Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ – ।। দশম পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫১ || ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১- বিজয়ের সোপান ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ – ।। দশম পর্ব

    আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
    ফিকর ও মানহাজ সিরিজ – ০১
    বিজয়ের সোপান
    ।। শাইখ আবু উবাইদা আলমাকদিসি ।।
    [আব্দুল্লাহ খালিদ আল-আদাম] রহিমাহুল্লাহ– ।।
    –।।থেকে- দশম পর্ব



    হিযবুত তাহরীর আল-ইসলামী



    প্রকৃতপক্ষে হিযবুত তাহরীর এবং তাদের আকীদা, চিন্তাধারা ও মতাদর্শ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা প্রয়োজন। এমনিতে প্রকৃত চক্ষুষ্মানদের নিকট এই দলের অসার চিন্তা-দৃষ্টিভঙ্গি ও অযৌক্তিক, অসংলগ্ন দর্শনের বিষয়টি স্পষ্ট।

    তাদের একটা বক্তব্য হল, ঈমান হল কেবল অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে তাসদীকের নাম। অথচ এমন বক্তব্য আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকীদাহ বিরোধী। কারণ এতে কবরের আযাব, মাসীহ দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ, ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণ, খলীফা মাহদীর আবির্ভাব ইত্যাদি বিষয়সমূহ অস্বীকার করতে হয়। কারণ তারা মনে করে, 'খবরে ওয়াহেদ'[1] দ্বারা নবীজি সম্পর্কে যা জানা যাবে, তার প্রতি ঈমান আনা হারাম। তাদের এমনটা মনে করার কারণ হচ্ছে, এ দলের প্রতিষ্ঠাতা নাবহানী সাহেব হাদীসে মুতাওয়াতির[2] -এর জন্য শর্ত দিয়েছেন, তার বর্ণনাসূত্রের প্রতি স্তরে পাঁচজন বর্ণনাকারী থাকতে হবে। এই শর্ত পূরণ না হলে হাদীস অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত বলে সাব্যস্ত হবে না কাজেই তার প্রতি ঈমান আনা জায়েজ নেই।

    এছাড়াও তারা ফরজ বিধান জিহাদকে অকার্যকর মনে করে। তারা এভাবে বলে, 'খলীফা ব্যতীত জিহাদ নেই', 'শারীরিক প্রস্তুতি এবং অন্যান্য বস্তুগত কর্মকাণ্ডের সুযোগ নেই বলে জিহাদ হবে না' কখনো কখনো এভাবে বলে, 'রাষ্ট্র নেই, তাই জিহাদ নেই' এমনি আরো বহু অসংলগ্ন বক্তব্য ও চিন্তাধারার জন্য তারা বিখ্যাত

    হিযবুত তাহরীরের মানহাজের বক্রতা তুলে ধরা আমাদের এই অধ্যায়ের মুখ্য উদ্দেশ্য আমরা তাদের সেই মানহাজের ব্যাপারে আলোচনা করব যা এই দলটি বিপ্লবের পন্থা এবং ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছে আমাদের আলোচনা শুধুমাত্র বিপ্লবের ক্ষেত্রে হিযবুত তাহরীরের কর্মপন্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আগ্রহী পাঠকগণ হিযবুত তাহরীর সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য শাইখ আবু কাতাদা ফিলিস্তিনি, আবু বাসির শামী, ডক্টর সাদেক আমীন প্রমুখ আহলে ইলম ব্যক্তিবর্গের রচনা ও গ্রন্থাবলী অধ্যয়ন করতে পারেন। তাঁদের কিতাবাদিতে এ বিষয়ে যথেষ্ট উপকারী ও মূল্যবান আলোচনা রয়েছে।



