায়ভার এখন প্রতিটি পক্ষের কাঁধেই সমানভাবে বর্তায়। ওমসন তার বক্তব্যের ইতি টেনে বলেন, দলটি নীরবতা ভেঙে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তাদের দৃষ্টিতে যা বলা উচিত, তা নির্ভয়ে তুলে ধরেছে। যারা অন্ধভাবে অভিযোগের তীর ছুড়েছিল, তারা সত্য প্রতিষ্ঠায় যা করতে ব্যর্থ হয়েছিল বা সযত্নে এড়িয়ে গিয়েছিল—দলটি সেই সত্যকেই তার সঠিক জায়গায় সসম্মানে ফিরিয়ে আনার কাজটি সম্পন্ন করেছে মাত্র।
ভিডিও প্রকাশনাটির একেবারে শেষাংশে সিরিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কারাগারে বন্দি দুই ফরাসি যোদ্ধা আবু জান্নাহ ও আবু বাসিরকে দেখা যায়। সেখানে আবু বাসির "শরিয়তের শাসন" নিয়ে কথা বলেন। একই সঙ্গে ভিডিওটিতে "আল-তাহালুফ আশ-শারয়ি" (শরিয়তসম্মত জোট) নামে তাদের আরেকটি আসন্ন প্রকাশনার ঘোষণাও দেওয়া হয়।
*****
সতর্কবার্তা: এই লেখাটি মূলত আপনাদের তথ্যগত অবগতির উদ্দেশ্যে অনুবাদ করা হলো। সুতরাং, এখানে প্রদত্ত বিষয়গুলোকে চূড়ান্ত বা অকাট্য প্রমাণ হিসেবে ধরে না নেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। উল্লেখ্য, রচনায় উপস্থাপিত যাবতীয় চিন্তাধারা ও বক্তব্যের দায়ভার একান্তই মূল লেখকের নিজস্ব। তাঁর সকল মতাদর্শ বা বিশ্লেষণের সাথে আমাদের পুরোপুরি মতৈক্য থাকতে হবে—এমনটি কোনোভাবেই অপরিহার্য নয়। তাদের চিন্তাধারা আমাদের জানা দরকার, আর মূলত এ কারণেই আমাদের এই আর্টিকেল অনুবাদ করা হয়েছে। -অনুবাদক