মালির প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে খারেজিদের আপত্তিসমূহের জবাব
-মুনশি আব্দুর রহমান
মালি এবং বৃহত্তর সাহেল অঞ্চলের দিকে একবার তাকান; দৃশ্যপটটা দেখলেই বুঝবেন, জায়গাটা এখন এক ভীষণ জটিল ভূ-রাজনৈতিক এবং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখানে লড়াইটা বেশ ত্রিমুখী—একদিকে রয়েছে মালি জান্তা সরকার আর রাশিয়ার ওয়াগনার গ্রুপের মতো আগ্রাসী শক্তির আস্ফালন, অন্যদিকে খারেজি চরমপন্থীদের (যাদের আমরা আইএস নামে চিনি) অন্ধ উন্মাদনা। এই ঘোর সংকটের আবর্তে পড়ে ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধারা (জেএনআইএম) যখন বৃহত্তর স্বার্থে স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর সাথে একটু কাঁধে কাঁধ মেলায় বা কৌশলগত জোট বাঁধে, ঠিক তখনই চরমপন্থীদের তরফ থেকে ধেয়ে আসে হাজারো আদর্শিক অভিযোগের তির। বাইরে থেকে দেখলে আপনার মনে হতে পারে, খারেজিদের এই আপত্তিগুলো বুঝি নিখাদ শরিয়াহর চাদরে মোড়ানো! কিন্তু একটু তলিয়ে দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন, এর মূলে লুকিয়ে আছে নিরেট বাস্তবতার চরম অজ্ঞতা আর 'সিয়াসাহ শারইয়্যাহ' বা ইসলামি রাজনীতির প্রজ্ঞার প্রতি নিখাদ অন্ধত্ব। আসুন, তাদের সেই প্রধান আপত্তিগুলো একটু কাটাছেঁড়া করি এবং কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকহের কষ্টিপাথরে যাচাই করে এর একটি বুদ্ধিবৃত্তিক জবাব খোঁজার চেষ্টা করি।
প্রথমত, ধর্মনিরপেক্ষ ও জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর সাথে জোট বাঁধার সেই তথাকথিত অভিযোগ
খারেজি আইএস তাদের এক প্রবন্ধে বেশ কড়া সুরেই আপত্তি তুলে বলেছে:
«المشكلة الحقيقية تكمن في ماهية المشروع الذي جمع بين القاعدة وإخوانها القوميين الوطنيين المرتدين في مالي؟ فـ"جبهة تحرير أزواد" بمكوناتها القديمة والحديثة هي جبهة انفصالية قومية وطنية ديمقراطية أسمى غايتها: "استقلال إقليم أزواد" والحصول على "حكم ذاتي"»
অর্থটা দাঁড়াচ্ছে অনেকটা এমন: "আসল সমস্যাটা তো লুকিয়ে আছে সেই প্রকল্পের গোড়ায়, যা মালিতে আল-কায়েদা আর তাদের জাতীয়তাবাদী, মুরতাদ ভাইদের এক মোহনায় মিলিয়েছে! কেননা 'আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট'-এর পুরোনো বা নতুন যে রূপই আপনি দেখুন না কেন, এটি মূলত একটি জাতীয়তাবাদী, গণতান্ত্রিক এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী ফ্রন্ট। এদের জীবনের পরম আরাধ্য হলো: 'আজাওয়াদ অঞ্চলের স্বাধীনতা' এবং একটুখানি 'স্বায়ত্তশাসন' আদায় করে নেওয়া।"
জবাব: আপনি যদি একটু খেয়াল করেন, দেখবেন এই আপত্তির শেকড়টা গেঁথে আছে চরমপন্থীদের একগুঁয়েমি আর তথ্যগত অন্ধত্বের মাটিতে। দিনের আলোর মতো পরিষ্কার সত্যটা হলো, এই আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট (FLA) কিন্তু এখন আর আগের জায়গায় নেই। তারা তাদের সেই পুরোনো ধর্মনিরপেক্ষ নীতি আর সংবিধান থেকে সরে এসেছে এবং নিজেদের মাটিতে ইসলামি শরিয়াহ কায়েমের সিদ্ধান্তে মাথা পেতে নিয়েছে বলেই আমরা জানতে পেরেছি।
ইতোমধ্যেই আমরা দেখেছি যে, একটি বার্তায় জেএনআইএম-এর কমান্ডার 'আবু কাতাদা আল-আজাওয়াদি' এই বিষয়টি খোলাসা করেছেন। আসুন উক্ত বার্তায় তিনি কি বলেছেন, সেটি আমরা দেখি-