    হিযবুত তাহরীর: বিপ্লব সাধনে তাদের কর্মপদ্ধতি



    একটি বিপ্লব সংঘটিত করার জন্য এবং বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইসলামী সমাজ নির্মাণ করার জন্য হিযবুত তাহরীর বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচি ও কর্মপন্থা গ্রহণ করেছে তাদের এসমস্ত কর্মসূচিসমূহ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সদস্যদেরকে পরিণত করে থাকে। কিন্তু ইসলামের অন্যান্য বিষয়ে সদস্যদের ক্রমাগত উন্নতির পথে পরিচালিত করতে পারে না। তারা উম্মাহকে এ সমস্ত চিন্তাধারার কথা বলে সুসংবাদ দিতে থাকে উম্মাহ যেন এসব চিন্তাধারা গ্রহণ করে নেয় ও সে অনুসারে কাজ করে তাদের সংগঠনের সদস্য হয়ে যায়-তারা সে আহ্বান জানাতে থাকে। তাদের উদ্দেশ্য হলো, এভাবেই তারা শাসন ক্ষমতা পর্যন্ত পৌঁছাবে। চাই সেটা তাদের চিন্তাধারায় চলে আসা উম্মাহর বৃহৎ অংশের মাধ্যমে হোক অথবা রাষ্ট্রপ্রধান, গোত্রপ্রধান কিংবা সামর্থ্যবান অন্য যেকোন সংগঠনের কাছে নুসরাহ্ তথা সাহায্য প্রার্থনা করার মাধ্যমেই হোক।[3] নুসরাহ্ কাদের কাছে তলব করা হচ্ছে? তাদের হাকীকত এবং প্রকৃত অবস্থা কী? তাদের মতে এসবের দিকে নজর দেবার কোনো দরকার নেই।

    তাদের গৃহীত এই কর্মপন্থা তথা দাওয়াহ্ ও চিন্তা-ধারা প্রসারের মাধ্যমে সামাজিক বিপ্লবের এই নীতির ব্যর্থতা তারা নিজেরাও স্বীকার করেছে। তাদের ভাষায় এই ব্যর্থতার কারণ হচ্ছে, সামাজিক স্থবিরতা। আর এতে করে তারা শক্তি-সামর্থ্য সম্পন্ন, শান শওকত ও ক্ষমতার অধিকারী মহলের কাছে সাহায্য কামনা করতে বাধ্য হয়েছে। এই সাহায্য কামনাকে তারা ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের জন্য অবশ্য পূরণীয় শর্ত বলে সাব্যস্ত করেছে। হিযবুত তাহরীরের মতে, এই শর্ত পূরণ না হলে ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কোনো উপায় নেই। এসবের মধ্য দিয়ে মূলত: হিযবুত তাহরীরের ভাইয়েরা যুগের ফরজে আইন দুই বিধান ই'দাদ ও জিহাদকেই অকার্যকর করে দিয়েছে।

    হিযবুত তাহরীরের উদ্ভাবিত উপরোক্ত মানহাজ যে প্রকৃত অর্থে নববী আদর্শের বিরোধী এবং সমাজ বিনির্মাণ ও জাতি গঠনে জগতের প্রাকৃতিক নিয়মের বিপরীত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। উপরোক্ত কারণ ছাড়াও অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তাদের কর্মপন্থা ব্যর্থ হওয়ার আরো একটি কারণ হচ্ছে, ব্যবহারিক বাস্তব জীবনাচারও তাদের কর্মপন্থার বিপরীতহিযবুত তাহরীর বিষয়টি এভাবে স্বীকার করেছেহিযবুত তাহরীর দেখতে পেল, উম্মাহ তাদের আশা-ভরসার স্থল নেতৃবৃন্দ ও কর্ণধারদের প্রতি আস্থাহীন মুসলিম ভূখন্ডগুলোতে উপর্যুপরি ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতি বিরাজ করছে জনগণের উপর শাসকগোষ্ঠী অন্যায়, অত্যাচার করছে। সংগঠনের যুবকদের ওপর শাসকদের অবর্ণনীয় নিপীড়ন নিগ্রহের কারণে সামাজিক পরিবেশ বিপ্লবের জন্য অনুর্বর ও স্থবির তখন তারা এই অনুর্বরতা ও স্থবিরতা প্রতিকারে সক্ষম সামর্থ্যবান শ্রেণীর কাছে নুসরাহ্ তলবের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

