Announcement

Collapse
No announcement yet.

পবিত্রতার নাজাসাত ৩ [শেষ পর্ব]

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পবিত্রতার নাজাসাত ৩ [শেষ পর্ব]

    প্রথম পর্ব: https://dawahilallah.com/forum/মূল-ফোরাম/মানহায/214851
    দ্বিতীয় পর্ব: https://dawahilallah.com/forum/মূল-ফোরাম/মানহায/215039




    এত সমালোচনার পরেও কেউ কেউ বলবে যে, গণতন্ত্র মোটেও ভাল রাষ্ট্র ব্যবস্থা না, কিন্তু বিদ্যমান তত্ত্বগুলোর মধ্যে এর চেয়ে উত্তম নেই। মানে, শয়তান অজুহাত উপস্থিত করতে কখনোই বুদ্ধিবৃত্তিক কৃপণতা দেখায় না।


    ২। জ্ঞানতাত্ত্বিক সমালোচনা

    জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস, জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস ইত্যাদি, এই দাবিগুলো কী প্রমাণিত?

    এখানে কিছু কথা বলে রাখা প্রয়োজন। এগুলো (জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস, জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস ইত্যাদি) গণতন্ত্রের presumption বা পূর্বানুমান। অর্থাৎ, একজন সেকুলার মনে করে, বিতর্কে তার বিপক্ষের ব্যক্তিও এই নীতি স্বীকার করে। আরেকটু ব্যাখ্যা করতে গেলে, বাধ স্থাপিত হলে নদীর গতি কোন দিকে যাবে- সংক্রান্ত বিতর্কে সকল পক্ষ উচ্চারণ না করলেও এটা বিশ্বাস করে যে, পানি গড়িয়ে নিচের দিকে যায়।



    সার্বভৌম মালিকানার প্রমাণ কি?

    এখন পানির নিচের দিকে গড়িয়ে যাওয়া পর্যবেক্ষণ দ্বারা প্রমাণিত, কিন্তু জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক হওয়া পর্যবেক্ষণ দ্বারা প্রমাণিত না। নতুবা স্বৈরতন্ত্রেও কি জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক? সুতরাং জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস- পূর্বানুমান হিসাবে প্রমাণিত নয়, বরং এটি পুরোপুরি একটি ভিত্তিহীন অনুমান এবং এটি সত্য হওয়ার জন্য-

    ১। গণতন্ত্রের স্বয়ং সত্য হওয়া বা
    ২। পূর্ব থেকে অস্তিত্বশীল হওয়া আবশ্যক, অথবা
    ৩। এই পূর্বানুমান শুধু গণতান্ত্রিক চিন্তা কাঠামোর মধ্যে সত্য।

    শর্ত ১-এর ক্ষেত্রে পুরো তত্ত্বটি circular reasoning বা চাক্রিক যুক্তি। শর্ত ২ ও ৩, অন্যান্য রাষ্ট্রচিন্তাকে অপনোদন করতে পারে না।

    যাই হোক আলেমদের মতে, জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস, জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস ইত্যাদি শিরক। কারণ মহান আল্লাহ তাআলা সমস্ত কিছুর উপর ক্ষমতাবান এবং এমন কোন স্থগিতকারী বিষয় নেই যা রাষ্ট্রকে আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে স্বাধীনতা দেয়াকে যুক্তিসঙ্গত করে। অন্য কথায়, কেউ যদি দাবি করে, রাষ্ট্র আল্লাহ-র হুকুমের অনুগামী হতে বাধ্য নয়, শুধু ব্যক্তি মানুষ-ই দ্বীনের অনুসরণে বাধ্য; তাহলে তাকে এর পক্ষে প্রমাণ উপস্থিত করতে হবে।



    রাষ্ট্রধর্ম

    যেহেতু বিতর্কে burden of proof উভয় পক্ষের উপরেই থাকে, সেহেতু সংক্ষেপে আমাদের যুক্তিটি উল্লেখ করছি-

    ১. এই যুক্তিটিকে আমি বলব natural state, ইতিহাস সাক্ষী যে, রাষ্ট্র সৃষ্টির শুরু থেকে ধর্ম দ্বারা পরিচালিত হয়ে এসেছে। এনলাইটেনমেন্টের পরে প্রথমবারের মত এর বিপরীত দেখা গেছে। গ্রীসের আইন যদিও বিপরীত, কিন্তু বিভিন্ন দেব-দেবীর মন্দির কেন্দ্রিক ছিল, সুতরাং এটাকে পুরোপুরি সেকুলার বলা যায় না। সবচেয়ে বড় কথা, গ্রীস ১৮ উর্ধ্ব পুরুষদের দ্বারা শাসিত। যেকোন নারীবাদী চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে যে, অন্যান্য ধর্মের ন্যায় এটাও পুরুষদের বানানো নতুন ধর্ম ছিল। সব কিছু মেনে নিলেও, গ্রীস হাজার বছরের মানব ইতিহাসে একটা outlier. সুতরাং theocracy রাষ্ট্রের স্বাভাবিক অবস্থা হওয়ার কথা নয় কি?

