Announcement

Collapse
No announcement yet.

প্রবন্ধ অনুবাদ || উম্মাহর আলেমদের এক তাৎপর্যপূর্ণ মহাসম্মেলন [কাবুলে অনুষ্ঠিত 'ইসলামী শাসনব্যবস্থা ও এর পবিত্রতা সংরক্ষণে উলামায়ে কেরামের সম্মেলন' ও ঘোষিত ইশতেহার সম্পর্কে কিছু অনুভূতি] || আহমদ খাতিরী

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • প্রবন্ধ অনুবাদ || উম্মাহর আলেমদের এক তাৎপর্যপূর্ণ মহাসম্মেলন [কাবুলে অনুষ্ঠিত 'ইসলামী শাসনব্যবস্থা ও এর পবিত্রতা সংরক্ষণে উলামায়ে কেরামের সম্মেলন' ও ঘোষিত ইশতেহার সম্পর্কে কিছু অনুভূতি] || আহমদ খাতিরী

    উম্মাহর আলেমদের এক তাৎপর্যপূর্ণ মহাসম্মেলন

    [কাবুলে অনুষ্ঠিত 'ইসলামী শাসনব্যবস্থা ও এর পবিত্রতা সংরক্ষণে উলামায়ে কেরামের সম্মেলন' ও ঘোষিত ইশতেহার সম্পর্কে কিছু অনুভূতি]

    আহমদ খাতিরী





    সম্মানিত আলেমসমাজ মুসলিম উম্মাহর প্রকৃত নেতা এবং আস্থার স্থল। যুগ-যুগ ধরে তাঁরাই মুসলিমদের সঠিক পথের দিশা দিয়ে আসছেন। ব্যক্তি ও সমাজ সংস্কারে তাঁরা পালন করেন অগ্রণী ভূমিকা। যখনই জাতির সামনে কোনো বড় সংকট বা অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন এসে দাঁড়ায়, তখন আলেমরাই হকের আওয়াজ তোলেন; তাঁরাই বাতলে দেন মুসলিমভূমি রক্ষা এবং উম্মাহর সর্বোচ্চ স্বার্থ সংরক্ষণের সঠিক রূপরেখা।


    সকল মুসলিম, বিশেষ করে আফগান মুসলিমদের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে—তাঁরা জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আলেমদের নির্দেশনা শিরোধার্য বলে মনে করেন। আলেমদের দেখানো পথেই পরিচালিত হয় তাঁদের জীবন। ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে, যখনই কোনো আগ্রাসী শক্তি মাথাচাড়া দিয়েছে, আফগানরা জিহাদের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন আলেমদের ফতোয়া সঙ্গে নিয়ে। মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে তাঁরা পৃথিবীর প্রতিটি স্বৈরাচারী শক্তিকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। ইংরেজ, রুশ এবং সর্বশেষ আমেরিকার পরাজয়—এই তো সেদিনকার জীবন্ত ও অনস্বীকার্য ইতিহাস।

    সাম্প্রতিক সময়ে জনমনে কিছু প্রশ্ন দানা বাঁধছিল—
    • মুসলিমভূমির উপর আগ্রাসন হলে এর প্রতিরক্ষার শরয়ী বিধান কী?
    • বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা এবং তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার হুকুমই বা কী?

    এই প্রেক্ষাপটে, গত ১৯ কওস ১৪০৪ হিজরি শামসি (১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং), বুধবার, রাজধানী কাবুলে আয়োজন করা হয় এক বিশাল সম্মেলনের। দেশের আনাচে-কানাচে থেকে হাজার হাজার বরেণ্য ও প্রখ্যাত আলেম এই সমাবেশে অংশ নেন।

    এই ঐতিহাসিক সম্মেলনের একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আমি এর লক্ষ্য, জীবন্ত পরিবেশ, বক্তৃতার সারসংক্ষেপ এবং শেষে প্রকাশিত ইশতেহারের পূর্ণ বিবরণ তুলে ধরছি।