    হিযবুত তাহরীরের প্রতিষ্ঠাতা নিজ গ্রন্থ 'আত তাকাত্তুল আল হিযবী'-তে এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলেন, “তৃতীয় মারহালা হলো: শাসন ক্ষমতা গ্রহণ সংগঠন, উম্মাহর সাহায্যে এবং নুসরাহ্ তলব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করবে”

    ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গকারী হে ভাই! নিজেদের আবিষ্কৃত শর্তের ভিত্তিতে নুসরাহ্ তলবের নামে যে বিদ‘আতের কথা তারা সকাল-সন্ধ্যা আড়ম্বর সহকারে বলতে থাকে, তা বাতিল হওয়ার কয়েকটি কারণ আমরা এখানে আলোচনা করছি



    প্রথম বিষয়:

    ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা আমাদের জীবনের নিশ্চিত-সম্ভাব্য, ছোট-বড় এমন কোন দিককে অবশিষ্ট রাখেনি, যেখানে ইসলামের অনুশাসন ও বিধান নেই। এমনকি একজন মুসলিম কীভাবে মলমূত্র ত্যাগ করবে, ইসলাম সে বিষয়েও নীতিমালা দিয়ে দিয়েছে। তাহলে আমর বিল মারুফ, নাহি আনিল মুনকার, ইসলামী হদ প্রতিষ্ঠা ও শরীয়তের অন্যান্য বিধান বাস্তবায়নসহ সর্বস্তরের মুসলিমদের কাছে সুপ্রসিদ্ধ আরো বহু কল্যাণের ভিত্তিমূল খিলাফত ব্যবস্থার মত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যমণ্ডিত বিষয় সম্পর্কে কোনো রূপরেখা না দিয়ে ইসলাম কীভাবে চুপ করে থাকতে পারে?

    হিযবুত তাহরীরের মতে ভূ-পৃষ্ঠে আল্লাহর খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য অবশ্য পূরণীয় শর্ত হল নুসরাহ তলব। এখন কথা হল, হিযবুত তাহরীরের আবিষ্কৃত পন্থাতেই যদি নুসরাহ্ তলবের বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকত, তবে অবশ্যই কুরআন-হাদীসে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট আলোচনা থাকত আর উলামায়ে কেরামও সে বিষয়ে অবশ্যই সুস্পষ্টভাবে আলোচনা করতেন। কিন্তু এমন কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না।



    দ্বিতীয় বিষয়:

    হিযবুত তাহরীর খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য সামর্থ্যবান গোত্র, সংগঠন ,সেনাবাহিনী ইত্যাদির কাছে নুসরাহ তালাশের শর্ত জুড়ে দিয়েছে। অথচ সালফে সালেহীন উলামায়ে কেরামের মধ্যে কেউ ইতিপূর্বে এমন কিছু বলেননি। অতএব, এটা প্রত্যাখ্যাত বিষয় খিলাফতের অবসান ও বিলুপ্তি ঘটার ব্যাপারে হাদীসে বক্তব্য এসেছে। দ্বীনের উলামায়ে রাব্বানী ও পূর্ববর্তী আলিমরা তাহলে কীভাবে নুসরাহ তালাশ সংক্রান্ত আলোচনার ব্যাপারে উদাসীন থাকতে পারেন? কেনো তাঁরা নিজেদের কিতাবাদিতে সংক্ষিপ্তাকারে হলেও এ বিষয় কিছু উল্লেখ করেননি? আর মুহাম্মাদ আনসারদের কাছে যে পদ্ধতিতে নুসরাহ্ তলব করেছিলেন সেটি ছিল সময়োপযোগী, বাস্তবতার দাবি এবং আরবের গোত্রীয় ও গ্রামীণসব রকম সামাজিক পরিস্থিতির অনুকূল। কিন্তু আমাদের বাস্তব অবস্থা ব্যতিক্রম।