    ২. যদি আল্লাহ-র অস্তিত্ব থেকে থাকে এবং মানুষ যদি আল্লাহ-র হুকুম মানতে বাধ্য হয়, তাহলে মানুষের সমষ্টি [রাষ্ট্র] কেন আল্লাহ-র হুকুমের আওতার বাইরে থাকবে?

    ৩. রাষ্ট্র একটি আইনি সত্ত্বা। সে জমির মালিক হতে পারে, চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে ইত্যাদি। আবার রাষ্ট্রের চরিত্রও থাকে। যেমনঃ আমেরিকার ৮০ বছরের ইতিহাস দেখুন; তার লোভ, স্বার্থ, উদ্দেশ্যের কোন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই; যেন একক ব্যক্তি। প্রত্যেক জীবের মত রাষ্ট্রের মৃত্যু হতে পারে। ইউক্রেন, তাইওয়ান বিলীন হতে পারে; আযাব কিংবা কিয়ামতের মাধ্যমে ভূখণ্ডও বিলীন হতে পারে। সমরূপ জিনিসের সমরূপ হুকুম হওয়া উচিত। তাই, রাষ্ট্রের ধর্ম থাকা উচিত।


    জ্ঞানের ধরন ও গণতন্ত্রের দাবি

    জ্ঞানের ধরন উদাহরণ প্রমাণ পদ্ধতি গণতন্ত্রের দাবি প্রযোজ্য?
    Empirical (অভিজ্ঞতালব্ধ) পানি নিচে গড়ায় পর্যবেক্ষণ ✗ (পর্যবেক্ষণে প্রমাণিত নয়)
    Logical (যৌক্তিক) 2+2=4 গাণিতিক প্রমাণ ✗ (Arrow's Theorem দ্বারা খণ্ডিত)
    Axiomatic (স্বতঃসিদ্ধ) "সব মানুষ সমান" ধারণা/বিশ্বাস ✓ (কিন্তু প্রমাণহীন)


    ভিত্তি গণতন্ত্র ইসলাম
    সার্বভৌমত্বের উৎস জনগণ আল্লাহ
    আইনের উৎস সংসদ/জনমত কুরআন-সুন্নাহ
    বৈধতার ভিত্তি সংখ্যাগরিষ্ঠতা শরিয়াহ সম্মতি
    প্রমাণ Axiomatic (অপ্রমাণিত) Revelation (ওহী)



    শিরক কিভাবে, মশাই?

    তবে অধিকাংশ লোক ‘জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস, জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস’ ইত্যাদি বাক্যেকে আক্বীদাগতভাবে প্রত্যাখ্যান করলেও ব্যবহারিকভাবে সত্য মনে করে এবং শিরক মনে করে না। বিষয়টি এমন যে, ওষুধ খেলে রোগী সুস্থ হয়, তাই ওষুধ রোগ সারায়। যেহেতু শর্ত ২-এ উল্লিখিত অবস্থার মত, অধিকাংশ মানুষ গণতান্ত্রিক দেশে জন্ম নিয়েছে, জন্ম থেকেই এমন দেখে আসছে, তার পর্যবেক্ষণ এটা বলে যে, জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস। তারা এসব গণতান্ত্রিক স্লোগানের সম্পর্ক আল্লাহ তাআলা পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করে না। যেমন আমরা বলি, পানি নিচের দিকে গড়ায়; আল্লাহ পানিকে নিচে প্রবাহিত করেন, এটা বলি না।

    এখন ব্যক্তির অন্তরে যদি আল্লাহ তাআলা আরোগ্য দানকারী আক্বীদা বিদ্যমান থাকে, তাহলে তো ওষুধে রোগ সারে বললে শিরক হয় না। কিন্তু দু:খজনকভাবে গণতন্ত্রের ব্যাপারে জাহেলিয়াত এই পর্যায়ে পৌছে গেছে যে, আল্লাহ তাআলা মানুষকে (সীমাবদ্ধ) সার্বভৌম ক্ষমতা দান করেছেন, বা যমীনে খলিফা বানিয়েছেন, এই আক্বীদার প্রকৃত বুঝ অন্তরে বিদ্যমান নেই। ফলাফল যা হবার তাই হয়েছে, জাহেলের ক্ষমতা তাই চতুর, লোভী, প্রতারকদের দ্বারা অপব্যবহারের শিকার হচ্ছে।

