আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
বিজয়ের সোপান
।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
[আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
–।।থেকে- প্রথম পর্ব
ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
বিজয়ের সোপান
।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
[আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
–।।থেকে- প্রথম পর্ব
ভূমিকা
الحمد لله الذي خلق الخلق بقدرته،وبين لهم طريق النجاة في كتابه،الذي لا ياتيه الباطل من بين يديه ولامن خلفه،والصلاة والسلام على رسوله النبي الأكرم،والقائد الملهم،والقدوة المعلم،محمد صلى الله عليه وسلم،وعلى اٰله الأطهار الأبرار،وصحابته الغرّ الميامين الكرام،وعلى من سار على هديهم واقتفى سنة آثارهم وإلى يوم الدين
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নিজ কুদরতে জগৎ সৃষ্টি করেছেন। যিনি জগৎবাসীকে নিজ কিতাবে মুক্তির পথ সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। আর এই কিতাব মিথ্যার সংস্পর্শ থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত। রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর অতি সম্মানিত নবী ও রাসূল, ইলহামপ্রাপ্ত সরদার, ঐশী জ্ঞানে দেদীপ্যমান নেতা মুহাম্মাদ ﷺ-এর ওপর। শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর পূত-পবিত্র, পূণ্যবান পরিবারবর্গের ওপর, তাঁর সৌভাগ্যবান, সম্মানিত সাহাবীবর্গের ওপর এবং প্রতিদান দিবস অবধি তাঁদের পদাঙ্ক অনুসারী ও তাঁদের আদর্শের অনুগামী প্রতিটি সুপথপ্রাপ্ত ব্যক্তির ওপর!
হামদ ও সালাতের পর...
মুসলিম উম্মাহর বর্তমান অবস্থার দিকে তাকালে একটি বিষয় সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়। আর তা হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর এই লাঞ্ছনা-গঞ্জনা, অবক্ষয় ও অধঃপতন, প্রকৃতপক্ষে বাস্তব জীবনে আল্লাহ প্রদত্ত অনুশাসন অনুপস্থিত থাকার পরিণতি ও কুফল। স্বেচ্ছাচারী মুরতাদ গোষ্ঠী আজ মুসলিমদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। মু’মিন বান্দাদের এবং রব্বে কারীমের সংবিধানের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টির জন্য সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে। আর চলমান এই অবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে — ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়—বিভিন্ন শ্রেণী নানারকম মত ও পথ আবিষ্কার করেছে। মানবরচিত এই তন্ত্র মন্ত্রগুলো আদতে আল্লাহর মনোনীত সুস্পষ্ট সেই মানহাজের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যা মুহাম্মাদ ﷺ -এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে। তবু তারা নিজেদের মনকে বুঝ দিয়েছে, এটাই সঠিক পন্থা, এটাই সরল ও সত্যপথ; যে পথে চললে ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। মুসলিম সমাজ বিনির্মাণ সম্ভবপর হবে।
- এদের মাঝে এক শ্রেণী ইসলামী সমাজ নির্মাণ এবং আল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য শিরকী গণতন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। শুধু এটা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং একধাপ এগিয়ে এ পথকেই একমাত্র পথ ও সর্বোত্তম পন্থা বলে দাবি করেছে তারা। দাবি করেছে এ পথের আলোকেই সবকিছু পরিচালিত করতে হবে। কেবলমাত্র তাহলেই আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।
