Announcement

Collapse
No announcement yet.

ইসলামপন্থীদের 'পাইক ইফেক্ট সিন্ড্রোম'

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • ইসলামপন্থীদের 'পাইক ইফেক্ট সিন্ড্রোম'

    ইসলামপন্থীদের 'পাইক ইফেক্ট সিন্ড্রোম'



    একটা পাইক মাছকে একুরিয়ামে রেখে তার সামনে কিছু ছোট মাছ ছেড়ে দেয়া হল। ছোট মাছ দেখেই সে তেড়ে গেল, খাওয়ার জন্য। কিন্তু ধিড়িম করে মাথা বাড়ি খেল কিসের সাথে যেন! তার আর ছোট মাছের মাঝখানে এক স্বচ্ছ কাচ দিয়ে বিভেদ ঘটানো।

    ‎পাইক মাছটা অনেকবার মাথা দিয়ে গুতো দিল কাচটা ভেদ করার জন্য। কিন্তু অনেকক্ষণ চেষ্টা করার পরও সফল না হওয়ায় সে হাল ছেড়ে দিল।

    ‎কিছুক্ষণ পর তার সামনে থেকে সেই কাচ সরিয়ে দেয়া হল। ও পাশের মাছগুলো এ পাশে এসে ঘুরাঘুরি করতে লাগল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, পাইক মাছটা ওদেরকে ধরার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করলনা। সে ধরেই নিয়েছে, ছোট মাছগুলোকে খেতে সে সফল হবেনা। তার সামনে খাবার ঘুরাঘুরি করলেও, শেষ পর্যন্ত এই ক্ষুধার্ত অবস্থাতেই সে মারা গেল।

    ‎একে বলে Pike effect বা Pike syndrome...


    ‎ইসলামী দলগুলোর অবস্থাও যেন এ পাইক মাছের মত। প্রত্যেকটা ইসলামী দলের উদ্ভব ঘটেছিল খিলাফত প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে। কিন্তু বারবার বাধা বিপত্তির সামনে হোচট খেয়ে, তারা তাদের মূল উদ্দেশ্য অর্জনে হাল ছেড়ে দিল যেন। এরপর, আল্লাহ তাআলা যখুনি আরব বসন্তের মাধ্যমে এই বাধাগুলো অপসারিত করতে লাগলেন, উম্মাহ যখন তাদের আশেপাশে এসে তাদেরকে আলিঙ্গন করতে লাগল, ঠিক তখুনি তারা সেক্যুলারিজম কে আকড়ে ধরে "Islamic Secularism" এর জন্ম দিল।

    ‎আরব বসন্ত থেকে বাংলা বর্ষা, সব জায়গাতেই উম্মাহ একটা কারণে ব্যর্থ হয়েছে। সেটা হল, উম্মাহ Secular শাসককে অপসারণ করেছে, Secular শাসন ব্যবস্থাকে অপসারণ করেনি। প্রত্যেকটা জায়গায়, সেক্যুলার মিডিয়া আন্দোলনে যাদেরকে নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছে, উম্মাহ তাদেরকেই বিশ্বাস করে ধোকাগ্রস্থ হয়েছে। কারণ, মিডিয়া তাদেরকে হিরো বানানোর আগে, পর্দার পেছনে আমিরিকার সাথে তাদের আতাত হয়েছে, যে, সেক্যুলারিজমকেই টিকিয়ে রাখতে হবে।

    ‎ফলে, মুবারক পালিয়েছে, বেন আলী পালিয়েছে, ওমর বশির পালিয়েছে, গাদ্দাফি পালিয়েছে, হাসিনা পালিয়েছে, কিন্তু যে Establishment তাদেরকে টিকিয়ে রেখেছিল, যারা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরাশক্তির অংগুলি হেলনে উম্মাহকে নির্যাতন করে যাচ্ছিল, সেই Establishment আজও টিকে রয়েছে।


    ‎কিন্তু, অধিকাংশ ইসলামিক দলই পাইক মাছ হয়ে গেলেও, এই উম্মাহকে আমরা Pike Syndrome এ আক্রান্ত হতে দেবনা। আর এই জন্য এ উম্মাহকে কিছু বিষয়ে শিক্ষিত করা জরুরী...

    ‎১. প্রত্যেক যুগে শিরকের বিভিন্ন রূপ থাকে। এই শতাব্দীর শিরকের সবচেয়ে মারাত্মক রূপ হল, রাজনীতি থেকে আল্লাহর আইন অপসারণ করা, এর নামই সেক্যুলারিজম।

    ‎২. সেক্যুলার শাসকই শুধু নয় বরং সেক্যুলার রাজনৈতিক ব্যবস্থাই উপড়ে ফেলতে হবে।

    ‎৩. গণতন্ত্র হল, একটি সেক্যুলার রাজনৈতিক ব্যবস্থা, ইসলামের রাজনৈতিক ব্যবস্থা হল খিলাফত।

    ‎৪. জাতীয়তাবাদ, দেশ, দেশের আইন মানতে হবে- এ ধারণাগুলো মুসলিমদের একত্রিত হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা। এর কারণে মুসলিমরা উম্মাহ না হয়ে বাংগালী, পাকিস্তানী, মিশরী, সৌদি হয়ে রয়েছে।

    ‎৫. কাফেরদের সাথে বন্ধুত্বের পরিবর্তে "ইসলাম" এর সাথে শত্রুতা জ্ঞাপনকারী রাষ্ট্র আমাদের শত্রু, আর ইসলামের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপনকারী আমাদের বন্ধু- এর ভিত্তিতে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত করতে হবে। এর বাইরে যে যা বলবে, সে সাম্রাজ্যবাদীদের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী।

    ‎৬. কাফির মুশরিকদের সাথে বাণিজ্য চুক্তি "জাতীয় স্বার্থ" নয় বরং হারাম হালালের ভিত্তিতে হতে হবে।

    ‎৭. ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে কাফিররা আমাদের ধ্বংস করবে - এটা ভুল চিন্তা এবং আক্বীদাবিরোধী... এমন যদি হত, তাহলে ফিরাউন টিকে যেত আর মূসা (আ.) ডুবে যেতেন। আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে, কাফিরদেরকে খুশি করে কখনও টিকে থাকা যাবেনা।

    ‎৮. "ইন্ডিয়াকে ট্যাকল দিতে আমাদের আমিরিকাকে লাগবে", কিংবা "আমেরিকাকে ট্যাকল দিতে আমাদের চায়নাকে লাগবে" - এ দুই বয়ানই, মুসলিমদেরকে ইসলামিক ব্যবস্থা খিলাফত হতে দূরে রাখার কৌশল। এ অঞ্চলের মুসলমানদের ঘিরে ইন্ডিয়া আর আমিরিকার পরিকল্পনা একই এবং চায়না নিজেও মুসলিম ও ইসলাম দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বরং এদের Sunday Monday ক্লোজ করতে, দুই তিনটা মুসলিম দেশ এক খলীফার অধীনে আসাই যথেষ্ট।

    ‎উম্মাহকে এ অস্ত্রগুলো দ্বারা প্রশিক্ষণ দিলেই, এ উম্মাহ তার পরবর্তী আঘাতেই ধর্মনিরপেক্ষতার দূর্গকে চুরমার করে দিবে, ইনশা আল্লাহ।


    ~~~ফেসবুক থেকে সংগৃহীত~~~

    Last edited by Rakibul Hassan; 6 hours ago.
    বছর ফুরিয়ে যাবে এতো রিসোর্স আছে https://gazwah.net সাইটে
Working...
X