    এসব তাত্ত্বিক আলোচনা জনসাধারণের বোঝার কথাও না। সার্বভৌমত্ব একটি বিমূর্ত ধারণা যার বস্তুগত অস্তিত্ব নেই, ধরা যায় না, ছোয়া যায় না। তাই এর প্রকৃতি যথাযথভাবে উপলব্ধি করা শিক্ষিত ব্যক্তিদের পক্ষেই মুশকিল। ওয়াজের ময়দানে এই জটিল শিরকে জড়িত থাকার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা আরেকটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। আর এখন যেহেতু অনেক আলেম রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন। সেহেতু গণতন্ত্রের বাস্তবতা উপলব্ধি করা সাধারণ মানুষের কাছে আরও কঠিন হয়ে যাবে। এমন সংকটময় সময়ে এই জটিল দার্শনিক আলোচনা অবতারণা না করে আর উপায় ছিল না।



    মেটাফিজিক্স

    উলামায়ে কেরামের চোখে, গণতন্ত্র একটি নিরপেক্ষ, ধর্মহীন (secular) রাজনৈতিক ব্যবস্থা নয়; গণতন্ত্র একটি সুনির্দিষ্ট মেটাফিজিক্যাল বিশ্বাস (Humanism + Skepticism) এর উপর প্রতিষ্ঠিত, যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক।

    গণতন্ত্রের প্রাথমিক প্রবক্তরা গ্রীসের এথিনা দেবীর পার্থেনন মন্দিরের উপাসক ছিল। যেমনঃ পেরিক্লেস, থুসাইডিডস, ইসোক্রেটিস, এরিস্টটল। এথিনা ছিল প্রজ্ঞা, যুক্তি, নগর আইন ও শৃঙ্খলার দেবী। কয়েক বছর আগে আদালত প্রাঙ্গণের থেমিসের মূর্তি নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল। থেমিস হল স্বর্গীয় আইনের দেবী। ইসলামী পরিভাষা দিয়ে উপমা দিলে, এথিনা হল তাযীরের দেবী, আর থেমিস হল হুদুদের দেবী।

    যাইহোক, উল্লিখিত দার্শনিকদের মধ্যে ইসোক্রেটিস ছিলেন মানবতাবাদ নামক কুফরি মতবাদের সমর্থক। থুসাইডিডস নিজেও মানবতাবাদী ধাচের ছিলেন। উভয়ে এথিনার উপাসক ছিলেন বিধায় মানব রচিত আইনের প্রতি তাদের অধিক আকর্ষণ ছিল। এছাড়াও নিকট অতীতের তাত্ত্বিকগণ মাকিয়াভেলি, জিন বোডিন, হিউগো গ্রোটিয়াস, জন লক তারাও মানবতাবাদী ছিলেন। ইতিপূর্বে আমরা নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচনায় গণতন্ত্রকে তাত্ত্বিকভাবে মানব বিবেক-বুদ্ধির পরিশুদ্ধতার উপর নির্ভরশীল বলে উল্লেখ করেছিলাম। এই ধারণাগুলো এদের থেকেই এসেছে।

    অন্যান্য প্রাচীন তাত্ত্বিকদের মধ্যে প্রোটাগোরাস ও গর্গিয়াস ছিলেন সোফিস্ট। তারা পরম সত্য (absolute truth) এবং নৈতিক ন্যায়-অন্যায়ে বিশ্বাস করতেন না। অথচ আল্লাহ হচ্ছেন আল হাক্ব; তিনিই সত্য। গণতন্ত্রের এই psychologism এর ফলে ব্যক্তিগত ইচ্ছা সত্ত্বাগত বাস্তবতা বা ontological truth এর উপরে প্রাধান্য পায়। প্রোটাগোরাস আরও আগ বাড়িয়ে বলেছেন, Man is the measure of all things. একারণে গণতন্ত্র ন্যায়-অন্যায় সনাক্ত করতে জনগণের ভোটকে ব্যবহার করে থাকে।ইতিপূর্বে আমরা অবেরন হার্বাটের উক্তি উল্লেখ করেছিলাম, যিনি ব্যালটের সংখ্যাকে মানব সত্ত্বার উপর তাৎপর্য দেয়ার সমালোচনা করেছিলেন। কারণ অবেরন একজন মানবতাবাদী। বুঝতে পারছেন, এখানে তাত্ত্বিকদের মধ্যে কিছুটা মতপার্থক্য আছে, তবে তারা গণতন্ত্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত।

    আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, কোন মুসলমানের পক্ষে মানবতাবাদী কিংবা সোফিস্ট কোনটাই হওয়া সম্ভব না; ঠিক যেভাবে কোন হিন্দুর পক্ষে একইসাথে হিন্দু ও খ্রিস্টান হওয়া সম্ভব না। একজন মুসলমানের পক্ষে গণতন্ত্রকে মেনে নেয়া মানে হল ইসলামের সত্যতা অস্বীকার করা।