- অপর এক শ্রেণী আত্মশুদ্ধি ব্যতিরেকে আর সবকিছুই পরিত্যাগ করেছে। তারা সিদ্দিকে আকবর, উমার এবং উসমানের ন্যায় আন্তরিক স্বচ্ছতা ও চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধনকে ইসলামী সমাজ নির্মাণের মিশন এমনকি জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ শুরু করার আগে অবশ্য পূরণীয় শর্ত বলে সাব্যস্ত করেছে।
- তৃতীয় আরেক শ্রেণী রয়েছে, যারা হিকমাহ, সদুপদেশ ও শান্তিপূর্ণ উত্তম নাসীহা'র মাধ্যমে মানুষের নিকট আল্লাহর দ্বীনের তাবলীগ নিয়েই তুষ্ট থাকে। তারা মনে করে সমাজের প্রত্যেকটি মানুষকে সংশোধিত করতে হবে। তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সমাজে ইসলাম কায়েম হয়ে যাবে।
- চতুর্থ শ্রেণীটি পঞ্চাশ বছরের অধিককাল ধরে সাহায্য, বিজয় ও সুযোগের অপেক্ষা করে বসে আছে। তাদের প্রতীক্ষা ক্ষমতার সোনার হরিণ বাগে আনার এবং রাষ্ট্রযন্ত্র নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার। একবার রাষ্ট্রের ক্ষমতা দখল করে ফেললেই আল্লাহর খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে- এমনটাই তাদের চিন্তাভাবনা।
- পঞ্চম শ্রেণীর মূল কথা হচ্ছে, আমাদেরকে কল্যাণ সংস্থা গড়ে তুলতে হবে। প্রচার মাধ্যম প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মানুবর্তী ও যুগোপযোগী করতে হবে। উঁচু উঁচু পদে নিজেদের অধিষ্ঠিত করতে হবে। সমাজের আভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ দূর করার এই প্রক্রিয়াটিই পৃথিবীতে আল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠার সর্বোত্তম পদ্ধতি। মানুষকে আল্লাহর দাসত্বের পথে নিয়ে যাওয়া এবং তার ভিত্তিতে একটি ইসলামী সমাজ নির্মাণের এটিই সর্বাধিক কার্যকরী পন্থা।
এমনই নানা চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি, গবেষণা ও তত্ত্বের এক উত্তাল স্রোতে আজ আমরা দিকহারা হয়ে পড়েছি। অথচ বাস্তবে এসবই অপরিপক্ক মানব মস্তিষ্কের নিস্ফল সৃষ্টি। এ পদ্ধতিগুলোর একটিও ইসলামী সমাজ নির্মাণের সঠিক পদ্ধতি নয়। অথচ মুসলিম উম্মাহ এইসব অবাস্তব, অসম্পূর্ণ পদ্ধতিগুলোকে ইসলামী সমাজ নির্মাণের পদ্ধতি ভেবে অনুসরণ করছে। নিজেদের জান, মাল, সময় এগুলোর পিছনে বিনিয়োগ করছে।
প্রবৃত্তি, জাগতিক ফায়দা এবং ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাকে অনুসরণ করে প্রত্যেকেই নিজের কর্মপন্থা ও পদ্ধতিকে সর্বাধিক উপযোগী ও মুসলিম সমাজ বিনির্মাণের সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম বলে দাবি করে বসেছি। আমরা প্রত্যেকেই মনে করছি, সত্যের পথসঙ্গী তো শুধুই আমি! আর এই ভুলের কারণে আমাদের দৈন্যদশা আরো বৃদ্ধি লাভ করেছে।
অবাস্তব কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করে নিজেদের জান মাল সবকিছু উৎসর্গ করতে আমরা কুন্ঠাবোধ করছি না। কিন্তু একটি বারের জন্যও জ্ঞান আহরণ, পূর্ববর্তী জাতিগোষ্ঠীর ইতিহাস অধ্যয়ন, সমাজ নির্মাণে আল্লাহর সুন্নাহ ও অমোঘ নীতি সম্পর্কে অবগত হবার প্রয়োজন আমরা বোধ করছি না। নবী-রাসূলদের কর্মপদ্ধতি, তাঁদের অনুসারী ও উত্তরসূরীদের অনুসৃত পথ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি না। চিন্তা করার দরকার মনে করছি না- তাঁরা কীভাবে শরীয়া প্রতিষ্ঠা করেছেন? কীভাবে উম্মাহর ভিত্তি স্থাপন করেছেন?
