আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
বিজয়ের সোপান
।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
[আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
–।।থেকে- অষ্টম পর্ব
ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
বিজয়ের সোপান
।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
[আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
–।।থেকে- অষ্টম পর্ব
হে ইখওয়ানের যুবকেরা!একটু চিন্তা করো... তোমাদের প্রয়াত আদর্শিক নেতার কথা। তার বক্তব্যকে শরীয়ত দ্বারা বিচার করো। তাতে তোমাদের জন্য সত্য স্পষ্ট হয়ে যাবে, যদি সত্যিই তোমরা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে চাও। আর হ্যাঁ, এটা কেবল তার নিজস্ব এবং ব্যক্তিগত বক্তব্য নয়, বরং তিনি তার এই বক্তব্যে তোমাদের মানহাজ এবং যে জামাতের সঙ্গে তোমরা যুক্ত রয়েছ, সে জামাতের মানহাজের পরিচয় তুলে ধরেছেন।
তাকে আরো জিজ্ঞেস করা হয়, "ক্ষমতা গ্রহণের পর রায় প্রদানের কর্তৃত্ব কাদের হাতে থাকবে? আহলুল হাল্ল্ ওয়াল 'আক্বদের[1] হাতে নাকি সংসদীয় পদ্ধতিতে নির্বাচিত সাংসদদের হাতে?"
জবাবে তিনি বলেন, “ক্ষমতা দখলের আলাদা কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই। তবে জনগণ আমাদেরকে নির্বাচিত করলে, আমরা সেটা প্রত্যাখ্যান করি না। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বর্তমান সময়ে জনগণের অভিব্যক্তির যথোচিত প্রতিফলনের ক্ষেত্রে সংসদীয় পদ্ধতিই সর্বাধিক উপযুক্ত মাধ্যম।”
যদি আপনাদের ক্ষমতা দখলের ইচ্ছা নাই থাকে, তবে আলাদাভাবে জামাতবদ্ধ হয়ে থাকার উদ্দেশ্যটা কী? আর স্পষ্টভাবে আপনারা বলুন তো, জনগণ কবে আপনাদেরকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্ষমতার আসনে বসাবে? আর বিনামূল্যে (!) ক্ষমতার আসনে বসানোর জন্য আপনাদের এবং জনগণের মাঝে দোভাষীর কাজ কে করবে? পূর্বের ইতিহাসগুলো থেকে কী আপনাদের জন্য শিক্ষার কিছুই নেই?
হারাকাতুল মুকাওয়ামা আল ইসলামীয়া বা হামাসের প্রতিষ্ঠাতা শাইখ আহমদ ইয়াসিনকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "ফিলিস্তিনি জনগণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চায়। আপনারা কেন তাদের বিরোধিতা করেন”?
জবাবে তিনি বলেছিলেন, “আমিও তো একটি বহুজাতিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চাই, যেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল নির্ধারিত হবে।”
তাকে আরো জিজ্ঞেস করা হয়, "যদি সমাজতান্ত্রিক দল জয় লাভ করে, তখন আপনার অবস্থান কী হবে?"
তখন তিনি জবাবে বলেছিলেন, “যদি সমাজতান্ত্রিক দল নির্বাচনে জয়লাভ করে, ওই অবস্থাতেও আমি ফিলিস্তিনি জনগণের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাকে শ্রদ্ধা করব”।[2]
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আপনাকে ক্ষমা করুন হে শাইখ! কীভাবে আপনি এমন শ্রেণীর আকাঙ্ক্ষাকে শ্রদ্ধা করতে পারেন, যাদের ঘোষণা হলো, স্রষ্টা বলতে কিছু নেই। যারা মনে করে, এই জীবন একটি বস্তু মাত্র। এই কি মুহাম্মাদ ﷺ-এর দ্বীন? শিরক এবং মুশরিকদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের চেতনার ওপর প্রতিষ্ঠিত দ্বীন ইসলামের মানহাজ কি এই! ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এবং তাঁর সঙ্গীদের মাঝে কি আপনাদের জন্য উত্তম আদর্শ নেই?
قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِىٓ إِبْرَٰهِيمَ وَٱلَّذِينَ مَعَهُۥٓ إِذْ قَالُوا۟ لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَءَٰٓؤُا۟ مِنكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ ٱلْعَدَٰوَةُ وَٱلْبَغْضَآءُ أَبَدًا حَتَّىٰ تُؤْمِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَحْدَهُۥٓ إِلَّا قَوْلَ إِبْرَٰهِيمَ لِأَبِيهِ لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ وَمَآ أَمْلِكُ لَكَ مِنَ ٱللَّهِ مِن شَىْءٍ رَّبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ ٱلْمَصِيرُ ﴿الممتحنة: ٤﴾
“তোমাদের জন্যে ইব্রাহীম ও তাঁর সঙ্গীগণের মধ্যে চমৎকার আদর্শ রয়েছে। তাঁরা, তাঁদের সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইবাদাত কর, তার সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে। কিন্তু (এ ব্যাপারে) ইবরাহীমের পিতার উদ্দেশ্যে বলা কথাটি (ব্যতিক্রম,যখন সে বলেছিল), আমি অবশ্যই তোমার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করব। তোমার উপকারের জন্যে আল্লাহর কাছে আমার আর কিছু করার নেই। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা তোমারই ওপর ভরসা করেছি, তোমারই দিকে মুখ করেছি এবং তোমারই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন।”[3]
হে ইখওয়ান!আল্লাহর এই বাণীকে আপনারা কীভাবে বিচার করেন?
وَلَن يَجْعَلَ اللَّهُ لِلْكَافِرِينَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ سَبِيلًا ﴿النساء: ١٤١﴾
“আর কিছুতেই আল্লাহ, কাফেরদেরকে মুসলিমদের ওপর বিজয় দান করবেন না”।[4]
ফুক্বাহায়ে কেরাম উক্ত আয়াত গবেষণা করে এই মাসআলা বের করেছেন যে, কোনো কাফেরের কাছে মুসলিম দাস বিক্রি করা জায়েজ নয়। কারণ, এতে মুসলিমদের ওপর কাফেরের কর্তৃত্ব সাব্যস্ত হয়। এই সাধারণ ক্ষেত্রে অবস্থা যদি এতটা গুরুতর হয়, তবে পুরো একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্ব ও শাসনভার কীভাবে কাফেরের হাতে তুলে দেয়া যেতে পারে?
তাকে আরও জিজ্ঞেস করা হয়, "নির্বাচনের মাধ্যমে যখন জানা যাবে, ফিলিস্তিনি জনগণ একটি বহুজাতিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চায়, তখন আপনার অবস্থান কী হবে?"
তিনি জবাব দেন, “আল্লাহর শপথ! আমরা এ জাতির সম্মান এবং অধিকার স্বীকার করি। ফিলিস্তিনি জনগণ যদি ইসলামী রাষ্ট্রকে প্রত্যাখ্যান করতে চায়, তবুও আমরা তাদের ইচ্ছা ও অভিব্যক্তিকে শ্রদ্ধা জানাব।”[5]
আল্লাহর শপথ! ধ্বংস এমন মানহাজের জন্য। ইসলাম প্রত্যাখ্যান করাকে, ইসলাম থেকে বিমুখ হওয়াকে এবং ইসলামের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করাকে শ্রদ্ধা জানাতে বলে যে মানহাজ ও চিন্তাধারা। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে যারা, লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ-এর মর্ম অনুধাবন করেছে যারা, এমন মু’মিনদের কাছে ইসলাম প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য কেবল তরবারি ছাড়া আর কিছুই নেই।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘মুসলিম দাবিদার যে কোনো জাতি অথবা গোষ্ঠী শরীয়তের পরম্পরাগত প্রকাশ্য কোনো বিধান প্রত্যাখ্যান করবে, মুসলিমদের সর্বসম্মতিক্রমে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা আবশ্যক (শরীয়তের পরিভাষায় 'ওয়াজিব') যতক্ষণ দ্বীন আল্লাহর জন্য প্রতিষ্ঠিত না হয়।
উদাহরণস্বরূপ আমরা দেখতে পাই, হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং সমস্ত সাহাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুম যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। প্রথম দিকে তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ব্যাপারে কতিপয় সাহাবী দ্বিধান্বিত থাকলেও পরবর্তীতে তাঁরা ঐক্যমত্যে পৌঁছেছিলেন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল, হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু পর্যন্ত হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন, ‘আপনি কীভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারেন অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, “আমি ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ তারা এই সাক্ষ্য না দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। যদি তারা এই কথার সাক্ষ্য দেয় তবে তাদের জান ও মাল আমার থেকে নিরাপদ হয়ে যাবে। তবে যথোপযুক্ত কারণ পাওয়া গেলে সে অবস্থা ব্যতিক্রম। আর তাদের হিসাব আল্লাহর কাছে”।’
তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “নিশ্চয়ই যাকাত যথোপযুক্ত কারণের একটি। আল্লাহর শপথ! যদি তারা একটি রশিও দিতে অস্বীকৃতি জানায় যা নবীজির সময় দিত, তবে সেটা না দেয়ার কারণে আমি তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব।”
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমার কাছে এটাই মনে হল যে, আল্লাহ লড়াইয়ের জন্য আবু বকরের অন্তর খুলে দিয়েছেন। তখন আমি বুঝতে পারলাম এটাই সত্য’।[6]ইখওয়ানুল মুসলিমিনের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সাইফুল ইসলামকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, "যেকোন রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনগণের অধিকার বিষয়ে আপনাদের অবস্থান ও বক্তব্য কী? এবং যেকোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ—যার মাঝে রয়েছে সমাজতন্ত্র—ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে জনগণের অধিকার বিষয়ে আপনাদের অবস্থান ও বক্তব্য কী?"