    মূল ধারণা:

    ১. Athena উপাসনা:
    • দেবী: প্রজ্ঞা, যুক্তি, নগর-আইন
    • Parthenon মন্দির: গণতন্ত্রের প্রতীক
    • মানে: মানবীয় যুক্তি/আইন > ঐশ্বরিক বিধান
    ২. Sophism (সোফিস্ট মতবাদ):
    • মানুষ = সকল কিছুর মাপকাঠি
    • Objective truth (বস্তুনিষ্ঠ সত্য) নেই
    • "সত্য" ব্যক্তির নিজস্ব উপলব্ধি মাত্র
    ৩. Gorgias-এর Nihilism:
    • কিছুই অস্তিত্বশীল নয়
    • যদি থাকে, জানা যায় না
    • যদি জানা যায়, প্রকাশ করা যায় না
    ফলাফল: Moral relativism → ন্যায়-অন্যায়ের কোন absolute standard নেই → ভোট দিয়ে সিদ্ধান্ত ঠিক করতে হবে



    আধুনিক যুগ: Humanism

    পুনর্জাগরণ (Renaissance) ও Enlightenment:

    চিন্তাবিদ যুগ মূল ধারণা গণতন্ত্রে প্রভাব
    Machiavelli ১৪৬৯-১৫২৭ ধর্ম রাজনীতি থেকে পৃথক Secular politics
    Jean Bodin ১৫৩০-১৫৯৬ Sovereignty theory জনগণের সার্বভৌমত্বের ধারণা
    Hugo Grotius ১৫৮৩-১৬৪৫ Natural law (ঐশ্বরিক না) মানবিক আইনের ভিত্তি
    John Locke ১৬৩২-১৭০৪ Social contract জনগণের সম্মতি = সরকারের বৈধতা
    Rousseau ১৭১২-১৭৭৮ General will জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছা সর্বোচ্চ



    Humanism-এর core beliefs:
    1. মানুষ = কেন্দ্রবিন্দু (Anthropocentrism)
      • ঈশ্বর নয়, মানুষ সবকিছুর মাপকাঠি
    2. মানব যুক্তি = সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (Rationalism)
      • ওহী/প্রত্যাদেশ অপ্রয়োজনীয়
    3. মানব প্রকৃতি = মূলত ভালো (Innate goodness)
      • নফস-এর খারাপি অস্বীকার করে

    ইসলামের সাথে সংঘাত:
    বিষয় Humanism Islam
    কেন্দ্রবিন্দু মানুষ আল্লাহ
    জ্ঞানের উৎস যুক্তি ওহী অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত + যুক্তি
    মানব প্রকৃতি মূলত ভালো নফসের প্রভাব আছে
    আইনের উৎস সংসদ/মানুষ শরিয়াহ



    নিকোলাই বেরদেয়ায়েভ

    নিকোলাই বেরদেয়ায়েভ গণতন্ত্রের উপর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপত্তি পেশ করেছেন যা নিচে দেয়া হল-