    প্রথমত: সম্মেলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

    ধর্মীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল প্রধানত দুটি:

    ১. স্বাধীনতা রক্ষা: যেকোনো দিক থেকে, যেকোনো নাম বা ব্যানারে যদি আফগানিস্তানের পবিত্র ভূমি বা স্বাধীনতার ওপর আঘাত আসে, তবে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া এবং সশস্ত্র জিহাদে ঝাঁপিয়ে পড়া আফগান জাতির জন্য ‘ফরজে আইন’। ঠিক যেমনটি ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন, আমেরিকা ও ন্যাটোর বিরুদ্ধে। নিজেদের জমিন ও অঞ্চলের পবিত্রতা রক্ষায় যারা প্রাণ দেবেন, তাঁরা নিষ্পাপ শহীদ হিসেবে গণ্য হবেন। স্পষ্ট শরয়ী দলিলাদির ভিত্তিতে উপস্থিত সকল আলেম এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।

    ২. ইসলামী ব্যবস্থার সংরক্ষণ: বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী শাসনব্যবস্থাকে রক্ষা করা এবং পূর্ণ সমর্থন দেওয়া আফগান জনগণের দ্বীনী কর্তব্য। এই ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করার কাজ মূলত ইবাদত ও জিহাদেরই নামান্তর। বর্তমান হিজরি শতকে এমন একটি স্বাধীন শরয়ী রাষ্ট্রব্যবস্থা—যেখানে প্রজাদের অধিকার সুরক্ষিত এবং আল্লাহর দণ্ডবিধি ও বিধানাবলী পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত—তা সমগ্র বিশ্বে বিরল। সুতরাং, এই নিয়ামত রক্ষা করা সকলের (সাধারণ ও বিশেষ) ওপর এক গুরুদায়িত্ব, যেখানে সামান্যতম অবহেলা বা গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই।

    এই সম্মেলন মুজাহিদ ও সাধারণ জনগণের মনে এক অভাবনীয় সাহস ও উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে। যেকোনো আগ্রাসী শক্তির উপযুক্ত জবাব দিতে তাঁরা এখন পূর্ণ প্রস্তুত, যা অনাগত প্রজন্মের শত্রুদের জন্য এক শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


    দ্বিতীয়ত: সম্মেলনের জীবন্ত চিত্র

    এই সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন দেশের সব প্রদেশ ও দুর্গম অঞ্চল থেকে আগত বড় বড় আলেম, মাশায়েখ, বড় মাদরাসাগুলোর পরিচালক এবং গোত্রীয় ধর্মীয় নেতারা। তাঁদের মধ্যে ছিল বিভিন্ন জাতি ও ভাষার বৈচিত্র্য। কিন্তু সকলের চেহারায় ছিল ইখলাস, সত্যনিষ্ঠা এবং উম্মাহর বেদনায় কাতর এক গভীর অনুভূতির ছাপ।

    এটি ছিল নিছকই এক গণমানুষের সমাবেশ; সামরিক বাহিনীর কোনো দৃশ্যমান উপস্থিতি সেখানে ছিল না। নিজেদের ভূমি ও ইসলামী ব্যবস্থার সুরক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে দেখা গেছে প্রবল উদ্দীপনা। তাঁরা জনগণকে দ্বীন ও জমিনের সুরক্ষায় সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

    সকাল আটটায় শুরু হয়ে দিনব্যাপী চলে এই সম্মেলন। মাঝে জোহর ও দুপুরের খাবারের জন্য সামান্য বিরতি ছিল। আসরের নামাজের পূর্বেই আলেমরা সর্বসম্মতিক্রমে একটি চূড়ান্ত ইশতেহার প্রণয়ন করেন, যা দেশের দুই রাষ্ট্রভাষা—পশতু ও ফারসিতে পাঠ করে শোনানো হয়।