সরল ও সঠিক পন্থার বিরোধী এতসব বক্রপথ ও বিকৃতপন্থার স্রোতে আজ অধিকাংশ মানুষের নৌকা ভেসে রয়েছে। এরা ইসলামী বিপ্লব সৃষ্টি ও ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠার গুরু দায়িত্ব স্বেচ্ছায় গ্রহণ করেছে। কিন্তু তারা নবী-রাসূল এবং তাঁদের অনুসারীদের অনুসৃত পথ থেকে দূরে সরে গিয়ে গবেষণা ও বিচিত্র দৃষ্টিভঙ্গির চোরাগলিতে উদ্ভ্রান্তের ন্যায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থে আমরা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সঙ্গে সম্পর্কহীন বিভ্রান্ত কর্মপন্থাসমূহর অসারতা আলোচনার চেষ্টা করেছি। পাঠক! অচিরেই ইনশা আল্লাহ, আপনাদের সামনে বিষয়গুলো পরিষ্কার হয়ে যাবে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার যিনি আমাদের সুযোগ দিয়েছেন তাঁর দ্বীনের খেদমত করার। যিনি নিজ অনুগ্রহ ও অপার মহিমায় আমাদেরকে সহজতা দান করেছেন। তাঁরই একান্ত ইচ্ছায় আমরা ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন লালনকারী তাওহীদবাদী ভাইদের জন্য কর্মপন্থা ও আকীদাহ উপস্থাপন করার সুযোগ লাভ করেছি। আমরা বিনা দ্বিধায় একথা বলতে পারি যে, আমাদের এ কর্মপদ্ধতির ব্যাপারে আমরা আল্লাহর কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ। এবং আমাদের আলোচিত এ পথই আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা ও খিলাফতে রাশেদা পুনরুদ্ধারের সঠিক ও সরল পথ।
لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ مَا كَانَ حَدِيثًا يُفْتَرَىٰ وَلَٰكِن تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ ﴿يوسف: ١١١﴾
“তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য রয়েছে প্রচুর শিক্ষণীয় বিষয়, এটা কোন মনগড়া কথা নয়, কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করে তাদের জন্যে পূর্বেকার কালামের সমর্থন এবং প্রত্যেক বস্তুর বিবরণ রহমত ও হেদায়েত।”।[1]
এখানে একটি বিষয় বলে রাখা জরুরী। আল্লাহর দ্বীনের জন্য কাজ করা এবং এই দ্বীনকে সাহায্য করার যে রূপরেখা আমরা নিরূপণ করেছি, তা নিম্নে বর্ণিত হাদীস হতে সংগৃহীত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
أَنَا آمُرُكُمْ بِخَمْسٍ اللَّهُ أَمَرَنِي بِهِنَّ بِالْجَمَاعَةِ وَبِالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَالْهِجْرَةِ وَالْجِهَادِ
“আমি তোমাদেরকে পাঁচটি বিষয়ে আদেশ করছি যেগুলোর নির্দেশ আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। জামাআত বদ্ধ হওয়া, শ্রবণ, আনুগত্য, হিজরত এবং জিহাদের”।[2]
যুগের ইমামুল জিহাদ, মৃতপ্রায় ফরজের পুনরুজ্জীবিতকারী শাইখ আব্দুল্লাহ আযযাম রহিমাহুল্লাহ তাঁর এক বক্তব্যে আমাদের এই চিন্তাধারার কিছু কিছু বিষয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
এখানে পাঠকদের আরো একটি বিষয় স্মরণ রাখা অপরিহার্য। এই গ্রন্থটির রচয়িতা এমন এক ব্যক্তি, যিনি জর্ডানে ইখওয়ানুল মুসলিমিন পরিবারের সদস্য। আরেকটু স্পষ্ট করে বললে জর্ডানের ‘যারকাব’ শহর; যা মূলত ইখওয়ানের প্রধান কার্যালয়, সেখানকার একজন সদস্য। তিনি ওই জামাতের সঙ্গে দীর্ঘকাল ছিলেন। তাদেরকে সমর্থন করেছেন। তাদের চিন্তা-চেতনা প্রচারে কাজ করেছেন।
কেবল ইখওয়ানুল মুসলিমিনের সমর্থনে ও পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁর শ্রম ব্যয় হয়েছে এমন নয়। বরং দাওয়াত ও তাবলীগের পেছনেও তাঁর সময় ব্যয় হয়েছে। আরবে তাবলীগ জামাআতের প্রাণকেন্দ্র ‘হাজাজ’ (ইরাকের একটি শহর) শহরে তিনি একাধিকবার সফর করেছেন। এই শহরে তাদের মারকাজ মসজিদ অবস্থিত এবং প্রধান মুরুব্বী শাইখ এওয়াজ (হাফিজাহুল্লাহ) যেখানেই অবস্থান করেন। এই সবই তিনি করেছেন সত্যকে চেনার আকাঙ্ক্ষা থেকে এবং প্রতিদান লাভের আকুতি নিয়ে।