    Democracy doesn't want to know, in the name of what, the will of people is declared, and will not subordinate the will of people to any higher goal...Democracy does not care for the direction and content of the popular will and has in itself no criteria for determining the truth or falsity of the direction in which will of the people is declared, to determine the quality of the people's will. People's power is pointless. It is not directed to any object. Democracy remains indifferent to good and evil… because it lost faith in the truth, and has no power to choose the truth. Democracy is skeptical, it appears in the skeptical age, the age of disbelief, when people lost permanent criteria of truth... Democracy is the ultimate relativism, denial of everything absolute. Democracy has a secular character and it is opposite to any sacral society, because it is formal, with no content and skeptical. Truth is sacred and a truth-based society cannot be exclusively secular society. Secular democracy means departure from ontological foundation of society, departure of society from the Truth... This denies the spiritual foundations of human society which lie deeper than formal declarations of people will, and destroys all the hierarchical order of human society. Democracy is psychologism, opposite to any ontologism...Recognition of the authority of the majority, worship of the universal right to vote, is possible only when one does not believe in the truth and does not know the truth... Extreme optimism is indicated as a precondition for democracy. The skepticism of a democratic society is optimistic rather than pessimistic skepticism. Democracy does not despair over the loss of truth. It believes that the declaration of will of the majority, mechanical number of votes, must always lead to good results,... The basis of democracy is an optimistic assumption about the natural goodness and gentleness of human nature… Democracy pretends not to predict that the will of people can steer to the evil, that majority can stand for injustice and falsehood, while truth and justice can remain in a small minority… The will of man, the will of people lies in evil, and when this will, affirming itself, is not subjected to anything higher, is not enlightened, requires to arbitrarily determines the destiny of society, it easily gets directed into the path of persecution of truth, denial of all justice,...Autocratic people(majority) could rape conscience of people, can deprive any freedom by its own will... Democracy is essentially individualistic, but it leads in its fatal dialectic to anti individualism, to leveling of human individuality. Democracy is freedom-loving, but that freedom-loving does not sprout from appreciation of human spirit and human individuality, that is freedom-loving of indifferent for the truth...In her quiet and normal existence, any fanaticism is extraneous to it and it finds thousands of peaceful and imperceptible ways to level people individuality, and to shut down freedom of spirit...Democracies do not unconditionally mean freedom of spirit, freedom of choice. Those kinds of freedoms can be found more in non-democratic societies. Democracy occurs when organic unity of the people starts to the disintegrate, when society is atomized, when traditional beliefs, which united the people in to one whole perish.. And goal of democracy is to gather the people will, which fell apart. But for democracy, human person is an abstract atom, equal to every other, and the task of re-uniting people is mechanical task... The organic will of the people cannot be arithmetically manifested, it cannot be shown by any number of votes. That will is manifested in all the historical life of the people, in all the harmony of its culture, and above all, it finds its expression in the religious life of the people. Except on organic religious soil, except in the unity of religious beliefs, - there is no, one, general, will of the people… Democracy is an arena of struggle, a conflict of interests and directions. Everything in it is friable and volatile. There is no unity, continuity and permanence. It is an eternal state of transition. Democracy creates a parliament, most inorganic creation, the organ of the dictatorship of political parties... The true life is ontologically located on the borders of democracy...Democracy recognizes the sovereignty and absolutism of the people, but the people she does not know, in a democracy there is no people...The people is a great historical whole, it includes all historical generations, not only living, but also dead, our fathers and grandfathers...Imagination and self-affirmation of the modern generation, exaltation over their dead fathers is the root lie of democracy. It's a break with the past, present and future, denial of eternity, adoration of the exterminating course of time.

    "গণতন্ত্র জানতে চায় না, কিসের নামে, জনগণের ইচ্ছা ঘোষিত হয়, এবং জনগণের ইচ্ছাকে কোন উচ্চতর লক্ষ্যের অধীনস্থ করে না...

    গণতন্ত্র জনগণের ইচ্ছা এবং বিষয়বস্তুর ধার ধারে না এবং জনগণের ইচ্ছার নৈতিকতা বা সত্যতা মূল্যায়নের বা নির্ণয়ের কোনও মানদণ্ড গণতন্ত্রের জানা নেই।

    জনগণের ক্ষমতা অর্থহীন। এটি উদ্দেশ্য ও গন্তব্যহীন। গণতন্ত্র ভালো এবং মন্দের প্রতি উদাসীন থাকে... কারণ এটি সত্যের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে এবং সত্য বেছে নেওয়ার কোনও ক্ষমতা রাখে না।

    গণতন্ত্র সন্দেহবাদী, এর আবির্ভাব সন্দেহবাদী যুগে, অবিশ্বাসের যুগে, পৌত্তলিকতা যুগে, যখন মানুষ সত্যের স্থায়ী মানদণ্ড হারিয়ে ফেলেছিল... গণতন্ত্র হল চূড়ান্ত আপেক্ষিকতাবাদ, যা পরম সবকিছুকে অস্বীকার করে।

    গণতন্ত্রের একটি ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র রয়েছে এবং এটি যেকোনো ধর্মভীরু সমাজের বিপরীত। সত্য পবিত্র এবং একটি সত্য-ভিত্তিক সমাজ একচেটিয়াভাবে ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ হতে পারে না। ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের মানে হল সমাজের অস্তিত্বগত ভিত্তি থেকে বিচ্যুতি, সত্য থেকে সমাজের বিচ্যুতি... এটি মানব সমাজের আধ্যাত্মিক ভিত্তিকে অস্বীকার করে যা মানুষের ইচ্ছার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার চেয়েও গভীরে অবস্থিত এবং মানব সমাজের সমস্ত শ্রেণিবিন্যাসকে ধ্বংস করে।

    গণতন্ত্র মনোবৈজ্ঞানিক (psychologism), যেকোনো অস্তিত্বতত্ত্বের (ontologism) বিপরীত... সংখ্যাগরিষ্ঠের কর্তৃত্বের স্বীকৃতি, ভোটদানের সর্বজনীন অধিকারের উপাসনা, কেবল তখনই সম্ভব যখন কেউ সত্যে বিশ্বাস করে না এবং সত্য জানে না…