    আমাদের এই সময়ে তাগুতের দল, উম্মাহর ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে আছে। তাই কোনো অবস্থাতেই এই পন্থা বাস্তবায়িত করার সুযোগ নেই। বরং এতে হিতে বিপরীত হবার আশঙ্কা রয়েছে[4] তাই এভাবে রাষ্ট্রপ্রধান, সেনাবাহিনী ইত্যাদির কাছ থেকে নুসরাহ নিয়ে ক্ষমতালাভ এবং খিলাফত প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দিবা স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়।



    তৃতীয় বিষয়:

    ক্ষমতাশালী ও শৌর্যবীর্য সম্পন্ন শ্রেণীর কাছে নুসরাহ তলবের যেই পন্থা নবী করীম ﷺ‏ অনুসরণ করেছেন, তা সাহাবায়ে কেরামকে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেনএমন কোনো প্রমাণ নেই। সাহাবীরা পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহর এ কর্মপন্থা অনুসরণ করেছেন সে ব্যাপারেও কোনো দলীল নেই। হিযবুত তাহরীর মনে করে নুসরাহ তলব ওয়াজিব পর্যায়ের। এটী যদি শরীয়তের দৃষ্টিতে ওয়াজিবই হতো, তাহলে মুহাম্মাদ ﷺ‏ অবশ্যই তাঁর সাহাবীদেরকে স্বীয় এই কর্মনীতিতে অংশগ্রহণের নির্দেশ দিতেন, যেমনিভাবে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ব্যাপারে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু তিনি ﷺ‏ এমন নির্দেশ দেননি। হিযবুত তাহরীরের নীতিনির্ধারক মহল মুহাম্মাদ ﷺ‏ যার আদেশ দেননি সেটাকেই ওয়াজিব বানিয়ে ছেড়েছে। অথচ রাসুলুল্লাহ ﷺ‏ সরাসরি যার নির্দেশ দিয়েছেন -আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ- সেটাকেই স্থবির করে দিয়েছে


    চতুর্থ বিষয়:

    নবীজি আরব গোত্রগুলোর কাছে নুসরাতের যে পন্থা প্রয়োগ করেছেন, তা ছিল মাক্কী যুগে তথা মুসলিমদের দুর্বল অবস্থায়। তখন পর্যন্ত মদীনায় নবীজির নেতৃত্বে শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নিআর এ কারণেই কোনো অবস্থাতেই পিছনে ফিরে তাকানো এবং ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে নুসরাহ তলব করাকে অবশ্য পূরণীয় শর্ত বলে সাব্যস্ত করা আমাদের জন্য জায়েজ হবে না। কারণ, আমরা যদি এ কাজ করি, তাহলে দেখা যাবে হিজরত এবং জিহাদদ্বীন ইসলামের মহান এই দুই বিধানকে আমরা অকার্যকর করে ফেলছি। অথচ এই দুই ফরজ বিধান এবং উভয়ের বিস্তারিত বিধিমালা ও প্রণয়ন কাল বর্ণিত হবার মাধ্যমে এই দ্বীন পূর্ণতা লাভ করেছে।


    পঞ্চম বিষয়:

    মুহাম্মাদ এর নুসরাহ তালাশের স্থায়িত্ব ছিল দুই বছরের মতো। কিন্তু হিযবুত তাহরীর পঞ্চাশ বছরেরও বেশী সময় ধরে নুসরাহ্ তলব করেই চলেছে সাহায্য কামনা করেই যাচ্ছে। আমাদের জীবদ্দশায় আমরা কি দেখে যেতে পারব, সামর্থবানদের থেকে তারা সাহায্য লাভে ধন্য হয়েছে?