    তৃতীয়ত: বক্তৃতার সারসংক্ষেপ


    ১) কাবুল প্রদেশের এক প্রবীণ আলেমের উদ্বোধনী ভাষণ: তিনি সম্মেলনের মূল লক্ষ্য স্পষ্ট করেন—দেশ ও ইসলামী ব্যবস্থার প্রতিরক্ষা এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা। তিনি অতীতের খেলাফতগুলোর (উমাইয়া, আব্বাসী ও উসমানী) পতনের কারণ উল্লেখ করে তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, আমেরিকা ও ন্যাটোর বিরুদ্ধে আমাদের দীর্ঘ বিশ বছরের জিহাদের লক্ষ্য ছিল দুটি:
    • দখলদারদের বিতাড়িত করা।
    • ইসলামী হুকুমত কায়েম করা।

    তিনি দখলদার আমল ও বর্তমান ইসলামী ব্যবস্থার তুলনা করে বলেন, “দখলদারদের সময়ে সত্য কথা বলার অপরাধে যে আলেমকে হুমকি ও কারাবরণ করতে হতো, আজ ইসলামী শাসনের ছায়াতলে তিনি সম্মানিত।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগ্রাসনের মুহূর্তে মুসলিমভূমি রক্ষা করা ‘ফরজে আইন’। একইসাথে তিনি শরয়ী আমিরের আনুগত্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আমিরের অনুমতি ছাড়া জিহাদে বের হওয়ার বিধান সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করেন।

    ২) কাবুলের আরেকজন বিশিষ্ট আলেম: তিনি মিম্বর, মাদরাসা ও মসজিদের মাধ্যমে ‘ইসলামী আমিরাত’-এর পক্ষে জনমত গঠনের আহ্বান জানান। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি আসমানি কিতাবসমূহের কিছু তাৎপর্যপূর্ণ উদ্ধৃতি তুলে ধরেন:
    • তাওরাত থেকে: ‘যে অল্পে তুষ্ট, সেই পরিতৃপ্ত।’
    • ইঞ্জিল থেকে: ‘যে নির্জনতা বেছে নেয়, সে-ই মুক্তি পায়।’
    • জাবুর থেকে: ‘যে নীরব থাকে, সে নিরাপদ থাকে।’
    • পবিত্র কুরআন থেকে:
    ﴿وَمَن يَعْتَصِم بِاللَّهِ فَقَدْ هُدِيَ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ﴾





    অনুবাদ: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে, তাকে অবশ্যই সরল পথে পরিচালিত করা হয়।" (সূরা আলে ইমরান: ১০১)



    ৩) হেলমান্দ প্রদেশের এক শীর্ষস্থানীয় আলেম: তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, দেশ ও ইসলামী ব্যবস্থা রক্ষা করা প্রতিটি মুসলিমের ওপর ফরজ। আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করা শরয়ী জিহাদ এবং এই পথে নিহত মুজাহিদরা প্রকৃত শহীদ। তিনি তাঁর বক্তব্যের সপক্ষে স্পষ্ট শরয়ী দলিল পেশ করেন।

    ৪) হেলমান্দের আরেকজন আলেম: তিনি মুসলিম ঐক্যের ওপর জোর দেন এবং নামাজকে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। শরয়ী আমির নিয়োগের গুরুত্ব আলোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান আমিরুল মুমিনিন (হাফিজাহুল্লাহ)-এর মধ্যে ইমামতের সমস্ত শর্ত বিদ্যমান। তিনি বলেন, আগ্রাসীদের জবাব দেওয়া শুরু হবে উপদেশের মাধ্যমে, তাতে কাজ না হলে প্রয়োগ করা হবে প্রতিরোধমূলক শক্তি। তাঁর একটি কথা ছিল অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী: “আমাদের শরীর হয়তো ক্লান্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু আমাদের সংকল্পে কখনো ভাটা পড়ে না।”

    ৫) সার-ই-পুল প্রদেশের এক আলেম: তাঁর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের কারণসমূহ। তিনি দুটি মূল বিষয় উল্লেখ করেন:
    • অতীতের সাথে সম্পর্ক রক্ষা এবং পূর্ববর্তী খেলাফতগুলোর ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ।
    • আল্লাহর নির্দেশ وَأَعِدّوا﴾ (আর তোমরা প্রস্তুত রাখো) [1]-এর ওপর আমল করে জাগতিক ও আধ্যাত্মিক সবধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা।