তিনি জবাবে বলেন, “জনগণের সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কারণ, ইসলামে মানুষের ওপর কোনো আকীদা-বিশ্বাস আঁকড়ে থাকার কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করা নেই। আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।”
তিনি আরো বলেন,“একটি ইসলামী সমাজের ছায়াতলে ব্যক্তিগতভাবে আমার রায় হলো, নিজ মতামত ও আকীদা-বিশ্বাস প্রকাশ করা মানুষের মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত”।[7]
তার বক্তব্যের সারকথা হচ্ছে—যার ইচ্ছা নিজ গুনাহের কথা প্রকাশ্যে বলে বেড়াবে। যার ইচ্ছা নিজ কুফরীর কথা জনসমক্ষে ঘোষণা করবে। যার কুফরি করার ইচ্ছা অবলীলায় আল্লাহর প্রতি কুফরী করবে। কারণ, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার! ওমরী[8] শর্তাবলীর কোনো পরোয়া থাকবে না। আহলে কিতাবদের কোনো বিধান বাস্তবায়ন করা হবে না!
ডক্টর ঈসাম আরিয়ান বলেন, “ইসলামের অবস্থান সুস্পষ্ট অর্থাৎ শূরা ও বহুদলীয় ব্যবস্থা। যে মৌলিক নীতির ভিত্তিতে জামায়াতুল ইখওয়ান গঠিত, তা শূরা ব্যবস্থাকে সমর্থন করে। তাছাড়া, ইখওয়ানের উলামায়ে কেরাম এই ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বরং আমরা আরও পরিষ্কার করে এভাবে বলতে চাই—ইখওয়ানুল মুসলিমিন রাষ্ট্রীয় সংবিধানকে এভাবে বিবেচনা করে যে, তা ইসলামের সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যবস্থা। তবে, তারা বিশেষ কোনো ব্যবস্থাকে ইসলামের সমতুল্য মনে করে না। এই বিষয়টি শহীদ হাসানুল বান্নার পঞ্চম কনফারেন্সের প্রবন্ধে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “আমরা কেনো বারবার এ কথা জোর দিয়ে বলতে যাব যে, ইসলামপন্থীরা গণতন্ত্র বিরোধী? নিশ্চয়ই এটি বিরাট অপবাদ। আমরাই তো সবচেয়ে বেশি গণতন্ত্রের দিকে আহ্বান করি। আমরাই তো গণতন্ত্র বাস্তবায়ন করি। আমরণ গণতন্ত্রের পক্ষে থেকে অন্য সব কিছুকে প্রতিরোধ করি।”
হায় আফসোস! ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মূলকথা এবং তাঁর একক বৈশিষ্ট্যাবলীর মাঝে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হাকিমিয়্যাহ্-এর ক্ষেত্রে শিরকের মূলমন্ত্র এই গণতন্ত্র রক্ষার পরিবর্তে আপনি যদি মুসলিম মা-বোনদের ইজ্জত আব্রু রক্ষা করতেন!