"ওসমান, ... আপনাকে তো আগেই বলেছিলাম, 'ফ্রন্ট' (আজাওয়াদ ফ্রন্ট) গোষ্ঠীটি সম্প্রতি নিজেদের সংবিধান পরিবর্তন করেছে। তারা শুধু সংবিধানই বদলায়নি, বরং প্রকাশ্যে ইসলামি শরিয়াহ প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দিয়েছে। আর ঠিক এই কারণেই ভাইয়েরা (প্রতিরোধ যোদ্ধারা) তাদের ওপর থেকে 'তাকফির'-এর হুকুম (কাফের বা মুরতাদ আখ্যা দেওয়ার ফতোয়া) সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। পূর্বে তাদের ওপর এই বিধান আরোপিত থাকলেও, ভাইয়েরা এখন তা তুলে নিয়েছেন। হ্যাঁ, এই কারণেই তাদেরকে এখন আর কাফের আখ্যা দেওয়া যাবে না। আমাদের বিচারক আবু আশ-শহিদ তাদের ওপর থেকে এই ফতোয়াটি রহিত করেছেন। আপনার কী খবর বলুন? সব ঠিকঠাক? আল্লাহর কসম, আমি এই খবরটি চাচা নূহকেও জানাব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন।"
ইসলামি ফিকহের তো একটি অকাট্য মূলনীতিই আছে—
"الْحُكْمُ يَدُورُ مَعَ عِلَّتِهِ وُجُودًا وَعَدَمًا"
(অর্থাৎ, বিধান সব সময় তার পেছনের কারণ বা ইল্লতের সাথেই আবর্তিত হয়)।
সোজা কথায়, আজাওয়াদ ফ্রন্টকে মুরতাদ বা কাফের বলার পেছনে মূল কারণটাই তো ছিল তাদের ধর্মনিরপেক্ষতা। এখন তারা যখন সেই ভুল পথ থেকে ফিরে এসেছে, তখন তাদের ঘাড়ে সেই পুরোনো বিধান চাপানো শরিয়াহর দৃষ্টিতে একেবারেই বাতিল। পবিত্র কুরআন মাজিদে আল্লাহ তায়ালা এ ব্যাপারে একেবারে সুস্পষ্ট ফয়সালা দিয়েছেন,
﴿فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ﴾
যার অর্থ হলো: “তবে যদি তারা তওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত দেয়, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও।” (সূরা আত-তাওবাহ: ৫)
মক্কা বিজয়ের সেই ঐতিহাসিক দিনের কথা একবার ভাবুন তো! রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তো সেদিন ইসলামের ঘোরতর শত্রুদেরও পরম মমতায় ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। কেউ নিজের ভুল বুঝতে পেরে ফিরে এলে, তাকে অতীতের অপরাধের খোঁটা দিয়ে দূরে ঠেলে দেওয়া খারেজিদের স্বভাব হতে পারে, তবে তা কোনোভাবেই আমাদের নববী মানহাজ বা আদর্শ নয়।
দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক স্বার্থ আর জোটবদ্ধ যুদ্ধের দোহাই দিয়ে আদর্শ বিকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ
তারা বেশ বুক ফুলিয়েই অভিযোগ করেছে যে, এই জোট নাকি বানানোই হয়েছে স্রেফ 'ইসলামিক স্টেট'-কে কোণঠাসা করার জন্য, আর এখন সেটাকে 'রাজনৈতিক পরিপক্বতা'র মোড়কে ঢাকার চেষ্টা চলছে:
«لقد مكث القاعديون سنوات يتقون وجود هذه العلاقات والتحالفات مع الجبهات الأزوادية المرتدة، خصوصا في حربهم المشتركة ضد الدولة الإسلامية... وتعده "مصلحة ومرونة ونضجا سياسيا" تقره وتباركه؟»
যার মর্মার্থ হলো: "আল-কায়েদার লোকেরা তো বছরের পর বছর ধরে এই মুরতাদ আজাওয়াদ ফ্রন্টগুলোর সাথে তাদের মাখামাখির কথা লুকিয়ে রেখেছিল, বিশেষ করে 'ইসলামিক স্টেট'-এর বিরুদ্ধে যখন তারা একজোট হয়ে লড়ছিল... আর এখন কি তারা এটাকেই 'স্বার্থ, নমনীয়তা এবং রাজনৈতিক পরিপক্বতা' নাম দিয়ে স্বীকৃতি আর আশীর্বাদ বিলোচ্ছে?"