    চতুর্থত: চূড়ান্ত ইশতেহারের পূর্ণ বিবরণ


    বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

    ইসলামী ব্যবস্থা রক্ষা ও পবিত্রতা সংরক্ষণে উলামা সম্মেলনের ঘোষণা

    সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য, এবং দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক সাইয়িদুল মুরসালিন, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবায়ে কেরামের ওপর। অতঃপর:

    মহান আল্লাহ মুসলিমদের ওপর তাদের শরয়ী ইসলামী ব্যবস্থা রক্ষা করার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। এই বিষয়ে তিনি তাঁদেরকে রাব্বানি আলেমদের শরণাপন্ন হতে এবং তাঁদের নির্দেশনার আলোকে জীবন পরিচালনা করতে আদেশ দিয়েছেন। একইভাবে, ইসলামী ব্যবস্থার কল্যাণ ও মুমিন জনতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৎ পরামর্শ ও সঠিক মতামত প্রদান করা আলেমদের ওপরও শরয়ী দায়িত্ব।

    এই দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত আলেম, মুফতি ও মাশায়েখগণ ইসলামী ব্যবস্থা রক্ষা ও সংরক্ষণের লক্ষে আয়োজিত এই সম্মেলনে নিম্নোক্ত চূড়ান্ত ইশতেহার ঘোষণা করছি:

    প্রথমত: ‘ইসলামী আমিরাত আফগানিস্তান’ একটি শরয়ী শাসনব্যবস্থা, যা আফগান জাতির দীর্ঘ কয়েক দশকের জিহাদ, হিজরত, শাহাদাত এবং নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের ফসল। মহান আল্লাহর সাহায্য এবং মুমিন জনগণের সমর্থনে এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর ফলে আফগানিস্তান স্বাধীন হয়েছে, দেশের হৃত গৌরব ফিরে এসেছে, আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সর্বব্যাপী নিরাপত্তা ফিরে এসেছে এবং উম্মাহর সন্তানদের মাঝে ঐক্য গড়ে উঠেছে। এই শাসনের ছায়াতলে জনগণের সকল দ্বীনী মূল্যবোধ আজ সুরক্ষিত। সুতরাং, আমরা এই ব্যবস্থাকে একটি সৎ ও বৈধ শাসনব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করি। এর আনুগত্য করাকে আমরা নিজেদের এবং দেশবাসীর জন্য ওয়াজিব মনে করি। যেভাবে ইসলামী হুকুমত কায়েম করা দ্বিনী দায়িত্ব, ঠিক তেমনি একে রক্ষা করাও মুসলিমদের ওপর ফরজ।

    দ্বিতীয়ত: অধিকার, মূল্যবোধ এবং শরয়ী ব্যবস্থা রক্ষা করা প্রতিটি মুসলিমের আবশ্যিক কর্তব্য। যদি আফগানিস্তান কোনো বিদেশি আগ্রাসনের শিকার হয় বা মুসলিমদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করা হয়, তবে মুসলিমভূমি, ইসলামী নেজাম এবং মূল্যবোধ রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা সকল আফগানের ওপর ‘ফরজে আইন’ হয়ে দাঁড়াবে। এই প্রতিরোধ গণ্য হবে পবিত্র জিহাদ হিসেবে। আমাদের জাতি যেমন অতীতে সকল আগ্রাসীর বিরুদ্ধে সিসাঢালা প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়েছে, ভবিষ্যতেও আল্লাহর সাহায্যে যেকোনো আগ্রাসনের মুখে পবিত্র জিহাদের ময়দানে অবিচল থাকবে।