প্রিয় পাঠক! ইখওয়ানুল মুসলিমিনের মানহাজ দ্বারা প্রতারিত অন্য সকলের উদ্দেশ্যে আবু হামেদ গাজালি রহিমাহুল্লাহ্'র একটি উক্তি তুলে ধরতে চাই। এটি তিনি তালিবুল ইলমদের জন্য আবশ্যকীয় বিষয়ে আলোচনার শুরুতে পেশ করেছিলেন-
‘ছাত্রদেরকে নব উদ্ভাবিত বিষয় থেকে খুব কঠোরভাবে বেঁচে থাকতে হবে, যদিও অধিকাংশই সে বিষয়ে সম্মত হয়ে যায়। সাহাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর পরে সাধারণ মানুষদের আমল দেখে প্রতারিত হওয়া যাবে না। তালিবুল ইলমকে সদাসর্বদা সাহাবাদের অবস্থা, তাঁদের সীরাত ও আমলের বিষয়ে অনুসন্ধিৎসু ও আগ্রহী থাকতে হবে। ভালোভাবে জেনে রাখো, যুগের সবচেয়ে বড় জ্ঞানী এবং সত্যের সবচেয়ে কাছাকাছি তাঁরাই যারা সাহাবীদের সঙ্গে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ এবং সালফে সালেহীনের পথ ও পন্থা সম্বন্ধে অধিক অবগত। কারণ, দ্বীন তাঁদের থেকেই এসেছে। তাঁদের হয়েই এসেছে। তাই নবী যুগের পুণ্যবান লোকদেরকে অনুসরণ করতে গিয়ে অন্য কোনো যুগের লোকদের বিরোধিতাকে আমলে নেয়া উচিত নয়।’
এ বিষয়ে এটুকুই বলতে চাই। আমরা মনে করি, এটুকু দ্বারাই উদ্দেশ্য পূরণ হবে। কেউ যদি এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চান, তার জন্য থাকল মুজাহিদ শাইখ আইমান আল জাওয়াহিরি (হাফিজাহুল্লাহ) রচিত আল হাসাদুল মুর্র (الحصاد المرّ) গ্রন্থখানা। গ্রন্থটিতে এই জামাতের অনেক অসার বক্তব্যের আলোচনা এসেছে।
[1] আহলুল হাল্ল্ ওয়াল 'আক্বদ –
অর্থাৎ ‘আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ’ হলেন উলামা, নেতৃত্বস্থানীয় ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ। মুসলমানদের প্রতিনিধি এবং মুখপাত্র হওয়ার উপযুক্ত বিশিষ্ট মুসলমানদের একটি জামাতকে আহলে আল-হিল্ল ওয়াল আকদ বলা হয়। মুসলিমদেরর প্রতিনিধি এবং মুখপাত্র হওয়ার উপযুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একটি জামাতকে আহলে আল-হিল্ল ওয়াল আকদ বলা হয়।
‘আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ’ এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনায় ইমাম মাওয়ারদি রহ. বলেন:
আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদের যোগ্য হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে। প্রথমত, পূর্ণ ন্যায়পরায়ণতা। দ্বিতীয়ত, এতটুকু ইলম থাকা আবশ্যক, যদ্বারা তিনি বুঝতে পারবেন, খিলাফতের শর্তগুলোর ভিত্তিতে কে খলিফা হওয়ার যোগ্য। তৃতীয়ত, সিদ্ধান্ত প্রদানের যোগ্যতা ও প্রজ্ঞা থাকা, যার মাধ্যমে অবগত হওয়া যায়, কে খলিফা হওয়ার উপযোগী এবং উম্মাহর কল্যাণ বিষয়ে অধিক উপযুক্ত ও সজাগ। (আল-আহকামুস সুলতানিয়্যা)
[2]আজ জাহিরাতুল মু’জিযাহ ওয়া উস্তুরাতুত তাহাদ্দি -আহমাদ ইয়াসিন, প্রকাশনা- দারুল ফুরকান, পৃষ্ঠা: ১৬-১৮
[3] সূরা মুমতাহিনা; ৬০: ৪
[4] সূরা আন-নিসা; ৪: ১৪১
[5] ফিলিস্তিনের আন নাহার পত্রিকায় (সংখ্যা-৭৯৭) প্রদত্ত শাইখের সাক্ষাৎকার।
[6] সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৬৫২৬
[7] মাজাল্লাহ আলমুজতামি’ সংখ্যা- ৮৪৮, ২২ ডিসেম্বর ১৯৮৭ ইংরেজি।
[8] উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসন আমলে খ্রিস্টানদের জন্য উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক স্বীকৃত নীতিমালা ও শর্তাবলী।
আরও পড়ুন
সপ্তম পর্ব