জবাব: ভেবে দেখুন, 'তাকফির' করা বা কাউকে হুট করে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেওয়া তো আর ছেলেখেলা নয় যে, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে যখন-তখন তা ব্যবহার করা যাবে! কথায় কথায় মানুষকে কাফের বানিয়ে দেওয়াটা খারেজিদের মজ্জাগত একটি রোগ। ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিজ্ঞ বিচারকমণ্ডলী দীর্ঘ বিচার-বিশ্লেষণ করেই তো নিশ্চিত হয়েছেন যে, আজাওয়াদ ফ্রন্ট সত্যিই ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে তওবা করেছে।
আল্লাহ তায়ালা তো আমাদের সতর্ক করেই দিয়েছেন:
﴿وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَىٰ إِلَيْكُمُ السَّلَامَ لَسْتَ مُؤْمِنًا تَبْتَغُونَ عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا﴾
অর্থাৎ, “আর কেউ তোমাদেরকে সালাম দিলে, দুনিয়ার সামান্য সম্পদের লোভে তাকে বোলো না যে, 'তুমি মুমিন নও'।” (সূরা আন-নিসা: ৯৪)
ফিকহের একটি চমৎকার নিয়ম আছে—
"الْيَقِينُ لَا يَزُولُ بِالشَّكِّ"
(সন্দেহ কখনোই নিশ্চিত বিষয়কে হটাতে পারে না)।
এই নিয়মের আলোকেই যদি বলি, স্রেফ রাজনৈতিক ফায়দার অমূলক সন্দেহ করে কারও প্রকাশ্যে শরিয়াহ মেনে নেওয়ার ঘোষণাকে উড়িয়ে দেওয়াটা চরম শরয়ি সীমালঙ্ঘন ছাড়া আর কিছুই নয়।
তৃতীয়ত, বৈশ্বিক জিহাদের ময়দান ছেড়ে জাতীয়তাবাদ আর গোত্রপ্রীতিতে গা ভাসানোর অভিযোগ
আইএস-এর তূণীরে আরও একটি বড় তির আছে, তারা বলে:
«أم تخلت القاعدة عن مشروعها الجهادي العالمي لصالح العرقية القبلية الوطنية التي ينحدر منها زعيمها الحالي؟!... يتغلب فيه رابطة القبيلة على رابطة الدين جريا على قاعدة: "أزواد للأزواديين!"»
এর অনুবাদ করলে দাঁড়ায়: "নাকি আল-কায়েদা তাদের সেই বৈশ্বিক জিহাদি স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সেই গোত্রীয় ও জাতীয়তাবাদী আবেগের কাছেই আত্মসমর্পণ করেছে, যেখান থেকে তাদের বর্তমান নেতার জন্ম?! ...যেখানে 'আজাওয়াদ শুধুই আজাওয়াদিদের জন্য!'—এই নীতির ওপর ভর করে ধর্মের বাঁধনের চেয়ে গোত্রের টানই বেশি মজবুত হয়ে ওঠে।"
জবাব: একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখুন তো, নিজের ভিটেমাটি, আপন ভূমি আর নিরীহ মুসলিম ভাইবোনদের জানমাল রক্ষা করা কী করে 'জাতীয়তাবাদ' হয়? বরং এটি তো ইসলামি প্রতিরোধের একদম গোড়ার কথা! আজকের মালিতে সাধারণ মুসলিমরা জান্তা সরকার, ওয়াগনার বাহিনীর নিষ্ঠুরতা আর খারেজিদের উন্মাদনার ত্রিমুখী যাঁতাকলে পড়ে পিষ্ট হচ্ছে। এই মজলুম মানুষগুলোকে বিপদের মুখে ফেলে রেখে, শুধু বৈশ্বিক জিহাদের বড় বড় বুলি কপচানো কি কোনো দূরদর্শী নেতার কাজ হতে পারে? কখনোই না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা আমাদের বিবেকে নাড়া দিয়ে বলেছেন:
﴿وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ﴾
অর্থাৎ, “আর তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর পথে এবং সেই সব অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে লড়ছ না...” (সূরা আন-নিসা: ৭৫)