    অত্যধিক আশাবাদ গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত। একটি গণতান্ত্রিক সমাজের সংশয়বাদ হতাশাবাদী সংশয়বাদের চেয়ে বেশি আশাবাদী। গণতন্ত্র সত্যকে হারানোর জন্য হতাশ হয় না।

    গণতন্ত্র বিশ্বাস করে যে সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছার ঘোষণা, ভোটের যান্ত্রিক সংখ্যা, সর্বদা ভালো কল্যাণের দিকে পরিচালিত করবে,…

    গণতন্ত্রের ভিত্তি হল মানব প্রকৃতির স্বাভাবিক শুদ্ধতা ও ভদ্রতা সম্পর্কে একটি আশাবাদী ধারণা... গণতন্ত্র এমন ভবিষ্যদ্বাণী আলোচনায় আনে না যে মানুষের ইচ্ছা মন্দের দিকে পরিচালিত হতে পারে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ অন্যায় ও মিথ্যার পক্ষে দাঁড়াতে পারে, সত্য ও ইনসাফ সংখ্যালঘু হতে পারে... মানুষের ইচ্ছা যখন উচ্চতর বিশুদ্ধ কিছুর অনুগামী হয় না, আলোকিত হয় না, খেয়ালখুশি মত সমাজের ভাগ্য নির্ধারণ করতে বাধ্য করে, তখন মানব ইচ্ছা সত্যের উপর নির্যাতন চালায়, ন্যায়বিচারকে অস্বীকার করে,... স্বৈরাচারী মানুষ (সংখ্যাগরিষ্ঠ) মানুষের বিবেককে ধর্ষণ করতে পারে, নিজের ইচ্ছা মতো যেকোনো স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারে…

    গণতন্ত্র মূলত ব্যক্তিবাদী, কিন্তু এটি ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য বিরোধী হয়ে যায়, মানব ব্যক্তিত্বকে অদৃশ্য করে ফেলে। গণতন্ত্র স্বাধীনতাপ্রেমী, কিন্তু সেই স্বাধীনতাপ্রেম মানুষের চেতনা এবং মানব ব্যক্তিত্বের সিফাত থেকে উদ্ভূত হয় না, অর্থাৎ সত্যের প্রতি উদাসীন থাকার স্বাধীনতাপ্রেম... তার শান্ত এবং স্বাভাবিক অবস্থায়, যেকোনো ধর্মান্ধতা এর দৃষ্টিতে বহিরাগত শক্তি এবং এটি মানুষের ব্যক্তিত্বকে নাশ করার এবং আত্মার স্বাধীনতাকে নাশ করার হাজার হাজার শান্তিপূর্ণ এবং অদৃশ্য উপায় খুঁজে বের করে… গণতন্ত্র নিঃশর্তভাবে আত্মার স্বাধীনতা কিংবা পছন্দের স্বাধীনতা দেয় না। অগণতান্ত্রিক সমাজগুলিতে এই ধরণের স্বাধীনতা বেশি পাওয়া যায়।

    গণতন্ত্র তখনই অস্তিত্বে আসে যখন জনগণের প্রাকৃতিক জৈব ঐক্য ভেঙে যেতে শুরু করে, যখন সমাজ বিকৃত হয়ে যায়, যখন ঐতিহ্যবাহী বিশ্বাস, যা জনগণকে একত্রিত করেছিল, ধ্বংস হয়ে যায়.. এবং গণতন্ত্রের লক্ষ্য হল জনগণের ভেঙে পড়া ইচ্ছাকে একত্রিত করা। কিন্তু গণতন্ত্রের চোখে, মানব ব্যক্তিত্ব একটি বিমূর্ত পরমাণু, একে অপরের সমান, এবং মানুষকে পুনরায় একত্রিত করার কাজটি যান্ত্রিক কাজ…

    জনগণের জৈবিক ইচ্ছা গাণিতিকভাবে প্রকাশ করা যায় না, এটি কোনও সংখ্যক ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায় না। সেই ইচ্ছা জনগণের সমস্ত ঐতিহাসিক জীবনে, তাদের সংস্কৃতির সমস্ত সামঞ্জস্যে প্রকাশিত হয় এবং সর্বোপরি, এটি জনগণের ধর্মীয় জীবনে তার প্রকাশ খুঁজে পায়। জৈব ধর্মীয় মাটি ছাড়া, ধর্মীয় বিশ্বাসের ঐক্য ছাড়া, - জনগণের কোনও একক সাধারণ ইচ্ছা নেই...