উপরোক্ত জামাত দুটোর সঙ্গে লেখকের ঘনিষ্ঠতার বিষয় উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো যাতে কল্যাণবিরোধি ব্যক্তির জানা থাকে যে, গ্রন্থপ্রণেতা এমন ব্যক্তি, যিনি পূর্বোক্ত দুই দুইটি জামাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সময় কাটিয়েছেন। তাদের শিক্ষা ও নীতি-নৈতিকতা, তাদের কর্ম ব্যবস্থা ও রুটিন মাফিক কর্মসূচী তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। তাদের চিন্তা ও দর্শন সম্পর্কে তিনি ভালোভাবেই অবগতি লাভ করেছেন। এই সবকিছুর পরে তিনি হিজরত এবং জিহাদের জন্য বের হলেন। এবং তখন তিনি পূর্ণরূপে উপলব্ধি করতে সক্ষম হলেন যে, ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠা এবং তাঁর দ্বীনের বিজয় কোনো অবস্থাতেই ঐ সব পদ্ধতি দ্বারা সম্ভব হবে না যেগুলোর অনুসরণকারীরা আল্লাহর মানহাজ থেকে নিজেদেরকে সরিয়ে এনেছে। সত্য বিবর্জিত এ সমস্ত পন্থায় আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এসব পন্থা হাবিবে মোস্তফা আমাদের রাহবার মুহাম্মাদ ﷺ-এর আনীত পন্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব পথ ও পদ্ধতি সমাজ নির্মাণ, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও জাতি গঠনের ক্ষেত্রে আল্লাহর চিরায়ত নিয়মের বিরোধী।
নিশ্চয়ই জাতি গঠনের পথ অতিদীর্ঘ ও বন্ধুর। এ পথের যাত্রা কষ্টসাধ্য, ক্লান্তিকর। সর্বপ্রকার পাথেয় সংগ্রহ না হলে এ পথচলা অসম্ভব।
হে রাসূলের অনুসারীরা! আপনাদের কী এ কথা বোঝার সময় এখনো হয়নি যে, রাজত্ব প্রতিষ্ঠা ও জাতি গঠনের জন্য সংঘর্ষ মোকাবেলা করা অপরিহার্য? এক্ষেত্রে চড়া মূল্য না দিয়ে কোনো উপায় নেই? সেই উচ্চ মূল্যের কথা কবি এভাবে তুলে ধরেছেন—
“জাতীয় জীবনের মর্ম যদি কেউ উদ্ধার করতে চায়, (সে জেনে রাখুক) শহীদের রক্ত সে মর্ম উদ্ধার করে থাকে।
যদি রক্ত প্রবাহিত না হতো তবে তুমি এমন কোনো জাতি দেখতে না, যারা নিজেদের কাঙ্খিত গৌরব ও মর্যাদা অর্জন করতে পেরেছে।”
হে নবীদের উত্তরসূরীরা! যদি আপনারা আন্তরিকভাবেই খিলাফতে রাশেদার ছায়ায় আশ্রয় নিতে চান এবং ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চান, তবে জেনে রাখুন, এটাই প্রকৃত পথ।
আল্লাহ তা’আলার নিকট অশ্রুসজল মিনতি এই যে, তিনি যেন আমাদের এই কাজকে কবুল করেন! ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা লালনকারী একত্ববাদীদের জন্য এতে কল্যাণ ও পরিশুদ্ধির উপাদান রাখেন! আর এর বিরোধিতাকারীরা, যারা সুস্পষ্ট সত্য-সঠিক মানহাজ বিরোধী এবং বিকৃত মানহাজের অনুসারী; তাদের জন্য যেন এতে হেদায়েত ও সুপথপ্রাপ্তির খোরাক রাখেন।
প্রিয় পাঠক! আপনাকে এটাও স্মরণ রাখতে হবে যে, এটি একটি মানবিক প্রয়াস, যা ভুলত্রুটির উর্ধ্বে নয়। এখানে যা কিছু সঠিক ও যথার্থ রয়েছে, তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর এখানে যা কিছু ভুল-ত্রুটি রয়েছে, তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল এর জন্য দায়ী নন। আল্লাহর নিকট এ ব্যাপারে আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
লেখক—
আবু উবাইদা আব্দুল্লাহ ইবনে খালিদ আল-আদাম
(আল্লাহই তাঁর জন্যে যথেষ্ট)
রিবাতের কোনো এক সীমান্ত থেকে...
১৮ রমজান, ১৪২৭ হিজরী, ১০ অক্টোবর, ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দ।
[1] সূরা ইউসুফ;১২: ১১১
[2] মুসনাদে আহমাদ: খণ্ড- ২৯, হাদীস নং- ১৭৮০০