Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ – ।। সপ্তম পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ – ।। সপ্তম পর্ব

    আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
    ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
    বিজয়ের সোপান
    ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
    [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
    –।।থেকে- সপ্তম পর্ব



    চতুর্থ বিষয়:

    গণতন্ত্র একটা সামগ্রিক জীবন ব্যবস্থার মতো, যা স্বাধীন চিন্তা, স্বাধীন ইচ্ছা ও স্বাধীন কর্মের কথা বলে। গণতন্ত্রের ছায়ায় যে কারো যা ইচ্ছা করার অধিকার রয়েছে। ব্যক্তির অধিকার রয়েছে ধর্মত্যাগী মুরতাদ হয়ে যাবার। অধিকার রয়েছে অশ্লীলতা ও পাপাচারে লিপ্ত হবার। যতক্ষণ সে গণতন্ত্রের অধীনে থাকবে, তার এ জাতীয় যেকোনো কিছু করার অধিকার রয়েছে। নিঃসন্দেহে এসব আল্লাহর সে সমস্ত বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, তিনি পছন্দ করে যেগুলো আমাদের জন্য প্রণয়ন করেছেন এবং সাত আসমানের ওপর থেকে সেগুলো পালনের নির্দেশ পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-

    وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِّنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿المائدة: ٣٨﴾

    ‘যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসেবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে হুশিয়ারী। আল্লাহ পরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানী’[1]

    অন্যত্র তিনি ইরশাদ করেন-

    الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ وَلَا تَأْخُذْكُم بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿النور: ٢﴾

    ‘ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশকরে বেত্রাঘাত করো আল্লাহর বিধান কার্যকর করতে গিয়ে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকোমুসলিমদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করার জন্য সেখানে মজুদ থাকে’[2]

    এমনিভাবে রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন-

    مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ

    “যে নিজ ধর্ম ত্যাগ করবে তাকে হত্যা করো।[3]


    পঞ্চম বিষয়:

    গণতন্ত্রের কথা হলো, শাসক নির্বাচনের সম্পূর্ণ অধিকার জনগণের। জনগণ যদি কোনো খ্রিস্টানকে, ইহুদিকে অথবা নাস্তিককে নির্বাচিত করে, তাহলে সে-ই শাসক বলে বিবেচিত হবে। আর সন্দেহ নেই যে, এই নীতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার নিম্নোক্ত বাণীর সুস্পষ্ট বিরোধিতা-

    وَلَن يَجْعَلَ اللَّهُ لِلْكَافِرِينَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ سَبِيلًا ﴿النساء: ١٤١﴾

    আর কিছুতেই আল্লাহ কাফেরদেরকে মুসলিমদের ওপর বিজয় দান করবেন না’[4]

    কাজী ইয়ায রহিমাহুল্লাহ বলেন,উলামায়ে কেরাম একমত, কোনো কাফেরের জন্য শাসনভার ও নেতৃত্ব সাব্যস্ত হয় না। যদি (মুসলিম) শাসকের ওপর কুফর আপতিত হয়, তবে সে (স্বয়ংক্রিয়ভাবে) বরখাস্ত হয়ে যায়।

    আমাদের পূর্বোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, গণতন্ত্র এমন একটি ধর্ম, যা কোনো অবস্থাতেই ইসলামের সাথে যায় না। নবউদ্ভাবিত এই ধর্ম সুস্পষ্ট শিরক ও কুফরি। যে ব্যক্তি এই ধর্মের প্রতি ঈমান আনবে, আমরা এইমাত্র এর যে রূপরেখা তুলে ধরেছি; তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ব্যক্তি এক মুহূর্ত আল্লাহর দ্বীনের গণ্ডির ভেতর থাকতে পারে না। আমরা আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করি।

    পূর্বের আলোচনার ওপর ভিত্তি করে আমরা বলতে চাই, ইখওয়ানুল মুসলিমিনের বিপ্লবী পন্থা একটি ভ্রান্ত পন্থা। ইসলামের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ইসলামী সমাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে নববী মানহাজের সম্পূর্ণ বিরোধী এই পন্থা। আমাদের শরীয়তে উন্নত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কখনোই অসৎ মাধ্যমকে বৈধতা দেয় না।