    গণতন্ত্র একটি যুদ্ধক্ষেত্র, স্বার্থ এবং দিকনির্দেশের দ্বন্দ্ব। এর মধ্যে সবকিছুই ভঙ্গুর এবং অস্থির। এখানে কোন ঐক্য, ধারাবাহিকতা এবং স্থায়িত্ব নেই। এটি একটি চিরন্তন পরিবর্তনশীল অবস্থা।

    গণতন্ত্র একটি সংসদ তৈরি করে, যা সবচেয়ে অজৈব বা কৃত্তিম সৃষ্টি, সংসদ রাজনৈতিক দলগুলির স্বৈরতন্ত্রের অঙ্গ... প্রকৃত জীবন সত্বাগতভাবে গণতন্ত্রের সীমান্তে অবস্থিত…

    গণতন্ত্র জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং নিরঙ্কুশতাকে স্বীকৃতি দেয়, কিন্তু সেই জনগণকে সে চেনে না, গণতন্ত্রে কোন জনগণ থাকে না।... জনগণ হল একটি মহান ঐতিহাসিক সমগ্র, এতে সমস্ত প্রাচীন প্রজন্ম অন্তর্ভুক্ত, কেবল জীবিত নয়, মৃতরাও, আমাদের পিতা এবং পিতামহ...মৃত পিতাদের উপর আধুনিক প্রজন্মের কল্পনা এবং আত্ম-প্রত্যয়কে গুরুত্ব দেয়া গণতন্ত্রের ধোঁকা। এটি অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে, অনন্তকালকে অস্বীকার করে, সময়ের ধ্বংসকারী স্বভাবের আরাধনা করে।”
    নিকোলাই মূলত বলেছেন যে,
    • ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যা, ভাল-মন্দ যাচাই করার অন্তর্নিহিত মানদণ্ড গণতন্ত্রের নেই।
    • সমাজে নাস্তিকতা, সন্দেহবাদ এবং অবিশ্বাস ছড়িয়ে পড়লে গণতন্ত্র বিকাশ লাভ করে।

    ধর্মীয় সমাজের Ontology:
    • আল্লাহ আছেন (সর্বোচ্চ বাস্তবতা)
    • তাঁর বিধান আছে (শরিয়াহ)
    • মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি ও দায়বদ্ধ
    Secular সমাজের Ontology:
    • জনসমাজে ঈশ্বর irrelevant (অপ্রাসঙ্গিক)
    • মানুষ স্বায়ত্তশাসিত (autonomous)
    • নৈতিকতা মানব-রচিত
    পরিণাম: যখন সমাজ Truth (আল্লাহ) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তখন সমাজ ভিত্তিহীন হয়ে যায়।

    বিষয় Psychologism (Democracy) Ontologism (Islam)
    তত্ত্ব
    • মানুষের মানসিক অবস্থা/ইচ্ছাই বাস্তবতা নির্ধারণ করে
    • "আমি মনে করি" = সত্য
    • বাস্তবতা বস্তুনিষ্ঠ (objective), আপেক্ষিক নয়
    • মানুষের ইচ্ছার বাইরে বস্তুনিষ্ঠ সত্য আছে
    লিঙ্গ যদি কেউ মনে করে সে নারী, তাহলে নারী জৈবিক বাস্তবতা = সত্য
    বিবাহ যদি সমাজ চায়, same-sex marriage বৈধ শুধু পুরুষ-নারীর মধ্যে
    মৃত্যুদণ্ড জনমত অনুযায়ী অবৈধ হতে পারে নির্দিষ্ট অপরাধে শরিয়াহ সম্মত
    সমস্যা
    • Feelings/ইচ্ছা পরিবর্তনশীল
    • বাস্তবতা স্থির নয়
    • সমাজ ভিত্তিহীন

    • গণতন্ত্র ধর্মতত্ত্ব বা সত্য-ভিত্তিক সমাজের বিরোধিতা করে কারণ গণতন্ত্রের চোখে কোনও চূড়ান্ত সত্য নেই।
    • ​​​​​​​মানুষের ইচ্ছাকে অগ্রাধিকার দিয়ে, গণতন্ত্র সামাজিক ব্যবস্থার গভীর আধ্যাত্মিক বা শ্রেণিবদ্ধ ভিত্তিগুলিকে ছিন্ন করে।
    • এটি বস্তুনিষ্ঠ, অস্তিত্ববাদী বাস্তবতার চেয়ে ব্যক্তিগত ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেয় এবং ঐতিহ্যবাহী স্তরবিন্যাসকে ভেঙে দেয়।
    • ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের গণতান্ত্রিক স্লোগান ১৭৯৩ সালে দমন-নিপীড়নের জন্ম দিয়েছিল। যা প্রমাণ করে যে, গণতন্ত্র যে স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দেয় যা ধ্বংসও করতে পারে।
    • বিপ্লব চলমান না থাকলে, স্বাভাবিক সময়ে গণতন্ত্র কোন সাম্প্রদায়িক স্বাতন্ত্র্য সহ্য করে না এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ করে।
    • গণতন্ত্রের উদ্ভব হয় যখন ঐতিহ্যবাহী, ঐক্যবদ্ধ বিশ্বাসের ক্ষয় হয় এবং সমাজ খণ্ডিত হয়ে যায়।
    ​​​​​​​
    ঐতিহ্যবাহী সমাজ:
    পরিবার → গোত্র → ধর্মীয় সম্প্রদায় → জাতি
    (জৈব সম্পর্ক - Organic relationships)
    গণতান্ত্রিক সমাজ:
    বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি (Atomized individuals)