ইসলামি শরিয়াহর একটি চমৎকার দিক হলো 'মাকাসিদ আশ-শরিয়াহ' বা শরিয়াহর মূল উদ্দেশ্য। এর একটি বড় দাবিই হলো, বিশাল কোনো ক্ষতি এড়াতে গিয়ে তুলনামূলক ছোট ক্ষতি মেনে নেওয়া এবং সাধারণ মুসলিমদের রক্ত ঝরা বন্ধ করাকে সবার ওপরে স্থান দেওয়া। তাই স্থানীয় উপজাতিদের সাথে এই সুসম্পর্কটা কিন্তু তাদের নিছক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার তাগিদেই ভীষণ জরুরি।
চতুর্থত, নীতি-আদর্শে চরম স্ববিরোধিতা ও লক্ষ্যহীনতার অভিযোগ
তারা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মানহাজ বা নীতি-পদ্ধতি নিয়ে রীতিমতো উপহাস করে মন্তব্য করেছে:
«إن التناقضات الجلية في المنهجية القاعدية لا يكفي المقام لسردها وتتبّع تذبذباتها»
যার মানে হলো: "আল-কায়েদার মানহাজ বা পদ্ধতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে সুস্পষ্ট স্ববিরোধিতা আর দোদুল্যমানতা লুকিয়ে আছে, তা বলে শেষ করার জন্য এই ছোট পরিসর একেবারেই যথেষ্ট নয়।"
জবাব: সত্যি বলতে কী, যুদ্ধের ময়দান তো আর অন্ধ অহংকার বা খামোখা জেদ ধরে বসে থাকার জায়গা নয়। পরিস্থিতি আর শত্রুর গতিবিধির ওপর নজর রেখে নিজের কৌশল পাল্টানোই হলো একজন সফল ও চৌকস নেতার সবচেয়ে বড় গুণ। যে লোকটা গতকাল আপনার শত্রু ছিল, সে যদি আজ নিজের ভুল শুধরে আপনার পাশে এসে দাঁড়াতে চায়, তাকে তাড়িয়ে দেওয়াটা বীরত্ব নয়, বরং নিছক বোকামি। হুদায়বিয়ার সন্ধির সেই যুগান্তকারী ঘটনার কথা একবার স্মরণ করুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থে মক্কার সেই চরম কুরাইশ মুশরিকদের সাথেও সন্ধি করেছিলেন, তাই না? ফিকহের পরিভাষায় এই প্রজ্ঞাকেই বলা হয় 'মাসলাহাহ মুরসালাহ' বা উম্মাহর বৃহত্তর কল্যাণ। যখন দুই শত্রুর মধ্যে একজন আপনার জন্য চরম ভয়ংকর ও ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন যে পক্ষটি তুলনামূলক কম ক্ষতিকর এবং ভুল পথ থেকে ফিরে আসতে ইচ্ছুক, তাদের সাথে জোট বাঁধাটা ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে শতভাগ বৈধ এবং দূরদর্শিতার এক অনন্য নজির।
মোদ্দাকথা হলো, ইসলাম কোন ঢালাওভাবে রক্তপাত আর যাকে-তাকে কাফের ফতোয়া বিলি করার ধর্ম নয়। এটি হলো প্রজ্ঞা, সুকৌশল, নিখুঁত ইনসাফ এবং মানুষের তওবাকে দুহাত বাড়িয়ে গ্রহণ করার এক অনন্য জীবনব্যবস্থা। মালির প্রতিরোধ যোদ্ধারা আজ যে কৌশলগত জোট গঠন করেছে, তা কোনোভাবেই তাদের আদর্শ থেকে বিচ্যুতি বা নিছক সুবিধাবাদ নয়। বরং এটি হলো 'সিয়াসাহ শারইয়্যাহ'-এর এক দারুণ বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী প্রয়োগ। আর এর বিপরীতে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দিকে খারেজিরা যে অভিযোগের আঙুল তুলেছে, তা আসলে তাদের সেই পুরোনো স্বভাবেরই পুনরাবৃত্তি—যেখানে ফুটে ওঠে দ্বীনের ব্যাপারে তাদের চরম অগভীরতা, চারপাশের বাস্তবতার প্রতি অন্ধত্ব এবং শুধুই রক্ত ঝরানোর একগুঁয়েমির এক নির্লজ্জ প্রতিচ্ছবি।
*****