    ষষ্ঠ বিষয়:

    আমরা সকলেই জানি, মুহাম্মাদ অমুসলিমদের থেকে এবং মুশরিক গোত্রগুলোর থেকে সাহায্য, সহায়তা, সহযোগিতা ও সমর্থন চেয়েছেন; তাদের কাছে ইসলাম পেশ করার পর। কিন্তু হিযবুত তাহরীর, সাহায্য ও নুসরাহ লাভের জন্য এভাবে অপেক্ষা করে বসে আছে যে, খিলাফতে রাশেদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনরত ইসলামের অনুসারীদের পক্ষ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাহায্য চলে আসবে।

    প্রিয় ভাই একটু লক্ষ্য করুন! তারা একদিকে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ -কে অনুসরণের দাবী করে থাকে অপরদিকে বাস্তবে যাদের কাছে নুসরাহ তলবের কথা বলে থাকে, সেই দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে তারা নবীজির পদ্ধতির বিরোধিতা করে!


    [1] খবরে ওয়াহিদ- যে হাদিসের মাঝে মুতাওয়াতির হাদিসের সকল শর্ত বিদ্যমান নেই। যার বর্ণনাকারী একজন, দুইজন, তিনজন বা ততোধিক যতক্ষণ পর্যন্ত না এই সংখ্যা এক স্তরে অথবা সকল স্তরে তাওয়াতুরের পর্যায়ে না পৌঁছাবে। সেই হাদিস খবরে ওয়াহেদ বলেই গণ্য হবে। আকীদাহ'র ক্ষেত্রে খবর ওয়াহেদের হাদিসকে অস্বীকার করা রাফেযি, খাওয়ারিজ, মুতাজিলাসহ বিভিন্ন গোমরাহ ফিরকার মত।
    [2] যুগ পরম্পরাগত হাদীস
    [3] মুহাম্মাদ বিভিন্ন গোত্রের কাছে ইসলামের দাওয়াহ নিয়ে যেতেন, এবং বিনা শর্তে ইসলাম গ্রহনের দিকে আহ্বান করেন গোত্রগুলো নানা কারণে এই দাওয়াহ প্রত্যাখ্যান করে কেউ নেতৃত্বের শর্ত জুড়ে দেয়, কেউ ইসলাম মানতে রাজি হলেও ইসলামের জন্য আরব, পারসিক বা রোমীয়দের সাথে যুদ্ধ করতে অস্বীকার করে মহান আল্লাহ মদীনার আনসারদের ইসলামের জন্য পছন্দ করেন। তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নবী ও ইসলামের জন্য মদীনাকে প্রস্তুত করেন, রাযিয়াল্লাহু আনহুম। অতঃপর মহান আল্লাহর নির্দেশে নবী মদীনায় হিজরত করেন হিজবুত তাহরীর এটিকে দলীল হিসেবে উপস্থাপন করেতারা বলে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নববী পদ্ধতি হল কোনো সংগঠন, রাষ্ট্রপ্রধান, গোত্রপ্রধান, সেনাবাহিনী ইত্যাদির কাছে নুসরাহ তালাশ করে এদের সাহায্যে বা এদের মাধ্যমে ক্ষমতালাভ করে তারা খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে সামর্থ্যবান গোত্র, সংগঠন বা সেনাবাহিনীর কাছে নুসরাহ তালাশকে তারা খিলাফত প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হিসেবে উপস্থাপন করে একে তারা জিহাদেরও শর্ত সাব্যস্ত করে - সম্পাদক

    [4] মুসলিমদের উপর চেপে বসা শাসকগোষ্ঠী এবং সেনাবাহিনী নব্য ক্রুসেডারদের গোলাম শাসকগোষ্ঠী নিজেরা তাগুত অন্য দিকে তাদের অনুগত সেনাবাহিনী দলগতভাবে মুরতাদ যেসব মুসলিম আল্লাহর শরীয়া বাস্তবায়ন করতে চায় এরা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে তাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত এরা ক্রুসেডার-জায়নবাদী এমনকি হিন্দুত্ববাদীদের পক্ষ নিয়ে মুসলিমদের বুকের রক্ত ঝরাচ্ছে কাজেই একজন মুসলিম শরীয়া আইন বাস্তবায়নের জন্য এসমস্ত তাগুত,দালালদের কাছ থেকে সাহায্য লাভের আশা কীভাবে করতে পারে? – সম্পাদক




    আরও পড়ুন​
Working...
X