    রাষ্ট্র (State)
    (যান্ত্রিক সম্পর্ক - Mechanical relationship)



    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট:
    ১৯৭১-এর পূর্বে:
    • পরিবার-কেন্দ্রিক সমাজ
    • গ্রাম সমাজ শক্তিশালী
    • মসজিদ-মাদ্রাসা সামাজিক কেন্দ্র
    • মসজিদের ইমামরা সম্মানিত ছিল
    ২০২৪:
    • পরিবার ভাঙন
    • গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন → একাকী জীবন
    • মসজিদ শুধু নামাজের স্থান
    • উলামাদেরকে "মৌলবাদী" ট্যাগ দেয়া

    • জনগণের প্রকৃত "ইচ্ছা" হল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিকশিত হওয়া জৈব, ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় ঐক্য; সেই মূল, পবিত্র ঐক্য ছাড়া, কোনও প্রকৃত সর্বজনীন ইচ্ছার অস্তিত্ব থাকে না।
    • জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক বলতে বর্তমান প্রজন্মকে বুঝায়, অথচ আজকের রাষ্ট্রের অস্তিত্বের পিছনে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে চলে আসা মানুষের প্রচেষ্টা রয়েছে। কিন্তু পূর্বপুরুষদের ইচ্ছার কোন মূল্য থাকে না।

    উপসংহার

    গণতন্ত্র একটি Secular Religion। কারণ,
    1. অপ্রমাণিত বিশ্বাস আছে (unproven axioms): "জনগণ সার্বভৌম"
    2. পবিত্র গ্রন্থ আছে: সংবিধান
    3. পবিত্র অনুষ্ঠান আছে: নির্বাচন
    4. পুরোহিত শ্রেণী আছে: রাজনীতিবিদ, বিচারক, বুদ্ধিজীবী
    5. ধর্মদ্রোহিতা (heresy) আছে: যারা গণতন্ত্রকে প্রশ্ন করে তারা "স্বৈরতন্ত্রপন্থী"

    এখন আপনি কোন ধর্মের অনুসারী হবেন? ইসলাম নাকি গণতন্ত্র? আপনি কি অগণিত ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও গণতন্ত্র মেনে নিতে প্রস্তুত? নির্বাচন পদ্ধতির ফলে উদ্ভূত দুর্নীতি ও অপরাধ মূলত সিস্টেমের সাথে সম্পৃক্ত। আপনি কি আসন বিক্রি, চাদাবাজি ইত্যাদি অনৈতিক কর্মকাণ্ড জারি থাকুক, তা চান? আপনি কি ন্যায়-অন্যায়, ভাল-মন্দের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন? যদি ‘হ্যা’ হয়, তাহলে আপনার পক্ষে কি গণতন্ত্র মেনে নেয়া সম্ভব? আপনি কি নিজেকে মানুষ মনে করেন নাকি নিজেকে গণিতের সংখ্যা মনে করেন?

    আপনি কি চান আগামীতে রাষ্ট্র সম্পূর্ণ আপনার বিপরীত আদর্শের দিকে চলে যাক, অথচ আপনিও এই রাষ্ট্রের অংশ ছিলেন? যদি আপনার মতামত মৃত্যুর কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়, তাহলে অবিনশ্বর রাষ্ট্রের সাথে নশ্বর মানব সত্ত্বার প্রাথমিক চুক্তি যৌক্তিক হয় কিভাবে? আর সেটা গণতন্ত্র-ই হল কিভাবে? ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন- আমরা আল্লাহর এবং তার কাছেই ফিরে যাব। আর গণতন্ত্রের চুক্তি হচ্ছে, আমরা রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হব।
    সুতরাং, এমন তন্ত্রে ফিরে আসুন যার উৎস মানুষ থেকেও পবিত্র; যার সম্পর্ক অবিনশ্বর মানব আত্মার সাথে, ফলে আপনার জাগতিক ও আখিরাতে নিরাপত্তার কথাও সেই তন্ত্র বিবেচনায় রাখে; এবং যেখানে সিস্টেম নিজেই সমস্যা নয়।
    Last edited by Rakibul Hassan; 21 hours ago.
Working...
X