    পাঠকের সামনে বিষয়টি আরও স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরার জন্য এখানে আমরা ইখওয়ানের কতিপয় আদর্শিক গুরুর বক্তব্য উল্লেখ করতে চাই এতে পাঠক এই জামাত সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করতে পারবেন, ইনশা আল্লাহ সে সমস্ত বক্তব্যে দেখা যাবে, শরীয়তের কত অকাট্য মূলনীতি, স্বতঃসিদ্ধ বিষয় ও সর্বসম্মত বিধিমালার বিরোধিতায় লিপ্ত এই দল; যে সমস্ত মূলনীতি ও বিধি কিছুতেই শাসন ক্ষমতায় পৌঁছার জন্য প্রতিযোগিতার নীতিকে সমর্থন করে না।

    "আল-আলম" ম্যাগাজিনে ইখওয়ানুল মুসলিমিনের প্রধান মুরশিদকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, “মিশরীয় রাজনীতিতে নীতিনির্ধারক হিসেবে জামাল আব্দুন নাসরের দর্শন কী?”

    এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান মুরশিদ বলেছিলেন, অধিকার সকলের। স্বাধীনতা সকলের। ন্যায়বিচার সকলের…!”

    প্রিয় পাঠক! চিন্তা করুন, প্রধান এই মুরশিদ কীভাবে বহু ধর্মের মিশরীয় জনগণকে এক পাল্লায় মাপছেন! সর্বক্ষেত্রে কীভাবে তাদেরকে সমঅধিকার দিচ্ছেন! মিশরীয় জনগণের মধ্যে যার ইচ্ছা সে নিজ ধর্ম ত্যাগ করে মুরতাদ হতে পারে! সংবিধান এমন অধিকার নিশ্চিত করে তার দায়িত্ব নেবে। ইখওয়ানের গণতন্ত্র এমন মুরতাদ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে! যার ইচ্ছা সে অশ্লীলতায় জড়াতে পারবে! গণতন্ত্রের ছায়ায় যে কারো এমন অধিকার রয়েছে, কোনো অসুবিধা নেই(!) আল্লাহর শপথ! দ্বীনে ইসলামের শত্রুরা মুসলিমদের কাছে এমনটাই তো চায়তাদের ইচ্ছা তো এটাই যে, তারা উম্মতকে দ্বীন থেকে দূরে সরাবে এবং দ্বীনের বিধিবিধানকে উঠিয়ে দেবে। তাদের আকাঙ্ক্ষা তো এটাই যে, রাসূলুল্লাহ -এর উক্তি যে ব্যক্তি নিজ ধর্ম ত্যাগ করবে তাকে তোমরা হত্যা করো”—'র মত অকাট্য বিধিমালাকে রহিত করবে।

    প্রধান মুরশিদকে আরও জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "অনেকেই বলে থাকে, ইখওয়ান গণতন্ত্রের শত্রু। তারা অসাম্প্রদায়িকতা বিরোধী। এই অপবাদ খণ্ডনে আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী এবং এটাকে আপনারা কীভাবে মূল্যায়ন করেন?"

    তখন তিনি জবাব দেন, “যে এমন কথা বলে তার আসলে ইখওয়ান সম্পর্কে জানা-শোনা নেই। তারা দূর থেকে ইখওয়ানকে এমন অপবাদ দেয়। আমরা সর্বতোভাবে গণতন্ত্রের সঙ্গে রয়েছি। আমরা পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ গণতন্ত্র চর্চা করি। সাম্প্রদায়িক বৈচিত্র্যকে আমরা খারাপভাবে দেখি না

    প্রিয় পাঠক! স্মরণ করুন, অভিশপ্ত এই গণতন্ত্রের ব্যাপারে আল্লাহর যে ফয়সালা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছিলাম, তা কী ছিল! তাহলে খুব সহজেই বুঝতে পারবেন, এই দলটি জনগণের আইন প্রণয়নের অধিকারের ব্যাপারে সম্মত এবং সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর একক অধিকারে জনগণের অংশীদারিত্বের স্বীকৃতি দানকারীতার ওপর ইখওয়ানুল মুসলিমিন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের এই উক্তির ওপর জনগণকে প্রাধান্য দিচ্ছে

    أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ ﴿المائدة: ٥٠﴾

    তবে কি তারা পুনরায় জাহেলিয়াতের বিচার ব্যবস্থা তালাশ করছে? অথচ যারা (আল্লাহতে) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, তাদের কাছে আল্লাহ তা’আলার চাইতে উত্তম বিচারক আর কে হতে পারে’?[5]

    "আল-মুসাওওয়ার" ম্যাগাজিনের এক সাক্ষাৎকারে ইখওয়ানুল মুসলিমিনের প্রধান মুরশিদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, "আপনারা কি পশ্চিমা গণতন্ত্রের মূলমন্ত্রে বিশ্বাসী?"

    জবাবে তিনি বলেছিলেন, “আমরা স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আর গণতন্ত্রই যেহেতু মানবরচিত সর্বোপযোগী ব্যবস্থা, যেখানে স্বাধীনতা সবচেয়ে বেশি রক্ষা হয়, তাই এর সঙ্গে আমাদের কোন বিরোধ নেই।

    হে পাঠক! দেখতেই পাচ্ছেন গণতন্ত্রের সাথে উনার কোন বিরোধ নেই। অথচ তিনি স্বীকার করছেন, গণতন্ত্র মানব রচিত ব্যবস্থাসমূহের একটি। তিনি মনে হয় আল্লাহর এই আয়াত পড়েননি

    وَأَنِ ٱحْكُم بَيْنَهُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَآءَهُمْ وَٱحْذَرْهُمْ أَن يَفْتِنُوكَ عَنۢ بَعْضِ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ إِلَيْكَ فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَٱعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ ٱللَّهُ أَن يُصِيبَهُم بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ ٱلنَّاسِ لَفَٰسِقُونَ ﴿المائدة: ٤٩﴾

    ‘আর আমি আদেশ করছি যে, আপনি তাদের পারস্পরিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুসারে ফয়সালা করুন; তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না এবং তাদের থেকে সতর্ক থাকুন-যেন তারা আপনাকে এমন কোনো নির্দেশ থেকে বিচ্যুত না করে, যা আল্লাহ আপনার প্রতি নাযিল করেছেন। অনন্তর যদি তার মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে নিন, আল্লাহ তাদেরকে তাদের গোনাহের কিছু শাস্তি দিতে চেয়েছেন। মানুষের মধ্যে অনেকেই নাফরমান’ [6]

    আল্লাহর ফয়সালা বিরোধী জাহেলি বিধি-বিধানের আলোকে বিচার-ফয়সালা কামনাকারীর ব্যাপারে ইমাম শাওকানী রহিমাহুল্লাহ'র এই উক্তি বুঝি তার কর্ণকুহরে পৌঁছেনি— “নিশ্চয়ই এমন কাজ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এবং তাঁর শরীয়তের প্রতি কুফরি। তারা আদম আলাইহিস সালামের আনীত শরীয়ত থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আগত সকল শরীয়তের প্রতি কুফরী করেছে। এদের বিরুদ্ধে জিহাদ ওয়াজিব। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ইসলামী হুকুম-আহকাম কবুল না করবে, ইসলামী শরীয়তের সামনে আত্মসমর্পণ না করবে, পবিত্র এই শরীয়ত দ্বারা বিচার ফায়সালা না করবে এবং সকল তাগুতি সংবিধান থেকে বেরিয়ে না আসবে, এদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া আবশ্যক।



    [1] সূরা আল মায়েদা; ৫: ৩৮
    [2] সূরা আন-নূর; ২৪: ২
    [3] সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ৬৫২৪
    [4] সূরা আন নিসা,৪ : ১৪১
    [5] সূরা আল-মায়েদা;৫ : ৫০
    [6] সূরা আল-মায়েদা; ৫: ৪৯





    আরও পড়ুন​
Working...
X