
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর (UN Peacekeepers) সৈন্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতনের অসংখ্য গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য প্রেরিত এই বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা, বিশেষ করে চরম সংকটে থাকা নারী ও শিশুদের যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে।
প্রধান ভুক্তভোগী অঞ্চল ও মিশনসমূহ
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (DRC): ১৯৯০-এর দশক থেকে শুরু করে বিগত বছরগুলোতে এই দেশে নিয়োজিত শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে শত শত ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক (CAR): ২০১৪-২০১৫ সাল থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়েও এখানকার পথশিশু এবং অল্পবয়সী মেয়েদের ধর্ষণের মারাত্মক সব অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে।
হাইতি: হাইতিতে নিয়োজিত শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় নারীদের গর্ভবতী করে ফেলে যাওয়ার (ফাদারলেস চিলড্রেন) অসংখ্য নজির রয়েছে।
অন্যান্য দেশ: সুদান, দক্ষিণ সুদান, লেবানন, কম্বোডিয়া এবং বসনিয়াতেও বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘ সৈন্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।
কাঠামোগত সমস্যা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি:
১. আইনি দায়মুক্তি (Immunity): জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী শান্তিরক্ষীরা যে দেশে দায়িত্ব পালন করছেন, সেখানকার স্থানীয় আইন বা আদালতের মুখোমুখি হন না।
২. নিজ দেশের ওপর নির্ভরশীলতা: কোনো সৈন্য অপরাধ করলে জাতিসংঘ তাকে সর্বোচ্চ নিজ দেশে ফেরত (Repatriation) পাঠাতে পারে। এরপর বিচার করার মূল দায়িত্ব থাকে সৈন্য প্রদানকারী দেশের (Troop-Contributing Country) ওপর।
৩. বিচারের অভাব: বেশিরভাগ দেশ তাদের অভিযুক্ত সৈন্যদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক বা বেসামরিক আইনি পদক্ষেপ নেয় না, যা অপরাধীদের পার পেয়ে যেতে সাহায্য করে।
৪. ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা: চরম দারিদ্র্য ও যুদ্ধের কারণে স্থানীয় মানুষ খাবার, আশ্রয় বা সামান্য সাহায্যের বিনিময়ে শান্তিরক্ষীদের মাধ্যমে যৌন শোষণের শিকার হন।
(লেখাটি গুগল থেকে প্রাপ্ত ওপেন সোর্স থেকে গৃহীত)