    তৃতীয়ত: যেহেতু ইসলামী আমিরাত আফগানিস্তান অঙ্গীকার করেছে যে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে অন্য কোনো রাষ্ট্রের ক্ষতি করা হবে না, তাই সমস্ত মুসলিমের ওপর এই অঙ্গীকার পূর্ণ করা ওয়াজিব। অন্যের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে আফগানিস্তানের ভূমি ব্যবহার করা যাবে না। এই অঙ্গীকার রক্ষা করা শরয়ী ওয়াজিব। যে বা যারা এর লঙ্ঘন করবে, তারা অবাধ্য ও বিদ্রোহী হিসেবে গণ্য হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্ণ অধিকার ইসলামী আমিরাতের রয়েছে।

    চতুর্থত: যেহেতু শরয়ী আমির দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশে কোনো সামরিক অভিযান বা কর্মকাণ্ডের অনুমতি দেননি, তাই কেউ যদি নিজ উদ্যোগে এমনটি করে, তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে তা বৈধ হবে না। এমন কার্যকলাপ বন্ধে ইসলামী ইমারতকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

    পঞ্চমত: মুসলিমদের সম্মান ও মর্যাদা নিহিত রয়েছে তাদের ঐক্যের মাঝে। সকল মুসলিম এবং মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর উচিত নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা, একে অপরের উপকারে আসা এবং সব ধরনের বিবাদ, ফাটল ও যুদ্ধবিগ্রহ এড়িয়ে চলা। সম্মানিত আলেমদের উচিত মিম্বর থেকে এই বিষয়গুলো মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং জাতিকে কল্যাণ ও মঙ্গলের পথে পরিচালিত করা।

    ওয়াস-সালাম।

    তারিখ: ১৯ / ০৬ / ১৪৪৭ হিজরি | ১৯ / ০৯ / ১৪০৪ হিজরি শামসি | ১০ / ১২ / ২০২৫ ঈসায়ী


    উপসংহার

    এই ঐতিহাসিক সম্মেলনের আলোচনা আবর্তিত হয়েছে মূলত কয়েকটি প্রধান বিষয়কে কেন্দ্র করে: বর্তমান ইসলামী ব্যবস্থার প্রতিরক্ষা, ভূখণ্ড ও মূল্যবোধের সংরক্ষণ, আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে জিহাদের আবশ্যকতা, শরয়ী আমিরের আনুগত্য, অঙ্গীকার পূরণ, উম্মাহর ঐক্য এবং ফেতনা ও গৃহযুদ্ধ পরিহার।

    অংশগ্রহণকারী আলেমরা দেশ ও ইসলামী ব্যবস্থা রক্ষায় তাঁদের ইস্পাত-দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। পরিশেষে, সম্মেলনের ইতি টানা হয় এক দীর্ঘ ও হৃদয়স্পর্শী মোনাজাতের মাধ্যমে, যেখানে অশ্রুর নোনা জল আর আল্লাহর দরবারে উত্তোলিত হাত একাকার হয়ে গিয়েছিল।

    আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই ইসলামী ব্যবস্থাকে স্থায়ী করেন এবং শত্রুদের লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করেন।

    আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।


    [1] এখানে পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আনফাল-এর ৬০ নং আয়াতের একাংশের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:

    ﴿وَأَعِدّوا لَهُم مَا استَطَعتُم مِن قُوَّةٍ﴾

    —“আর তোমরা তাদের (শত্রুদের) মোকাবেলার জন্য তোমাদের সাধ্যমতো শক্তি প্রস্তুত রাখো।”

    ইসলামি স্কলারদের মতে, এখানে ‘শক্তি’ (কুওয়াহ) শব্দটি ব্যাপক; তা যেমন আধুনিক সমরাস্ত্র, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে (জাগতিক প্রস্তুতি) বোঝায়, তেমনি ঈমানী দৃঢ়তা, ঐক্য ও মনোবলকেও (আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি) অন্তর্ভুক্ত করে।]
    Last edited by Munshi Abdur Rahman; 9 hours ago.
    “ধৈর্যশীল, সতর্ক ব্যক্তিরাই লড়াইয়ের জন্য উপযুক্ত।”
    -শাইখ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ
Working...
X